কিভাবে অনলাইনে নিজের ইকমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন?

0
848
কিভাবে অনলাইনে নিজের ইকমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন?
3.7 (73.33%) 3 votes

অনলাইনে পণ্য বিক্রির জন্য আপনার চাই একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট। গ্রামীণ মার্কেটের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট বানানো এখন খুবই সহজ। প্রথম ধাপে আপনার ইকমার্স ওয়েবসাইটের জন্য পছন্দসই থিমটি বেছে নিন। গ্রামীণ মার্কেটে আছে আধুনিক ইকমার্স ওয়েবসাইটের ফিচারসম্বলিত বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় থিম। এর মধ্য থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের থিমটি।

এখানকার পত্রিকায়, সোশ্যাল মিডিয়া, এখন পর্যন্ত নেয়া উদ্যোগ গুলোর দিকে তাকালে সহজেই মনে হতে পারে ই-কমার্স মানে অনেক বড় কিছু, অনেক টাকা লাগবে এবং কারিগরি বিষয়ে অনেক দক্ষ হতে হবে। আসলে বিষয়টি মোটেও সেকরম নয়। ইন্টারনেটের এতো জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন ব্যাক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উদ্যোগ । আপনি যদি ওয়েব ব্রাউজ করে থাকেন দেখবেন এমন অনেক সাইট আপনি পেয়ে যাবেন যা থেকে অল্প কিছু প্রোডাক্ট বিক্রি হচ্ছে । সাইটটি ভালোই উপার্জন করছে ।

ইকমার্স ওয়েবসাইটের থিম নির্বাচনঃ

ইকমার্স ওয়েবসাইটের থিম নির্বাচনের পরে সাজিয়ে নিন আপনার অনলাইন স্টোর। আপনার স্টোর এর থিম এর জন্যে পছন্দসই রঙ সিলেক্ট করুন। আপনার ব্যবসার ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট সহ যেকোন সোশ্যাল মিডিয়ার লিংকগুলো অ্যাড করে নিন। লোগো, ব্যানারগুলো সঠিক সাইজ ও রং দিয়ে আপলোড করুন। আপনার ফোন নাম্বার, ঠিকানা, ইমেইল অ্যাড্রেস এবং আনুষঙ্গিক সব ধরনের তথ্য আপডেট করে নিন।

যা যা প্রয়োজনঃ

ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে হলে প্রথমে কোম্পানির জন্য ভাল একটি নাম পছন্দ করতে হবে এবং নামের সাথে মিল রেখে একটা ডোমেইন কিনতে হবে। অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করার মূল শর্ত হল ওয়েবসাইট থাকা। আপনার পণ্যগুলো ছবি সহ বর্ণনা করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। যেখানে আপনার সকল পণ্যের দাম উল্লেখ থাকবে। পণ্য বাছাইয়ের মাধ্যমে সহজে ক্রয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যে কোন প্রয়োজনে তাৎক্ষনিক ক্রেতাদের সহায়তা দেবার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

ওয়েবসাইট মার্কেটিংঃ

অনলাইনে বিক্রির জন্য একটি ওয়েবসাইট থাকার পাশাপাশি, সেই ওয়েবসাইটের কথা মানুষকে জানানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর এই মার্কেটিং এর কাজটি করতে হয় সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, এসএমএস মার্কেটিং এর মাধ্যমে। বানিয়ে নিতে পারেন আপনার ফেসবুক স্টোর। ফেসবুক এ আপনার পেইজে দেখাতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটের সব প্রোডাক্ট। আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সুবিধা কাজে লাগিয়ে আপনার পণ্যকে গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে সহজলভ্য করে তুলুন।

ecommerce-web-2

লাভ জনক মৌলিক আইডিয়া বের করাঃ

আইডিয়াটা মৌলিক হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ন । অন্যের দেখাদেখি আপনিও একই ব্যবসা শুরু করতে না চাওয়াই ভালো । বাংলাদেশে অনলাইনে কেনা বেচা মাত্র শুরু হলো। চাইলেই অনেক সহজেই ভালো কিছু আইডিয়া খুজে পাবেন। খুব ভালো হয় যদি আপনি যে বিষয়ে ভালো জানেন তা নিয়ে শুরু করা । অথবা আপনার শখ বা যে বিষয়ে আপনার বেশ আগ্রহ আছে সেই বিষয়ও আপনি নির্বাচন করতে পারেন। যদি মাথায় কিছু না আসে তাহলে যখন বিভিন্ন ধরনের সাইট ব্রাউজ করেন তা দেখে আইডিয়া নেয়ার চেস্টা করতে পারেন । এমন অনেক সাইট আছে যার মতো আমাদের এখানেও করা যায়। এমন কিছু পেলে লিখে রাখতে পারেন। অনেক গুলো আইডিয়া জমলে সেগুলো সাম্ভাব্যতা যাচাই করে কোন একটা নির্বাচন করতে পারেন।

প্রোডাক্ট আপলোড করুনঃ

আকর্ষণীয় ছবি সহ প্রোডাক্ট আপলোড করুন। সুনির্দিষ্ট কোন ক্যাটাগরিতে প্রোডাক্টগুলোকে সাজিয়ে ফেলুন। প্রোডাক্টের সুনির্দিষ্ট দাম ও বিস্তারিত বিবরণ আপডেট করতে পারেন যখন ইচ্ছা তখন। ইনভেন্টরিতে প্রোডাক্টের স্টক সংখ্যা হালনাগাদ করুন। যদি “On Sale” থাকে তবে সেটাও উল্লেখ করে দিন।

পেমেন্ট মেথড সক্রিয় করুনঃ

স্টোরিয়ার প্ল্যাটফর্ম থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের পেমেন্ট অপশন। ক্যাশ অন ডেলিভারি, বিক্যাশ অথবা ক্রেডিট কার্ড/ ডেবিট কার্ড যে পেমেন্ট অপশন আপনার কাস্টমারকে দিতে চান তা সিলেক্ট করুন।

অর্ডার ম্যানেজমেন্টঃ

যেকোন সময় আপনার স্টোরে অর্ডার আসলে সাথে সাথে সেটি প্রসেস করুন। প্রোডাক্ট ডেলিভারির জন্য আপনার পছন্দের শিপিং মেথড নির্বাচন করে নিন।

প্রচারই প্রসারঃ

প্রথম অবস্থায় যখন আপনি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করবেন তখন আপনার কোনো ক্রেতা থাকবে না। এক্ষেত্রে আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। অনলাইন, অফলাইন উভয় ক্ষেত্রে আপনাকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। অনলাইনে বিজ্ঞাপনের জন্য আপনি ফেসবুক, গুগল এডওয়ার্ড, নিউজসাইট বা জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্লগে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এছাড়া অফলাইনেও প্রচার করতে হবে। যত বেশি গ্রাহকের কাছে আপনি পৌঁছাতে পারবেন আপনার পণ্যের বিক্রয় তত বেশি বেড়ে যাবে।

ক্রেতার কাছে যে ভাবে পণ্য পৌছাবেনঃ

ক্রেতার কাছে নিরাপদে পণ্য পৌঁছানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন ক্রেতা পণ্য অর্ডার করার পর, যত দ্রুত আপনি পণ্যটি তার কাছে পৌঁছাতে পারবেন আপনার ব্যবসার জন্য তত সুফল বয়ে আনবে। তাই পণ্য সরবরাহের বিষয়টি আপনাকে সব থেকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। আপনি ক্রেতার কাছে কয়েকটি উপায়ে পণ্য পাঠাতে পারেন।

ecommerce-web-3

১) নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থার মাধ্যমে

২) থার্ড পার্টি কুরিয়ারের মাধ্যমে

৩) ই-কমার্স পণ্য সরবরাহকারীদের মাধ্যমে।

ই-কমার্স বিজনেসের শুরুতে থার্ড পার্টি কুরিয়ার ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে কুরিয়ার কোম্পানিদের সাথে আগে থেকে চুক্তি করে নেয়া ভাল।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শঃ

ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে হলে মোটামুটি ভাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তাই ই-কমার্স বিজনেস শুরু করা আগে বিষয়টা ভাল করে ভেবে নিবেন। মার্কেট রিসার্স করে গ্রাহকদের মতামত বিবেচনা করে পণ্য নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত হবে। আপনি চাইলে কম খরচেও ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে পারেন। কিছু কিছু কোম্পানি আছে যারা ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহ করে থাকে। এজন্য আপনাকে অনেক পণ্য স্টক করে রাখার প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে কিছু কুরিয়ার আছে যারা ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে ৫০,০০০/- টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই প্রথমে ফেসবুক এপসের মাধ্যমে অনলাইন শপ তৈরি করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। প্রচার এবং প্রসারের মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স কোম্পানিটি জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্স খুব চ্যালেঞ্জিং একটা বিজনেস। ই-কমার্স বিজনেসে পণ্যের মান নিশ্চিত করা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি ভাল মানের পণ্য সরবরাহ করেন তাহলে আপনার ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এছাড়া পণ্যের দাম পরিশোধ ও সরবরাহের বিষয়ে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে হবে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY