উদ্যোক্তাদের ব্যর্থতার পেছনে ৬টি কারন

0
691
উদ্যোক্তাদের ব্যর্থতার পেছনে ৬টি কারন
2.5 (50%) 4 votes

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে যদি আপনি সফল হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেই সাথে আপনাকে আপনার দুর্বলতাগুলো কে কাটিয়ে উঠতে হবে। আপনার সামনে পিছনে যদি দুর্বলতা কাজ করে তাহলে আপনি জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। একজন উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার মধ্যে প্রচন্ড মানসিক চাপ থাকতে পারে কিন্তু সেই মানসিক চাপ আপনাকে কাটিয়ে উঠতে হবে তাহলেই আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন। একজন উদ্যোক্তা হিসাবে যদি আপনার মধ্যে ইচ্ছা, ধৈর্য্য এবং ঝুকি নেবার সাহস থাকে তাহলে আপনি পারবেন একজন সফল উদ্যোক্তা হতে। আর যদি এর বিপরীত আপনি হয়ে থাকেন যেমন আপনার কোনো ইচ্ছা শক্তি নাই, ধৈর্য্য এবং ঝুকি নেবার সাহস নাই তাহলে আপনি অনেক পিছিয়ে পড়বেন আর এ দুর্বলতা গুলো আপনাকে সফল হতে দিবে না। এমন অনেক দুর্বলতা আছে যা আপনাকে নানান দিক দিয়ে ঘিরে রাখতে পারে আর এর মধ্যে যে ৬টি দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন না। আসুন জেনে নেয়া যাক সে ৬টি দুর্বলতার সম্পর্কে-

১) চাকুরীর প্রতি উদাসীন মনোভাব

unhappy at work

একজন উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার কখনোই উচিত নয় চাকুরীর প্রতি উদাসীন থাকা। তাহলে আপনি দিন দিন আরো ব্যর্থ হয়ে উঠবেন। উদ্যোক্তা হিসেবে অন্যের চাকুরী করার মনোভাব বাদ দিয়ে যদি নিজ থেকে কিছু করার মনোভাব তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি সফল হতে পারবেন এবং আপনার মধ্যে অন্যের চাকুরী করার উদাসীন যেই মনোভাবটা ছিল তা দূর হয়ে যাবে। আপনি যদি আপনার নিজস্ব একটি ব্যবসা দাড় করাতে চান তাহলে আপনাকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একজন সফল উদ্যোক্তা কখনো হাই প্রফিট অর্জন করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যবসায় নামে না তার লক্ষ্য থাকবে কিভাবে ব্যবসাকে উপরের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। আপনি যখন আপনার ব্যবসা দাড় করাতে সফল হবেন এবং আপনি আপনার ব্যবসায় টাকা অর্জন করতে শুরু করবেন তখনই আপনার মধ্যে উদাসীন মনোভাবটা আর থাকবে না। সুতরাং চাকুরী করার মনোভাব বাদ দিয়ে নিজে কিছু করার মনোভাব গড়ে তুলতে পারলেই আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন অতি তাড়াতাড়ি।

২) সমাজের বৃত্ত থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলা

apart from society

একজন উদ্যোক্তা হিসাবে সমাজের বৃত্ত থেকে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সমাজ এবং সমাজের সকল কিছুর মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে রাখার চেষ্টা করুন। আপনি একা মনযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন এগুলো চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসাবে সমাজে গড়ে তোলার চিন্তা করুন তাহলে আপনি সফলকাম হবেন। সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সমাজের মধ্যে থাকতে হবে। সমাজের বৃত্তের বাইরে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে যত তাড়াতাড়ি সমাজের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে পারবেন তত তাড়াতাড়ি আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবেন। সফল উদ্যোক্তা হিসাবে সকল সামাজিক অক্ষমতা দূর করে এবং সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেকে উপরে নিয়ে যাবার চেষ্টা করুন। তাহলেই আপনি সফল হবেন।

৩) নির্দেশনা অনুসরণে অসমর্থতা

one-advices-another

কিছু অযোগ্য মানুষ আপনাকে বিভিন্ন নির্দেশাবলী অনুসরণ করানোর জন্য চেষ্টা করবে যেন আপনি পিছিয়ে পড়েন আপনার লক্ষ্য থেকে। হ্যাঁ, একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার উচিত ওই নির্দেশাবলী থেকে যা আপনার সঠিক মনে হয় তা গ্রহণ করা আর যা আপনার কাছে খারাপ মনে হয় তা বর্জন করা। যদি আপনি সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে সঠিক পথটি অনুসরণ করতে পারেন তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন। যদি আপনার সামান্য জ্ঞান এবং কিছু একটা করার ভাল নির্দেশাবলী জানা থাকে তাহলে সাথে সাথে সে কাজটি সঠিক ভাবে করে ফেলুন। অন্যের নির্দেশাবলী অনুসারে না গিয়ে। কারণ আপনার অপর প্রান্তে এমন যে কেউ থাকতে পারে যে কি না আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে আপনি জীবনে কখনো সফল হতে পারবেন না। জীবনে সফল হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আপনার বিপরীতে যে আছে তাকে এবং তার খারাপ দিক গুলোকে অসমর্থন করে এড়িয়ে চলতে হবে। আপনি যদি সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপটা নিতে পারেন তাহলেই আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে সমাজে এবং আপনার প্রতিষ্ঠানে সফল হবেন।

৪) আত্মসন্মান

high self respect

আত্মসম্মান ব্যাক্তির জীবনে একটি বড় সম্পদ। আত্মসম্মানহীন মানুষ, মানুষ বলে গণ্য হয় না। আত্মসম্মান ধারাবাহিকভাবে আপনাকে অনেক কিছু দিবে। একজন ভালো সফল উদ্যোক্তা হিসাবে আত্মসম্মান আপনাকে অনেক উপরে নিয়ে যাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করানোর মধ্যে কোনো মহত্ব নেই, আপনার ভালো গুনই আপনার মহত্ব বাড়িয়ে দিবে দ্বিগুন। নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন অনেকেই। নিজের প্রতি আস্থা হারানো ঠিক নয়। আপনি যদি নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন তাহলে একজন মানুষ হিসাবে আপনার আত্মসম্মান কমে যাবে। অনেক সময় দেখা যাবে নিজেকে নিজের কাছেই আর ভালো লাগছে না। যদি এমন হয় তাহলে ভেবে দেখুন আপনার নিজের প্রতি নিজের আস্থা নেই তাহলে অন্যেরা কি করে আপনার প্রতি আস্থা বা বিশ্বাস রাখবে। এর ফলে দেখা যাবে আত্মসম্মান বৃদ্ধি বা কমার ক্ষেত্রে আপনার আশপাশের মানুষের কিছু আচার-আচরণ বা মন্তব্য কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাব বিস্তার করবে আপনার উপর। ফলে আপনি আরো হতাশ হয়ে পড়বেন এবং সফলতা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়বেন। সেক্ষেত্রে আপনি দিন দিন হতাশ হয়ে পড়বেন আপনার আস্থা হারিয়ে যাবে।
তাই একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজের প্রতি আস্থা হারানো ঠিক নয়। সব সময় নিজের প্রতি নিজের আস্থা রাখতে হবে। আপনি যখনই একজন ভালো উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করবেন সমাজে এবং আপনার ব্যবসায় তখনই আপনার উপর আপনার আশেপাশের মানুষের আস্থা বেড়ে যাবে আরো দ্বিগুন।

৫) রোমান্টিকতার সম্পর্ক পরিত্যাগ

lose relations

প্রতিটা মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক থাকে। প্রেম ভালোবাসা নিয়েই মানুষের জীবন। সম্পর্কে রোমান্টিকতা ধরে রাখা খুবই জরুরী। কিন্তু একজন ভালো উদ্যোক্তা হতে হলে যেমন প্রিয় মানুষের ভালোবাসার দরকার হয় তেমনি এগুলো পরিত্যাগ ও করা উচিত যতদিন আপনি নিজে সফল না হচ্ছেন। সম্পর্কে রোমান্টিকতা ধরে রাখার সময় আপনি অনেক সময় পিছিয়ে পড়তে পারেন আপনার নিজের সফলতায়। সম্পর্কের মধ্যে অনেক জটিলতা থাকতে পারে সেই জটিলতার কারণে আপনি অনেক সময়ে অনেক মানসিক চাপে ভুগতে পারেন যার ফলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন আপনার সফলতায়। তাই যতদিন নিজের জীবনে সফলতা অর্জন না করছেন ততদিন নিজেকে নিয়ে ভাবুন অন্য কোনো সম্পর্কে নিজেকে জড়াবেন না।

৬) অতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা থেকে নিজেকে দূরে রাখা

think more

কথায় আছে অত্যাধিক কোনো কিছু ভালো নয়। অত্যাধিক সকল কিছু খারাপ বয়ে আনে। আপনি একটি ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন কিন্তু সঠিক ভাবে করতে পারছেন না তাই হতাশ হচ্ছেন কি করবেন। বসে বসে ভাবছেন কি করা উচিত, কেন আমি করতে পারছি না? কেন আমি লক্ষ্যে যেতে পারছি না? কেন আমার ব্যবসা বড় হচ্ছে না? আপনি যদি সব সময় এসব চিন্তা নিয়ে থাকেন তাহলে আপনি সফল হতে পারবেন না। আপনাকে প্রথমে এই অত্যাধিক চিন্তা গুলো বাদ দিতে হবে যদি আপনি জীবনে সফল হতে চান।

একজন সফল উদ্যোক্তা কখনো হতাশ হয়ে পরে না। অতিরিক্ত কোনো কিছু নিয়ে ভাবে না। সফল উদ্যোক্তা হতে হলে প্রথমে নিজেকে নিয়ে নিজের ভাবতে হবে। কি করা উচিত? কি করা উচিত না? তা নিয়ে প্রথমে ভাবুন। অতিরিক্ত চিন্তা গুলো বাদ দিন। জীবনে সফলতা প্রয়োজন অনেক। ব্যর্থতা মানুষকে দিন দিন খারাপ এবং অন্যায় পথে নিয়ে যায়। তাই প্রতিটা মানুষের উচিত সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং কিভাবে সফলতা পাওয়া যায় তা নিয়ে ভাবা। জীবনকে সঠিক এবং সুন্দর ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নিজেকে নিয়ে সব সময় ভাবতে হবে আর শুধু ভাবলেই হবে না সে ভাবনার সাথে সাথে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে হবে। তাহলেই সফলতা আপনার দরজায় এসে দাঁড়াবে।

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY