নতুন চাকরিতে সফলতা পাবার উপায়

0
685
নতুন চাকরিতে সফলতা পাবার উপায়
Rate this post

সাফল্যের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয় উভয় ক্ষেত্রে। চাকরিতে পদোন্নতি করতে গেলে ‘বস’কে খোশামোদ করার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেরও উত্কর্ষ বাড়াতে হবে। সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রচেষ্টা আর কিছু সাধারণ কৌশল। আমরা প্রায়শই একটা কথা শুনতে পাই ‘পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি’। আসলে সৌভাগ্য আর সাফল্য যেটাই বলি না কেন, পরিশ্রমের সাথে সাথে জানতে হয়, সফলতার কিছু কৌশল। যা অনুসরণে নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যেতে পারেন সাফল্যের স্বর্ণশিখরে। আপনি যা হতে চান, তার ছবি যদি স্পস্টভাবে দেখেন, তা হলে তার বাস্তবায়ন সহজ হয়। আপনার সমস্ত মনোযোগ থাকবে ছবিটার দিকে। দিনে-রাতে যখনই সময় পাবেন, তখনই আপনার স্বপ্নের কথা ভাবুন। যাদের কোনো কাজে মন নেই বা নেতিবাচক মনোভাব আছে, তারা সফলতার মুখ দেখতে পান না। ইতিবাচক মনোভাব হচ্ছে আশা, সৃষ্টিশীলতা আর প্রাপ্তির সীমাহীন সম্ভাবনা।

পরিকল্পনা করে রাখুন
সফল হতে আপনাকে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে তৎপর হতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে আমরা আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখি। আমাদের টনক না নড়া পর্যন্ত এই কাজটি আমরা বারবার করি। কিন্তু সময় তো আর বসে থাকে না। আমাদের খেয়াল হতে হতে অনেক সময়ের অবমূল্যায়নের ফলে জীবনে নেমে আসে হতাশা আর জীবন সম্পর্কে অনীহা। আপনাকে মনে রাখতে হবে, সফলতার জন্য সময়ের সঠিক ব্যবহার করা প্রয়োজন। কারণ, সাফল্যের জন্য আপনাকে শিখতে হবে অনেক কিছু। সব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হলে সময়কে ভাগ করে নিন।
জরুরি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কাজের ঝামেলা থাকলে তা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখতে হবে। আকস্মিক কোনো ঝামেলা আসতেই পারে। তবে অন্য ক্ষেত্রে অফিসকে আগে থেকে জানিয়ে রাখা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম।

দ্রুত নিজেকে প্রমাণ করুন
কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর যত দ্রুত নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন, আপনার সার্বিক পেশাজীবন তত গতিময় ও সমৃদ্ধ হবে। ধীরে-সুস্থে এগোনো যাবে, এমন ভাবলে ভুল করবেন। বরং প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজের গুরুত্ব শিগগির তুলে ধরুন। এতে আপনার বেতনের অঙ্ক ও পদমর্যাদার উন্নতি হবে এবং আরও বড় পরিসরের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হবে। তাই আর দেরি নয়, এখনই শুরু করে দিন।

মেধা যাচাই করুন
মেধা যাচাই ধরুন, আপনি লক্ষ্যে পেঁৗছে গেছেন। ধরেই নিন আপনি সফল। এরপর কী করা উচিত? আপনি কি বসে থাকবেন? তা হলে আপনি ভুল করবেন। কারণ, সাফল্যের শেষ নেই। সাফল্যের একটা সিঁড়ি অতিক্রম করার পর আপনি আরেকটা সিঁড়িতে পা দেবেন। কারণ, আপনার মেধার কোনো কমতি নেই। লক্ষ্য অর্জনে মানুষের ক্ষমতার কোনো শেষ নেই। তাই নিজের মেধা যাচাই করুন। ধরা যাক, আপনি ডাক্তার হতে চান। আপনার লক্ষ্য দেশের মানুষের সেবা করা। দেশের মানুষের সেবার মধ্য দিয়ে আপনি নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে দেখতে চান। আপনার সর্বোচ্চ মনোযোগ, সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে আপনি মানুষের সেবার মাধ্যমে নিজেকে একজন সত্যিকার সফল মানুষ ভাবতে পারেন।

ঝুঁকি নিয়ে কাজ করুন
ঝুঁকি নেওয়াটা সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ না-ও হতে পারে। অনেক কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে গতকাল যা করেছি, আজ ও আগামীকাল যদি সেই একই কাজ করে যেতে থাকি, আমরা এগোতে পারব না। ঝুঁকি নেওয়ার মাধ্যমে আপনি নিজেকে একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন, যেখানে সাফল্য ও ব্যর্থতা-দুটোই থাকতে পারে। উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঝুঁকিই হতে পারে আপনার বড় সাফল্যের সিঁড়ি।

নিজের কাজের মূল্যায়ন করুন
চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে ভেবে দেখবে, আপনার কাছ থেকে কী কী পাওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা নির্ভর। আপনি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সার্বিক আয় কতটা বাড়াতে পারবেন এবং ব্যয় কতটা কমাতে পারবেন সেগুলো খতিয়ে দেখার জন্য আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা হবে। কাজেই নিজেই নিজেকে সেভাবে যাচাই করে দেখুন, আসলেই আপনি পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য কি না।

job-1

সহকর্মীদের প্রতি উদার হোন
শুধু প্রথম চাকরিতে নয়, সবখানেই সহকর্মীদের প্রতি উদার থাকাটা সফলতার প্রাথমিক শর্ত। কাজে ভারসাম্য আনতে এবং দক্ষতা বাড়াতে উদার হতে হবে আপনাকে। এই গুণের কারণেই বসের কাছে আপনার ব্যাপারে প্রশংসা পৌঁছে যাবে এবং বিপদে সাহায্যের হাত বাড়াবেন অনেকে।

মুখে হাসি রেখে সার্ভিস দিন
যে কাজই করুন না কেনো, সেবা দিন মুখে হাসি রেখে। এই হাসি যেকোনো মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতা তৈরি করে দেবে। ক্রেতাদের সঙ্গে আপনার কাজ করতে হলে এই হাসির ফলেই বসের কাছে আপনার বিষয়ে অভিযোগ অনেক কম যাবে। আবার এই হাসিই প্রশংসাসূচক মন্তব্য বয়ে আনবে আপনার জন্য।

শৃঙ্খলা বজায় রাখুন
শৃংখলা সাফল্যের অপরিহার্য অঙ্গ। যাঁরা সহজাত প্রতিভা নিয়ে জন্মান, তাঁদের কথা আলাদা। তাঁরা জাগতিক নিয়মের বাইরে। অনেক শিল্পী ও লেখক উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন করে জীবনে সফল হয়েছেন। আবার অনেক সাধারণ ব্যক্তি একটু সফল হলে নিয়ম-বহির্ভূত জীবন যাপন করেছেন। কিন্তু নিয়মের বাইরে গেলে প্রকৃতি সেসব উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের ক্ষমা করেনি।

আগামীর প্রয়োজনে আত্মত্যাগ
ভবিষ্যতে নিজেকে ভালো অবস্থানে দেখতে চাইলে আপনাকে এখন কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কাজটা পছন্দের হলে তাতে বেশি সময় দিতে ক্ষতি কী। পেশা জীবনের শুরুতে যত পরিশ্রম করবেন, পরবর্তী জীবনে তার সুফল তত বেশি পাবেন। আর তখন সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পর ধন্যবাদটা আপনি নিজেকেই দিতে পারবেন, অন্য কাউকে নয়।

অপছন্দের চাকরি করবেন না
পড়াশোনা শেষ করেই অনেকে যেনতেন একটা চাকরিতে ঢুকে পড়েন। ‘পছন্দের চাকরিটা পরেও খুঁজতে পারব, আপাতত একটা কিছু শুরু করি’ এমন ভাবনার ফলে সাময়িক কিছু রোজগার হলেও পরে অনেক মাশুল গুনতে হয়। কারণ, যে কাজের প্রতি আপনার আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে, সেই পেশায় আপনি সর্বোচ্চ সাফল্য আশা করতে পারেন না। আর কেবল টাকা আয়ের জন্য কাজ করে, এমন কর্মীরা সৃষ্টিশীল কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে কাঙ্ক্ষিত নয়। তাই সাময়িক প্রয়োজনে হলেও অপছন্দের চাকরিতে না যাওয়াই ভালো।

মনোবল বাড়াতে হবে
মনোবল নিয়ে কাজে নামুন। আমরা যদি মহাজ্ঞানীদের কথা ভাবি, নিউটনের কথাই ধরুন, যার গবেষণার সব কাগজ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। নিউটন হাল ছাড়েননি। এডিসন অসংখ্য চেষ্টার পর ইলেকট্রিক বাল্ব আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন। ধৈর্যের বলেই তা সম্ভব হয়েছে। মানসিক প্রশান্তি শুধু সাফল্যলাভের জন্যই নয়; বরং সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন। মানুষের মনের সুপ্ত শক্তিকে প্রকাশের জন্য প্রয়োজন হয় এ প্রশান্তির। মোট কথা, এটি হচ্ছে সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। কাজেই মনকে প্রশান্ত রাখুন। মানসিক প্রশান্তি অর্জনের একটি অন্যতম উপায় হলো মেডিটেশন। তাই মেডিটেশন করুন, দেখবেন, মনকে কিছুটা হলেও শান্তি দিতে পারছেন।

ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করুন
ইতিবাচক মনোভাব আপনার লক্ষ্যের প্রতি থাকা চাই আপনার ইতিবাচক মনোভাব। এই মনোভাব আপনাকে সাফল্যের দিকে টানবে। যারা নেতিবাচক চিন্তা করেন, তারা তাদের মনোভাব পরিবর্তন করুন। কোনো কাজকে পজেটিভ ভাবুন। একান্ত নিজের করে নিন, যদি দ্রুত পজেটিভ না হতে পারেন, তবে আস্তে আস্তে ইতিবাচক মনোভাব অর্জন করুন। মানুষের সাথে যোগাযোগ বর্তমান সময়ে যোগাযোগের গুরুত্ব অনেক।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে
আত্মবিশ্বাস সফলতার যদি কোনো অন্তরায় থাকে, তা হলে তা হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। কেউ যদি ভাবে, ‘আমি পারবো না’ ব্যস! নিশ্চিতভাবে সে ব্যর্থ। কারণ, সে চেষ্টা করে না বা চেষ্টা করার আগেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। বিশ্বাসের মাত্রা হতে হয় খুব দৃঢ়। যদি মনে বিশ্বাস থাকে অটুট, লক্ষ্য যতোই কঠিন হোক না কেন বিজয় নিশ্চিত। কখনোই বিশ্বাস হারাবেন না। তা হলে আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যাবে। ফলে উৎসাহ-উদ্দীপনা কমে যাবে। কাজেই, বিশ্বাস ধরে রাখুন। নিজের মাঝে নিজেই প্রতিষ্ঠিত করুন যে, ‘আমি পারবোই’।

অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অগ্রসর হন
জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে যা কিছু শিখবেন, তার সবই কোনো না কোনোভাবে আপনার সাফল্যের নেপথ্যে রসদ জোগাবে। অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলো চারপাশের পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত ও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি অন্যদের কাছে আপনাকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। তাই নিজের পেশা জীবনকে মনে করতে হবে ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার সমষ্টি।

সময়মত অফিসে পৌঁছান
পেশাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আপনার সময়জ্ঞান। কর্মক্ষেত্রে সময়ের আগে অথবা অন্তত সময়মতো পৌঁছানো সেরা গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অফিসে দেরিতে এতে সময়মতো চলে যাওয়ায় আপনার ভালো কাজকেও অন্ধকারে রেখে দেবে।

পরচর্চা থেকে বিরত থাকুন
কর্মক্ষেত্রে আপনি অনেক ধরনের মানুষের সম্মুখীন হবেন। আপনি কারো সম্বন্ধেই ইতিবাচক ও নেতিবাচক কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনি কিছু না করলেও আপনার সমন্ধে খারাপ প্রভাব ফেলবে। প্রতিষ্ঠান এবং মালিক সম্পর্কে সবসময় ইতিবাচক কথা বলবেন।

কর্মজীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্রের আবেদনটাই ভিন্ন। এখানে বন্ধুসুলভ কিন্তু প্রতিযোগী অভিজ্ঞ সহকর্মীদের মাঝে নিজেকে মেলে ধরাটা চ্যালেঞ্জিং। আবার প্রথম চাকরিতে সফলতা না আসলে হতাশায় ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY