ধাপে ধাপে মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করবেন কিভাবে?

0
2102
ধাপে ধাপে মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করবেন কিভাবে?
5 (100%) 1 vote

একটি বাজারজাত পরিকল্পনা এমন একটি পরিকল্পনা যা আগামী বছরের জন্য আপনার পূর্ণ বাজারজাতকরণের কৌশল রূপরেখা প্রণয়ন করে থাকে। এখানে পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত করা থাকে, যেমন- যিনি আপনাদের কাছে বাজারজাত করছে, কিভাবে আপনি পন্যের বাজারজাত করবেন এবং বাজারজাতকরন কৌশল যা আপনি ব্যবহার করবেন গ্রাহকদের সাথে সংযুক্ত থাকার জন্য এবং বিক্রয় কিভাবে বৃদ্ধি করবেন। পরিকল্পনা রূপরেখা এমন ভাবে প্রনয়ন করুন যেখানে বিস্তারিত ভাবে থাকে কিভাবে আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন এবং বাজারে আপনার পণ্য ও সেবা উপস্থাপন করতে পারবেন। মার্কেটিং একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নিশ্চিত করে। ডাইরেক্ট মার্কেটিং, এডভাটাইসিং, টেলিমার্কেটিং, অনলাইন মার্কেটিং, শেয়ার মার্কেটিং, ব্রান্ডিং এরকম আরো অনেক বিষয় নিয়ে মার্কেটিং সম্পূর্ণ হয়।

ধাপ-১ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করুন

• আপনার কোম্পানির গোল বিবেচনা করুন
ব্যবসার পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করুন তারপর আপনার কোম্পানির বর্তমান মার্কেটিং অবস্থা যাচাই করুন। সেখান থেকে পরিবর্তন শনাক্ত করুন এবং তারপর নির্ধারণ করুন আপনার কোম্পানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা ও দূর্বলতার দিকগুলো ফাইন্ড আউট করে একটা বড় লিস্ট করতে পারেন। পর্যায়ক্রমে সেই লিস্ট থেকে দূর্বলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে একটি সম্পূর্ণ কার্যকর মার্কেটিং পলিসি দাড় করানো যেতে পারে। আপনি এমন ভাবে পরিকল্পনা তৈরি করুন যার ধারা আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুরন হয়। প্রতিষ্ঠানেরই একটা নিজস্ব মার্কেটিং পলিসি থাকে। তার পণ্য, সেবা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এই সবকিছুরই বিচার বিশ্লেষণে তিনি তার মার্কেটিং পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন।

• আপনার বর্তমান মার্কেটিং সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ পরীক্ষা
– এখন চিন্তা করুন, আপনার ব্যবসার প্রতি কি গ্রাহকরা আকৃষ্ট হয়? আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীরা কি আপনার ব্যবসার গ্রাহকদের প্রতি আকৃষ্ট হয়? আর যদি তাই হয় তাহলে আপনি এ সকল দিক বিবেচনা করে আপনার বাজারজাতকরণ পরিকল্পনা ঠিক করুন।
– যে সকল ক্রেতাদের সাথে আপনার প্রথম যোগাযোগ হয়েছে তাদের থেকে আপনি কি সুবিধা পেতে পারেন তা বের করুন। একে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য বলা হয়। তারা কি সন্তুষ্ট আপনার ব্যবসার প্রতি তা নির্ধারণ করুন।
– কিভাবে কম খরচে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করতে পারবেন এবং ব্যবহারকারীদের সাথে বন্ধুভাবাপন্নতা কিভাবে বজায় রাখবেন?
– প্রতিযোগীদের সাথে আপনার পার্থক্য বের করুন। প্রথমে আপনি আপনার শক্তিশালী দিক গুলো নির্ধারণ করুন, তারপর আপনার দুর্বল দিক গুলো বের করুন। তারপর আপনার পরিকল্পনা করুন।
এছাড়াও আপনি আপনার কোম্পানির সম্ভাব্য দুর্বলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে সচেতন হতে পারবেন।
– গ্রাহক কোন পণ্যে আকৃষ্ট কি সেবা পেতে চায় তার উপর মার্কেটিং নির্ভর করে। গ্রাহক সেবা, টার্গেট মার্কেট, মার্কেটিং স্টাফ, মার্কেটিং মাধ্যম নির্ধারণ করে আর একটি বড় লিস্ট তৈরি করা এবং পর্যায়ক্রমে তা বিশ্লেষণ করে রিয়েল মার্কেটিং ডেভলপ করা যেতে পারে।

• আপনার টার্গেট বাজার নিয়ে গবেষণা করুন
– আপনার গ্রাহকদের আয়, বয়স জানার চেষ্টা করুন।
– গ্রাহকরা কি পরিমান দাম দিয়ে কিনতে ইচ্ছুক এবং তাদের দর দাম করার ধরন, তারা কয়টি দোকান ঘুরে পণ্যটি ক্রয় করছে এসব কিছুই আপনার নজরদারিতে রাখুন।
– বাজার ও ব্যবসায় সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করুন।
– নেটে সার্চ দিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নিন।
– যারা এর আগে এই কাজ করেছে তাদের অভিজ্ঞতা জেনে নিন।
– যেকোনো ধরনের অনলাইন বা অফ লাইনের একটি জরিপ করার চেষ্টা করুন? জরিপ করার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করন। এ ব্যাপারে একটা কৌতুক আছে। রাশিয়াতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রশ্ন করা হয়েছে ‘‘ আপনি কি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন’’? সবাই উত্তরে ‘‘হ্যাঁ ’’ বলেছে। জরিপের ফলাফল ‘‘ রাশিয়ায় ১০০ ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
– বাজারের উপর নজর রাখুন, আপনার ধারণাগুলো নোট করুন, পরে এগুলো মিলিয়ে নিজেকে নাম্বার দিন, বুঝতে চেষ্টা করুন আপনি কি বাজারকে বুঝতে পারছেন?
– মার্কেটিং, ডেলিভারি ও এডমিন কারা হবে, কিভাবে এটা সাজানো হবে।

mp-3

• বাহ্যিক সুযোগ এবং হুমকি মোকাবেলা করুন
– বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় টিকে থাকার ক্ষমতা যাচাই করার জন্য কোম্পানীর সামনে সম্ভাব্য হুমকি আর সুযোগগুলো খুঁজে বের করে লিপিবদ্ধ করা হয়। এবং সেই সুযোগ ও হুমকির প্রেক্ষিতে করণীয় সম্বন্ধে আলোকপাত করা হয়।
– আপনার কোম্পানী এর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য আছে এবং তারা আপনার প্রতিযোগিতার দ্বারা নির্ধারিত হয়। এখানে যা আপনার আপনার ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলবে এবং সে অনুযায়ী আপনি আপনার বাজারজাত পরিকল্পনা যাতে নিয়ন্ত্রন করতে পারেন তা আগেই ভাবতে হবে।
– সম্ভাব্য সাড়া কেমন হতে পারে? লোকসানের সম্ভাবনা কতটুকু? সেটার জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত।
– আর্থিক প্রবণতা নিয়ে ভাবতে হবে।
– মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করুন।

ধাপ-২ আপনার শক্তি এবং দুর্বলতা নিয়ে গবেষণা করুন

• মেইলের মাধ্যমে সার্ভে পাঠাতে পারেন
আপন আর যদি একটি বিস্তৃত এবং ডেডিকেটেড ক্লায়েন্ট বেস থাকে, তাহলে আপনি সার্ভে পাঠানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। এই কমান্ডের সাহায্যে আপনি আপনার শক্তি এবং আপনার দুর্বলতা সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারবেন। তারপর আপনার শক্তির উপর আপনার বাজারজাত পরিকল্পনা প্রনয়ন করতে পারবেন এবং দুর্বলতা চিহ্নিত করে অন্য কোম্পানির সাথে নিজের তুলনা করতে পারেন।

• ই-মেইল জরিপ
আপনি আপনার বর্তমান গ্রাহকদের ইমেইল সংগ্রহ করতে পারেন। আপনি পরিচিতজনদের কাছ থেকে অথবা মাসিক নিউজলেটার থেকে সংগ্রহ করতে পারেন ইমেইল অ্যাড্রেস।

• ফোন জরিপ
অনেক ক্রেতা আছে যারা ফোনে বিরক্ত হয় কিন্তু আপানার ব্যবসার জন্য আপনাকে তা করতেই হবে। আপনি গ্রাহদের সন্তুষ্টি কেমন তা ফোন জরিপ করে বের করতে পারেন।

• ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার
আপনি গ্রহকদের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একটি জরিপ চালাতে পারেন। এটা আপনি গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। আবার ফোনে কথা বলেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।

ধাপ-৩ তথ্য সংগ্রহ করুন

– আপনার ব্যবসা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করুন। বাজার পরিবেশ, আপনি যে অঞ্চলে ব্যবসা করবেন সেখানের ভৌগলিক অবস্থা যাচাই করুন।

ধাপ-৪ বাজারজাতকরণ কৌশল, কর্মকৌশল ও বাজেট

• বাজারজাতকরণ কৌশল প্রয়োগ
– বাজারজাতকরণ উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব এমন বাজারজাতকরণ যুক্তি উপস্থাপিত হয় এ অংশে। এখানে উদ্দেশ্যের আলোচনার বিস্তারণ ঘটিয়ে প্রতিটি অংশের জন্য কৌশল প্রণয়ন করে তার উল্লেখ করা হয়।

• কর্মকৌশল ঠিক করুন
– এ অংশে প্রতিপাদন করা হয় বাজারজাতকরণ কৌশলগুলো কিভাবে বাস্তবে রূপায়িত করা যায়। এই অংশে কতিপয় উত্তর বের করার চেষ্টা করা হয়: কী করা হবে? কখন করা হবে? কে একাজ করতে দায়ী থাকবে? কত খরচ এজন্য হবে?

• বাজেট নির্ধারণ করুন
– পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কত ব্যয় হতে পারে তজ্জন্য একটি সম্পূর্ণ মার্কেটিং বাজেট প্রণয়ন করতে হয়, যাতে সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি হিসাব থাকবে। যখন এই পুরো বাজেটটি উচ্চস্তরের ব্যবস্থাকগণ অনুমোদন দিয়ে দিবেন, তখন এর ভিত্তিতেই যাবতীয় ক্রয়-ব্যয় পরিচালিত হবে।

mp-2

ধাপ-৫ নিয়ন্ত্রণ

– পুরো পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে কিভাবে পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং উচ্চতর ব্যবস্থাপনা কিভাবে কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবেন তার বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়।
– সমগ্র পলিসি কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগের পর চুড়ান্ত এবং বিস্তারিত ফলাফলের রিভিউ প্রকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আয় ব্যয় পরিসংখ্যান, অর্জিত সাফল্য ব্যর্থতা, গ্রাহক এবং মার্কেটিং স্টাফদের সমসাময়িক অবস্থা সবকিছুর নিখুঁত পর্যালোচনা করে একটি গঠনমূলক মার্কেটিং পরিকল্পনা চুড়ান্ত করা।

ধাপ-৬ প্রয়োজনে পুনরায় বিজনেস এবং মার্কেটিং প্লান পরিবর্তন

সব বিজনেস প্লান এবং মার্কেটিং প্লানে সফলতা নাও আসতে পারে। তবে কোন ভাবে হতাশাগ্রস্থ নয়। প্রয়োজনে আরো বিশ্লেষণ করে নতুন কোন বিজনেস প্লান এবং নতুন কোন মার্কেটিং প্লান মাথায় নিয়ে একই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্য পোঁছানোর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত কাজ করে যেতে হবে।

অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক এই দুই লিস্টের বিষয়গুলো একসাথে সমন্বয় এবং পর্যবেক্ষণ করে একটি নতুন লিস্ট তৈরি করা যেতে পারে যেটি কোম্পানির মূল এবং একটি সম্পন্ন মার্কেটি পলিসি নির্ধারিত হতে পারে। একটি নির্দিষ্ট সময়কে টার্গেট করে এই মার্কেটিং পলিসি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ধাপ-৭ বাৎসরিক পরিকল্পনা বজায় রাখা

প্রত্যেক বছরই আপনার বাৎসরিক পরিকল্পনা করা উচিত। আপনি একবার পরিকল্পনা করলেন আর করলেন না তাহলে আপনার ব্যবসায় সফলতা পাবেন না। ব্যবসায় সফলতা পাবার জন্য আপনার নিয়ম করে প্রতিবারই অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শে পরিকল্পনা করা উচিত। আপনি নির্ধারণ করুন আপনার বাজারজাত পরিকল্পনাই চালিয়ে যেতে পারবেন নাকি নতুন পরিকল্পনা গঠন করবেন।

এভাবে একটি পরিকল্পনা আপনাকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং ধাপে ধাপে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে আর কোনা কারণে কোথায় ভুল ত্রুটি ধরা পড়লে ঠিক করা যাবে এমন কি মুল আইডিয়াটা সময় বা স্থান উপযোগী না হলে প্রথমপর্যায় থেকে সরে আসা যাবে। কিন্তু অনেক কিছু একসাথে করতে চাইলে এমন সুবিধা নাও হতে পারে। বিশেষ করে ইনভেস্টমেন্ট যদি পরিকল্পনাহীন হয় তাহলে ঝুঁকিটা একটু বেড়ে যায়।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY