কিভাবে ব্যায়াম এর সাহায্য ওজন নিয়ন্ত্রন রাখবেন

0
610
কিভাবে ব্যায়াম এর সাহায্য ওজন নিয়ন্ত্রন রাখবেন
5 (100%) 1 vote

সুস্থ জীবন-যাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল ব্যায়াম। ব্যায়াম স্বাস্থ্যগত ঝুকি কমায়, শক্তি যোগায়, রোগের নিরাময় ক্ষমতা বাড়ায় এবং এটা চাপমুক্ত করতে সহায়তা করে। ব্যায়াম সুস্থ দেহ, ওজন এবং রুচির উপরেও নিয়ন্ত্রন আনতে সহায়তা করে। বর্তমানে ওজন বৃদ্ধি মানুষের একরূপ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওজন বেশি হরে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, বাত, ডায়বেটিকস, এথেরোসক্লেরসিস, আর্থাইটিস প্রভৃতি হওয়ার আশংকা থাকে।

কিভাবে ব্যায়াম এর সাহায্য ওজন নিয়ন্ত্রন রাখবেন তার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টিপস দেওয়া হলঃ

ওজন হ্রাস করার কয়টি সহজ পদ্ধতি

১। যেহেতু ওজন বৃদ্ধি-মেদ বা ভুড়ি প্রভৃতি সমস্যা সৃষ্টি করে সেহেতু আগে থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই ওজন বাড়ার কারণগুরো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন এবং ধীরে ধীরে তা প্রতিরোধ করুন। সাধারনত খাদ্যঅভ্যাস অপ্রতুর কায়িক পরিশ্রম কিংবা অসুখই এর প্রধান কারণ।

২। অতিরিক্ত ওজন কমানোর সহজ উপায় হলো সঠিক ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং প্রচুর কায়িক পরিশ্রম ব্যায়াম করা। যারা কায়িক শ্রম বেশী করেন তাদের ব্যায়েমের প্রয়োজন নেই।

a_lifestyle_that_includes_d

৩। যারা ডায়েটিং করতে চান না তাদের কাজ হলো নিয়মিত হাঁটা। এতে শরীরের ওজন কমে যাবে। ওজন কমানোর জন্য হাঁটা এক চমৎকার পন্থা। যদি আপনি তিন মাইল বেগে ৪৫ মিনিট হাঁটেন এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন যদি এ রকম হাঁটেন তাহলে ছয় মাসের মধ্যে আপনার ওজন ১০ পাউন্ড কমে যাবে। যদি সময় করে উঠতে না পারেন তাহলে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় অন্তত ১৫ মিনিট জোরে হাঁটুন, লাঞ্চের সময় হাঁটুন ১৫ মিনিট। বিকেলে কিছুটা হাঁটুন আর হাঁটুন রাতে খাবারের পরে। তবে সেটার জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় মেনে চললে ভালো হয়।

৪। চর্বি জাতীয় খাবার যেমন মাখন, তেল, গরু বা খাসির মাংস বাটার প্রভৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। শরীরের জন্য এগুলো প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে যার কম বেশী হলে সমস্যার দেখা দেয়। এজন্য অনেক সময় দেখা যায় ওজন কমাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এজন্য প্রয়োজন খাদ্য গ্রহণ পরিমান সম্পর্কে সচেতন হওয়া। প্রচুর পরিমানে শাক-সবজি ও ফলমূল খাবেন এবং বেশি বেশি পানি পান করবেন। একবারে বেশী খাবেন না একটু পর পর অল্প অল্প করে খাবেন। ক্ষুধা লাগলে শশা বা ফল খেয়ে নেবেন। কারণ শশা ও টকফল ওজন হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৫। এক্ষেত্রে খাবার মেপে মেপে খাওয়ার প্রয়োজন নেই মোটামুটি একটা হিসাব করলেই চলবে। শরবত, কোকাকোলা, ফান্টা ইত্যাদি মৃদু পানীয়, সব রকম মিষ্টি, তেলে ভাঁজা খাবার, চর্বি যুক্ত মাংস, তৈলাক্ত মাছ, বাদাম, শুকনাফল, ঘি, মাখন, সর ইত্যাদি পরিহার করা প্রয়োজন। শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্য ক্যালরির প্রধান উৎস। অধিক চর্বি যুক্ত কম ক্যালরির খাদ্যে স্থুল ব্যক্তির ওজন খুব দ্রুত কমে। ওজন কমাতে পরিশ্রম ও নিয়মিত ব্যায়েমের পাশাপাশি খাদ্য তালিকায় পরির্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সকালঃ দুধ ছাড়া চা বা কফি, দুটো আটার রুটি, একবাটি সবজি সিদ্ধ, ১ বাটি কাঁচা শশা। শশা ওজন কমাতে জাদুর মত কাজ করে।
দুপুরঃ ৫০-৭০ গ্রাম চালের ভাত। মাছ বা মুরগির ঝোল ১ বাটি। এক বাটি সবজি ও শাক, শশার সালাদ, এক বাটি ডাল এবং ২৫০ গ্রাম টক দই।
বিকালঃ দুধ ছাড়া চা বা কফি, মুড়ি বা বিস্কুট ২টা।
রাতঃ আটার রুটি তিনটা, একবাটি সবুজ তরকারি, একবাটি টকদই দিয়ে এক বাটি সালাদ এবং মাখন তোলা দুধ।

৬। আপনার শরীরের ওজন যদি বেশি হয় সে ক্ষেত্রে প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় আপনি ৮০০ ক্যালরি কম খাবেন। এতে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আপনার ওজন ১০ পাউন্ড কমে যাবে। আপনি গরুর গোশত, দুধজাত খাবার, তেল প্রভৃতি বাদ দিয়ে মাছ, শাকসবজি বেশি খান। তবে একটি কথা মনে রাখবেন ক্যালরি কমাতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না।

৭। আপনি যদি দৈনিক সকালে কিংবা দুপুরে শুধু তরল খাবার খান তাহলে আট মাসে আপনার ওজন ১০ পাউন্ড কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে স্যুপ বা ফলের রস খাওয়া যেতে পারে। আর যদি দৈনিক দুই বেলা তরল খাবার খান তাহলে মাত্র পাঁচ সপ্তাহে আপনার ১০ পাউন্ড ওজন কমবে। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার তরল খাবারে যেন পুষ্টির মান বজায় থাকে।

প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী ব্যায়াম আপনার জীবনে ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে।

  • হৃদরোগের ঝুকি কমায়, উচ্চ রক্ত চাপ হাড়ের রোগ এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • জয়েন্ট, এবং লিগামেন্ট সচল রাখে যা নড়াচড়া করতে বা হাতাচলা করতে সুবিধা এবং পরে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
  • ব্যায়াম অস্তিওয়ারথা—নামক রোগের প্রকোশ কমায়।
  • মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে মুক্ত থাকার অন্যতম উপায় ব্যায়াম।
  • এটা উদ্বেগ প্রশমনে সহায়তা করে।
  • শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
  • ঘুম আসতে সহায়তা করে।
  • এটা স্বাভাবিক ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

সবাই কি ব্যায়াম করতে পারে?

সবাই শারীরিক কসরত থেকে সুবিধা নিতে পারে। অল্প পরিসরে ব্যায়াম করা আধিকাংশ মানুষের পক্ষেই সম্ভব। যদি আপনি আগে ব্যায়াম করে না থাকেন তবে হালকা ভাবে ১০ মিনিট ব্যায়াম করুন। অথবা হাঁটুন এরপর আস্তে আস্তে চেষ্টা করুন তা কিভাবে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করা যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে করা যায়। যদি আপনার কোন শারীরিক অসুস্থতা যেমন, হৃদরোগ।, আরথাইটিস। তবে ব্যায়াম শুরুর পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং পরামর্শ মেনে ব্যায়াম শুরু করুন। তাছারা আপনার যদি কোন ধরনের অসংগতি থাকে তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হয়ত তিনি অন্যকোন ব্যায়ামের নির্দেশনা দিবেন।

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj lives with deep passion of in psychology. She have expertise in behavior and mind, embracing all aspects of conscious and unconscious experience as well as thought.
Beside she loves music and read lots of books.
Shaila Shahanaj

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY