কর্মক্ষেত্রে স্মার্ট ও ব্যক্তিত্ববান হওয়ার সহজ কিছু উপায়

0
2344
কর্মক্ষেত্রে স্মার্ট ও ব্যক্তিত্ববান হওয়ার সহজ কিছু উপায়
5 (100%) 2 votes

আমাদের সকলের মাঝেই এই প্রবণতা থাকে আমরা কিভাবে নিজকে আরও স্মার্ট করে তুলতে পারব। স্মার্টের সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। তবে স্মার্টনেস মানেই নোংরামি নয়, স্মার্টনেস মানেই অশালীন পোশাক পরে শরীর প্রদর্শন নয়, বরং পৃথিবীর সকল পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে সকল মানুষকে সম্মান করা পূর্বক সকল প্রকার মানুষের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা ও নিজেকে সকলের মধ্য থেকে পৃথক করে তোলার নামই হলো স্মার্টনেস।

আমরা প্রায় সময়ই একজন সফল মানুষের জীবন ফলো করে থাকে। আমাদের সকলের জীবনেই অনুসরনীয় বা অনুকরণীয় কেউ না কেউ আছেন যার ব্যক্তিত্ত্ব, আচরণ, কথাবার্তা আমাদের মনে গভীরভাবে ছাপ ফেলে যায়। কিন্তু কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কি, তাঁরা কিভাবে সবার প্রিয় হয়ে উঠলেন? নিজেকে স্মার্ট এবং বুদ্ধিদীপ্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় লুকায়িত আছে আমাদের মধ্যে। কে না চয় নিজের স্মৃতিশক্তি এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করতে?

একটু শান্ত বা চুপচাপ বলে আপনাকে যদি কিছুজন আনস্মার্ট ভাবেন তাহলে ঘাবড়ানোর একদম কিছু নেই। আজকের দুনিয়ায় পায়ে পা মিলিয়ে চলার জন্য স্মার্ট থাকা খুবই দরকার। আর স্মার্ট হওয়া আহামরি খুব শক্ত কোন বিষয় নয়। আপনি যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই স্মার্ট হয়ে উঠতে পারেন তাই আপনার জন্য রইল কিছু টিপস। এখন আলোচনা করবো আপনার মাঝে
কিভাবে স্মার্টনেস নিয়ে আসবেন তার কিছু উপায় নিয়ে-

১। নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ুন
প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ার চেষ্টা করুন। জানার কোন শেষ নাই। তাই আপনি প্রথমেই যে কাজটি করবেন তা হল সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস গড়ুন। এর থেকে আপনি পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে সেই খবর প্রতিনিয়ত রাখতে পারবেন। আপনার জানার পরিধি বাড়লেই স্মার্ট হওয়ার পথে বেশ কিছুটা এগিয়ে যাবেন আপনি।

২। কথাবার্তায় স্মার্ট হোন
কথাবার্তায় স্মার্ট হোন; আঞ্চলিক সুর পরিহার করুন। প্রয়োজনে ইংলিশ-বাংলিশ সুন্দর করে মিশিয়ে স্মুথ ভাষা তৈরী করুন, তবুও অপ্রচলিত গ্রাম্য শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। শুদ্ধ উচ্চারণ শিখুন।

৩। নির্দিষ্ট কাউকে অনুসরন করবেন না
আপনি কাউকে অনুকরন করবেন না বরং সবাই যেন আপনাকে অনুসরণ করে সেই অনুযায়ী নিজেকে তুলুন। আপনি যেমন আছেন তেমন থাকারই চেষ্টা করুন। জোর করে কোনও কিছু নিজের ওপরে আরোপ করতে করবেন না। আর হ্যা কথায় কথায় রাগ হবেন না। রাগ হলে স্মার্ট হওয়া যায় না। বরং নিজের ভাবমুর্তি অন্যের কাছে নষ্ট হয়। কখনো কাউকে তুই করে বলবেন না। বড় হলে আপনি আর ছোট হলে তুমি বলতে হবে। সব পদের লোকদের সাথে যথাযথ ব্যবহার করুন। কোন কাজের ভুল হলে বুঝিয়ে বলুন রাগ হবেন না। অন্যের কাজ থেকে যে সম্মানটা আপনি আশা করেন, ঠিক তেমনই অন্যদেরকে সম্মান করুন। বড়দের শ্রদ্ধা করুন আর ছোটদের স্নেহ করুন। অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন না। প্রয়োজন হলে অনুমতি নিন।

৪। কথা বলার অভ্যাস
সুন্দর করে কথা বলার অভ্যাস করুন। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বললে সবাই আপনার কথার মূল্য দিবে। আঞ্চলিক ভাষা এড়িয়ে চলুন । কথা বলার সময় সরল সহজভাবেই কথা বলুন, বাঁকা বা অতিরিক্ত জটিল কথা বলে নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করতে চাইলে বোকা বনে যাবার সম্ভাবনাই বেশি। আর অবশ্যই সকলকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন। কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে এবং হাসি মুখে কথা বলার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার কথার প্রতি আপনার আস্থা প্রকাশ পাবে এবং সামনের মানুষটিও আপনার ওপরে আস্থা খুঁজে পাবে। এক কথায় আপনাকে সর্বদা সদালাপী, সুভাষী ও প্রাণবন্ত থাকতে হবে এর জন্য প্রয়োজন সুন্দর বাচনভঙ্গি, উপস্থাপন কৌশল আর পর্যাপ্ত জ্ঞান।

৫। রহস্যময়ী হন
বিপরীত লিঙ্গের কাছে সব সময় নিজেকে রহস্যময় করে রাখুন। নিজের কিছু রহস্য পর্দার আড়ালেই রেখে দিন সব সময়। নিজের সব রহস্য উন্মোচন করে ফেললে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলবেন সবার কাছে। আর তাই কিছু কিছু বিষয়ে নিজেকে রহস্যে ঘিরে রাখুন। নিজের রহস্যময় ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সহজেই আকর্ষণ করতে পারবেন সবাইকে।

৬। লেন্স ব্যবহার করুন
যারা চোখের সমস্যার জন্য চশমা ব্যবহার করেন তারা চশমা ব্যবহার না করে কন্টাক লেন্স ব্যবহার করুন। কারণ চশমা ব্যবহার করলে একটু বেশি ভারিক্কী ও বয়স্ক দেখায় যে কাউকেই।

৭। দৈহিক গড়নের প্রতি লক্ষ্য রাখুন
আপনার দেহ যদি ঢিলেঢালা গোছের হয়ে থাকে তবে আপনাকে অনেক বয়স্ক দেখাবে। তাই কম বয়সী দেখাতে চাইলে দৈহিক গড়নের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। নিয়মিত ব্যায়াম করে শারীরিক গঠন সুঠাম রাখুন। এতে বয়স হলেও বোঝা যাবে না।

smart-1

৮। সময়মত ঘুমান
ঘুম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে অতিরিক্ত ঘুম বা কম ঘুম শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ্য মস্তিষ্কের পূর্বশর্ত। সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও প্রখর স্মৃতিশক্তি নির্ভর করে ভালো ঘুমের উপর। বিকালে কখনই ঘুমানো উচিত নয়। সবার জন্য ঘুম সমান না। এক এক জনের জন্য এই পরিমানের তারতম্য আছে কারো ৬ ঘন্টা ঘুমানো যথেষ্ট আবার কারো কারো ৯ ঘন্টা ও লাগতে পারে। তবে আপনার শরীর এবং মতিষ্কের জন্য যতটুকু দরকার ঠিক ততোটুুকু ঘুমানো উচিত। অনেকের বদঅভ্যাস জনিত কারণে অতিরিক্ত ঘুম হতে পারে। এগুলো পরিহার করে চলতে হবে। ৬-৯ ঘন্টার মধ্যেই ঘুম হওয়া উত্তম। গবেষণায় দেখা গেছে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংষ হয়ে যায়।

৯। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন
প্রত্যেকদিন নতুন নতুন কিছু শিখলে আপনার বুদ্ধি এবং স্মার্টনেস দুটোই বাড়বে। যার ফলে জ্ঞান বৃদ্ধি মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের চর্চা এবং এর কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। শুধু যে, বই পড়ে শিখতে হবে এমন কোন বাধ্যবধকতা নেই। আপনি টিউটোরিয়াল দেখে, ভিডিও দেখে বা ঘুরে বেড়িয়ে ও শিখতে পারেন অনেক কিছু। এটি সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে আপনার উপর যে, কীভাবে আপনি আপনার নিজের চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে শিখবেন।

১০। কর্মচারীদের সাথে আদবের সাথে কথা বলুন
আপনার চাইতে নিচের পদের লোকদের সাথে যথাযথ আদবের সাথেই কথা বলুন। একজন ব্যক্তি রিকশা চালায় বলেই তাকে তুই করে বলতে হবে, বা বাসার কাজের মানুষটি আপনার থেকে বয়সে বড় হলেও কাজের মানুষ হয়েছেন বিধায় তাঁকে অপমান করে কথা বলার অধিকার আপনি রাখেন না। যিনি নিজের চাইতে ছোট পদের মানুষদের সাথে ভালো আচরণ করতে পারেন না, তিনি কোনোদিনই একজন ভালোমানুষ হতে পারেন না।

১১। অতিরিক্ত মুড দেখাবেন না
নিজেকে ব্যক্তিত্ববান দেখাতে গিয়ে আবার অতিরিক্ত ভাব বা মুড দেখাতে যাবেন না যেন। অতিরিক্ত ভাব দেখালেই কেউ স্মার্ট হয়ে যায়না, বরং স্মার্টনেস কমিয়েই দেয় আপনার আলগা এই ভাব।

১২। আই কন্টাক্ট করার চেষ্টা করবেন
কথা বলার সময় আই কন্টাক্ট করার চেষ্টা করবেন এবং হাসি মুখে কথা বলার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার কথার প্রতি আপনার আস্থা প্রকাশ পাবে। এবং সামনের মানুষটিও আপনার ওপরে আস্থা খুঁজে পাবে।

১৩। অপ্রয়োজনীয় ও ফালতু কথা বলবেন না
অপ্রয়োজনীয় ও ফালতু কথা বলবেন না এবং অন্যদেরকেও বলতে উৎসাহিত করবেন না। বেশি কথা বলাই স্মার্টনেস এর লক্ষন নয়, বরং পরিস্থিতি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কিন্তু জোরদার কথা বলুন। অপ্রাসঙ্গিক কথা বা মন্তব্য জীবনের সব ক্ষেত্রেই আপনার ব্যক্তিত্বকে খাটো করে। এমনকি লক্ষ্য করে দেখবেন যে একটি অপ্রাসঙ্গিক ফেসবুক কমেন্ট পর্যন্ত আপনাকে কতটা খেলো করে ফেলে অন্যের চোখে।

১৪। ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ
অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে দৃঢ়ভাবে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার নিজেরও ব্যক্তিগত একটি জীবন আছে যেখানে অন্যলোকের হস্তক্ষেপ আপনার পছন্দ হবেনা। যদি তাই হয় তবে অন্যের ব্যাপারে কেন নাক গলাতে যাবেন?

১৫। আত্মবিশ্বাস
মনে রাখবেন যে কোন কাজের সফলতার জন্য আত্মবিশ্বাস অনেক বড় একটা ব্যাপার। অনেক ঐষুধ যেখানে কাজ করে না সেখানে শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাসই অনেক বড় কাজ করতে সক্ষম। আত্মবিশ্বাসী হোন দেখবেন ফল পেতে শুরু করেছেন। কারো কোন কথায় নিজের ধারণা বা বিশ্বাস পরিবর্তন করবেন না। কখনোই মনে করবেন না আপনি কিছু জানেন না। তবে অবশ্যই কোন বিষয় সম্পর্কে আপনার ভ্রান্ত ধারণা থাকলে সেটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। আপনার অনুভূতি অন্যের সাথে শেয়ার করুন।

১৬। হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করুন
যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন সময়, যে কোন পরিবেশে সকলের সাথে খুশি হওয়ার চেষ্টা করুন। যদিও আপনি কিছু হারিয়ে ফেলেন বা আপনার জীবন থেকে কোন মূল্যবান ব্যক্তি চলে যায়। আমাদের আশেপাশের মানুষজন চান আমরা যেন সব সময় তাদের সাথে হাসি-খুশি থাকি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করি। পরিবারের লোকদের সাথে সময় কাটান এবং তাদেরকে বলুন তাদের সঙ্গ আপনাকে আনন্দ দিচ্ছে।

১৭। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি থাকার চেষ্টা করুন। পোশাক যেমনি হোক, তা জেন পরিপাটি আর পরিছন্ন হয় সেটাই খেয়াল রাখবেন। একটি ড্রেস সবাইকে মানায় না। মনে করুন আপনার বন্ধু খুব সুন্দর একটা ড্রেস পড়েছে যেটাতে তাকে অনেক সুন্দর দেখায়। তার মানে এই না যে এটাই সবচাইতে সেরা ড্রেস। এটাতে আপনাকেও ভাল নাও দেখাতে পারে। তাই যখনই কাপড় কিনবেন বা ড্রেসআপ করবেন খুব সতর্কতার সাথে যাতে সেই ড্রেসে আপনাকে ভাল মানায়। আবার এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে, যে ড্রেসটি আপনি পড়ছেন সেটা আরামদায়ক কিনা? সেটা আরামদায়ক না তাহলে সেটা আপনার পুরো লুকটাকে প্রভাবিত করবে, চেহারা মলিন করে দিবে।

সবশেষে বলা যায়, নিজের ভাষা সম্পর্কে জানুন। যে ব্যক্তি নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন না, তিনি কোনোদিনই একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ হতে পারেন না। আর সর্বদা মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। একটু চেষ্টা করেই দেখুন, খুব কঠিন কিছু কিন্তু নয়। এই ব্যাপার গুলোই আপনাকে করে তুলবে আরও স্মার্ট ও ব্যক্তিত্ববান একজন মানুষ।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY