কিভাবে মুখের কালো দাগ দূর করবেন?

0
2016
কিভাবে মুখের কালো দাগ দূর করবেন?
5 (100%) 2 votes

মানব ত্বকের ভেতর যে এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ থাকে তাকে মেনালিন বলে। ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ধরনের দাগ দেখা যায়। যেমন- ব্রণ, লিভার দাগ এবং আরও অনেক ধরনের দাগ দেখা যায়। যা দেখতে অনেক বাজে দেখায়। এই দাগ গুলো হওয়ার ফলে আপনার মুখের স্বাভাবিক রং বদলে দেয়। দাগগুলো হয় সাধারনত রোদের কারনে, হরমোন উঠানামার কারনে বা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়ার কারনে। এটি কোন গুরুতর শারীরিক অবস্থা না, কিন্তু এই দাগের জন্য আপনি আপনার পরিস্কার এবং উজ্জ্বল ত্বক হারাতে পারেন। আপনি এ থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন এবং বর্তমানে অনেক প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিয়মিত চর্চা করে এই দাগ দূর করতে পারেন। আপনাদের সকল সমস্যা দূর করার জন্য নিম্নে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে টিপস দেওয়া হল-

কারন সম্পর্কে জানুন

প্রথমেই আপনি বের করুন ঠিক কি কারনে আপনার মুখের দাগগুলো হয়েছে এবং তারপর শুরু করুন আপনি এই দাগগুলো থেকে কিভাবে পরিত্রান পেতে পারেন। বাইরে রোদের কারনে ৯০ শতাংশ মানুষ নারী ও পুরুষ উভয়েই মুখের দাগের সমস্যায় ভোগেন। নারীর গর্ভাবস্থায় এক প্রকার দাগ হয়। এছাড়া থেরাপি ও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনেও হতে পারে। মানসিক চিন্তার কারনেও হতে পারে। তাই প্রথমে এর কারগুলো খুজে বের করে যথা শীঘ্রই এ থেকে কিভাবে বের হওয়া যায় তার সমাধান বের করুন।

১। আপনি নির্দিষ্ট কোন সমস্যা চিহ্নিত করুন

আপনি প্রথমে ভাবুন আপনার জীবনধারা কিভাবে চলছে এবং দাগ দূর করার জন্য কি চিকিৎসকের কাছে যাবেন? আপনি কি আপনার জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনতে পারবেন? প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করুন এই ডার্ক স্পট হওয়ার পেছনে ঠিক কি কারন থাকতে পারে। তাহলে নিজেই অনেকটা এর সমস্যা বের করতে পারবেন এবং তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

২। আপনার রোগ নির্ণয়ের জন্য আপনি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। যে আপনার ত্বক পরিক্ষা করবেন এবং নির্ধারণ করবেন ঠিক কি কারনে আপনার ত্বকে এ ধরনের রোগ হয়েছে। ডাক্তার আপনার জীবনধারা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করবে এবং তা নিরিক্ষা করে সিরিজ আকারে সাজাবে এবং আপনাকে রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে উপদেশ দিবে যা আপনার অনেক উপকারে আসবে।

এই সকল দাগ সরানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত আর অন্য কোন ভাল মাধ্যম নেই। সবশেষে বলা যায় সঠিক সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ না নেন তা পরবর্তীতে আপনার ক্যান্সার হতে পারে। প্রতি বছরই আপনার পুরো শরীর চেকাপ করানো অনেক ভালো। এতে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়ে এবং তা অতি দ্রুত সারানো যায়।

৩। বিশেশজ্ঞের মতে, চেষ্টা করু্ন সাময়িক এসিড চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। আলফা হাইড্রকছি এসিড, বিটা হাইড্রকছি এসিড এইসব বিভিন্ন এসিড প্রয়োগ করে তাজা কোষে যা ত্বককে আরও উজ্জবিত করে তোলে। আলফা হাইড্রকছি এসিড এ অন্তর্ভুক্ত থাকে গ্লাইকলিক এসিড, মেনডেলিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, ল্যকটিক এসিড যার মিশ্রনে ত্বকের জন্য ময়েশ্চারযার তৈরি হয় এবং তা ত্বকের জন্য আরও উপকারি, ত্বককে আরও উজ্জীবিত করে তোলে। বিটা হাইড্রকছি এসিড ছাড়াও স্যালিসিক এসিড নামে পরিচিত যা ব্রনের ঔষধের ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয়। এছাড়াও ত্বকের এই দাগ চিরতরে দূর করার জন্য ডাক্তাররা অনেক গবেষণা করে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা অনেক ভালো ভালো ঔষধ বের করেছে যার জন্য চিরতরে দাগ নির্মূল হবে।

laser-for-skin-care

৪। লেজার ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন- লেজার ট্রিটমেন্টের ধারা আপনার ত্বকের যে দাগ আছে তা স্থায়ীভাবে নির্মূল করা যায়। বর্তমানে লেজার চিকিৎসা অনেক কার্যকর, কিন্তু ব্যয়বহুল ও বেদনাদায়ক হতে পারে। লেজার চিকিৎসা সাধারনত সেইসব দাগের জন্য যে দাগ গুলো ১ বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়ীভাবে রয়েছে। এছাড়া গর্তের সৃষ্টি করেছে। তাহলে এই দাগ গুলো পুরোপুরি নির্মূল অরার জন্য লেজার চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু ক্ষণস্থায়ী বা হালকা দাগের জন্য লেজার চিকিৎসা আপনাদের না নেওয়াই উত্তম।

remove-dark-spot

৫। লেবুর মাঝে অ্যাসকরটিক এসিড থাকে যাতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। যার ধারা ত্বকের কিছুর সমস্যার সমাধান হতে পারে কোন কোন নারী লেবুর রস ত্বক ফর্সা করার জন্য শতাব্দী ধরে করে আসছে। আপনি যদি চান আরও অনেকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর সাথে মধু মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার মুখে ৩০ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলবেন। এছাড়া লেবুর রস এবং গুড়া দুধ একসাথে পানির সাথে পেস্ট করে মুখে দিন তাহলে অনেক উপকৃত হবেন।

৬। সাময়িক চিকিৎসার হিসেবে ভিটামিন ই ব্যবহার করতে পারেন অথবা ভিটামিন যুক্ত খাবার খেয়ে আপনার ত্বকের সুরক্ষা করতে পারেন। ভিটামিন-ই যুক্ত তেল বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায়। এই তেল আপনার দাগের উপর লাগিয়ে রাখলে অনেক উপকৃত হবেন।

papaya-for-skin-care

৮। পেঁপেতে ভিটামিন সি এবং ভিতামিন-ই রয়েছে। একটি পেঁপেকে মুখের মাস্ক হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন। একটি পাকা পেঁপেকে পেস্ট বানিয়ে গলা ও মুখসহ ৩০ মিনিট রাখবেন এবং পরবর্তীতে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলবেন।

৭। ঘৃতকুমারি একটি চমৎকার ময়েশ্চারজার উপাদান যা যে কোন দাগকে অতি দ্রুত সারিয়ে ফেলতে সক্ষম। এলভেরার ছোট টুকরা করে এর থেকে জেল বের করে মুখের দাগের উপর লাগিয়ে রাখুন। এছাড়া বর্তমানে এলভেরার জেল দোকানে পাওয়া যায়।

onion-for-skin-care

৯। পেয়াজ এর আম্লিক বৈশিষ্ট্য যা ত্বকের দাগের উপর লাগিয়ে রাখলে দাগ অনেকটা কমে যায়। লাল পেঁয়াজের একটি খণ্ড পেস্ট বানিয়ে টিসুর সাহায্যে মুখের দাগের লাগিয়ে রাখতে পারেন।

১০। বাইরের সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি ত্বকের আরও ক্ষতি করে। যতদূর পারবেন রোদকে এড়িয়ে চলবেন। আর বাইরে যাওয়ার সময় ভালো মানের সান্স ক্রিম ব্যবহার করবেন।

ব্রণের দাগ হোক বা অন্য কারণে হওয়া দাগ, আপনার সুন্দর চেহারায় কালো দাগ মোটেও মানানসই নয়। কুৎসিত কালো দাগ যে কোন সুন্দর চেহারাকেও মলিন করে দেয়। অনেক ক্রিম মেখে, পার্লারে ট্রিটমেন্ট করিয়েও কাজ হচ্ছে না?

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY