আধুনিক পর্যটন শহর সিঙ্গাপুর

0
237
আধুনিক পর্যটন শহর সিঙ্গাপুর
Rate this post

আপনি কোথাও ঘুরতে চাচ্ছেন কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কোথায় যাবেন। আপনাদের সুবিধার্থেই আমার আজকের এই লেখা। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনি ঘুরে আসতে পারেন আধুনিক পর্যটনের শহর সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুর মানেই রঙীন আলোর ছড়াছড়ি আর সৌন্দর্য সমৃদ্ধ কাচের শহর।
বিশ্বের যে কয়টি দেশ আছে অর্থনীতি, আধুনিকতা আর পর্যটনে শীর্ষস্থানের কাতারে নাম লিখিয়েছে সেসব দেশের মধ্যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অতি ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরও অন্যতম। সিঙ্গাপুর মানে পরিচ্ছন্নতার শহর, নয়নাভিরাম সড়ক আর সমুদ্র তীরের শহর।

খুব বেশি দিন হয়নি এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি স্বাধীন দেশের কাতারে নাম লিখিয়েছে। কিন্তু এই অতি অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটি বিশ্বের শীর্ষস্থানে তার আসন পাকাপোক্ত করেছে যে কয়টি কারণে তন্মধ্যে দেশটির পর্যটন ব্যবস্থা অন্যতম। পর্যটন সমৃদ্ধতার কারণেই সিঙ্গাপুর এখন এশিয়াসহ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে স্বপ্নের শহর।
সিঙ্গাপুরের নামকরণ করা হয় মূলত সিংহপুর থেকে। নামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সত্যিকারের অর্থে সার্বিকভাবেও দেশটি সিংহের মত বলবান হয়ে উঠেছে। সিংহপুর বা লায়ন সিটির প্রতীক হলো মার্লিয়ন। মার্লিয়ন হলো অর্ধেক সিংহ আর অর্ধেক মৎস্যের এক পৌরণিক প্রাণী।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে কীভাবে যাবেন? আপনি যদি সিঙ্গাপুর যেতে চান তার জন্য ইণ্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান রয়েছে। এছাড়াও আরও ব্যবস্থা রয়েছে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, থাই এয়ারলাইন্সের বিমান। বাংলাদেশ বিমানেও ঢাকা হয়ে যাওয়া যায় সিঙ্গাপুর। তবে সবথেকে বড় সুখবর দেশেই এখন বিভিন্ন বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সি তাদের প্যাকেজ ট্যুরের আওতায় অতি অল্প খরচে আপনাকে সিঙ্গাপুর ঘুরে আসার সুযোগ দিচ্ছে।

singapur-1

থাকার জন্য সেরাঙ্গুন রোডের ‘গোল্ডেন টেম্পল’ হোটেল, ভিক্টোরিয়া ষ্ট্রিটের ‘হোটেল ভিক্টোরিয়া’ কম বাজেটের পর্যটকের জন্য সুবিধাজনক। যাদের মাঝারী বাজেট তারা ‘হোটেল ইম্পিরিয়াল’ ‘গ্রাণ্ড সেন্ট্রাল’ প্রভৃতি হোটেলে থাকতে পারবেন। বুকিং না করে গিয়েও বিমানবন্দরে পৌঁছেও এইসব হোটেলে অনায়াসে আপনার কাঙ্খিত রুমের বুকিং দিতে পারবেন।
বেড়ানোর জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অসংখ্য বাস চলাচল করে বহুরাত অবধি। পর্যটকদের জন্য রয়েছে ট্রাভেল টিকিটের সুযোগ। এছাড়াও শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও টিকিট কাটতে পারবেন।

সাড়ে তিন ঘন্টা সময়ের সিটি ট্যুরে দেখানো হয় ‘ক্রিকেট ক্লাব’, ‘পার্লামেন্ট হাউস’, ‘সুপ্রীম কোর্ট’ সিটি হল। এছাড়া চায়না টাউন, শ্রী মারিম্পাম টেম্পল, মাউণ্ট ফাবের, লোকাল হ্যাণ্ডিক্রাফট সেন্টার, ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রভৃতি।

দুপুরের চিড়িয়াখানা ভ্রমণে বন্য জন্তুদের মাঝে দেখা যাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জন্তুদের বিশেষ শো। রাতের বেলা জঙ্গলে যেতে চাইলে রয়েছে ‘নাইট সাফারী’র ব্যবস্থা। রয়েছে ‘সেন্টোসা ওয়াটার ওয়ার্ল্ড’ ট্যুর। যেখানে কেবল কারে চেপে সাগর সান্নিধ্যে কাটাতে পারবেন একান্ত সময়।

singapore-3

সিঙ্গাপুরের মত উন্নত আর নান্দনিক শহরে পদার্পন করবেন আর শপিংয়ে যাবেন না তা কি হয়? সারা সিঙ্গাপুর জুড়েই আপনার শপিংয়ের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রয়েছে অসংখ্য শপিং মল। অরচার্ড রোড এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এখানে পোশাক, জুতো, ইলেকট্রনিক্স গুডস, ফার্নিচার, কসমেটিকস সহ যাবতীয় জিনিস কিনতে পারবেন।
চাইনিজ, ইটালিয়ান, ফ্রেঞ্চ, ইণ্ডিয়ান, মালয়খানার নানান আয়োজন রয়েছে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ক্যাফে কিংবা রেস্তোরাঁতে। সিঙ্গাপুরের আবহাওয়া সাধারণত গরম। ফলে একটু হালকা কাপড় সঙ্গে নেবেন।

কেবল কারে চেপে যাওয়া যায় এই শহরে। উপর থেকে দৃশ্যমান এই শহরটা দেখতে একদম ছবির মত লাগে। সবকিছু ছবির মতই সাজানো গোছানো আর আলো ঝলমলে সুন্দর। নীল সমুদ্রের তীরে হওয়ায় রাত হলেই সুবৃহৎ দালানকোঠার মায়াবী আলো সমুদ্রের জলে মিশে রাতের আবেশ করে তোলে স্বর্গীয়। সিঙ্গাপুরের সেন্টোসা পৌঁছে ‘ইমেজেস অব সিঙ্গাপুর’ মিউজিয়ামে আপনাকে একবার পা রাখতেই হবে। কিসের জন্য পা রাখা? কারণ এই মিউজিয়ামটিতে প্রমাণ সাইজের অসংখ্য মূর্তি দিয়ে সাজানো চিনা, মালেয়শিয়া, ভারতীয় নানা জাতীর বিচিত্র জগৎ। এই সব অঞ্চলের ঘরবাড়ি, পরিবেশ প্রকৃতি, আচার অনুষ্ঠান, নানা লোককীর্তির বর্ণময় প্রতিচ্ছবি। এর একটু সামনে এগুলেই পাবেন বাটারফ্লাই পার্ক। বাটারফ্লাই পার্কটা যেন অজ্রস প্রকারের রং বাহারী প্রজাপতির সংগ্রহশালা বা উদ্যান। রঙীন প্রজাপতির কল্যাণেই পার্কের ভেতরটা পৃথিবীর বাইরের এক রঙ্গীন জগতের আবহাওয়া এনে দিতে পারে আপনাকে। বাটারফ্লাই পার্কেরই পাশে অর্কিড গার্ডেন। যারা ফুল ভালোবাসেন এই গার্ডেনটি তাদের জন্য। আর এসবেরই পাশে রয়েছে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অচেনা জগৎ পরিভ্রমণের নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ। সুড়ঙ্গপথে হেঁটে হেঁটে সঙ্গীকে নিয়ে পৌঁছে যেতে পারবেন সেই পাতালপুরীতে। এ এক বিশাল একুয়ারিয়াম। যেখানে পা রাখলেই মনে হবে নিশ্চিত সমুদ্রের তলায় হাজির হয়েছেন অথচ আপনার গায়ে এক বিন্দু পরিমাণও জলের ফোঁটা এসে লাগছে না। মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূর থেকেই আপনাকে দেখে উৎসাহী মুখ বাড়িয়ে ঘুরে বেড়াবে অজস্র প্রকারের নাম না জানা সামুদ্রিক মাছ। মনে হবে ইচ্ছে করলেই ছুঁয়ে দিতে পারবেন।

singapur-3

একুয়ারিয়াম দর্শন শেষে যেতে পারেন পৃথিবীর সবথেকে বড় কৃত্রিম পাখিআবাস ‘জুরং বার্ড পার্ক’ দর্শনে। জুরংয়ের আরেক নাম আনন্দের জলপ্রপাত। এটিও পৃথিবীর সবথেকে বৃহৎ কৃত্রিম জলপ্রপাত। কেবলই আগত দর্শনার্থীদের আনন্দ দানের উদ্দেশ্যে তৈরি। তাছাড়াও পুরো পার্কজুড়ে রয়েছে অসংখ্য পাখি,গাছপালা আর ফলপাকুড়ের সমারোহ। ঘন জঙ্গলে বন্য পশুদের মুখোমুখি হতে চাইলে সেই ব্যবস্থাও রয়েছে। তার জন্য রয়েছে নাইট সাফারী। গাড়ির ভেতর বসে কাচের বাইরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে অনায়াসে দেখতে পারবেন হরিণ, ক্লেপ বাফেলো, ব্লু শিপসহ আরো নানাবিধ জন্তুর। কচ্ছপ দেখতে চাইলে যেতে পারেন অদূরের কচ্ছপ দ্বীপ ‘কুসু’। কুসুতে রয়েছে দুশো বছরের এক চিনে মন্দির। সমস্ত দ্বীপ ঘিরে ছোট ছোট জলাভূমি আর ডোবা। এসবের পাশাপাশি সমস্ত শহর জুড়েও রয়েছে বিলাস বৈভবের এক নান্দনিক অধ্যায়। সন্ধ্যের আলো ঝলমলে শহরে দেদারছে খানাপিনা আর আমোদ প্রমোদের সুব্যবস্থা। এখানকার রেস্তোরাঁয় ঢুকে ‘রোটি পরোটা’র স্বাদ নিতে ভুলবেন না। সবমিলিয়ে সিঙ্গাপুর একবার গেলে শহরটির অনিন্দ্য সৌন্দর্য সারাজীবন আপনার চোখে বিনা সুতোয় সেলাই হয়ে থাকবে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY