ডিজিটাল মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার কিছু কারন

0
455
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার কিছু কারন
5 (100%) 1 vote

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসা উন্নতির জন্য নানা রকম পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। দিন দিন পরিবর্তন আনছেন তাদের মার্কেটিং কৌশলে। বর্তমান ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল প্রয়োগ করে করে ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করা হয়। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সবচাইতে বেশি মানুষের কাছে পণ্যের প্রচার করা যায় এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়েই সবচাইতে বেশি ব্যবসায়িক সফলতা পাওয়া যায়। একজন ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য অনলাইনে তার প্রডাক্টকে অনেক আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন করে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ব্যবসা বাড়াতে পারেন এবং এর জনপ্রিয়তার কিছু উল্লেখযোগ্য কারন আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলঃ

  • ১। অনলাইনের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং
    সেসব দিন চলে গেছে যখন মানুষ ভাবতো যে বড় কোম্পানি গুলো শুধু ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করে ব্যবসা করে। এখন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার জন্য অনলাইনে মার্কেটিং করে থাকে। ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখন তাদের পন্যকে অনেক আকর্ষণীয় করে অনলাইনের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করে থাকে। ছোট কোম্পানি গুলো এখন বৃহৎ জায়গা দখল করে আছে অনলাইন জুরে বড় কোম্পানির মতো। এখন অনলাইনে এ যে কেউই ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারে। অনলাইনের মাধ্যমে এখন গ্রাহকরা পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে পন্য অর্ডার করতে পারে। ডিজিটাল মার্কেটিং একই সাথে ভোক্তা এবং বিপননকারি উভয়েরই সমান উপকারে আসে। কোটি টাকার বিনিয়োগই হোক আর এসএমই প্রকল্পই হোক না কেন সবাই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
  • ২। ডিজিটাল মার্কেটিং সনাতন মার্কেটিং এর চেয়ে বেশি কার্যকর
    সনাতন পধতিতে মার্কেটিং করার চেয়ে আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে মার্কেটিং করলে অনেক অর্থ সাশ্রয় হয়। জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে সনাতন পধতিতে মার্কেটিং করে যে খরচ হয় তার থেকে ৪০% সাশ্রয় করা যায় ডিজিটাল পধতিতে মার্কেটিং করলে। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর পরিমাণ দিন দিনই বাড়ছে। অতি সল্প খরচে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে প্রচার চালানো যায়। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ও ইন্সটাগ্রামের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। ব্র্যান্ডগুলোর উক্ত প্ল্যাটফর্মসমূহের উপযুক্ত ব্যবহার করা ও সুবিধা নেয়ার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিপুল সংখ্যক জনসাধারনের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায় ডিজিটাল প্লার্টফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে। সবার কাছে পৌঁছানোর পর এর ফলাফল অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।
  • ৩। দ্বিপাক্ষিক বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা
    ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম কারণ হলো এটি একটি দ্বিপাক্ষিক বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা। অর্থাৎ এখানে বিজ্ঞাপনের মধ্যেই একজন গ্রাহক বিভিন্ন তথ্য জেনে নিতে পারেন। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যদি ওই পণ্য বা সেবার প্রতি আগ্রহী হন, তাহলে তিনি সেখানে কমেন্ট করতে পারেন এবং বিজ্ঞাপনদাতা কমেন্টটিতে রিপ্লাই করতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এখানে সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয় ফেসবুক। তবে ইউটিউব মার্কেটিংও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। এগুলোর পাশাপাশি এসইও, এসএমএম প্রভৃতিও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
  • ৪। নির্দিষ্ট টার্গেট লক্ষ্য করে সহজেই প্রচারণা চালানো যায়
    ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি বড় সুবিধা হলো এখানে নির্দিষ্ট টার্গেটগ্রুপকে লক্ষ্য করে সহজেই প্রচারণা চালানো যায়। আর এর ফলে মার্কেটিং এর কার্যকারিতা বেড়ে যায়। উন্নত দেশগুলোর মত আমরা ডিজিটালের সমস্ত সুবিধা ভালোমত ব্যবহার করতে পারছি না। কারণ আমরা এখনো ফেইসবুক নির্ভর মার্কেটিং করছি, খুব অল্পই ব্যাবহার করছি অন্যান্য প্লাটফর্মগুলোকে। যার অন্যতম কারণ আমাদের দেশের স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা; যেটি বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পরিধিও বাড়বে। এখন বেশিরভাগ মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে থাকে। তাই শুধু ফেইসবুক না আরও অনেক মাধ্যম আছে যাদের লক্ষ্যে রেখে আমরা আমাদের ডিজিটাল মার্কেটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি।
  • digital-3

  • ৫। ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনায়সেই ব্যবহার করতে পারছে
    বাংলাদেশে বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকে ফেসবুক। এর বাইরে যাদের বাজেট একটু বেশি, তার ইউটিউবে ভিডিও মার্কেটিংও করে থাকে। এটা হতে পারে কোনো পণ্যের রিভিউ কিংবা ব্যবহার পদ্ধতি। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার ইনফোগ্রাফিক ব্যবহার করে প্রচারণার জন্য যার মাধ্যমে বেশ ভালো আউটপুট পাওয়া যায়। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বেশ কার্যকর উপায়ে প্রচারণা চালানো যায় বিধায় এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হচ্ছে।
  • ৬। ডিজিটাল মার্কেটিং এ ভালো আয় করা সম্ভব
    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইমেইল মার্কেটিং, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহার করে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব। শুধু দরকার সঠিক নির্দেশনা এবং পরিপূর্ণ গবেষণা। ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার কোম্পানীর জন্য 2.8 গুণ বেশি আয় করা সম্ভব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করে থাকে বেশি মুনাফার প্রত্যাশায়। অনলাইন পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৯২% ভাগ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানই যারা ব্লগিং করে তারা অনলাইনে নতুন গ্রাহক পায়, প্রায় প্রতিদিন। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রায় ১০০% বেশি লিড আসে অন্যান্য মার্কেটিং এর তুলনায়, প্রায় ৭৭% ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন গ্রাহক পায় ফেসবুক থেকে। মনে রাখবেন আপনার গ্রাহকরা বেশিরভাগ সময় আছেন অনলাইনে এবং এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
  • ৭। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ক্রেতাদের আকর্ষিত করা সম্ভব
    ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করার এটি একটি অন্যতম কারন যে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই আপনি ক্রেতাদের আপনার পন্যের প্রতি আকর্ষিত করতে পারবেন। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কর্মক্ষেত্রে ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং আরো অনেক ইলেক্ট্রনিক্স এর মাধ্যমে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যাবহার মানুষের একটি দৈনিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ব্যবসায়ীরা এইটাকেই পুজি করে এই সাইট গুলো ব্যবহার করে ক্রেতাদের আকর্ষিত করে থাকে। ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্রেতাদের ভালো লাগা ও মন্দ লাগা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যায়। ক্রেতা আপনার পন্যের উপর কতটা আগ্রহী সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ব্যবহার করে আপনি নিয়মিত আপনার ক্রেতা সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারবেন।
  • ৮। মোবাইল ব্যবহারকারীদের উপযোগী করে ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয়
    নিঃসন্দেহে মোবাইল ইন্টারনেট তথ্য প্রচারের এবং যোগাযোগের জন্য অন্যতম একটি পদ্ধতি। মোবাইল ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং, মোবাইল অ্যাপস ইত্যাদি ব্যবহার করে ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয়। এসএমএস এর মাধ্যমে মেসেজ পাঠানো, এমএমএস (MMS) মার্কেটিং এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন ব্রাণ্ডের কোম্পানীগুলো তাদের প্রডাক্টের ইমেজ অথবা মিউজিক পাঠিয়ে থাকে, ব্লুটুথ মার্কেটিং এই পদ্ধতিতে তারবিহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রমোশনাল কনটেন্ট পাঠানো হয়ে থাকে এবং এতে কোন খরচের প্রয়োজন হয় না। ইনফ্রারেড মার্কেটিং এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র ১ মিটার দূরুত্বের মধ্য থেকে ইনফ্রারেডের মাধ্যমে প্রমোশনাল কনটেন্ট প্রেরণ করা হয়। আর এভাবেই মোবাইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয়।
  • ৯। ডিজিটাল মার্কেটিং ব্র্যান্ড সম্মাননা তৈরী করে
    ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান বিপণন কৌশলে একটি দ্রুতগতিতে কার্যক্ষম কৌশল। এটা হল সব মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ এবং খুব শিগ্রই ডিজিটাল মার্কেটিং সকল ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এর স্থান দখল করবে। বর্তমান প্রায় সব বড় বড় কম্পানিই ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করে, তাদের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। আর তাই প্রত্যেকটি ব্র্যান্ড এবং মার্কেটিং ম্যানেজার এর কাছে অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং ব্র্যান্ড সম্মাননা তৈরী করে।
  • ১০। সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ব্যবহার করে দ্রুত প্রচার সম্ভব
    আপনার ব্যবসায়িক পণ্যের প্রচারের জন্য এর চাইতে ভাল জায়গা, এখনও নাই। ফেসবুকে কমিউনিটি তৈরি করার জন্য গ্রুপ কিংবা পেজ তৈরি করুন। এমনি করে টুইটার, গুগল প্লাস কিংবা লিংকেডিনে কমিউনিটি তৈরি করুন। আপনার টার্গেটকৃত ক্রেতাদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে বিভিন্ন আলোচনাতে অংশগ্রহন করুন। প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বড় ভূমিকা রাখে। টুইটার, ফেসবুকের মাধ্যমে খুব দ্রুত ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি পাওয়া যায়। আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল ফোনের উপযোগী করে তৈরি করুন। ২০১৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে ৮০% মানুষ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
  • ১১। ডিজিটাল মার্কেটিং মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে
    ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান অনলাইন প্রবণতা একটি ব্র্যান্ড বা ব্যবসা এবং তাদের লক্ষ্য করে গ্রাহকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ করে ব্যবসা সম্পর্কে মানুষের মনের মাঝে বিশ্বাস অর্জন করতে সার্থক হতে পেরেছে। এখন বেশিরভাগ ক্রেতা তাদের সময় বাঁচানোর জন্য অনলাইন এর উপর নির্ভর করছে।
  • ১২। স্থানীয় ক্রেতারা যেন সহজেই আপনার সন্ধান পেতে পারে
    স্থানীয় ক্রেতারা যাতে সহজেই আপনার সন্ধান পেতে পারে এজন্য আপনার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য বিভিন্ন ওয়েব সাইটে দিয়ে রাখে। আর এর জন্য ব্যবসায়ীরা ভিজিটরদের জন্য সহজভাবে ব্যবহার উপযোগী ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকেন। একটি উন্নত মানের ওয়েব ডিজাইন করুন যেন প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইটটি আকর্ষণ পায়। এমনভাবে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট তৈরি করতে হবে যাতে ক্লায়েন্ট আপনার পণ্যের ব্যপারে আকর্ষণবোধ করে। আর ওয়েবসাইটে এমন কোন তথ্য নেই যা পাওয়া যায় না। এর জন্য কোন ক্রেতাকে কষ্ট করে মার্কেটে যেতে হয় না।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলতে গেলে বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিং নবজাতক অবস্থায় রয়েছে। যত বেশি ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়বে তত বেশি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সফলতা আসবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে এই প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর করা শুরু করেছে। বর্তমান সরকার তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে যা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য ইতিবাচক একটি দিক। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ ডিজিটাল মার্কেটিং-এর জন্য শুধুমাত্র ভালো দিকই না বরং এ প্ল্যাটফর্মটিকে আরো দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY