জেনে নিন চুল ঝরে পড়ে কেন আর এর প্রাকৃতিক প্রতিকার কি?

0
1476
জেনে নিন চুল ঝরে পড়ে কেন আর এর প্রাকৃতিক প্রতিকার কি?
5 (100%) 1 vote

মাথা ভর্তি সুন্দর ঘন চুলের স্বপ্ন কার নেই? তবে যাদের জন্ম থেকে চুল কম তাদের যত না দুঃখ, যাদের চুল থেকেও ঝরে পড়ে, তাদের কষ্ট আরো বেশি৷ চুল পড়ে কেন আর এর সমাধানই বা কী? 
ইদানিং আমি খেয়াল করেছি যে, আমার চুল আঁচড়ানোর সময় অনেকটা চুল পড়ে যাচ্ছে। এটা হয়তো মানসিক চাপ সম্পর্কিত হতে পারে। আমরা অনেকভাবে জীবনযাপন করে থাকি। হতে পারে এটা ভিটামিনের অভাবে হচ্ছে। এটা খুবই নরমাল আপনি যখন আপনার চুল ব্রাশ করবেন তখন চিরুনির সাথে কিছুটা চুল উঠে আসবে। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কিন্তু এটা যদি অস্বাভাবিক হয় তাহলে অবশ্যই চিন্তার বিষয়। সিজন পরিবর্তনের ফলে আপনার চুলের কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। যার কারনে আপনার চুল পড়তে পারে। এছাড়াও আরও অনেক কারন আছে চুল পড়ার। চুলে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব, চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি(রঙ বা ট্রিটমেন্ট) করতে নানা রকমের রাসায়নিক উপাদানের অতিরিক্ত ব্যবহার, অপর্যাপ্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, হরমোনের (থাইরয়েড)ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত ঔষধ গ্রহণ, খুশকি ও চর্মরোগ জাতীয় সমস্যা ইত্যাদি। অনেক সময় দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপও চুল পড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এখন চুল পড়ার এই কারন গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলঃ

hair-care-bangladesh-3

চুলের স্টাইল এবং পণ্য

চুলের স্টাইল পরিবর্তন করার ফলে এবং বাজারে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য ব্যাবহার করার ফলে আমাদের চুল পড়তে পারে। এখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফার লোভে বাজে জাতের পণ্য বাজারে এনেছে। যার ফলে আমাদের চুলের অনেক ক্ষতি হয়। আপনি যদি চুল টাইট করে বেনি করেন তাহলেও আপনার চুল পড়তে পারে। কারন এতে আপনার চুলের গোরা অনেক নরম হয়। এছারা চুল আয়রন করা এবং চুল কালার করার জন্য চুলের অনেক ক্ষতি করে থাকি আমরা। সুতরাং আপনি আপনার চুলের ভালোর জন্য যদি এসকল আচরন পরিবর্তন করেন তাহলে চুল পড়া অনেকাংশে কমে যাবে।

মানসিক চাপের কারণে চুল ঝরে যেতে পারে

আপনার প্রচুর মানসিক চাপ এবং শারীরিক চাপ থাকার কারনেও আপনি চুল পরার সমস্যায় ভুগতে পারেন। রক্তের হ্রাস, উচ্চ জ্বর ও অস্ত্রপাচার, প্রচুর শারীরিক চাপের মাঝে কাজ করা আপনার চুল পড়ার কারন হতে পারে। শিশু জন্মের কিছুদিনের মাঝে আপনার চুল পড়তে পারে। তাই মানসিক চাপ কম নেয়ার চেষ্টা করুন।

পুষ্টিগত ঘাটতির কারণে চুল ঝরে যেতে পারে

চুল পড়ার খুবই সাধারন সমস্যা হচ্ছে পুষ্টিগত ঘাটতি যা কিনা আয়রনের অভাবে হতে পারে। এছাড়া ও ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, বি-১২ এর অভাবে আপনার চুল পড়তে পারে। প্রচুর ফলমূল খাবেন এবং শাকসবজি খাবেন এতে করে আপনার চুলের অনেক উপকার হবে। আপনি দিনে প্রচুর পানি পান করবেন এতে আপনার চুল পড়া অনেক কমে যাবে।

আয়রন ও ক্যালসিয়ামের অভাব

শরীরে আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলেও চুল পড়তে পারে৷ সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা বেশি হয়ে থাকে৷ তবে এসবই যে আসল কারণ তা নাও হতে পারে, ত্বকের ডাক্তারের কাছে সবকিছু পরীক্ষা করিয়ে খুঁজে বের করতে পারলেই কেবল সঠিক চিকিৎসা সম্ভব – বলেন, কোলনের ত্বক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার উটে লিংকার৷

hair-care-bangladesh

মেডিকেসন

ফারমাসিউটিক্যালস এর ধারা আপনার চুলের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় যার জন্য আপনার চুলের অনেক ক্ষতি হয়। এছাড়া যারা কেমথেরাপি নেই তাদের চুল অনেকাংশে পড়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ক্ষমতা সমপন্ন মেডিসিন আছে যার কারনে চুলের অনেক সমস্যা হয়।

হরমোন পরিবর্তন এর কারণে চুল ঝরে যেতে পারে

হরমোন পরিবর্তনের ফলে আপনি আপনার চুল হারাতে পারেন। উদাহারনস্বরূপ বলা যায়- যখন কোন শিশু জন্ম নেয় তখন একজন নারীর অনেক হরমোন পরিবর্তন হয় যার ফলে তার চুল অনেক পড়ে যায়। এছাড়া পুরুষের ক্ষেত্রে অনেকের একটি নির্দিষ্ট বয়সে হরমোনের পরিবর্তনের কারনে চুলে টাক হতে দেখা যায়। অনেকের পুরুষেরই অকালে টাক পড়ে যায়। এর জন্য ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, বংশগতি ইত্যাদি হতে পারে দায়ী।

থাইরয়েড রোগ এর কারণে চুল ঝরে যেতে পারে

চুল পরে যাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত হরমোন সংক্রান্ত রোগ হচ্ছে থাইরয়েড রোগ। এই রোগের কারনে আপনার চুলের হরমোনে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যার কারনে আপনার চুল ধীরে ধীরে কমতে থাকে। শরীরে থাইরয়েডের মাত্রার তারতম্য হলে শুধু চুল পড়া নয় – নখ এবং ত্বকেও পরিবর্তন দেখা দেয়৷ তাছাড়া এই সমস্যায় অনেকে ক্লান্ত বোধও করেন৷ কাজেই নিজের মধ্যে এসব পরিবর্তন দেখলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ৷

hair-care-bangladesh-4

চুল গজাবে এ ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে সাবধান

চুল পড়া বন্ধ হবে বা নতুন চুল গাজাবে – বাজারে এ ধরনের নানা আকর্ষণীয় ওষুধের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়৷ অনেকেই উপায়ান্তর না দেখে এসব বিজ্ঞাপনে প্রলোভিত হয়ে চুলে নানা রকম তেল বা ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন, যার ফল হয় উলটো৷ বিশেষজ্ঞের মতে, এ সব দিকে না তাকিয়ে সরাসরি ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷

hair-care-dhaka

চুল পড়া রোধের প্রতিকার সম্পর্কে এখন তাহলে আমরা জেনে নেই

অনেকে মনে করেন চুল আচড়ালে চুল পড়ে কিংবা শ্যাম্পু করলে বেশি চুল পড়ে। এটি ভুল ধারণা। চুল যেটি পড়ার পড়বেই। সেটি হয় তো সে সময় হাতে উঠে আসে। এর জন্য আচড়ানো বা শ্যাম্পু করা বন্ধ করা হাস্যকর। শ্যাম্পু না করলে চুল পরিষ্কার থাকবে না আর চুল পরিষ্কার না থাকলে পড়বেই। আপনি বাইরে থেকে এসে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে দেখুন কী কালো ময়লা উঠবে। বর্তমানে পরিবেশ দূষণের কারণে ধুলাবালি ধোঁয়া ইত্যাদিও চুলের ক্ষতি করে। বর্তমানের গবেষণায় চুল পড়া রোধে ও চুল গজাতে সাহায্য করার জন্য নানা রকম ওষুধপত্র আবিষ্কার হয়েছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ ও নিদের্শমতো এসব ওষুধ ব্যবহার করে অনেকেই ফল পাচ্ছেন। তবে একটা কথা হচ্ছে চুল পড়া প্রতিরোধে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী। এসব চিকিৎসায় প্রথমে চুল পড়া বন্ধ করে।

তারপর নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। কিন্তু ওই যে কথাটি চিকিৎসাকালীন মনে রাখতে হবে যে চিকিৎসাটি দীর্ঘমেয়াদী। অনেকে ঘন ঘন চিকিৎসক পাল্টিয়ে ভাল ফল পেতে চান। একটু ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিলে ভাল ফল পাবেন। কিছু ওষুধ চলে ব্যবহার করার, কিছু খাওয়ার ওষুধ এবং চুলের নিয়ম সবকিছুই খুব জরুরি। অনেকে সব ওষুধ না ব্যবহার করে দু’একটি ব্যবহার করে ফল পেতে চান। এটা কখনও সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদী সঠিক চিকিৎসায় চুল পড়া রোধ করা সম্ভব। তাই চুল পড়লে হতাশ হবেন না। সঠিক চিকিৎসা নিন।

কিছু ভুল যা আমরা ঠিক বলেই জানিঃ

  • লম্বা সময় টুপি পড়ে থাকলে চুল পড়া বাড়ে।
  • শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে।
  • লম্বা চুল চুলের গোড়ায় বাড়তি চাপ প্রয়োগ করে।
  • কালার বা কন্ডিশনিংয়ের কারণে চুল পড়ে।
  • ম্যাসাজিং করে চুল পড়া বন্ধ করা যায়।

এগুলো কোনটাই সঠিক নয়? পারলে ঠেকানঃ হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়া ঠেকানো সম্ভব। তবে সে জন্যে আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবেঃ

  • চুলের গোড়ায় যেন পানি না জমে।
  • চুল এর গোড়া ঘেমে গেলে তা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে ফেলুন।
  • আপনার হেয়ার ড্রায়ার টি কুল ও লো সেটিংস এ রাখুন এবং ফ্ল্যাট আয়রন কম ব্যবহার করুন।
  • একদিন বা দুই দিন পর পর মাথায় শ্যাম্পু দিন।
  • আপনার চুলকে তার স্বাভাবিক রঙের চেয়ে এক বা দুই শেড এর বেশী রঙ করবেন না।
  • নিজের পরিষ্কার ও শুকনো গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছবেন।
  • এক বা দুই সপ্তাহ পরপর বা কমপক্ষে মাসে একবার নিজের বালিশের কভার ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।
  • পরিষ্কার চিরুনি দিয়ে চুল আচড়াবেন, তবে জোরে জোরে নয়।
  • ভেজা চুল বাঁধবেন না, অাঁচড়াবেন না, বেশি টানাটানিও করবেন না।
  • খুব টেনে চুল বাঁধাও ভাল নয়।
  • প্রতিদিন শাক-সবজি, মাছ, ফল, দুধ, ডিম, দই, পনির, ডাল ইত্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে খাবেন, খেয়াল রাখবেন যেন প্রতিদিনের খাবারে জিঙ্ক, ভিটামিন বি, ভিটামিন ডি, ফোলেট, ক্যালসিয়াম ও আয়রন থাকে।
  • দোকানে চুল কাটালে বাসায় এসে শ্যাম্পু করবেন কিন্তু।
  • যাদের মাথা শুষ্ক তারা মাথায় কন্ডিশনার ব্যবহার করলে ভাল হয়।
  • বৃষ্টিতে মাথা ভেজাবেন না।
  • রাতে প্রয়োজন মতো ঘুমাবেন।
  • ঐ সব প্রসাধনী থেকে দূরে থাকুন যা আপনার মাথায় অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে।
Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY