অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ মালয়েশিয়া

0
703
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ মালয়েশিয়া
5 (100%) 1 vote

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ মালয়েশিয়া ভ্রমণ করুন। মালয়েশিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আপনার চোখ ধাঁদিয়ে যাবে। প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে আজই ঘুরে আসতে পারেন। মালয়েশিয়াকে এক ঋতুর দেশ বলা হয়। এখানে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়। অনেক দেশের মতো মালয়েশিয়ার ভ্রমণ ভিসা পেতে খুব বেশী বেগ পেতে হয় না। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার ভ্রমণ ভিসা পেতে সময় লাগে তিন থেকে সাত কার্য দিবস। মালয়েশিয়ায় দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই বললেই চলে। নানারকম স্থাপনাগুলোকে অতি যত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় এসে এই স্থাপনাগুলোতে যান না এমন পর্যটক খুঁজে মেলা ভার।

দর্শনীয় স্থান

মালয়েশিয়া ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে টুইন টাওয়ার, দাতারাস মারদেকা (মারদেকা স্কয়ার), সুলতান আব্দুল সামাদ বিল্ডিং, মার্কেট স্কয়ার, পাসার সেনি (সেন্ট্রাল মার্কেট), কেএল রেলওয়ে স্টেশন, মালয়েশিয়া টুরিজম সেন্টার (এমএটিআইসি), দ্য হেরিটেজ সেন্টার, লিটল ইন্ডিয়া প্রভৃতি।

ভৌগোলিক অবস্থান

নানা বর্ণ, ধর্ম আর সংস্কৃতির মানুষের দেশ মালয়েশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রে দেশটির অবস্থান। প্রধানত দুই খণ্ডে বিভক্ত দেশটি; পশ্চিম মালয়েশিয়া ও পূর্ব মালয়েশিয়া। প্রায় ৪০ মাইল বিস্তৃত সমুদ্র আলাদা করে রেখেছে দেশটির দুই অংশকে। মোট আয়তন তিন লাখ ২৯ হাজার ৭৫৪ বর্গকিলোমিটার। পূর্ব মালয়েশিয়ায় রয়েছে দুটি বড় রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রনিয়ন্ত্রিত এলাকা। আর পশ্চিম মালয়েশিয়ায় রয়েছে ১১টি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত এলাকা।

খাবার ও সংস্কৃতি

এশিয়ার খাদ্যস্বর্গ হিসেবে পরিচিত এই মালয়েশিয়া। নানা বর্ণ, ধর্ম আর সংস্কৃতির মানুষের অবস্থানের ফলে এখানকার খাবারও বেশ বৈচিত্র্যময়। মালয়, চায়নিজ ও ভারতীয় নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায় বিভিন্ন রোস্তোরাঁয়। পথের পাশের দোকানেও খুব কম দামে খাবার পাওয়া যায়। এ ছাড়া রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য এবং থাইল্যান্ডের খাবার। নানা সংস্কৃতির মানুষের নানা উৎসবের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যও ফুটে ওঠে।

পেট্রোনাস যমজ টাওয়ার, কুয়ালালামপুর

পেট্রোনাস টাওয়ারগুলি সাংকেতিকভাবে মালয়েশিয়ার সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। টাওয়ারের বাহ্যিক রূপরেখা “M” হিসাবে তৈরি, মালয়েশিয়ার শুরুর অক্ষর, ঐতিহ্যগত হস্তশিল্পের একটি আভাস হিসাবে- ঝুড়ির বয়নের ন্যায় খাঁজকাটা সীমারেখা দেখা যায়। পেট্রোনাস যমজ টাওয়ার বা পেট্রোনাস ট্যুইন টাওয়ার হল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত এক অত্যাধুনিক নকশার সঙ্গে নির্মিত দ্বৈত আকাশচুম্বী স্তম্ভ। এই নকশাটি সেজার পেলি দ্বারা নকশায়িত, তিনি এটি ইসলামী প্রতীক রূব ঈল হিজাব-এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নকশায়িত করেছিলেন।

malaysia-2

তামান নেগারা জাতীয় উদ্যান

এটি মালয়েশিয়ার প্রথম এবং প্রাচীনতম নির্ধারিত সুরক্ষিত এলাকা। উদ্যানটির প্রাথমিক নামকরণ করা হয়েছিল “কিং জর্জ পঞ্চম(V) জাতীয় উদ্যান”। উদ্যানটি বিশ্বের বেশ কিছু জটিল ও তথ্যবহুল বাস্ত্তুতন্ত্রের জন্য গর্বিত। সাপেদের বিভিন্ন প্রজাতি আপনার চোখে ধরা দিতে পারে; যেমন জালিকাকার অজগর, লাল মস্তকবিশিষ্ট করেত (উজ্জ্বলবর্ণবিশিষ্ট শান্তস্বভাবের বিষধর সাপ), ডগ-টুথড ক্যাট স্ন্যাক (কুকুরের ন্যায় দন্তবিশিষ্ট ক্যাট সাপ), টেম্পল পীট ভাইপার। অরণ্যের মধ্যে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন কারী অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায় বাঁদর, বাঘ, রাইনো, হাতি, সরীসৃপ ইত্যাদি। অত্যন্ত বিরল প্রজাতির উড়ন্ত কাঠবিড়াল উদ্যানটিতে সকলের অজ্ঞাতে অধিষ্ঠিত রয়েছে, সেই কারণে দর্শকরা তাদেরকে অতি সহজে দেখতে পায় না।
তামান নেগারা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত। ট্রেনের মাধ্যমে আপনি উদ্যানটিতে পৌঁছাতে পারেন। আপনি উদ্যানটিতে প্রবেশের জন্য কুয়ালালামপুর টেমবেলিং প্রবেশ কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন।

টাম্বুনের সানওয়ে লস্ট ওয়ার্ল্ড

উদ্যানটি বিভিন্ন কার্যক্রমের আধিক্যতা নিবেদন করে; যেমন জলের সিক্ততা, শুষ্ক জমির ওপর এক লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা, হিংস্র বাঘদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পাখি ও জীবজন্তুদের তাদের নিজস্ব আবাসে পরিদর্শন এবং কার্যত টিনের খননের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। স্থিতিশীল তাপমাত্রার দরুণ, মালয়েশিয়া হল একটি সারা বর্ষব্যাপী গন্তব্যস্থল। ফেব্রুয়ারি মাস হল মালয়েশিয়া পরিদর্শনের সেরা সময় কারণ এইসময় থাইপুশম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসেই টাম্বুনের সানওয়ে লস্ট ওয়ার্ল্ড পরিদর্শনে যান।

মাউন্ট কিনাবালু

রহস্যময় মাউন্ট কিনাবালু সাধারণত মেঘের মধ্যে আবৃত থাকে। তবে যে মরশুমই হোক না কেন, শৃঙ্গটি সারাবছর ধরে শান্তি ও নির্মলতাকে আহ্বান জানায়। তাজা, শীতল বায়ু ভ্রমণার্থীদের পুর্ননবীন ও প্রাণবন্ত করে তোলে। মাউন্ট কিনাবালু, মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে অবস্থিত। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের মাধ্যমে আড়াই ঘন্টায় উদ্যানটিতে পৌঁছে যাওয়া যায়। আপনি যদি সড়ক মাধ্যমকে বেছে নেন, তাহলে সাবাহ-র রাজধানী শহর– কোটা কিনাবালু থেকে কিনাবালু উদ্যানে পৌঁছাতে প্রায় দু’ঘন্টা সময় লাগে। কিনাবালুর শিখরে চড়ার জন্য ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলের অ-বর্ষায়িত মাসগুলি হল সেরা সময়। এই সময় সেখানে বৃষ্টিপাত হয় না এবং আবহাওয়াও সরল, শান্ত ও মনোরম থাকে।

malaysia-3

সানওয়ে উপহ্রদ

সানওয়ে উপহ্রদ অপরিসীম বিনোদনের একটি স্থান। এটি সাবেকি খনন জমির উপর নির্মিত। ওয়্যাটার পার্কে নিজেকে সিক্ত করুন, বিনোদনমূলক উদ্যানে উত্তেজনার অনুভূতি নিন, বন্যপ্রাণী উদ্যানে জীবজন্তুদের সাথে সাক্ষাৎ করুন।

বাটু কেভস

বাটু কেভস ওরফে শ্রী শুব্রমানিয়ার মন্দির হল প্রভু মুরুগান-এর প্রতি উৎসর্গীকৃত হিন্দু মঠ। মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গোর রাজ্যে অবস্থিত মন্দিরটি একটি প্রতিকী পর্যটন গন্তব্যস্থল। মন্দির ভবনটি, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত, থাইপুশমের বার্ষিক হিন্দু উৎসব চলাকালীন সার্ডিনের ন্যায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানে তিনটি গুহা আছে, কিন্তু প্রধান গুহাটিতে মন্দির রয়েছে। রামায়ণ গুহায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চিত্রাঙ্কনগুলি প্রভু শ্রীরাম-এর কাহিনী পেশ করে।

কে এল টাওয়ার

কে এল টাওয়ারের উপর থেকে কুয়ালালামপুর শহর দেখার দৃশ্য দেখতে মিস না করাই উত্তম। বিশেষ করে রাতের বেলার ঝলমলে আলোকজ্জ্বল দৃশ্য। মালয়েশিয়া থেকে ফেরার পরও যেন এই আলোকময় দৃশ্য চোখে লেগে থাকবে। কে এল টাওয়ার উঠতে জন প্রতি খরচ হয় ৩০ রিঙ্গিত।

malaysia-5

চায়না টাউন

চায়না টাউন মূলত মার্কেট। মালয়েশিয়ার সব চেয়ে কম মূল্যে পণ্য কেনা বেচার মার্কেট এটি। সেখানে বেশির ভাগ বিদেশীদের কেনা-কাটা করতে দেখা যায়। তবে চায়না টাউন থেকে দামদর করে পণ্য কিনতে হবে। ঠিক যেন বাজির মতো। দোকানী দাম হাঁকাবে আকাশ সমান। ক্রেতাকে বলতে হবে তার এক অংশ।

লেগোল্যান্ড থিম পার্ক

এশিয়ার সর্বপ্রথম লেগোল্যান্ড, লেগোল্যান্ড মালয়েশিয়া 2012 সালের 15-ই সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত হয়। সমস্ত আকর্ষণীয় রাইডগুলিতে চড়তে ও সমস্ত কার্যক্রমগুলি দেখতে প্রায় 12 ঘন্টা সময় লাগে। রাইড, স্লাইড ও প্রদর্শনী মিলিয়ে প্রায় 70-টি আকর্ষণ রয়েছে। লেগোল্যান্ড মালয়েশিয়া হল একটি লেগো-থিমের ওয়্যাটার পার্ক ও হোটেল। এটি ইউরোপের 1-নং আকর্ষণীয় কার্যকরী মার্লিন্ এন্ট্যারটেনমেন্টস গ্রুপের একটি অংশ। শিশুদের কল্পনাকে একটি বাস্তবসম্মত রূপদানকারী লেগোল্যান্ড।

জু-নিগাড়া

জু-নিগাড়া মালয়েশিয়ার জাতীয় চিড়িয়াখানা। এখানে আছে নানান রকমের পশু-পাখি। বাঘ আর সিংহ ছাড়া সব প্রাণীকেই ছোঁয়া যায়। চাইলে দর্শনার্থীরা পশু-পাখিকে জড়িয়ে ধরে ছবিও তুলতে পারবে। শুধুই কি ছবি তোলা! পশু-পাখিদের প্রতি দরদতো সবারই। তাই চাইলে দরদী দর্শনার্থীরা তাদের আদর করতে চাইলে নেই কোন বাঁধা। জু-নিগাড়া থেকে বের হয়ে আশপাশের শপিং মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যেতে পারে। পণ্য পছন্দ হলে কেনাকাটা করে ব্যাগ ভরিয়ে নেয়া যেতে পারে।

malaysia-6

ক্যামেরুন পার্বত্য অঞ্চল

ক্যামেরুন পার্বত্য অঞ্চল হল মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বৃহত্তম শৈল শহর সমভূমির দগ্ধ উত্তাপ থেকে অনেক দূরে অবস্হিত ক্যামেরুন পার্বত্য অঞ্চল, মালয়েশিয়ার এক অন্যতম বৃহৎ শৈলশহর এবং একইভাবে স্থানীয় ও পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় রহস্যময় স্থান। স্থানটি তার আয়োজিত প্রচুর কার্যক্রমের প্রস্তাব নিবেদন করে; যেমন আদিবাসী স্ট্রবেরি খামার এবং গোলাপ বাগান পরিদর্শন, চা চাষের মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ, খামারের তাজা উৎপাদন সামগ্রীর কেনাকাটা ও টিউডোর-শৈলীতে নির্মিত রিসর্টগুলিতে খাবারের উপলব্ধি।
সঙ্গে যা রাখা জরুরি

ভ্রমণের সময় এক ঋতুর দেশ বলে পরিচিত মালয়েশিয়ায় শুধু জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে হালকা ঠাণ্ডা পড়ে। ভারী শীতের কাপড়ের খুব একটা দরকার পড়ে না। তবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে ভারী জামাকাপড়ের দরকার হতে পারে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টি হয়। তাই রেইনকোট সঙ্গে রাখা ভালো।

যারা মালয়েশিয়া যাওয়ার প্ল্যান করেছেন তাদের ভ্রমণকে আনন্দদায়ক ও সুবিধার্থেই আজকে আমার এই লিখা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ দেশে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক পর্যটক যান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY