কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করবেন?

0
730
কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করবেন?
5 (100%) 1 vote

অনলাইনে টাকা আয় নির্ভর করছে সম্পূর্ন আপনার উপর। অর্থাৎ আপনি কিভাবে ব্যাপারটিকে দেখছেন। আমাদের যদি কোন প্রডাকশন থাকে অর্থাৎ কোন পণ্য যদি আমরা তৈরী করে থাকি সেই পণ্য ইচ্ছে করলে আমরা বিক্রি করতে পারি। আমরা সাধারনত একটি দোকান বা এজেন্সির মাধ্যমে পন্য গুলোকে বিক্রি করি। অনলাইনেও ঠিক একই পদ্ধতিতে আপনি আপনার পন্য গুলোকে বিক্রি করতে পারবেন। অনলাইনে যে কিভাবে ঘরে বসে অনেকভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়, তা এই নিবন্ধ পড়লে আপনি কিছুটা হলেও জানতে পারবেন। এখানে বলে রাখা ভালো, অনলাইনে আয় করা বাস্তব জীবনে আয় করার মতোই কঠিন। এখানে এমন কিছু রাস্তা আছে যেগুলোতে কাজ শুরু করা সহজ। কিন্তু এগুলো থেকে বেশি টাকা আয় করা যায় না। এর তুলনায় অন্যান্য উপার্জনের পন্থায় ভালো আয়ও হয় আবার তা ধারাবাহিকতাও বজায় থাকে। বাংলাদেশ থেকে অনলাইন আয় রোজগারের উপায়গুলো নিম্নে উপস্থাপন করলাম। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।

  • প্যাড রিভিউ-এর মাধ্যমে আয় রোজগারঃ
    সার্ভে বা জরিপ একটা পুরাতন পদ্ধতি আর আমার মনে হয় এটা অনেকেই জানে। “সার্ভে” সাইটে গিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে আর সার্ভে বা জরিপ আসার অপেক্ষা করতে হবে, সার্ভে ফর্ম পূরণ করে আপনার মতামত জানাবেন, ব্যস! প্রতিটি সার্ভের জন্যে আপনি টাকা পাবেন। এখানে, এমন কিছু ব্যবস্থাও আছে যেখানে, ইমেইল পড়ার ও জবাব দেওয়ারও কাজ থাকে। সার্ভে সাইট হিসেবে অন্যতম জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে-সার্ভে সেভী।
  • নিবন্ধ লিখে আয় রোজগারঃ
    এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো পাঠকদের লেখায় আপডেট হতে থাকে। কোন কোন সাইটে তারা লেখকদের সাথে মুনাফা ভাগ করে নেয়। আপনি এখানে বিভিন্ন নিবন্ধ লিখতে পারেন আর আপনার আর্টিকেল বা নিবন্ধ যতো বেশি পাঠক পড়বে, আপনি ততো বেশি টাকা পাবেন। “শুভং” নামক একটা ওয়েবসাইট আছে যারা তাদের লেখকদের সাথে শতকরা ১০ ভাগ গুগল এডসেন্স-এর লভ্যাংশও ভাগ করে নেয়।
  • পিটিসি বা প্যাড-টু-ক্লিক এ আয় রোজগারঃ
    পিটিসি বা প্যাড-টু-ক্লিক এর সাহায্যে আপনি ওয়েবসাইট (শুধুমাত্র স্পনসরড্ সাইটগুলো‌) ব্রাউজ করার জন্যে টাকা পাবেন। এতে আরো উপায় আছে যাতে ওয়েবসাইট সার্ফ করে, ওয়েবসাইট দেখে টাকা উপার্জন করা যায়। সত্যকথা বলতে কি, এই সাইটগুলো আয়ের তুলনায় অনেক বেশী সময় অপচয় করে। এরা আপনার একেক ইউনিট এডের পেছনে আপনার ব্যয়ের তুলনায় খুবই কম টাকা দেয়। একটা জনপ্রিয় পিটিসি সাইট যারা ভালো অর্থ প্রদানও করে থাকে সেটি হচ্ছে- বাক্স টু।
  • তোলা ছবির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনঃ
    যদি আপনি একজন ফটোগ্রাফার বা চিত্রগ্রাহক হয়ে থাকেন, তবে আপনার তোলা আকর্ষণীয় ছবিগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। অনলাইনের ডিজাইনাররা তাদের প্রজেক্টের জন্যে অনেক ছবি খুঁজে থাকেন, আপনি তাদের নিকট আপনার ছবিগুলো বিক্রি করতে পারেন। আপনি ছবিগুলো আই-স্টক-ফটোস্‌ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রিও করতে পারেন।
  • গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় রোজগারঃ
    গুগল এডসেন্সে আয় করার জন্যে আপনার একটা সচল ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ প্রয়োজন। আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন এমন বিলবোর্ড বা পোস্টার যেখানে তারা (জনৈক অসাধু ব্যবসায়ীরা) দাবি করে যে, আপনি এখান ১০ থেকে ২০ ডলার দৈনিক আয় করতে পারবেন। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা! গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম হয় তখন যখন, কেউ গুগলের সেসব এডে ক্লিক করে। কিন্তু, এখানে ইনকাম করার পূর্বে আপনাকে একটা তথ্যসমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে। কিন্তু, আপনাকে সেসব নকল এডসেন্স শেখার জায়গায় এই শেখানো হয় যে, কিভাবে চুরির লেখা দিয়ে একটা নকল ওয়েবসাইট বানাতে হয়, এটাতো আসল নয় কারণ এটা একটা ধোঁকাবাজি।
  • আপনার মতামত প্রকাশের জন্যে টাকা পাবেনঃ
    হ্যাঁ, এটিই নতুন দিনের আয় রোজগার মাধ্যম, এখন আপনি টাকা নিয়ে যেকোন ওয়েবসাইট বা কোম্পানির ব্যাপারে আপনার মতামত দিয়ে একটা নিবন্ধ লিখে ফেলেন আপনার ব্লগে। প্যাড রিভিউ সাইটগুলোর কল্যাণে, এখন তারা (কোম্পানি বা ওয়েবসাইটগুলো) আপনাকে তাদের ব্র্যান্ড, পণ্য বা ওয়েবসাইটের বিষয়ে লেখার জন্যে অর্থ পরিশোধ করবে। আপনার এই মতামত বা ব্লগ তাদের নিয়ে বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করবে আর তারা পাবে অধিক পাঠক ও ক্রেতা। এরকম একটা জনপ্রিয় প্যাড রিভিউ সাইট হচ্ছে-সোস্যাল সম্পর্ক।
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং (সেবামূলক গোষ্ঠীর সাহায্য করা) এর মাধ্যমে আয় রোজগারঃ
    এটি একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে কোন পণ্যের প্রচার করবেন আর যখন পণ্য বিক্রি হবে, তখন আপনি এর থেকে কমিশন পাবেন। এখানে অনেক আধুনিক আর ভালো পণ্য আছে যেগুলো বিক্রি করা যায় আর মানুষ কিনতেও আগ্রহী; আপনি একজন এফিলিয়েট হয়েও কাজ করতে পারেন। আপনি “ক্লিক ব্যাংক”-এর মাধ্যমে একজন এফাইলিয়েট হয়ে পণ্য বিক্রয় করতে পারেন।
  • ব্যানার এডস্‌ বা “ব্যানার” জাতীয় বিজ্ঞাপন বিক্রি করে আয় রোজগারঃ
    যদি আপনার একটা প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকে, তবে বিজ্ঞাপনদাতারা আপনার ব্লগে তাদের বিজ্ঞাপন দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। একেই বলে, ব্যানার এডস্‌ অথবা সরাসরি ইনকামের সুযোগ। আপনার ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা যতো বেশি হবে আপনার পাঠক সংখ্যা বাড়বে ততো বেশি হবে আর আপনার আয়ও বাড়তে থাকবে।
  • ফ্রি-লেন্সিং বা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে অর্থ উপার্জনঃ
    ঘরে বসে ফ্রি-লেন্সিং করা আয় রোজগারের একটা চমৎকার সুযোগ। তোমার যদি ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন অথবা এডমিনিস্ট্রেশন বা তদারকির কাজে দক্ষতা থাকে তাহলে, তুমি অনলাইনে এসব কাজ করে আয় রোজগার করতে পারো। তুমি চাইলে ফ্রিলেন্সিংভিত্তিক একটা ক্যারিয়ারই গড়ে তুলতে পারো।
  • টুইটার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করাঃ
    বিজ্ঞাপনদাতাগণ বর্তমানে তাদের ক্যাম্পেইন বা বিজ্ঞাপন উদ্যোগগুলো “টুইটার” বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন। এজন্যে, আপনার কোন ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইট থাকারও প্রয়োজন নেই। এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে, যারা টুইটার বিজ্ঞাপনের কাজ করে থাকে যেমন- মেগ-এ-পাই।

Online-income-1

অনলাইনে আয়ের টাকা বাংলাদেশে কিভাবে পাবেন?
১. চেকে টাকা পাওয়া
এটা একটা ব্যাংকের চেক যেটি আপনি যেকোন ব্যাংক থেকেই উত্তোলন করতে পারবে। এডসেন্স ও অন্যন্য সাইট এরকম চেকে টাকা পাঠিয়ে থাকে। এটা বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সবচেয়ে সাধারণ ও জনপ্রিয় মাধ্যম।

২. পেপ্যাল-এর মাধ্যমে টাকা পাওয়া
পেপ্যাল টাকা পাওয়ার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম, যেটি আপনাকে অনলাইনে টাকা পেতে সাহায্য করবে। অবশ্য, এখনও পেপ্যাল বাংলাদেশে আসেনি কিন্তু শীঘ্রই আসবে।

৩. পাইওনিয়ার প্রিপেইড ডেবিট মাস্টারকার্ড
এটা বাংলাদেশে অনলাইনের টাকা পাওয়ার জন্যে নতুন একটা রাস্তা। আপনি ওডেস্ক থেকে মাস্টারকার্ড পেয়ে সেই কার্ড থেকে টাকা উঠাতে পারেন। পড়ে নাও-বাংলাদেশে ওডেস্ক পেওনিয়ার প্রিপেইড ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রাপ্তি।

৪. মানিবুকারস্‌ থেকে টাকা প্রাপ্তি
মানিবুকারস অনেকটা পেপ্যালের মতোই। আর এটা আপনার ব্যাংক একাউন্টের মতনও। বাংলাদেশে এটা প্রচলিত আছে।

৫. এলার্টপে
এর মাধ্যমে টাকা পাওয়া। এটিও পেপ্যালের মতোই আর বাংলাদেশে প্রচলিত আছে। আপনি এর টাকা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন থেকে উঠাতে পারেন।

৬. ই-গোল্ড ব্যবহার টাকা প্রাপ্তি
পেপ্যালের মতোই ই-গোল্ড।

অনলাইনে কত টাকা আয় করতে পারবেন?

এটা আপনার পরিশ্রম, দক্ষতা আর পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে, আপনি চাইলে ৫০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা প্রতি মাসে আয় করতে পারেন। আয় সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার বিশ্বস্ততা ও পরিশ্রমের উপর। এখন, আপনি চাইলে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা বা উপরে ৫০,০০০ প্রতি মাসে উপার্জন করতে পারেন।
একটা পরামর্শ হল, এখানে সত্যিই অনেক টাকা বানানো যায় আর এটা কোন ফাজলামো নয়, আপনি যাই করেন গম্ভীর হয়ে করবেন আর কঠোর পরিশ্রম করবেন। কখনো চুরি, ধোঁকাবাজি করবেন না আর আপনার কাজের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করবেন।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY