ছোট্ট শিশুর দাঁতের যত্ন

0
739
ছোট্ট শিশুর দাঁতের যত্ন
Rate this post

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা যদি না বোঝা যায় তাহলে পরে পস্তানো ছাড়া কিছু করার থাকে না। দাঁতের সমস্যা আমাদের দেশের শিশুদের অন্যতম একটি সমস্যা। তাদের যত্ন নেওয়া শেখাতে মা-বাবার ভূমিকাই বেশি থাকে। অনেকেই প্রশ্ন করেন শিশুর দাঁতের যত্ন নিবেন কখন থেকে। একটি নবজাতক শিশুর দাঁত এখনো ওঠেনি, কিন্তু তাই বলে তার দাঁত বা মাড়ির যত্নের প্রয়োজন নেই, তা নয়। ছোট্ট শিশুটির দাঁত ওঠার আগে ও পরে চাই যত্ন। এখন হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে কেন শিশুর ছোট ছোট দাঁতের এত যত্ন নেয়া প্রয়োজন? আমি বলবো হ্যা প্রয়োজন। ওই ছোট ছোট দাতের যত্ন খুবই প্রয়োজন। কারন শিশুর দাঁতের গঠনের উপরের শিশুর দেহের সুস্থতা অনেকটা নির্ভর করে। তাছাড়া শিশুর দাঁতের সঠিক গঠনের উপর শিশুর চোয়াল এবং চেহারার গঠন ও নির্ভর করে।

শিশুর দাঁত কবে উঠবে

আমরা মনে করি যে, চার থেকে সাত মাস বয়সের মধ্যে শিশুর দাঁত ওঠে। কিন্তু না, শিশু গর্ভে থাকাকালীনই তার দাঁত উঠতে থাকে। দাঁতের মাড়ি ভেদ করে আসতে এ সময়টুকু লাগে। তাই দাঁত দেখা না গেলেও এর পরিচর্যা শুরু করতে হবে শুরু থেকেই। যখন দাঁত উঠা শুরু করবে তখন আপনি কিছু লক্ষন দেখতে পাবেন। যেমন সে তখন যা কিছু সামনে পাবে সেটাই কামড়াতে চাবে। তাই এই সময় শিশুর হাতের কাছে বিষাক্ত বা ধারালো কোনো দ্রব্য, নোংরা জিনিস বা ওষুধপত্র রাখা উচিত নয়। কামড়ানোর জন্য বাজারে কিছু সামগ্রী পাওয়া যায়, তা শিশুর হাতে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু খেয়াল রাখুন, যেন তা পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত থাকে। দাঁত ওঠার সময় শিশুর হাতে শক্ত বিস্কুট জাতীয় কিছু দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এমন কিছু দেবেন না যা গিলে ফেললে তার গলায় আটকে যেতে পারে।

bebyteeth-2

টিথিং এর সময় করণীয়

টিথিং মানে নতুন দাঁত ওঠা। টিথিং এর সময় বাচ্চার একটু সমস্যা হতে পারে৷ সেই সমস্যা গুলো এবং কীভাবে সেই সমস্যার মোকাবিলা করবেন, তার পরামর্শ থাকল আপনাদের জন্য-

টিথিং এর সময় বাচ্চার মাড়িতে একটু ব্যথা করতে পারে৷ সেই কারণে লক্ষ্য করবেন, বাচ্চা তখন একটু ঘ্যানঘ্যানেও হয়ে ওঠে৷ একটা ভুল ধারণা আছে যে টিথিং-এর সময় বাচ্চার জ্বর বা অন্যান্য অসুস্থতা দেখা দিতে পারে৷ এটা কিন্তু একেবারেই ভুল ধারনা৷ টিথিং-এর সময় সব সময় যে সমস্যা হবেই তার কোনো মানে নেই৷ কোনো সমস্যা না-ও হতে পারে৷ আবার মাড়ি ঠেলে যখন দাঁত বেরিয়ে আসে, তখন ব্যথা হলেও হতে পারে৷ বাচ্চাকে ভালো টিথার দিতে পারেন, বা চিবোণোর জন্য শক্ত কিছু দিন৷ তবে এমন কিছু দেবেন না, যা বাচ্চার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর৷

বাচ্চার যদি এই সময় জ্বর, ডায়েরিয়া ইত্যাদির মতো সমস্যা হয়, তাহলে মনে রাখবেন, টিথিং-এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷ তাই বাচ্চাকে কোনো শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান৷
• বাচ্চা কে ছোট একটি নরম কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে দিতে পারেন চিবানোর জন্য। এতে সে আরাম পাবে।
• বাচ্চার মাড়ি তে পরিস্কার আঙ্গুল বুলিয়ে দিতে পারেন।
• যে কোন ধরনের টিথিং জেল ব্যবহার এর পুর্বে ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।

ফিডার বা বুকের দুধ

বাচ্চার টিথিং এর সময় দুধ খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। সাধারন দিন গুলোতে যেভাবে খাইয়েছেন সেভাবেই খাওয়ান। তবে শিশুর জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত কেবল মায়ের বুকের দুধই একমাত্র আদর্শ খাদ্য, এটা সবাই জানেন। অনেক মা শিশুকে ফিডারে কৌটার দুধ খাওয়ান, আবার কখনো স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি মিশিয়ে দিয়ে থাকেন। এটা শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্য তো খারাপই, দাঁতের জন্যও খারাপ। এতে নতুন দুধদাঁত ও ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি তে থাকে। এ ছাড়া মায়ের বুকের দুধে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শিশুর মজবুত দাঁত গড়তে সহায়ক। কৌটার দুধে তা নেই। আর যদি দিয়েই থাকেন লক্ষ্য রাখবেন বাচ্চা যেন ফিডার মুখে নিয়ে না ঘুমিয়ে যায়। এতে দাঁতের খুব ক্ষতি হয়। দাঁত না থাকলেও নবজাতক শিশুর মুখ ও মাড়ি পরিষ্কার রাখা উচিত। তাই রাতে বুকের দুধ খাওয়ানো শেষ হলে পাতলা কাপড় অথবা তুলা দিয়ে দাঁতের মাড়ির ওপর থেকে দুধের আবরণ পরিষ্কার করে দিন।

bebyteeth-3

শিশুর দাঁত মাজা

দাঁত ব্রাশের বিকল্প নেই। দাঁত বের হওয়ার সাথে সাথে শিশুর দাঁত ব্রাশ করা শুরু করতে হবে। তার মানে ছয় মাস বয়স থেকেই টুথপেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করতে দিতে হবে। মা সকালে ও রাতে শিশুর সামনেই দাঁত ব্রাশ করবেন। শিশুরা খুব অনুকরণপ্রিয়। তাই শিশুর হাতে দাঁত ওঠার শুরুতেই একটা ব্রাশ দেওয়া ভালো। একটু বড় হলে শিশুকে হাতে ধরিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করা শিক্ষা দিতে হবে। অনেকে মনে করেন এতটুক শিশু তো কিছু খায় না, তাই ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই। এটা কিন্তু ঠিক নয়। ব্রাশ না করলে কিন্তু দাঁতের ক্ষয় হয়। তবে লক্ষ্য রাখুন, শিশুর ব্রাশ হবে ছোট। টুথ ব্রাশটি হতে হবে নরম শলাকার তৈরি । শিশুদের উপযোগী ব্রাশ ও টুথপেস্ট বাজারে পাওয়া যায়। যেহেতু শিশুটি ছোট সেহেতু তার টুথপেস্ট গিলে ফেলার যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে সুতরাং এমন টুথপেস্ট বাছাই করুন যা গিলে ফেললেও শিশুর কোন সমস্যা হবে না। তাই বলে ব্রাশ করতে বেশি পরিমাণে টুথপেস্ট দিবেন না। বাড়ন্ত শিশুর দাঁতের ক্ষয় রোধে ফ্লোরাইড কার্যকরী, তাই এই টুথপেস্ট ফ্লোরাইড মিশ্রিত হলে ভালো। শিশুর ছোট টুথব্রাশের চার ভাগের তিনভাগ পরিমাণ টুথপেস্ট নিয়ে দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিন। তিনবছর বয়স পর্যন্ত এ পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। আর অবশ্যই ব্রাশ করার পর তাকে কুলি করার জন্য গ্লাসে বা মগে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা খাবার পানি দিন, কলের পানি নয়। শিশু ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।

বলে রাখা ভাল যে, ঐতিহ্যগত ভাবে আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করি। কিন্তু এতে কোনো ভালো ফল পাওয়া যায় না। রাতে খাবারের পর খাদ্যকণা জমে থাকলে তাতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে দাঁত ক্ষয় করতে পারে। তাই শিশুকেও দিনে দুই বার ব্রাশ করতে শেখান। সকাল এ নাস্তার পরে এবং রাতে খাবারের পরে। অনেকে আবার একই টুথপেস্ট বছরের পর বছর ব্যবহার করেন। তা না করে বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্ট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্যবহার করুন। এক টুথব্রাশ ২-৩ মাসের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

দন্ত্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

দন্ত্য চিকিৎসককে দাঁত দেখানোর কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে প্রথম জন্মদিনের আগেই শিশুকে দন্ত্য চিকিৎসককে দেখাতে হবে। এরপর বছরে অন্তত দুই বার দন্ত্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। দাঁতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে যেমন দাঁতে ব্যথা, কালচে বা হলুদ ভাব তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। নিয়মিত চেক আপ করান৷ এই ধরণের ছোট ছোট উদ্যোগ নিলেই বাচ্চার দাঁত ভালো থাকবে৷ অসময়ে দাঁত ক্ষয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রেহাই পাবে।

সর্বশেষে, এই সময়ে শিশুর খাবারের মেন্যুর দিকে নজর রাখবেন। শিশুর খাবারে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকা উচিত। খেয়াল রাখুন শিশুর খাবারে যেন চিনি বেশি না হয়। নানা রকম ফল পিষে শিশুকে খেতে দিন। প্রতিদিনকার খাবারে নির্দিষ্ট পরিমাণ শাক সবজি বরাদ্দ রাখুন।

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
Jannatul Jarin

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY