চীনের ১০টি দর্শনীয় স্থান

0
646
চীনের ১০টি দর্শনীয় স্থান
5 (100%) 1 vote

আয়তন এর দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহতম দেশ চীন। শিল্প এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ চীনে গড়ে উঠেছে বহু দর্শনীয় স্থান। চলুন জেনে নেই এরকম ১০টি দর্শনীয় স্থানের নাম ও বিবরণঃ

১। বেইজিং- ফরবিডেন সিটি ও গ্রেট ওয়াল এর জন্য

পর্যটক নগরী হিসাবে বেইজিং খুব জনপ্রিয়। চীনা সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সব থেকে বেশি নিদর্শন মেলে বেইজিং এ। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ লোক নিষিদ্ধ নগরী ও চীনা মহাপ্রাচীর দর্শনে ছুটে আসে। চলুন জেনে নেই বেইজিং এ কি কি করবেন।

নিষিদ্ধ নগরী- প্রাচীন স্থাপত্বের জটিল নিদর্শন ঘুরে দেখা।

গ্রেট ওয়াল- কথিত আছে প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য গ্রেট ওয়ালে আরোহণ করা প্রয়োজন। তাই এই সুযোগ অবশ্যই মিস করবেন না।

সামার প্যালেস- এখানে সম্রাটের মত একটি শীতল ছুটির দিন উপভোগ করুন।

হুটং- চীনের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি অনুভব করতে সাইকেল যাত্রায় অংশ নিন।

চীনের বেইজিং শহরটি পুরোপুরি ভ্রমনে জন্য আপনার প্রয়োজন হবে মোট ৪ দিন।

২। জিয়ান – পোড়ামাটির আর্মির জন্য
xian

চীনের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে জিয়ান অন্যতম। প্রথমবারের মত চীন সফরে জিয়ান প্রদেশটি সবচেয়ে আকর্ষনীয়। এখানে আপনি যা যা দেখবেন তা হলো, আশ্চর্যজনক পোড়ামাটির ভাস্কর্য আর্মি, প্রাচীন শহরের প্রাচীর, মুসলিম স্ট্রিট, হংসী প্যাগোডা স্কয়ার। জিয়ান প্রদেশে আপনি যা করতে পারেন।

আশ্চর্যজনক ভাস্কর্য “পোড়ামাটির আর্মি” ঘুরে দেখতে পারেন।

প্রাচীন সিটি ওয়াল এর উপর সাইকেল চালাতে পারেন।

গুজ প্যাগোডা স্কয়ার গিয়ে দেখে আসতে পারেন ফাউন্টেন শো।

হ্যাঙ আউট এবং জলখাবারের পর্বটা সারতে পারেন মুসলিম স্ট্রিট থেকে।

৩। সাংহাই, সুঝু, হংজৌ – বুলেট ট্রেন
shanghai

শহুরে জীবনের ব্যস্ততা থেকে পালিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চীনের অন্যতম প্রদেশ সাংহাই, সুঝু, এবং হংজৌ থেকে। চলুন জেনে নেই এখানে কোথায় কোথায় ঘুরবেন।

সাংহাই প্রদেশের কাছাকাছি মোটামোটি ৮টি ওয়াটার টাউন রয়েছে। এসব প্রাচীন পানি শহরে নৌকা ভ্রমন আপনার মনে এনে দিতে পারে অনাবিল প্রশান্তি। সাংহাই সিটি থেকে এগুলোর দুরত ২ থেকে ১.৫ কি.মি. এর বেশি না।

ঘুরে আসতে পারেন চীনের ঐতিহাসিক কয়েকটি গার্ডেন। এর মধ্যে সাংহাই এর ইউ গার্ডেন, সুঝুর হাম্বল এডমিনিস্ট্রেটর’স গার্ডেন এবং হংজৌর ওয়েস্ট লেক গার্ডেন উল্লেখযোগ্য।

সাংহাই ম্যাগলেভ ট্রেন অথবা সাংহাই ট্রান্সর‍্যাপিড হচ্ছে একটি চৌম্বকক্ষেত্রের সাহায্যে ভাসমান ট্রেন অথবা ম্যাগলেভ লাইন যা চীনের সাংহাই শহরে কাজ করে। এই লাইন বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত বিশ্বের প্রথম উচ্চগতির লাইন যা চৌম্বক ক্ষেত্রের সাহায্যে ট্রেন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একটি অবাণিজ্যিক পরীক্ষায় দেখা যায় একটি ম্যাগলেভ ট্রেন ঘন্টায় ৫০১ কি.মি. গতিতে ছুটে চলে। তাই এমন দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেনে উঠার অভিজ্ঞতা সত্যি আপানকে বিমোহিত করবে।

৪। ছেংদু — বুদ্ধিমান জায়ান্ট পান্ডা প্রজনন কেন্দ্র
chengdu-panda

জায়ান্ট পান্ডারা এত বুদ্ধিমান হয়ে থাকে যে তাদের কর্মকান্ড যে কাউকে অবাক করে। আর এর সুন্দর অবয়ব ভ্রমণকারীদের এত আকৃষ্ট করে যে এদের একবার আলিঙ্গন না করে থাকতে পারেনা। চীনার বিভিন্ন জায়গায় জায়েন্ট পান্ডা দেখা গেলেও খুব কাছ থেকে জায়েন্ট পান্ডা দেখার জন্য ছেংদু হচ্ছে সবচেয়ে ভাল জায়গা। তাই ঘুড়ে আসুন জায়ান্ট প্রদেশে থেকে। এখানে পান্ডাদের যত্ন নেয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক প্রোগ্রাম। আপনি চাইলে এসব প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারেন।

এছাড়াও উপভোগ করতে পারেন সিচুয়ান অপেরা, কিভাবে চোখের সামনেই একজন তার মুখের মাস্ক নিমিষেই পরিবর্তন করতে পারে তা আপনার মধ্যে সত্যিই বিস্ময় তৈরী করবে।

৫। ইউনান — পাথুরে জঙ্গল, রঙ্গিন লাল ভূমি
yunnan

প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী উপভোগ জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা। এছাড়াও উপভোগ করতে পারেন বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংস্কৃতির কর্মকান্ডের চালচিত্র। রাজধানী কুনমিং এর কাছে Yuanyang বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চাল সোপান অঞ্চল। পশ্চিমে পাহাড়ী লিজিয়াং এবং দক্ষিণে গ্রীষ্মমন্ডলীয় Xishuangbanna এর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর হাতছানি এড়িয়ে যাওয়া সত্যি কষ্টকর।

এখানে রয়েছে বিশ্বের একমাত্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মালভূমি অঞ্চলের কার্স্ট পাথর বনভূমি। এটা আন্তর্জাতিকভাবে “স্টোন ফরেস্ট মিউজিয়াম” হিসাবে পরিচিত।

এখানে আরো রয়েছে Dongchuan লাল ভূমি যা ফটোগ্রাফারদের মূল আকর্ষণ। এখানে প্রকৃতি লাল, বেগুনি, হলুদ, সবুজ রঙের সমারোহে সৃষ্টি করেছে এক আশ্চর্য দৃশ্যপট যা “ঈশ্বরের প্যালেট” নাম খ্যাত। এই অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৫০ কিলোমিটার। মে থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস হলো Dongchuan লাল ভূমি ভ্রমণের সবচে উপযুক্ত সময়।

৬। ঝ্যাংজিয়াজি — আশ্চর্য প্রকৃতি

ঝ্যাংজিয়াজি ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক হচ্ছে চীন এর সেরা জাতীয় উদ্যান। সুউচ্চ বেলেপাথর স্তম্ভ, কখনো কখনো মেঘ, সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী এবং সমুদ্রপথের প্রশান্ত প্রবাহ এখানে এক চমৎকার দৃশ্যপটের রচনা করেছে। এইরূপ মনোমুগ্ধকর পরিবেশে পর্বত আহরণ আপনাকে দিবে ভিন্ন রকম এক অভিজ্ঞতা।

এছাড়া ক্যাবল কারে করে তিয়ানমেন পর্বত দেখা সত্যি রোমাঞ্চকর।

৭। তিব্বত — একটি পবিত্র ও বিশুদ্ধ স্থান
tibet

বিশ্বের সর্বোচ্চ মালভূমি হল তিব্বত। এখানকার মানুষের সংস্কৃতি ও দৃঢ় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বহু বৌদ্ধ ভবন। লাসার রাস্তায় দাড়িয়ে দেখতে পারেন বৌদ্ধদের তীর্থযাত্রা।

এছাড়া এখানে পোটালা প্রাসাদে গিয়ে এখানকার কোষাগার থেকে তিব্বতি ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি এবং শিল্প সম্পর্কে বিপুল জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। দেখতে পারেন লেক Yamdrok।
এভারেস্ট এ আহরণ করতে পারেন এবং সেখান থেকে দেখতে পারেন ভোরের সূর্যোদয়।

৮। হুয়াংশান — হলুদ পর্বতমালা

অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য হুয়াংশান এর মূল আকর্ষণ। চীনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর পর্বত হলো হলুদ পর্বতমালা যার দর্শন মেলে হুয়াংশান প্রদেশে। এছাড়াও পর্বতের গা ঘেষে থাকা মেঘ, অদ্ভুত আকৃতির পাথর, সুদীর্ঘ পাইন গাছ এবং পাহাড়ের পাদদেশে উষ্ণ বসন্ত আপনাকে এনে দিবে ভিন্ন আমেজ।

৯। গুইলীং — ক্লাসিক চীনা গ্রামাঞ্চল

গুইলীং এর সরল, শান্ত ও মনোরম দৃশ্যাবলী প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকে চীন ভ্রমনে আগ্রহী করে তুলে। এখানে লী নদীর চারপাশের মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী উপভোগের সাথে সাথে বুক ভরে গ্রহণ করতে পারবেন তাজা বাতাস। নিতে পারেন এখানকার সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতি সম্পর্কে এক দারুন অভিজ্ঞতা।

১০। হংকং — কেনাকাটার সাম্রাজ্য
hongkong

হংকং হলো চীনের সবচেয়ে বড় বিপণন কেন্দ্র। এখানে কেনাকাটার জন্য বড় বড় শপিং মল ছাড়াও ক্যাসওয়ে বে’র রাস্তার পাশের ফুটপাথে কেনাকাটার জন্য রয়েছে বিপুল সরঞ্জাম। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে চমৎকার সমুদ্র সৈকত এবং প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। এখানে যা করেতে পারেনঃ

অপেক্ষাকৃত কম দামে বিলাসি পন্যের কেনাকাটা সারতে পারেন শপিং মল ও রাস্তার পাশের ফুটপাথ থেকে।

ঘুরে দেখতে পারেন ভিক্টোরিয়া পিক থেকে ভিক্টোরিয়া হারবার পর্যন্ত।

ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের ও ক্যাসিনোর গেইম উপভোগের জন্য ম্যাকাও এর উদ্দেশ্যে এক দিনের একটা ট্রিপ পরিকল্পনা করতে পারেন।

রাজিয়া মিলি

রাজিয়া মিলি

Razia Mili complete her Master of Science from Eden Mohila College, Dhaka, and she is passionate about traveling and reading lots of books. She is very dynamic and details oriented that you can found in her work and she loves music during cooking special menu for her friends and family.
রাজিয়া মিলি

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY