আমেরিকায় কিভাবে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন

0
732
আমেরিকায় কিভাবে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন
5 (100%) 1 vote

আমেরিকার মতো একটি দেশে কাজ খুঁজে পেতে চ্যালেঞ্জিং এর একটি বিষয়। আপনার কাজ, বাসস্থান, আবহাওয়া এসব কিছুর উপর নির্ভর করে আপনার জন্য চাকুরীর চিন্তা ভাবনা করবেন। আপনার জন্য একটি সাধারন নির্দেশিকা রাখা হল আপনি কোথায় থাকবেন, কিভাবে ভিসার জন্য আবেদন করবেন, কিভাবে চাকরির জন্য আবেদন করবেন এ সব কিছুর উপর-

ধাপ-১ আমেরিকায় চাকরির জন্য আবেদন

  • আপনার নির্বাচিত শহরে চাকরির জন্য আবেদন করুন
    কিভাবে নির্বাচন করবেন নিচে দেখুন। বর্তমানে অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে চাকরির তথ্য পাওয়া যায়।

    – আপনি যে পদের জন্য আবেদন করবেন তার জন্য জীবনবৃত্তান্ত লিখুন এবং একটি আবেদনপত্র লিখুন।

    – যদি অ্যাপ্লিকেশন হাতে লেখা হয়, ঝরঝরে ব্লক অক্ষরে সমগ্র আবেদনপত্র পূরণ করুন। স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করবেন না। কারন আমেরিকায় অন্যান্য দেশের লেখা পড়তে সমস্যা হতে পারে।

    – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেফারেন্স নিতে পারেন।

    – স্কাইপি বা অন্যান্য ওয়েব কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের অফার করতে পারে। অনেক কোম্পানি বিভিন্ন জায়গার মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহন করে থাকে।

    – আপনার ইন্টার্ভিউয়ের ৩ থেকে ৪ দিন পর একটি ধন্যবাদ লেটার পাঠাতে পারেন।

  • জেনে রাখা ভালো আমেরিকার ভিসা পেতে অনেক সময় লাগে
    আপনি এই সময়টাতে আমেরিকার অনেক কোম্পানি সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন এবং আপনার দেশেও এমন অনেক কোম্পানি আছে যেখানে আমেরিকার ভিসা সংক্রান্ত তথ্য ও কিভাবে চাকরি পাবেন সে সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারবেন। আমেরিকার ভিসাকে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। ১। ইমিগ্রান্ট (স্থায়ী বসবাসের জন্য) ২। নন-ইমিগ্রান্ট (সাময়িক অবস্থানের জন্য)। আইনগতভাবে ভিসার প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ যোগ্য যে কোন ব্যক্তি বৈধ প্রক্রিয়ায় ভিসার আবেদন করতে পারে এবং পেতে পারে। ভিনদেশি কেউ যখন USA নাগরিকত্ব পান তখন তিনি তার পরিবারের দায়িত্ব বা জামিনদার হয়ে মা,বাবা,স্বামী-স্ত্রই,সন্তানের জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার মাধ্যমে পরিবারকে আনতে পারেন।
  • স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন
    আপনার সুবিধার্থে প্রথমে আমেরিকায় ঢোকার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং পরবর্তীতে চাকরি খুঁজে করতে পারবেন। F-1 ও M-1 ভিসার মাধ্যমে যারা USA তে পড়াশুনা করতে ইচ্ছুক এবং পড়াশুনা বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কোন প্রশিক্ষণ নিতে চায়, তারাই আবেদন করতে পারবে এবং যোগ্য বিবেচিত হলে ভিসা পাবে। কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো একটি র‌্যাঙ্কিং পাবেন। প্রতিষ্ঠানটির সাবজেক্ট, লোকেশন, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য দ্বারা আপনি অনুসন্ধান করতে পারবেন।

ধাপ-২ একটি ওয়ার্ক ভিসা (বা গ্রীন কার্ড) পেতে

  • একটি উপযুক্ত কাজের ভিসার জন্য আবেদন করুন। আপনাকে একটি গ্রিন কার্ড দেয় যা আপনাকে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেয়। সাধারনত একটি ভিসা সাময়িক হয়। তবে অধিকাংশ মানুষ প্রথম কাজের ভিসা নিয়ে আমেরিকায় আসে এবং তারপর কিছু সময় পর একটি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন।
  • অভিবাসন স্ক্যাম সতর্কতা অবলম্বন করুন।
  • জেনে রাখুন একটি কোম্পানিতে কাজ করার জন্য অনেক ধরনের ভিসা আছে। আপনি একটি আইনজীবী ভারা করে বিভিন্ন ধরনের ভিসা এবং কোম্পানি সম্পর্কে জানতে পারেন। H1B ভিসা অভিবাসীদের জন্য একটি বিশেষ ক্ষেত্রের এবং যারা এতে মধ্যে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য ভিন্ন ডিজাইন করা হয়। কোম্পানীতে আবেদন করতে জিজ্ঞাসা করুন “একটি H1B জন্য আপনি ব্যয় বহন করছেন” বহু কোম্পানি হবে তারা আইনজীবী খরচ প্রায় $ ২৫,০০০ দিতে হয়, কিন্তু যদি আপনার চাহিদা থাকে তখন তাদের কাছে এটা মূল্য হতে পারে। আপনি যদি নিশ্চিত না হন, তাহলে আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন “তারা ৬ মাস পরে ব্যয় বহন করবে কিনা যদি আপনি কিছু ভাল কাজ করেন”।

ধাপ- ৩ আমেরিকার শহর এবং চাকরি নিয়ে গবেষণা

  • আমেরিকার কয়েকটি শহর সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন যেখানে আপনি বেশি আগ্রহী। আপনি সম্ভবত কোথাও কাজ খুঁজে পেতে চাচ্ছেন এবং আপনি পাশাপাশি বাস করতে চাইছেন। সাশ্রয়ী মূল্যের হাউজিং এবং বসবাসের খরচ যেখানে কম, কাজ বিস্তৃত নির্বাচন, ভাল স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং স্কুল ও প্রার্থনার জন্য আপনার প্রয়োজন পর্যাপ্ত স্থান সমূহ সে রকম শহর। এছাড়াও আপনার বিবেচনা করা উচিত আপনি যে এলাকা পছন্দ করছেন আপনার দেশ থেকে বন্ধু বা অন্যের বন্ধু আছে।
    যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়া বেশ বৈচিত্রময় হয়। মৌসুমি গড় গবেষণা নিশ্চিত করুন ভূমিকম্প বা হারিকেন ইত্যাদি স্থানীয় চরম বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেমন হয়।
  • আপনার নির্বাচিত শহরে আপনার কর্মজীবন কেমন হবে তা নির্বাচন করুন। একেক অঞ্চলের বেতন একেক রকম। আপনি অনলাইনে খোঁজ নিন কোন অঞ্চলের মজুরি কেমন। যেখানে বেশি চাহিদা তা ওয়েবসাইটে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।
  • আমেরিকার বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রা সম্পর্কে খোঁজ নিন। তারপর নির্ধারণ করুন কোন শহরটি আপনার উপযোগী।

ধাপ- ৪ আমেরিকার যাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিন

  • আপনি যেখানে কাজ করবেন তার কাছাকাছি থাকার জায়গা ঠিক করুন। অনেক বাড়িওয়ালা বিদেশী ভাড়াটে দিতে আগ্রহী হয়না। এক্ষেত্রে আপনি রেফারেন্স দেখান বা বড় অঙ্কের জামানত দিতে পারেন। আপনি দীর্ঘমেয়াদী থাকার জন্য এপার্টমেন্ট ভাড়া করুন।
  • আপনার অর্থ যদি সীমিত থাকে তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য এপার্টমেন্ট ভাড়া করতে পারেন।
  • আপনার চাকরি পার্মানেন্ট হলে এবং আপনি কিছু সময় পার করলে আপনি গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।
Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY