অর্থ সঞ্চয় করার সহজ কিছু টেকনিক

0
1344
অর্থ সঞ্চয় করার সহজ কিছু টেকনিক
5 (100%) 2 votes

অর্থ কার না প্রয়োজন। সবাই সবার সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করে থাকি। অনেকে আয়ের থেকে বেশি ব্যয় করে ফেলে, অনেকে আবার আয়ের থেকে কম ব্যয় করে বাকিটুক সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য। আর এই সঞ্চয় এর অভ্যাস এক-দুই দিনে হয় না। যাদের তরুন থাকতেই অর্থ সঞ্চয় করার অভ্যাস আছে তাদের অনেক সুবিধা আছে। একটা সময় পরে আপনি আপনার সেভিংস গুলোকে আপনার পড়াশুনায় বা কারো জন্য স্পেশাল কিছু কিনতে অথবা খুব ইমারজেন্সি তে ও ব্যবহার করতে পারছেন। কিন্তু এই অর্থ সঞ্চয় করা কি সহজ মনে করেন? মোটেই নয়। অর্থ সঞ্চয় খুব কঠিন। এটা যারা সঞ্চয় করে তারা করতে পেরে বুঝে আর যারা সঞ্চয় করতে পারে না তারা করতে না পারার কারনে বুঝে। জেনে নিন অর্থ সঞ্চয় করার সহজ কিছু টিপস-

ধাপ-১ > নিজের সেভিংস সিস্টেম তৈরি করুন

saving money

চারটি বয়াম এর ব্যবস্থা করুন

সঞ্চয়ের জন্য অবশ্যই আপনাকে একটি ভাল সিস্টেম তৈরি করতে হবে। আর এই সিস্টেম এর মাধ্যমে টাকা জমাতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে কিভাবে কতটুক টাকা আপনি খরচ বা সঞ্চয় করবেন। আপনার বাসার ই চারটি খালি বয়াম আপনি আপনার সঞ্চয় সিস্টেম তৈরি করতে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার বয়াম গুলো লেবেল করুন

money-saving-jars

এবার বয়াম গুলো কে লেবেল করুন “সঞ্চয়”, ” ব্যয়” , “দিতে হবে” এবং “ইনভেস্ট” নামে। আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে প্রতিটি বয়াম এ কত টাকা বরাদ্দ করবেন। এবার জেনে নিন কোন বয়াম এর টাকা কিসে ব্যবহার করবেন।

  • সঞ্চয়- এই বয়াম এ সেই টাকা গুলো রাখবেন যেগুলো আপনার এখন বা ভবিষ্যতেও খুব জলদি খরচের প্রয়োজন পরবে না। আপনি এই টাকা গুলো রাখবেন ভবিষ্যতে বড় কিছু করার জন্য যেমন- বাইক বা স্বর্ণের অলঙ্কার কিনতে।
  • ব্যয়- এই বয়াম এর টাকা গুলো সাধারণত আপনি এই মাসেই যে কোন প্রয়োজনে খরচ করবেন। এখান থেকে জমানোর কোন চিন্তা নেই।
  • দিতে হবে- এই বয়াম এ সেই টাকা থাকবে যেটা আপনি কাউকে কিছু দিতে ব্যবহার করবেন। হতে পারে আপনি একটি চ্যারিটি পরিচালনা করেন। সেখানে দিতে হবে ইত্যাদি।
  • ইনভেস্ট- এই বয়াম এ আপনি কোথাও ইনভেস্ট করলে সেটার টাকা রাখবেন। যেমন- ব্যাঙ্কে সেভিংস আকাউন্ট এর টাকা।
  • বয়াম গুলো সাজান

    টাকা জমানো কে আরো মজাদার করতে যে প্রয়োজনে আপনি বয়াম গুলো তৈরি করেছেন সেগুলোর কিছু ছবি বিভিন্ন পুরোনো ম্যাগাজিন বা পেপার থেকে কাট করে বয়ামে লাগিয়ে দিন। যেমন- আপনি বাইক কিনতে টাকা সঞ্চয় করছেন তাহলে বাইকের একটা ছবি সঞ্চয় এর বয়াম এ লাগিয়ে দিন। এতে আপনি আরো অনুপ্রানিত হবেন।

    ধাপ ২ > লক্ষ্য এবং অভ্যাস সেট করুন

    saving goal

    সর্বপ্রথম টাকা গুলো দিয়ে কি করবেন ভাবুন

    অনেকেই আছে জানে না যে সে তার জমানো টাকা গুলো দিয়ে কি করবেন। তারা নিজের কোন প্রয়োজন বের করতে সক্ষম হয় না ফলে টাকা জমানোর রেস এ তারা ফেইল করে। আপনি কি আপনার কলেজের জন্য টাকা জমাচ্ছেন নাকি একটা ল্যাপটপ কেনার আশা আছে আপনার। টাকা জমানোর প্রথম ধাপ ই হল নিজের প্রয়োজনীয়তা কে খুজে বের করা। তার পরেও যদি আপনি ই আপনার প্রয়োজনীয়তা খুজে বের করতে না পারেন তাহলে তাদের সাথে কথা বলুন যারা আপনাকে খুব ভালো ভাবে চিনে। হতে পারে আপনার বাবা-মা বা বন্ধু-বান্ধব।

    সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারন করুন

    একবার যদি আপনি জেনে যান যে টাকা গুলো দিয়ে আপনি কি করবেন তাহলে আপনার সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারন করা সহজ হবে। তখন আপনার একটা লক্ষ্য থাকবে যে এই মাসে আপনার এত টাকা রাখতেই হবে আপনার প্রয়োজনীয়তা মিটাতে।

    সেভিংস আকাউন্ট খুলে নিন

    টাকা জমানোর বেস্ট উপায় হল সেভিংস একাউন্ট। এতে আপনি টাকা জমানোর পাশাপাশি জমানো টাকার উপর কিছু ইন্টারেস্ট ও পাবেন। যেটা আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সময়ে পেয়ে যাবেন। আর যদি আপনার বয়স ১৮ এর কম হয়ে থাকে তাহলে আপনার বাবা-মা কে বলুন একটা একাউন্ট খুলে দিতে।

    খরচের চার্ট রাখুন

    expense list
    এই লিস্টে আপনার সকল খরচ তারিখ এবং এমাউন্ট সহ তালিকাভুক্ত করবেন। এর মাধ্যমে আপনি মাস শেষে জানতে পারবেন যে আপনার সব টাকা কোথায় খরচ হল এবং কোন অপ্রয়োজনীয় খরচ হলেও আপনি পরবর্তী মাসে সেটা না করার চেষ্টা করবেন। আর যদি এটা ঝামেলার মনে হয় তাহলে এমন মোবাইল এপস পাওয়া যায় যেটায় আপনি খুব সহজেই মোবাইলে আপনার সকল হিসেব রাখতে পারেন। সেটি ডাউনলোড করে নিন।

    ধাপ ৩ > খরচ কমিয়ে দিন

    expenses

    কম টাকা সাথে রাখুন

    low money
    ওয়ালেট এ বেশি টাকা নিয়ে বের হবেন না। এছাড়াও আপনার কাছে কি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড আছে? যতটা সম্ভব সেগুলো ও সাথে নিয়ে বের হবেন না। এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে আপনার অযথা খরচ করার অভ্যাস অনেকটাই কমে যাবে। আপনি জানেন যে আপনার কতটুক খরচ লাগতে পারে। ততটুক বা তার একটু বেশি টাকা নিয়ে বের হবেন। কিন্তু অনেক বেশি টাকা নিবেন না।

    খরচের আগে জমান

    save-money
    যে কোন টাকা হাতে পাওয়ার পর আগে খরচ এর না জমানো নিয়ে ভাব্বেন এবং সেই টাকা টা আগে আলাদা করে রাখবেন। কিন্তু যতটুক টাকা খরচ না করলেই নয় সেই টাকা অবশ্যই রেখে নিবেন। লাইফ টা কে তো ইঞ্জয় করতে হবে। বেশি টাকা জমাতে গিয়ে প্রয়োজনে খরচ না করে কষ্ট করলে হবে না।

    শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসে অর্থ ব্যয় করুন

    ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো বুদ্ধিমানের কাজ। তাই খরচের ক্ষেত্রে যেটা দরকারি সেটা কিনুন। যেগুলো না হলেও হয় সেগুলো কিনে অযথা অর্থ ব্যয় করবেন না। যেমন- আপনি গান শিখতে চান। গানের স্কুলে গেলেন। কোন সমস্যা নেই। এগুলো আপনার প্রয়োজন। উল্টোদিকে আপনার একটা গিটার আছে তাও নতুন গানের স্কুলে যাবেন তাই নতুন গিটার কেনা কখনোই ভালো আইডিয়া না। আর এগুলোই করা যাবে না।

    অর্থের এক্সচেঞ্জ রেট

    আমরা সবাই জানি বিভিন্ন দেশে অর্থের এক্সচেঞ্জ রেট বিভিন্ন রকম। তাই এখনকার রেটে কিছু ডলার বা ইউরো কিনে রাখতে পারেন। পরে যখন এর রেট বাড়বে তখন ভাঙ্গিয়ে নিন।

    ধাপ ৪ > আয় করুন এবং সঞ্চয় করুন

    Saving

    “অনুপার্জিত ” অর্থগুলো সংরক্ষণ করুন

    আমরা জন্মদিনে, ঈদে বা অন্য কোন ওকেশনে বখশিস পেয়ে থাকি। অনেকেই ভাবে যে এই টাকা তো উপার্জন করি নি। তাহলে সঞ্চয় করার দরকার নেই। কিন্তু না এই টাকা গুলো ও সঞ্চয় করতে হবে। সব খরচ করবেন না।

    ভাংতি টাকা সংরক্ষন করুন

    অনেক সময় আমরা অনেক ভাংতি টাকা পাই। যেমন- কিছু কিনলাম ৯৫ টাকা দিয়ে। ১০০ টাকা দিলাম এবং দোকানদার ৫ টাকা ফেরত দিল। ৫ টাকা ভাংতি বলে অনেকেই দাম দেই না। কিন্তু জানেন কি এরকম ৫ টাকা আপনি ১০ দিন রেখে দিলে আপনার ৫০ টাকা হয়ে যাবে। তাই ভাংতি টাকা গুলো সংরক্ষন করবেন।

    আশা করি এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনারা জেনেছেন কিভাবে অর্থ সঞ্চয় করা যায়। চেষ্টা করেই দেখুন না। ফলাফল নিজেই পেয়ে যাবেন।

    Jannatul Jarin

    Jannatul Jarin

    Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
    Jannatul Jarin

    Comments

    লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

    NO COMMENTS

    LEAVE A REPLY