নখের যত্ন – পেডিকিউর ও মেনিকিউর সিক্রেট

0
1074
নখের যত্ন – পেডিকিউর ও মেনিকিউর সিক্রেট
5 (100%) 1 vote

হাত-পায়ের দিকে তাকালে প্রথমে সবার চোখ পড়ে নখের দিকে। পরিচ্ছন্ন নখ কেবল হাত-পায়ের সৌন্দর্যই বাড়িয়ে তোলে না, একইসঙ্গে এটি ব্যক্তিত্বের পরিচয় ও বহন করে। ঝকঝকে, আকর্ষনীয়, সুন্দর নখ সবার পছন্দ।

নখ সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য সপ্তাহে একদিন পার্লারে গিয়ে করতে পারেন পেডিকিওর-মেনিকিওর। সময় কিংবা অর্থের কারণে যারা পার্লারে গিয়ে নখের পরিচর্চা করতে পারেন না তারা ঘরে বসেই নিতে পারেন যত্ন। তবে শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য আধঘণ্টা সময় বের করে নিতে হবে। নখের যত্ন নেয়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে হবে। যেমন- নেইল কাটার, নেইল ফাইল, নেইল হার্ডনার, অলিভ অয়েল, ব্রাশ, হ্যান্ডক্রিম, বাফার, সল্ট, স্যাভলন, লেবু ও হালকা গরম পানি। আপনাদের জন্য রইলো প্রয়োজনীয় কিছু টিপস কিভাবে আপনি ঘরে বসেই নখের যত্ন নিতে পারেন-

nail-care

  • ১। একটি পাত্রে উষ্ণ গরম পানি নিয়ে তাতে শ্যাম্পু, লেবু, সল্ট, স্যাভলন মিশিয়ে, নখগুলি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর নখগুলিকে ব্রাশ দিয়ে ঘষতে হবে। ঘষা হয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং মুছে নিতে হবে। এরপর নেইল কাটার দিয়ে নখের অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতে হবে। নেইল ফাইল দিয়ে ঘষে নখ চাহিদামতো আকারে নিয়ে আসতে হবে। এতে আপনার নখ শক্ত থাকবে। সহজে ভাঙবে না। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নিতে হবে। এবার বাফার দিয়ে নখের ওপরের লেগে থাকা ময়লা ঘষে পরিষ্কার করে নিলে, এতে নখের হলদেটে ভাব দূর হবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়বে। এবার আপনার পছন্দমতো ময়েশ্চারাইজিং লোশন দিয়ে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে।
  • ২। নখ ভাঙার সমস্যা থাকলে প্রতি সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে নখ ও আঙুল ম্যাসাজ করলে নখ ভাঙা কমে যাবে। এ ছাড়া প্রতিদিন রাতে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিয়ে নখ ম্যাসাজ করুন। নখ ভাঙা থেকে রেহাই পেতে নেইল হার্ডনার ব্যবহার করুন। এটি নেইল পলিশের মতো বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। পুষ্টির অভাবে নখ ভেঙে যেতে পারে। ভিটামিন বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার খাবেন। খাদ্যতো পুষ্টি যোগাবে ভেতর থেকে আর বাইরের যত্নও নিতে হবে আপনাকে।
  • ৩। অনেক সময় সবজি কাটলে নখে কালো দাগ পড়ে। কাটা লেবু ঘষলে নিমিশেই কালো দাগ দূর হয়ে যায়। মাসে অন্তত দুবার ম্যানিকিউর, পেডিকিউর করতে হয়। সম্ভব হলে ম্যানিকিউর, পেডিকিউর প্রতি সপ্তাহে একবার করা ভালো। সাপ্তাহিক যত্নের পাশাপাশি প্রতিবার গোসলের সময় ছোট ব্রাশ নিয়ে নখ ঘষে পরিষ্কার করে নিন। এতে নখের সমস্যা অনেকখানি কমে যাবে। নখে এক সপ্তাহের বেশি নেইলপলিশ লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। মাঝে অন্তত দুই দিন বিরতি দিয়ে আবার নেইলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত নেইলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করলে নখ ড্রাই হয়ে যায়। তবে নখে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • ৪। অযত্ন এবং অবহেলায় নখ অপরিষ্কার দেখায়, রং নষ্ট হয়ে হলদে হয়ে যায়। তাছাড়া নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করা, পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া ইত্যাদি কারণেও নখ দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, নখ হল এক প্রকার শক্ত কোষের সমষ্টি। নখের গঠনে কাজ করে প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন এবং ভিটামিন ‘বি’ অত্যন্ত জরুরি কিছু পুষ্টি উপাদান। তাই খাবারের তালিকায় এই খাদ্য উপাদানগুলো থাকা দরকার।
  • ৫। নখ মজবুত করতে সপ্তাহে তিনদিন অলিভ অয়েল কুসুম গরম করে হাত এবং নখে ভালোভাবে মালিশ করতে হবে। তাছাড়া নখ কাটার জন্য ব্লেড বা কেচি ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও জানান শিবানি দে।
  • ৬। যারা দাঁত দিয়ে নখ কাটেন তাদের নখও ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুন্দর নখ চাইলে এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করার পরামর্শ দেন এই রূপবিশেষজ্ঞ।
  • ৭। সারাদিন শেষে কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ নখ ও হাত ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর হাত মুছে নখ এবং চারপাশে ভালো মানের কিউটিকল অয়েল মালিশ করে নিলে নখ ভালো থাকবে
  • ৮। এরজন্য সঠিকভাবে ফাইল করা জরুরি। প্রতিবার একইভাবে এবং একই দিকে নখ ফাইল করতে হবে। এক্ষেত্রে ধাতব ফাইলার এড়িয়ে চলাই ভালো। তাছাড়া গোসল বা হাত ভেজানোর পর নখ ফাইল করা উচিত নয়। কারণ এ সময় নখ নরম থাকে।
  • ৯। রাতে ঘুমানোর আগে নখে পেট্রোলিয়াম জেলি এবং অলিভ অয়েল মালিশ করে নিলে নখ শক্ত হয়। যাদের নখ বেশি নরম তারা রাতে ঘুমানোর আগে পুরু করে পেট্রোলিয়াম জেলি মালিশ করে মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। এতে নখ শক্ত হবে।
  • ১০। অনেকে গোসলের পর নখ কাটতে পছন্দ করেন, কারণ এই সময় নখ নরম থাকে। তবে এতে নখে চির ধরতে পারে।
  • ১১। নেইলপলিশ দিয়ে নখ রাঙাতে পছন্দ করলেও কিছু দিনের বিরতিতে নেইলপলিশ লাগানো উচিত। এতে নখ শ্বাস নিতে পারে। তাই একবার নেইলপলিশ ওঠানোর অন্তত দুদিন পর আবার নেইলপলিশ লাগাতে হবে। অবশ্যই ভালো মানের এবং ভালো ব্র্যান্ডের নেইলপলিশ বেছে নেওয়া উচিত। কারণ সস্তা নেইলপলিশে সিসা থাকে যা নখের জন্য ক্ষতিকর।
  • ১২। নখ কখনও অতিরিক্ত বড় করা ঠিক না এতে নখ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া মাঝারি আকারের নখে নেইলপলিশ লাগাতেও সুবিধা হয়। নখের আকার-আকৃতি যাই হোক, খেয়াল রাখতে হবে তা যেন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে যায়।
  • ১৩। যখনি নখ কাটবেন তার আগে অবশ্যই নেইল কাটার ধুয়ে নিবেন ,দরকার হলে সাবান দিয়ে ধুবেন। সবার জন্য আলাদা নেইল কাটার রাখতে পারলে ভালো হয় ,কিন্তু এটা অনেকের জন্য সম্ভব না । তাই অন্তত পরিষ্কার রাখাটা অনেক জরুরি, নাহলে এমন কেউ যদি কাটার দিয়ে নখ কেটে থাকে যার নখে ফাঙ্গাস আছে আর আপনি কাটার পরিস্কার না করেই আপনার নখ কাটলেন এতে আপনিও আক্রান্ত হবেন। তাই এ ব্যাপারে সাবধান। কাটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখবেন, কেনার সময় খেয়াল করতে হবে যেন ধার (শার্পনেস ) ভালো থাকে নাহলে নখ জখম হবে।
  • ১৪। আমরা আজকাল বিভিন্ন কায়দা করে নকল নখ লাগাই, এ প্রক্রিয়া ক্রমাগত করতে থাকলে আমাদের নখে ফাঙ্গাস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মনে রাখবেন কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। যারা নেইল পালিশ বেশি ব্যবহার করেন তারা লক্ষ্য করবেন যে নখ হলুদ হয়ে গেছে। এর থেকে ফাঙ্গাস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
  • ১৫। যদি কোনো কারনে আপনার আঙ্গুলের নখ ফাঙ্গাস আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে দেরী না করে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন। প্রাথমিক ভাবে আপনি দু বেলা নখ ধুয়ে, মুছে সম পরিমানের পানি আর আপেল সিডার ভেনিগার মিশিয়ে লাগাতে পারেন অথবা হার্বাল লেমন গ্রাস তেল ২ ফোটা করে দিনে রাতে লাগাতে পারেন। তবে অনুরোধ করবো যে কোনো কিছু লাগানোর আগে একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন কারণ সবার ত্বক একই না ,যা আমার জন্য প্রযোজ্য তা আপনার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।কিন্তু মোট কথা বেশি ক্ষতি হবার আগে নিজের নখের যত্ন নিন, সামান্য মনে করে আজকে অবহেলা করলে কালকে ফলটা আপনাকে ভোগ করতে হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY