অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন

0
723
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন
5 (100%) 1 vote

মাঝেমধ্যে জীবনের সকল ব্যস্ততাকে দূরে ফেলে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়। হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে এমন কোন জায়গায় যেখানে সবুজের মধ্যে উচ্ছ্বাস ভেসে বেড়ায় আর অগণিত সবুজের মিছিল স্তব্ধ করে দেয় ইন্দ্রিয়ের অবাক হওয়ার ক্ষমতাকে।

বাংলাদেশের দক্ষিণসীমায় অবস্থিত সুন্দরবন তেমনই একটি সবুজের স্বর্গরাজ্য। প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এ বনে প্রকৃতি সেজেছে এক অপূর্ব সাজে। প্রকৃতির এই অপূর্ব রূপ আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এর মাঝে লুকিয়ে থাকা রহস্যের কারণে।

পৃথিবীর বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্টকে অন্যতম একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হিসেবে গণ্য করা হয়। সুন্দরবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন রহস্য আর রোমাঞ্চে ঘেরা। এ বনের ছুটন্ত হরিণের পাল, গাছে ঝুলে থাকা বানর, জলে ওঁতপেতে থাকা কুমির, অবিরাম দুলতে থাকা শুকরের লেজ কিংবা বাঘমামার গর্জন জানিয়ে দেয়, সবেমাত্র অ্যাডভেঞ্চার শুরু, ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল।
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্বের সেরা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট প্রকৃতির রহস্যঘেরা সুন্দরবন। সারি সারি সুন্দরী, পশুর, কেওড়া, গেওয়া এবং গোলপাতা গাছ। দৃষ্টি যতদূর যায় সব খানেই যেন কোন শিল্পী সবুজ অরণ্য তৈরি করে রেখেছেন। অপরূপ চিত্রল হরিণের দল, বন মোরগের ডাক, বানরের চেঁচামেচি, মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। টেলিভিশনের পর্দায় নয়, ভ্রমণপ্রিয় মানুষ এখন ইচ্ছা করলে যে কোন সময় নিরাপদে ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবন। তবে প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত সুন্দরবন ভ্রমণের উত্তম সময়।

বনভূমি ও বন্য প্রাণী দেখতে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে ভিড় করছে পর্যটকরা। প্রকৃতির অপরূপ অনাবিল সৌন্দর্যমন্ডিত রহস্যঘেরা এ বনভূমি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা। সুন্দরবন বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রল হরিণের জন্য। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বানর, কুমির, হাঙ্গর, ডলফিন, অজগর ও বন মোরগ ছাড়াও রয়েছে ৩৩০ প্রজাতির গাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির বন্য প্রাণী ও ৩২ প্রজাতির চিংড়িসহ ২১০ প্রজাতির মাছ। এসব বন্য প্রাণী ও সুন্দরবনের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রতিনিয়ত সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।

এ বনাঞ্চলের খ্যাতি পৃথিবী জুড়ে। এত বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বিশ্বের আর কোথাও নেই। বাংলাদেশের আয়তনের ৪ দশমিক ২ শতাংশ ভূমির প্রায় ৪৪ ভাগ এই সুন্দরবন। এখানকার জোয়ারভাটা, সবুজ বনানী আর বিচিত্র বন্যপ্রাণী সব সময় হাতছানি দেয় মানুষকে। পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের রাজকীয় পদচারণা রয়েছে এ বনাঞ্চল জুড়ে। বনের দক্ষিণ কোল ঘেঁষে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। নিকটবর্তী সাগরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের অবতারণা করে। এ বনকে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা।
ঢাইনমারী অতিক্রম করলেই মংলার বহির্নোঙরে দেখা যাবে একের পর এক বিদেশি জাহাজ। দেশ-বিদেশের পতাকাবাহী এসব বড় বড় জাহাজ দেখতে দেখতেই চোখে ভেসে উঠবে সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী। এসব কেওড়া, গরান, সুন্দরী গাছ আর গোলপাতার বাগান দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব কচিখালী, কটকা কিংবা হিরণ পয়েন্টে। পর্যটকদের এখন মূল আকর্ষণ কটকা। হিরণ পয়েন্টের চেয়েও কটকা ইদানীং আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সেখানে পৌঁছতে মংলা থেকে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। কটকায় খুব সহজেই ঝাঁকে ঝাঁকে হরিণ দেখা যায়। ছোট ট্রলার কিংবা নৌকায় করে কটকার এপার-ওপার ঘুরে হরিণ ও বানরসহ বিরল প্রজাতির পাখি দেখা সম্ভব। এখানে দেখা সম্ভব হরিণ ও বানরের মিতালি। বানর গাছ থেকে খাবার নিচে ফেলে দেয়। হরিণ নিচে বসে অনায়াসে খাবার খায়। বাঘ আসতে দেখলে আগেভাগেই বানর হরিণকে সঙ্কেত দেয়। হরিণ সঙ্কেত পেয়ে পালিয়ে যায়। কটকায় রয়েছে বন বিভাগের ওয়াচ টাওয়ার। গাছের সমান উঁচু এ টাওয়ারে অনায়াসেই উঠে পড়া যায়। কটকাসহ সুন্দরবনের বেশ কিছু এলাকাকে সরকারিভাবে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ।

sundorbon-3

নাম কেন সুন্দরবন?
সুন্দরবনের নাম ‘সুন্দরবন’ হল কেন? তার আগে বলো, সুন্দর বনে সবচেয়ে বেশি কোন গাছ পাওয়া যায়? সুন্দরী গাছ। আর তার থেকেই মনে হয় বনটির নাম হয়েছে সুন্দরবন। তবে ভিন্নমতও আছে। অনেকে বলেন, আগে এই বনের নাম ছিল ‘সমুদ্রবন’। আর সেই নামটিই পরে হয়ে গেছে ‘সুন্দরবন’। আবার অনেকে বলেন, স্থানীয় আদিবাসীরা বনটিকে ডাকত ‘চন্দ্র-বান্ধে’ নামে। আর সেই নামটিই বিকৃত হতে হতে হয়ে গেছে ‘সুন্দরবন’। আপনার কী মনে হয়, কোন গল্পটা সত্যি? বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু সুন্দরী গাছের গল্পকেই সত্যি বলে মানে।

সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানসমূহ
সুন্দরবনের কিছু মনোমুগ্ধকর স্থান রয়েছে যেখানে না গেলে আপনার সুন্দরবন যাওয়া স্বার্থক হবে না। যেমন হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, কটকা, করমজল, নীলকমল, শরণখোলা, ছালকাটা, টাইগার পয়েন্ট টাওয়ার, টাইগার পয়েন্ট সি বিচ, জামতলা সি বিচ, সাত নদীর মুখ, কালীরচর উল্লেখযোগ্য।

করমজল
সুন্দরবন ভ্রমণ এবং সুন্দরবন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার জন্য করমজল হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত ও আকর্ষণীয় স্থান। মংলা সমুদ্রবন্দরের খুব নিকটবর্তী হওয়ায় মংলা ফরেস্ট ঘাট থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে এই স্থান পরিদর্শন করে ফেরত আসা যায়। করমজলকে সুন্দরবনের মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানকার প্রধান আকর্ষণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে হরিণ, কুমির, বানর, কাঠের ট্রেইল, টাওয়ার, ম্যানগ্রোভ আরবোরেটাম, পাখি, নৌকা চালনা, পশুর নদী, বিদেশি জাহাজ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ইত্যাদি। বাংলাদেশের একমাত্র কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি রয়েছে করমজলে।

কটকা
সুন্দরবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত কটকা সুন্দরবনের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি মংলা থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সুন্দরবন পূর্ব অভয়ারণ্যের প্রধান কেন্দ্র। এখানে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খাল। এসব খালের পাশেই দেখা যায় চিত্রল হরিণ, বানর, উদবিড়াল, সাপ, বনমোরগ। মাঝে মধ্যে বাঘের গর্জন এবং রাতের বেলা জোনাকির আলোর মেলা। আশপাশের হরিণের পাল এবং বাঘের বিচরণ সত্যিই উপভোগ করার মতো। কটকার জামতলা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে দেখা যায় হরিণের বিচরণ, শূকরের দৌড়াদৌড়ি, বাঘের হরিণ শিকারের কিংবা রাজকীয় ভঙ্গিতে হেঁটে চলার দৃশ্য।

sundorbon-2

কচিখালী
কচিখালীও সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। সমুদ্র সৈকত এর প্রধান আকর্ষণ। কটকার জামতলা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে কচিখালী সমুদ্র সৈকত হয়ে বন বিভাগের কচিখালী স্টেশন পর্যন্ত পায়ে হাঁটা পথ রয়েছে। এ পথের পাশে ঘন অরণ্যের মধ্যে বাঘ, হরিণ, শূকর, বিষধর সাপ ইত্যাদির এক গা ছমছম করা পরিবেশ। এখানে রয়েছে একটি অভাবনীয় সুন্দর ও নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত, যার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। মাঝে মধ্যে এই সৈকতে বাঘের বিচরণ লক্ষ করা যায়।

নীলকমল
নীলকমলকে সবাই হিরণ পয়েন্ট নামেই বেশি চেনে। খুলনা থেকে ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান। এখানে রয়েছে প্রচুর হরিণের বিচরণ। আরও আছে বাঘ, বন্য শূকর, বানর, উদবিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ এবং পাখি। নীলকমলের প্রাকৃতিক দৃশ্যও অপূর্ব। এ ছাড়াও আছে দুবলার চর। সমগ্র সুন্দরবন ঘুরে মানুষের দেখা না মিললেও বন থেকে ফেরার পথে আলোরকোল হয়ে দুবলার চরে যাত্রাবিরতি করলে দেখা মিলবে হাজার হাজার মত্স্য শিকারির। সাগর সংলগ্ন বনের একটি অংশ কেটে সেখানে ৫ মাসের জন্য অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার জেলে। এদের মধ্যে কেউ বরিয়ালী, কেউ বাওয়ালী ও জেলে। প্রতিবছর অক্টোবর মাস এলেই এরা দল বেঁধে ছুটে আসে দুবলার চরে। ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হলেই ফিরে যায় বাড়িঘরে। বঙ্গোপসাগরে মৎস্য শিকারের জন্য অস্থায়ীভাবে দুবলার চরে তাদের বসবাস।

হার বাড়িয়া
চাঁদপাই রেঞ্জের অন্তর্গত পশর নদীর তীরে মংলা থেকে ২০ কিঃমিঃ দূরে হার বাড়ীয়া নামক স্থানটি অবস্থিত। যার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষনীয়। এখানে কাঠের তৈরী দুইটা ট্রেইলসহ গোলাঘর, যার একটি পুকুর সংলগ্ন, কাঠের তৈরী পুল ইত্যাদী রয়েছে। এখানে উন্নয়নের যে পরিকল্পনা গুলো হাতে নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে এ স্থানটি করম জলের মতন আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে।

sundorbon-4

দুবলার চর
সুন্দরবনের সর্ব দক্ষিনে এবং হিরোন পয়েন্টের পুর্ব দিকে অবস্থিত দুবলার চর। বঙ্গোপসাগরের কোলে অবস্থিত এই দ্বীপটি মৎস্য আহরোণ ও প্রক্রিয়াজাত করণের এক ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের জেলেরা প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে অস্থায়ী ঘর বাড়ি তৈরী করে সাগরে মাছ ধরে এবং তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে বিক্রি করে। মাছ ধরা মৌসুমে এখানে এসে না দেখলে বুঝানো যাবে না যে, প্রতিদিন কী পরিমাণে মাছ সংগ্রহ হয় এখানে। এ সময় কয়েক হাজার লোক মাছ ধরার কাজে এখানে আসে এবং তারা বছরের অর্ধেক সময় এ দ্বীপে অস্থায়ী ঘর বাড়ি বেঁধে বাস করে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ও কৌতূহল মেটানোর জন্য এ দ্বীপ একটি আদর্শ স্থান। এছাড়াও এখানে রয়েছে একটি আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত। এখানে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের রাস পূর্ণিমায় রাস মেলা বসে। হিন্দুদের পূণ্যস্নান উপলক্ষে এ রাস মেলা বসে। উক্ত রাস মেলা উপলক্ষে হাজার হাজার দেশী বিদেশী তীর্থ যাত্রী ও পর্যটকদের এখানে আগমন ঘটে।

শেখেরটেক
এখানে প্রায় ৪০০ বছরের পুরাতন একটি মন্দির আছে। শেখের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং অনেক উচু জায়গায় ঘরবাড়ি চি‎হ্ন পাওয়া যায়। শিবসানদীর তীরে সুন্দরবনের মধ্যে শেখেরটেক মন্দিরটি অবস্থিত। এ মন্দিরটি ছোট ছোট ইট, চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথনী। এর তেমন কোন সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। তবে এখানকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হয় কোন এক সময় এখানে লোকের বসতি ছিল। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে মন্দিরটির ভগ্নদশা এবং গভীর জঙ্গলের মধ্যে এ ধরণের সৃষ্ট কীর্তি পর্যটকদের মনে নানা কৌতূহল ও প্রশ্নের সৃষ্টি করে।

মান্দার বাড়িয়া
সুন্দরবনের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে এ অভয়ারণ্য অবস্থিত। প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য ও জীব বৈচিত্রের ভরপুর দুর্গম এ স্থানটি। সুন্দরবন ভ্রমনকারীদের (পর্যটকদের) গবেষণার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত। এখানকার ঘন বনে রয়েছে অতি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র প্রাণী থেকে শুরু করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানর উদ বিড়াল কচ্ছপ কুমির, সাপ, কাকড়া ইত্যাদির সমারোহ। এখানে সমুদ্র সৈকতে বাতাসের প্রবাহে সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ার দৃশ্য ভারি মজার। সাগরের গর্জন, সমুদ্রেও অথৈ জলরাশি ইত্যাদি। পর্যটক ও পর্যটনের এক আকর্ষনীয় বিষয়।

sundorbon-9

৬ বার রূপ বদলায় সুন্দরবনঃ
প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এই সুন্দরবন ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৬ বার তার রূপ বদলায়। খুব ভোরে এক রূপ, দুপুরে অন্যরূপ, পড়ন্ত বিকালে আরেক রূপ, সন্ধ্যায় সাজ নেয় ভিন্নরূপে। মধ্য ও গভীর রাতে সৌন্দর্য আরেক রকম। আর যদি চাঁদনি রাত হয়, তবে তো কথাই নেই। এর সব ক’টি রূপ আপনাকে দেখতে হলে অবশ্যই একটু সময় নিয়ে আসতে হবে।

কিভাবে যাবেনঃ
সুন্দরবন যেতে চাইলে ঢাকা থেকে আপনি সরাসরি চেয়ার কোচে মংলা বন্দরের পর্যটন ঘাটে পৌছাতে পারেন। সেখান থেকে চেয়ার কোচ, ট্রেনে খুলনা গিয়ে কোন আবাসিক হোটেলে রাত যাপন করে পরের দিন খুলনা জেলখানাঘাট থেকে লঞ্চে সুন্দরবনে যেতে পারেন।

ভ্রমণকালে যা সঙ্গে রাখতে হবে
ভ্রমণকালে সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স ও অভিজ্ঞ টুর অপারেটর। বন কর্মকর্তার অনুমতি প্রাপ্তির পর ভ্রমণকালের সময় সুদক্ষ ও সশস্ত্র বন প্রহরী সাথে নিয়ে নিবেন।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY