আপনারও কি অফিসে যেতে দেরি হয়?

0
249
আপনারও কি অফিসে যেতে দেরি হয়?
5 (100%) 2 votes

সবাই একসময় কোন না কোন কারনে অফিসে দেরিতে পৌছাই। এর জন্য অনেক কারন থাকতে পারে যেমন গাড়ির চাকা পাংচার, রাস্তায় জ্যাম ছিল, বৃষ্টির কারনে, অসুস্থ ছিল এছাড়া আরও অনেক কারন থাকতে পারে। এটা আকস্মিক কারনে হতে পারে আবার ইচ্ছাকৃত কারনে অনেকে অফিসে দেরিতে পৌছায়। এটা অনেকে নিয়মিত এবং অনিয়মিত অনেক কারনেই করতে পারে। ঠিকমতো মানসিক প্রস্তুতি থাকলে দেখবেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে যাচ্ছেন অফিসে। কর্মক্ষেত্রে সময়মত না পৌঁছাতে পারা অনেকের বদঅভ্যাস। যিনি নিজে দেরি করছেন তিনিও হয়তো মনে-প্রাণে চেষ্টা করছেন অফিসে সময়মত পৌঁছাতে। কিন্তু কিছুতেই হয়ে উঠছেনা কিছু। ফলাফলস্বরুপ প্রতিদিনই রাস্তায় জ্যাম কিংবা নানা অজুহাত। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?

১। সময়নিষ্ঠ হোন
পেশাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আপনার সময়জ্ঞান। কর্মক্ষেত্রে সময়ের আগে অথবা অন্তত সময়মতো পৌঁছানো সেরা গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অফিসে দেরিতে এসে সময়মতো চলে যাওয়ায় আপনার ভালো কাজকেও অন্ধকারে রেখে দেবে।

২। লক্ষ্য নিয়ে কাজ করুন
যদি আপনার জীবনে স্বপ্ন থাকে, সুস্পষ্ট লক্ষ্য থাকে, প্রেরণা, তাহলে আপনি কখনই কাজের জায়গায় পৌঁছতে দেরি করবেন না। যেমন চলছে চলুক, যা হচ্ছে হোক, এমন ঢিলেঢালা মানসিকতার জন্য আপনার রোজ দেরি হয়।

৩। মানসিক ভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখুন
প্রতিদিন অফিসে দেরি হওয়া একটি মানসিক সমস্যাজনিত বিষয়। এর একমাত্র প্রতিকার মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা, যেন যেসব কারণে অফিসে দেরি হতে পারে সেসব কারণ থেকে নিজেকে সব সময় সতর্ক রাখা যায়। মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নিজে নিজে ভাবুন, নিজেকে সময় দিন এবং বোঝান প্রতিদিন অফিসে দেরি হওয়া আপনার ক্যারিয়ারে কতটা ভয়াবহ দুর্যোগ বয়ে আনতে পারে।

৪। তালিকা তৈরি করুন
প্রতিদিন অফিসে দেরি হলে আপনার ক্যারিয়ারে কতটা ক্ষতি হতে পারে, তা চিন্তা করুন। এরপর যেসব কারণে অফিসে দেরি হয় তার একটি তালিকা তৈরি করুন। দেখুন, কোন কারণটি সবচেয়ে বেশি আছে, তারপর কোনটি, তারপর কোনটি। নিজেকে প্রস্তুত করুন এসব সমস্যা কিভাবে পরিত্রাণ পাবেন। সে অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৫। অভ্যাস পরিবর্তন করুন
সময় মেনে চলতে পারা একটা অভ্যাস মাত্র। এ অভ্যাস একদিনে গড়ে উঠেনা। প্রতিদিনের চর্চায় এ অভ্যাস গড়ে ওঠে। কোনোমতে কিছুদিন চর্চা করলেই অভ্যাস হয়ে যাবে।

৬। হতে হবে দায়িত্বশীল
দেরি করে পৌঁছানো বোঝায় আপনি মোটেই নিজের কাজ, কর্তব্যের প্রতি দায়িত্বশীল নন। যারা দায়িত্বশীল তারা সব ব্যাপারেই দায়িত্ব নেন। যারা নন তারা কোনো কিছুই ঠিকঠাক করে উঠতে পারেন না। খেয়াল করে দেখবেন যারা রোজ দেরি করেন তারা মূলত দায়িত্বজ্ঞানহীন।

৭। ঝেড়ে ফেলুন অবসাদ
আপনি কি কোনো কারণে অবসাদে ভুগছেন? অতিরিক্ত স্ট্রেস বা ব্যক্তিগত জীবনে কোনো সমস্যার কারণে অবসাদে ভুগলে কোনো কাজই ঠিকমতো হয় না। রাতে ঘুমও ঠিকমত হবে না, সকালে উঠতে দেরি হবে। সারা দিন আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসবে। সব কাজে দেরি হবে।

late-1

৮। ঘুম থেকে আগে উঠুন
প্রতিদিন যে সময় বাসা থেকে বের হন আগামী এক সপ্তাহ তার চেয়ে আধঘণ্টা আগে বের হোন এছাড়াও যে সময় ঘুম থেকে ওঠেন তার চেয়ে আধঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠুন। শুধু তাই নয়, দ্রুত ঘুম থেকে উঠার জন্য যে সময়ে ঘুমাতে যান তার আধাঘন্টা আগে ঘুমাতে যেতে পারেন। এভাবে প্রথমে এক সপ্তাহ টার্গেট করুন, এরপরে প্রতিদিন আধঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠা ও আধঘণ্টা আগে বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হয়ে যান। গড়িমসি করা ত্যাগ করুন। গড়িমসিতে অজান্তেই অনেক সময় পার হয়ে যায়। মানসিক প্রস্তুতি আপনাকে এ সমস্যা দূর করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে।

৯। বর্জন করুন আত্মকেন্দ্রিকতা
এক জন ঠিক সময়ে না পৌঁছলে কিন্তু সেই কাজের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও অসুবিধা হয়। আপনি দেরি করছেন মানে অন্যদের অসুবিধার কথা ভাবছেন না। আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের জন্যই এমনটা করে থাকেন আপনি।

১০। আগের দিন রাতেই যা প্রস্তুতি নিবেন
এমন অনেক কিছু আছে যা আগের দিন রাতেই আপনার সব কিছু ঠিক করে রাখতে হবে। তাহলে আপনি অফিসে দেরি করা থেকে অনেকটা বিরত থাকতে পারবেন।
* কাজ এগিয়ে রাখতে সকালে কাপড় ইস্ত্রি না করে রাতে করুন।
* সকালে কী দিয়ে নাশতা করবেন সেটা রাতেই ঠিক করে রাখুন।
* প্রতিদিন অফিসে রওনা হওয়ার সময় মেনে চলতে প্রয়োজনে সকালের নাশতা না করে বক্সে নাশতা নিয়ে অফিসে রওনা হোন।
* প্রয়োজনে রাতে গোসল করে ঘুমাতে যেতে পারেন, এতে করে সকালে গোসল করার ঝামেলা থাকবেনা।
* কাজের দিনগুলোতে সকালে শেভ না করে প্রয়োজনে রাতেই শেভ করে রাখুন।
* রাতে যদি আপনি আপনার অফিস যাবার পূর্বপ্রস্তুতি গুছিয়ে রাখেন তাহলে দেখবেন সকালে আর হুড়োহুড়িতে পড়তে হবেনা। নিশ্চিন্তে-সির্বিঘ্নে সময়মত অফিস পৌঁছাতে পারবেন আপনি।

অর্থাৎ কোনোমতেই অফিসে রওনা হওয়ার সময় ভঙ্গ করা চলবে না। এর জন্য যা যা করা দরকার সব করতে হবে। মনে রাখবেন, অফিসে পৌঁছাতে যতটা সময় লাগে, তার চেয়ে অন্তত আধঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হবেন।

১১। গড়িমসি করা ত্যাগ করুন
গড়িমসি করা ত্যাগ করুন। গড়িমসিতে আপনার অজান্তেই অনেক সময় পার হয়ে যায়। মানসিক প্রস্তুতি আপনাকে এ সমস্যা দূর করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে।

১২। বদভ্যাস ত্যাগ করুন
অফিসে ঢুকতে প্রায়ই ৫-১০ মিনিট দেরি করা, সেখানে ব্যক্তিগত কাজ বা ঝামেলা টেনে আনা, ফোনে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে খোশগল্প করা, কারো সঙ্গে অ্যাসাইনমেন্ট থাকলে সময়মতো না পৌঁছানো, ফাইল বা কাগজ কোনো অফিসে পৌঁছানোর কথা থাকলে দেরিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা, কোনো সভায় দেরিতে উপস্থিত হওয়া, অফিস থেকে আগেভাগেই বেরিয়ে যাওয়া। এ ধরনের বদভ্যাস থাকতে পারে আপনার মধ্যেও। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো সাধারণ ত্রুটি মনে হলেও এর সবই হতে পারে আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ।

১৩। কাজের জিনিস হাতের নাগালে
অনেক সময় বেরনোর আগে ঠিক কাজের জিনিসটা খুঁজে পান না। চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় করেন। এই অগোছালো স্বভাবের জন্যও কিন্তু দেরি হয়। কাজের জিনিস হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন।

আমাদের যান্ত্রিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক সময়ের মধ্যে অফিসে পৌছানো। কারণ সকালে সাধের ঘুম সহজে ভাঙতে চায় না কারোর। আর এ জন্যই অনেকের অফিসে যেতে দেরি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকতে পারে। তবে এসব সমস্যা দূর করা খুব জরুরি। তা নাহলে অফিসে দেরি করে আসার ফলে বসের কাছে নিজের অবস্থান ছোট হয়ই, বিষয়টি অন্যদেরও নজরে আসে। উন্নতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই ব্যাপারটি। কিন্তু একটু সচেতন হলেই বিষয়টি এড়াতে পারেন।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY