ব্যবসায়ের শুরুতেই দ্রুত উন্নয়ন ও প্রোডাকটিভিটি বাড়ানোর উপায়

0
907
ব্যবসায়ের শুরুতেই দ্রুত উন্নয়ন ও প্রোডাকটিভিটি বাড়ানোর উপায়
5 (100%) 4 votes

যে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত নানা রকম প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। প্রত্যেক উদ্যোক্তাই চায় তার ব্যবসা দ্রুত প্রসার লাভ করুক। আর এর জন্য আপনাকে কিছু কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। তবে একদিনেই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন না। এখন আপনাদের সামনে আলোচনা করবো এমন কিছু টিপস নিয়ে যার মাধ্যমে আপনি প্রারম্ভিক পর্যায়েই ব্যবসায়ের দ্রুত উন্নয়ন করতে পারবেন। যা নিচে আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল-

১। ইমেইল আদান প্রদান

email_ss_1920
বর্তমানে প্রায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ইমেইল পদ্ধতিটি ব্যবহার করে থাকে। আপনি খুব সহজেই ইমেইল এর মাধ্যমে আপনার পন্যের পরিচিতি বৃদ্ধি করতে পারবেন। আপনি অনেককে একসাথে ইমেইল প্রদান করতে পারেন Master CC ব্যবহারের মাধ্যমে। কিন্তু অকারনে অর্থাৎ যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে CC ব্যবহার করবেন না। এতে আপনি আরও ভোক্তা হারাতে পারেন। আপনার ই-মেইল এ আপনার স্বাক্ষর এবং কোম্পানির Logo ব্যবহার করুন তবে ইমেইজ এড়ানোর চেষ্টা করুন। যে সকল তথ্য প্রাসঙ্গিক শুধু সেগুলোই রাখুন। চিন্তাশীল হোন এবং কপি পেস্ট করবেন না। আপনার ইমেইল অধিক বড় করবেন না। সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করুন। আপনার ইমেইল এর ভূমিকাগুলির জন্য ভালো টুলস ব্যবহার করুন, যেমন- goconspire.com এবং LinkedIn ব্যবহার করতে পারেন। ভোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে এবং আপনার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে linkedIn খুব ই কার্যকর। অবশ্যই সব কিছু বিবেচনা করেই ভোক্তাদেরকে মেইল প্রদান করবেন।

২। উৎপাদনশীলতা

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারে। প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারেন। এক্ষেত্রে যোগ্য কর্মী নিয়োগ ও নির্বাচন প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করনের জন্য প্রতিষ্ঠানে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার পন্যের মান উন্নয়ন হবে। এছাড়াও কর্মীদের প্রেষণা দেওয়ার মাধ্যমেও আপনি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারেন।

৩। মিটিং এর জন্য সময় নির্ধারণ করুন

meeting
আপনি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট করে রাখবেন অফিস মিটিং এর জন্য। সেখানে মাসের সকল কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এটি আপনি আপনার ডায়রি অথবা ডেস্কে লিখে রাখতে পারেন। তবে মিটিং আপনি সব সময় ৩ থেকে ৪ টা এর সময় অপশন হিসেবে রাখবেন। একটি বৈঠক এর নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের সবার কাছে জিজ্ঞাসা করবেন না। একজন ব্যক্তি বৈঠক করতে সম্মত হলে তবেই তাকে মিটিং এর সময় জানাবেন। সভার পূর্ববর্তী সময়ে আপনি সকলকেই অবগত করবেন। মিটিং এ আপনি যে সকল কাজ গুলো করবেন –
– কখনো দেরিতে উপস্থিত হবেন না। মিটিং এর নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করুন।
– কখনো মিটিং এ কারো সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলবেন না। কেউ না বুঝলে তাকে বুঝিয়ে বলুন।
– প্রয়োজনের চেয়ে অধিক সময় নিবেন না। এতে অনেকে বিরক্ত হতে পারে।
– মিটিং এর সাথে সম্পর্কহীন অনর্থক কথা এড়িয়ে চলুন।
– সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবাইকে অবগত করুন এবং সেই পয়েন্ট অনুযায়ী কথা বলুন।
– কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে ভয় পাবেন না।
– আপনি সভার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা গুলো নোট করে রাখতে পারেন এবং সবার সাথে কলম আর নোট প্যাড আনতে বলবেন।

৪। সঠিক মূল্য নির্ধারণ

right price
সঠিক মূল্য নির্ধারণ যে কোন ব্যবসার সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। মূল্য অধিক ধার্য করা হলে প্রতি একক বিক্রয়ের লাভের পরিমান বৃদ্ধি পায় ঠিকই কিন্তু ভোক্তাদের মধ্যে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাই এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসায়ের প্রারম্ভিক পর্যায়ে পন্যের মূল্য নির্ধারণে আপনাকে অত্যন্ত কৌশলী হতে হবে।

৫। পর্যাপ্ত পরিমান মুলধন

মূলধন বা পুঁজি ব্যবসায়ের সফলতা লাভের চাবিকাঠি। পর্যাপ্ত মূলধন বলতে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী যে পরিমান মূলধন প্রয়োজন তাকে বুঝায়। পণ্য মজুদ, বিজ্ঞাপন ও প্রচার বৃদ্ধির লক্ষ্যে আপনার ব্যবসায় নগদ অর্থের সংস্থান থাকতে হবে। আর তা না হলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

৬। বিক্রয় দক্ষতা বৃদ্ধি

বিক্রয় দক্ষতার উপরও ব্যবসার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে। বিক্রয় বৃদ্ধি পেলে মুনাফা বাড়ে। কাজেই ক্রেতাদেরকে পণ্য ক্রয়ে অনুপ্রাণিত করে তাদের নিয়মিত ও স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত করার জন্য একজন ব্যবসায়ীকে বিক্রয়িকতার গুণাবলী অর্জন করতে হয়।

৭। পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ

একজন ভোক্তার বিচিত্র রকমের পণ্য ভোগের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য একজন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন উৎস থেকে ক্রেতাদের চাহিদার পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে দোকানে মজুদ রাখতে হয়। ক্রেতারা যেন চাইলেই সময় মতো পণ্য পেতে পারে।

৮। নগদ লেনদেন

give money
একজন ব্যবসায়ীকে ব্যবসায়ে উন্নতি করার জন্য বাকিতে পণ্য বিক্রয় পরিহার করে চলতে হবে। নগদ বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসার সফলতার চাকা সচল থাকে।

৯। ব্যবসার সুনাম নিশ্চিতকরণ

দীর্ঘদিন সাফল্যের সাথে ব্যবসা করতে হলে একজন ব্যবসায়ীকে তার পন্যের সুনাম অর্জন করতে হবে এবং সেই সাথে ভোক্তার বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। দ্রুত ভালো মানের সার্ভিস দেওয়া, সৌজন্যমূলক ব্যবহার, পণ্যের মানের নিশ্চয়তা প্রদান, পণ্য বিনষ্ট হলে টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা প্রদান, ফ্রি হোম সার্ভিস, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ইত্যাদি সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসার সুনাম বৃদ্ধি করা যায়।

১০। পন্যের প্রচার বৃদ্ধি

একজন ব্যবসায়ী ব্যবসার উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা ভাবে পণ্য প্রচার করে থাকে। বর্তমানে অনলাইনে পণ্য প্রচার করে খুব সহজেই নতুন ব্যবসায় উন্নতি লাভ করা যায়। এছাড়াও স্থানীয় এলাকায় সাইনবোর্ড, ব্যনার, লিফলেট ইত্যাদির মাধ্যমে পন্যের প্রচার কার্যাবলী সম্পাদান করে থাকে।

১১। সঠিক নিয়মে হিসাব সংরক্ষণ

accounting and bookkeeping
একজন ব্যবসায়ী ক্রয় বিক্রয় থেকে শুরু করে মুনাফা ক্ষতি যে কোন কিছুর হিসাব সংরক্ষন করে থাকে। আর তা শুরু থেকেই সঠিক নিয়ম অনুসরন করে করা উচিত। প্রয়োজনে আপনি একজন অভিজ্ঞ হিসাবরক্ষক রাখতে পারেন। সঠিক হিসাব ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা সহজেই ব্যবসার অবস্থা ও ফলাফল সম্পর্কে জানতে পারবে। সেই অনুযায়ী তার ব্যবসায়িক কার্যাদি এগিয়ে নিয়ে যাবে।

১২। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত

ব্যবসাকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হয়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাজকে বাধাগ্রস্ত করলে এর উন্নতি সম্ভব নয়। এর জন্য সুস্পষ্ট আইন মানা উচিত।

১৩। প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হওয়া

runner
প্রতিযোগিতা না থাকলে ব্যবসার গতি কমে আসে। আপনি যখন আপনার পণ্যটি বাজারে দাড় করাবেন তখন দেখবেন আপনার সমসাময়িক অনেক প্রতিযোগী পন্য বর্তমানে বাজারে আছে। তবে আপনি এই বিষয়টি ইতিবাচক ভাবেই নিবেন। আপনি তাদের পন্যের মানের সাথে নিজের পন্যের তুলনা করবেন। তারা কিভাবে বড় হয়েছে এবং তাদের পরিকল্পনা গুলো ফলো করার চেষ্টা করবেন।

১৪। পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো

যে কোন পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য নমনীয়তার ব্যবস্থা থাকা উচিত। দরকার অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের আইনকানুনে পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৫। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা

বিলম্বিত সিদ্ধান্ত যে কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। তাই প্রত্যেকটি বিভাগের মাঝে সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন যেন কোন সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব না হয়।

১৬। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন

পরিকল্পনা হল সব কাজের ভিত্তি। ব্যবসায়ের খাত নির্ধারণ থেকে শুরু করে সঠিক ভাবে বাস্তবায়বের জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। আর সেই সাথে একজন উদ্যোক্তার শুধুমাত্র পরিকল্পনা গ্রহন করলেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না তা ঠিক মতো বাস্তবায়নও করতে হবে। তাহলে আপনি অতি দ্রুত ব্যবসার উন্নয়ন লাভ করতে পারবেন।

১৭। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার

new technology
বর্তমানে একটি ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির জন্য অনেক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই যে কোন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে করে একজন উদ্যোক্তার সময়, অর্থ ও শক্তি সাশ্রয় হয় এবং এর মাধ্যমে উন্নত মানের পণ্য তৈরি সম্ভব।

১৮। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা

Training

একজন উদ্যোক্তাকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধুমাত্র নতুন ও উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই চলবে না। প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো দক্ষতাও কর্মীদের থাকতে হবে। প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্মীদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

একজন উদ্যোক্তার ব্যবসার উন্নয়ন করার পাশাপাশি ভোক্তার প্রতি দায়িত্ব বোধ থাকা উচিত। উন্নত মানের, রুচি ও পছন্দ মাফিক এবং সময় মত পণ্য সরবরাহ করা ইত্যাদি সেবা প্রদান করতে হবে। তাহলেই ব্যবসায় দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY