অনলাইন মার্কেটিং কি এবং এতে সফল হবার কিছু পদ্ধতি

0
539
অনলাইন মার্কেটিং কি এবং এতে সফল হবার কিছু পদ্ধতি
5 (100%) 1 vote

অনলাইন মার্কেটিং একটি জনপ্রিয় বহুল প্রচলিত শব্দ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অনলাইন মার্কেটিং’কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিচ্ছে সাচ্ছন্দে। আমাদের দেশেও অনলাইন মার্কেটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং আউটসোর্সিং করে বিপুল পরিমান রেমিটেন্স নিয়ে আসছে। এই পেশায় সুবিধা হচ্ছে, চাকরির পাশাপাশি ঘরে বসেও আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে এক্সট্রা ইনকাম করা সম্ভব।

অনলাইন মার্কেটিং কি?

একটি ওয়েব সাইট হচ্ছে একটি কোম্পানির প্রোফাইল, পণ্য, ব্যাবসার ধরন, ঠিকানা ইত্যাদি সম্পর্কে একটি অনলাইন পরিচিতি।। ওয়েব সাইট তৈরির পর সেটাকে বাজারে সুপরিচিত করে তোলাটা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পরে। বিশেষ করে ইকমার্স সাইটগুলো যেখানে অনলাইন এ কেনাবেচা হয় কিংবা যে কোনো বড় পণ্য ভিত্তিক কোম্পানি ও হতে পারে। মিলিয়ন মিলিয়ন ওয়েব সাইটের ভীড়ে জনে জনে কজন কে আর বলে বলে তার পরিচিতি ঘটানো সম্ভব। সবাই চায় তার ওয়েবসাইটটি যাতে গুগলের এক নম্বর পেজে আসে। গুগলের এক নম্বর পেজ এ কেমন করে পেজটি কে দেখানো যায়, কি লিখে সার্চ করলে পেজটি এক নম্বরে দেখাবে। এসব প্রক্রিয়াগুলোই অনলাইন মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু।

অনলাইন মার্কেটিং এর প্রকারভেদ-

  • সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (এসইও)
  • ক্লিক প্রতি (PPC)
  • সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন (ফেসবুক, টুইটার, Pintrest)
  • ব্লগিং
  • ইমেইল বা নিউজলেটার মার্কেটিং
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ব্যানার বিজ্ঞাপন
  • রিচ মিডিয়া বিজ্ঞাপন – যেমন অনলাইন ভিডিও ডিরেক্টরি হিসাবে ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া
  • অনলাইন শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন
  • বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক

    online-3

অনলাইন মার্কেটিং এর উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা-

ইন্টারনেট এখন আর নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা বিস্তারিত হয়ে গেছে। সব ক্ষেত্রে অনলাইনের সাহায্য নিচ্ছে মানুষ। ঠিক তেমনি মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও অনলাইনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মানুষ টিভি এড বা প্রিন্ট পেপারে এডভারটাইজ এর চেয়ে অনলাইন মিডিয়াতে এড দেওয়াকে বেশি পছন্দ করে। অনলাইনে মানুষ অনেক ধরনের মার্কেটিং করতে পারে। কেউ কেউ আবার অনলাইন মার্কেটিং টাকে একদম বাজে বানিয়ে ফেলছেন। তারা বিভিন্ন পর্নো বা বিভিন্ন খারাপ সাইটগুলোর আশ্রয় নেয়। আর এজন্য মার্কেটিং এর পদ্ধতিতে এমন একটি ভাবধারা বজায় থাকতে হবে যে, আপনি মার্কেটিং-ই করছেন না বরং আপনার মার্কেটিং অন্যে করছে। বিষয়টা একটু কঠিন হলেও দেখে নিতে পারেন। অনলাইন মার্কেটিং এর অনেক উপকারিতা রয়েছে।

  • ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন
  • ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জন
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন
  • fiverr.com বা অন্যান্য ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে অর্থ উপার্জন
  • লিঙ্ক সর্ট করে অর্থ উপার্জন

ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জনের অনেক পদ্ধতি রয়েছে। অনেকেই দ্বিধায় পড়েন, কোনটি করবেন এবং কোনটি করবেন না এই নিয়ে। তাছাড়া বাংলাদেশের জন্য স্থানীয় কিছু সমস্যা তো রয়েছেই।

অনলাইন মার্কেটিং এ সফল হওয়ার ৬টি পদ্ধতি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হল-

১। গুগল এডসেন্স

গুগল এডসেন্স ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে সেরা উপায়। মাসে কয়েক হাজার ডলার আয় করা যায় প্রোগ্রামিং বা এইধরনের কোন ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা না থেকেও। এমনকি গুগলের ব্লগার ব্যবহার করে কোনরকম খরচ ছাড়াই। আপনার প্রয়োজন শুধু সময় ব্যয় করা এবং চারিদিকে দৃষ্টি রেখে নিজের ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার ব্যবস্থা করা। সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়ার জন্য আপনার প্রয়োজন এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে প্রচুর ভিজিটর ভিজিট করবেন। এধরনের ওয়েবসাইট তৈরী এবং ভিজিটর পেতে কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

Online-1

২। এফিলিয়েটেড মার্কেটিং

এফিলিটেড মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সীমা হচ্ছে আকাশ। আপনি যত চেষ্টা করবেন তত বেশি আয় করবেন। আপনার কাজ হচ্ছে ইন্টারনেটে যারা কিছু বিক্রি করে (পন্য বা সেবা) তাদের হয়ে প্রচার করা। এ কাজের জন্য নিজের ওয়েবসাইট থাকলে সুবিধে বেশি, না থাকলেও সমস্যা নেই অন্যভাবে করা যায়। কোন কোন কোম্পানী টাকা দেয় তাদের সাইটে ভিজিটর পাঠালেই আবার কোন কোন কোম্পানী দেয় কোন ভিজিটর কিছু কিনলে। ৭৫% পর্যন্ত কমিশন দেয়ার মত কোম্পানীও রয়েছে। আমাজন, ই-বে এফিলিয়েটেড মার্কেটিং কাজের জন্য অন্যতম। আমি আগেই বলেছি এফিলিয়েটেড মার্কেটিং এর জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে বেশি সুবিধে পাবেন। শুধুমাত্র এই কাজের জন্যই বিনামুল্যে ওয়েবসাইট তৈরী ও সেখানে বিভিন্ন পন্য যোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এই ব্যবস্থায় আয় বেশি তারপরও এডসেন্সর এর পর ২য় অবস্থানে থাকার কারন হল একাজে বুদ্ধিমত্তা, মার্কেটিং এর দক্ষতা এবং পরিশ্রম অনেক বেশি।

৩। ফ্রিল্যান্সিং

আপনি ওয়েবসাইট তৈরী কিংবা মার্কেটিং এর ঝামেলায় যদি যেতে না চান, অথচ কম্পিউটারের কোন কাজে দক্ষ। সেটা ফটোশপ ব্যবহার করে হোক অথবা গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, প্রোগ্রামিং থেকে ডাটা এন্ট্রি, ভিডিও এডিটিং কিংবা এনিমেশন যে কোন কিছুই হতে পারে। তাহলে আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সিং উপযুক্ত। কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলি প্রতিস্ঠান রয়েছে মধ্যস্থতা করার জন্য। সেখানে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করবেন (কোন খরচ নেই), তাদের কাজের তালিকা দেখে এপ্লাই করবেন, কাজ পাওয়ার পর কাজ করে জমা দিবেন। আপনার একাউন্টে সেই কাজের পারিশ্রমিক জমা হবে। ঘন্টাপ্রতি নির্দিষ্ট কাজ অনুযায়ী অথবা এককালীন চুক্তি অনুযায়ী ফ্রিলান্সিং কাজে পেমেন্ট দেয়া হয়। কাজের জটিলতা অনুযায়ী আয় কয়েক ডলার থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্তও হতে পারে এই চুক্তি। মধ্যস্থতাকারী থাকে বলে টাকা হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

৪। নিজে বিক্রি করা

লাভ বেশি থাকার পরও একে ৪ নম্বরে রাখতে হচ্ছে কারন নিজে বিক্রি করলে লাভ বেশি, সেইসাথে পরিশ্রমও বেশি। আপনি কিছু পন্য ঠিক করবেন এরপর ওয়েবসাইটে রেখে দেবেন। যিনি কিনতে চান তিনি সেখানে ক্লিক করে কিনবেন এবং আপনি সেটা তার কাছে পাঠিয়ে দেবেন। ফটোগ্রাফ, ই-বুক, সফটয়্যার এর মত পন্য সরাসরি ইমেইল করে পাঠাতে পারেন কিংবা ডাউনলোডের ব্যবস্থা রাখতে পারেন। ছাপা বই বা বহনযোগ্য অন্য পন্য হলে পার্সেল করে পাঠাতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশের মানুষই কেনাকাটা করে অনলাইনে। কাজেই এই মুহুর্তে বাংলাদেশের মত দেশে বিষয়টি চালু না থাকলেও একসময় হবে ইনশাআল্লাহ।

online-4

৫। অনলাইন বিজ্ঞাপন

জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে এডসেন্স এর মত বিজ্ঞাপন রাখতে হবে এমন কোন কথা নেই, ছাপানো পত্রিকায় যেমন বিজ্ঞাপন দেয়া হয় সেভাবে আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। আমেরিকায় ছাপানো বিজ্ঞাপনের আয়কে ছাড়িয়ে গেছে অনলাইন বিজ্ঞাপন। পত্রিকার মত সাইটের জন্য এই ব্যবস্থা সুবিধেজনক। একাজে সমস্যা হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে করা যায় না, প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে হয়। তবে সেটা সংবাদপত্র হতে হবে এমন কথা নেই। মানুষের আগ্রহ রয়েছে এমন বিষয় নিয়ে ওয়েবসাইট হতে পারে। যেমন বিভিন্ন পণ্যের পরিচিতি এবং দাম নিয়ে যেমন মানুষের আগ্রহ সেই বিষয় নিয়েই অনেকগুলি বিশ্বখ্যাত ওয়েবসাইট রয়েছে। চাকরী বা অন্য তথ্য নিয়ে সাইটও লক্ষ লক্ষ ভিজিটর পেতে পারে। আপনারা এই সাইটের উপরে দেওয়া ওয়েব এড্রেসগুলিতে ঢুকে ধারনা পেতে পারেন।

৬। লিঙ্ক সর্ট

বন্ধুরা আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে দেখবেন যে বিভিন্ন যায়গায় ইউজার রা লিঙ্ক সর্ট করে পোস্ট করে। লিঙ্ক সর্ট করার মাধ্যমে আপনি বড় বড় ওয়েবসাইট লিঙ্ক কে ছোট করতে পারবেন। তো এই লিঙ্ক সর্ট করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট এই সেবা প্রদান করে থাকে। যখন আপনি আপনার বড় লিঙ্ক গুলোকে এদের মাধ্যমে সর্ট করে বিভিন্ন যায়গায় শেয়ার করবেন তখন যদি কেও সে লিঙ্ক এ প্রবেশ করে তবে সে কাঙ্ক্ষিত লিঙ্ক এ যাবার আগে একটি অ্যাড পেজ দেখতে পাবে। এবং অ্যাড পেজ স্কিপ করে কাঙ্ক্ষিত লিঙ্ক এ যেতে পারবে। আপনি যদি ফেসবুক এ কিছু পোস্ট করেন অথবা আপনার ওয়েবসাইট এ কিছু পোস্ট করেন তবে সেখানে লিঙ্ক সর্ট করে শেয়ার করতে পারেন। সে লিঙ্ক এ যতো বেশি ভিজিটর প্রবেশ করবেন আপনি ততো বেশি উপার্জন করতে পারবেন।

উপরোক্ত ক্ষেত্র ছাড়াও আরো বহুবিধ উপার্জনের ক্ষেত্র আপনিও নিজেও তৈরি করতে পারেন একটি ভিজিটর সমৃদ্ধ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে। যে কোন বিষয়ের ফ্রি সার্ভিস নিয়ে একটি ওয়েব সাইট তৈরি করলেন। পাশাপাশি এক্সক্লুসিভ কিছু সার্ভিস রাখলেন নির্দ্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে। মূলতঃ কাজ করতে করতে, নেটে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করলে এসব বিষয়ের আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj lives with deep passion of in psychology. She have expertise in behavior and mind, embracing all aspects of conscious and unconscious experience as well as thought.
Beside she loves music and read lots of books.
Shaila Shahanaj

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY