ঘুরে আসুন বান্দরবন

0
588
Photo credit: Rayhana Akter
ঘুরে আসুন বান্দরবন
5 (100%) 6 votes

শহুরে ব্যস্ততায় আমরা সবাই কম বেশি ব্যস্ত। তাই শুক্র বা শনির আগে বা পরে কোন দিন পেলে চেষ্টা করি কোথাও থেকে একটু বেড়িয়ে আসতে। তেমনি এক তিন দিনের ছুটিতে বেড়িয়ে এলাম বান্দরবন থেকে।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবনের দূরত্ব প্রায় ৭০ কি.মি.। আর ওখানে যেতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। আমরা থাকি চকবাজার। এক শুক্র বার খুব সকালে উঠে বেরিয়ে পরি। সি এন জি নিয়ে সোজা বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল। আগের রাতেই সব গোছানো ছিল তাই উঠে কোন ঝামেলা করতে হয়নি।

সাড়ে ৬ টার মধ্যে আমরা বাস টার্মিনালে পৌঁছে যাই। দুইটা বাস সরাসরি বান্দরবন যায়। পুরবী আর পুর্বানি। আধা ঘণ্টা পর পর ছেড়ে যায় বাস দুইটা। ভাড়া ১২০ টাকা। আমরা পুরবী তে টিকিট কেটে উঠে পড়ি। আর ৭ টার মধ্যে বাস ছেড়ে দেয়। একে শুক্রবার তাই শহুরে রাস্তা ফাঁকা ছিল বলে যানজট ছাড়াই বাস বেশ দ্রুত এগিয়ে চলে।

৯ টার মধ্যেই আমরা বান্দরবন পুরবী বাস টার্মিনালে পৌঁছে যাই। আসে পাসে অনেক হোটেল আছে। হোটেল ভাড়া বিভিন্ন দামের মধ্যে আছে। আবার একটু দরদাম ও করা যায়। আমরা একটা হোটেল পছন্দ করে ২০০০ টাকার মধ্যে ডাবল বেডের একটা কামরা নেই। হোটেলে উঠে আগে পরিষ্কার হই। তারপর রেডি হয়ে একেবারে বেরিয়ে পরি। বাইরে একটা খাবার হোটেলে নাস্তা করে সি এন জি নেই সারা দিনের জন্য।

প্রথমেই যাই মেঘলা। পাহাড় ঘেরা সুন্দর একটা পার্ক। সাঙ্গু নদী বয়ে গেছে আর তার উপর দিয়ে করা হয়েছে ঝুলন্ত ব্রিজ। বাচ্চাদের খেলার কিছু সরঞ্জাম ও আছে। চাইলে নদীতে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা আছে। আর আছে ছোট্ট একটা চিড়িয়াখানা। সব মিলিয়ে চমৎকার একটা জায়গা।

Photo credit: Rayhana Akter
Photo credit: Rayhana Akter

ওখানে ঘণ্টা দুই কাটিয়ে আমরা রওনা দেই নীলাচল এর উদ্দেশ্যে। কি অপূর্ব জায়গা! না গেলে, চোখে না দেখলে বুঝবেন না। নীলাচল থেকে পাহাড়ের কোলে সাদা রঙের স্বর্ণ মন্দির টা দেখা যায়। রোদে স্বর্ণ মন্দিরের শিখর চকচক করে। দূর থেকে মনে হয় পাহাড়ের গা জুড়ে ছোট ছোট বাড়ি। যতদূর চোখ যায় মনে হয় আকাশের কোলে পাহাড়ের সারি।
জায়গা টা এতো ভালো লাগে যে আমরা অনেকটা সময় ওখানে কাটিয়ে দেই। নীলাচল থেকে বেরিয়ে একটা হোটেলে বসে দুপুরের খাবার খেয়ে স্বর্ণ মন্দির দেখতে বের হই। মন্দিরে জুতা খুলে যেতে হয়। জুতা রাখার ব্যবস্থা আছে। আমরা জুতা রেখে মন্দিরের ভিতরে ঢুকি। ভিতরে ঢুকে চারপাশ দেখে তেমন একটা ভালো লাগে না। কিন্তু সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠার পর খুবই ভালো লাগে। মন্দিরটা আসলেই খুব সুন্দর। আর মন্দিরটা সার্কেল করে বুদ্ধের অনেকগুলো মূর্তি আছে। পুরো জায়গাটা দেখার মত।
স্বর্ণ মন্দির দেখা শেষ করে বেরিয়ে আসি। এর পর সি এন জি ধীরে ধীরে হোটেলের দিকে চলতে থাকে। আমরা চারপাশ দেখতে দেখতে এগোই। পথে আরও একটা মন্দির পেয়ে সেটাও ঘুরে দেখি।

Photo credit: Rayhana Akter
Photo credit: Rayhana Akter

হোটেলে ফিরে পরিস্কার হয়ে ঘণ্টা খানেক বিশ্রাম নিয়ে পদব্রজে শহর টা দেখতে বের হই। ঘণ্টা খানেক ঘোরাফেরা করে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসি। ভোরে নীলগিরি যাব তাই তাড়াতাড়ি সবাই শুয়ে পরি।

নীলগিরি যাবার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হল চাঁদের গাড়ি। এটা আসলে খোলা পিক-আপ। দল বেঁধে একটা গাড়িতে সহজেই ৮/১০ জন উঠা যায়। ভাড়া মোটামুটি ৪,০০০ টাকায় পাওয়া যায়। আর সবার মধ্যে টাকাটা ভাগ হয়ে যায় বলে খুব বেশি মনে হয় না। গাড়ি আগে থেকে ভাড়া করে রাখতে হবে এমন কোন কথা নেই। কোন একটা দলে ভিড়ে গিয়ে সহজেই পাওয়া যায়। নীলগিরি যাবার আগে হোটেল ছেড়ে দেয়াই ভালো। কারন ওখান থেকে ফিরে সহজেই চট্টগ্রাম ফেরার বাস পাওয়া যায়। লাগেজ হোটেলেই রেখে আমরাও একটা দলের সাথে গাড়িতে উঠে পরি।

যাওয়ার পথে আর্মি ক্যাম্প এ নাম লিখে যেতে হয়। আবার ফেরার পথে জানিয়ে যেতে হয় ফেরার কথা।

Photo credit: Rayhana Akter
Photo credit: Rayhana Akter

প্রথমেই আমরা থামি চিম্বুক এ। পাহাড় টা ঘুরে দেখি। তারপর ওখানে একটা হোটেল দেখে সবাই নাস্তা করে নেই। নাস্তা বলতে ভুনা খিচুড়ি আর মুরগী। তবে স্বাদ কিন্তু খারাপ না। ওখান থেকে পাহাড়ি কলা কিনে নেই পথে খাবার জন্য।

আবার যাত্রা শুরু করি। এরপর যতই উপরে উঠতে থাকি মনে হয় আমরা মেঘের উপর চলে যাচ্ছি। রাস্তায় মাঝে মাঝেই আমরা থামি, চা খেতে আবার চারপাশের দৃশ্য দেখতে। যতই দেখি ততই মনে হয় কি অপূর্ব! কি অপূর্ব! সত্যিই আমরা মেঘের উপর। নিচে মেঘ ভেসে যেতে দেখতে পাচ্ছি। আবার কিছু জায়গা দেখে এতো ভয় লাগছিলো যে মনে হচ্ছিলো গাড়ি একটু এদিক ওদিক হলে সোজা নিচে খাদে। এতো খাড়া আর আঁকাবাঁকা রাস্তা!

এক সময় পৌঁছে যায় আমাদের গন্তব্য নীলগিরি তে। বলে রাখা ভালো সব জায়গাতেই টিকিট কাটতে হয়েছে। টিকিটের দাম কোথাও ৫০ টাকার বেশি না। তবে স্বর্ণ মন্দিরে টিকিট তো কাটতে হয়েছে আবার জুতা রাখার জন্যও আলাদা ভাবে টাকা দিতে হয়েছে।

Photo credit: Rayhana Akter
Photo credit: Rayhana Akter

নীলগিরিতে গাড়ি থেকে নেমে যে যার মত ঘুরে দেখে, ছবি তোলে আবার অনেকে ভিডিও করে। নীচে দূরে সাঙ্গু নদীকে আঁকাবাঁকা রেখার মত মনে হয়। দূরে পাহাড়ের পর পাহাড়ের সারি। সব দেখে মন জুড়িয়ে যায়। ওখানে কিছু কটেজ আছে, একটা রেস্তোরা আছে, আবার একটা হেলিপ্যাড ও আছে আর্মি দের।

এক সময় সবাই আবার ফিরে আসার জন্য গাড়িতে উঠি। ফিরে আসি বান্দরবন সদরে আমাদের হোটেলে। হোটেল থেকে লাগেজ নিয়ে বের হয়ে আসি। একটা রেস্তোরায় খাবার খেয়ে সি এন জি নিয়ে সোজা পুরবী বাস টার্মিনাল। আর বিকেলের মধ্যে ফিরে আসি চট্টগ্রামে।

অল্প সময় নিয়ে আপনারাও বেড়িয়ে আসতে পারেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবন।

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY