নিজের কসমেটিক ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

0
3283
নিজের কসমেটিক ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে
5 (100%) 8 votes

আপনি কি সত্যিই সৌন্দর্য শিল্পকে ভালবাসেন? এছাড়াও কি আপনার একজন উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবল ইচ্ছা আছে? তাহলে আজই এই দুই ভাবাবেগকে একত্রিত করুন এবং দেখুন তো আপনার নিজের প্রসাধনী ব্যবসা শুরু করার জন্য দক্ষতা আপনার আছে কি না? যদি থেকেই থাকে তাহলে ব্যবসাটা শুরু করবেন কিভাবে? বেসিক জ্ঞ্যান তো অবশ্যই লাগবে। এই আর্টিকেলটি ফলো করুন কাজে দিবে আশা করি।

ধাপ-১ যথাযথ তথ্য নিয়ে ব্যবসায়ে নামুন

মেকআপের কাজ এবং বর্তমান ট্রেন্ড সম্পর্কে জানুন

আপনি কি সত্যিই প্রসাধনী বিক্রির ব্যবসার মধ্যে যেতে চান তাহলে আপনি অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে মেকআপ কেন এবং কিভাবে কাজ করে তার বিস্তারিত জানতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় আপনার নিজের মুখে লাগিয়েই পরিক্ষা করা, এতে আপনি পন্য সম্পর্কে ভালো জ্ঞ্যান নিতে পারবেন যে কোনটা কি কাজ করছে। মনে রাখবেন বর্তমান যুগে বেশির ভাগ প্রসাধনীই আলাদা আলাদা সমস্যাকে কেন্দ্র করে বানানো হয়। যেমন- ব্রন, ফর্সা ত্বক, চুলের খুশকি, হেয়ার ফল ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা ক্যাটাগরির পন্য তৈরি করা লাগবে। আপনার জ্ঞানকে আরও উন্নত করার জন্য কিছু পদ্ধতি রয়েছে:

  • কসমেটোলজির উপর ডিপ্লোমা করতে পারেন

    কসমেটিক লাইনে কাজ করে এমন বিশেষজ্ঞদের পাঠক্রম পড়তে পারেন। বিকল্প উপাদানের অপশনগুলো সম্বন্ধে শিখবেন। যেমন, আপনি একটা পন্য বানাতে গেলেন কিন্তু একটি উপাদান পাওয়া যাচ্ছেনা। তখন তার বিকল্প হিসেবে কি ব্যবহার করা যাবে তা জেনে রাখবেন। আলাদা আলাদা কসমেটিকস এ কি কি উপাদান লাগে তা জানতে হবে।

  • বাড়ীতে পরীক্ষা করা

    own-cosmetics-line-2

    প্রসাধনী তৈরীর উপর বিভিন্ন বই কিনতে পারেন। এই সরাসরি পরীক্ষা নিরীক্ষার জ্ঞান আপনাকে পন্য তৈরিতে আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করবে এবং আপনার অভিজ্ঞতা বাড়াবে। আজকাল বিভিন্ন লাইব্রেরি এবং বুকস্টোর গুলোতে কসমেটিকস তৈরির উপর ভালো ভালো বই পাওয়া যায়। এছাড়াও অনলাইনে প্রচুর পরামর্শ রয়েছে কিন্তু এই সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক কারন এটি স্কিন এ ব্যবহার করা হবে। তাই পরীক্ষা করে নিন এটি নিরাপদ কি না।

  • ধাপ-২ আপনার প্রসাধনীর লাইন এর বিস্তার কতটুক হবে তা স্থির করুন

    প্রসাধনীর যে এরিয়াতে আপনি কাজ করতে চান তা বিবেচনা করুন

    own-cosmetics-line-3

    প্রসাধনী শব্দটি কোন একটি বিষয়কে বোঝায় না। প্রসাধনী একটি বিস্তৃত বিষয়। চুল, ত্বক ও মুখের পণ্যসহ এমনকি টুথপেষ্ট এবং ডিওডোরেন্ট ও প্রসাধনীর অন্তর্ভুক্ত। তাই আপনি কোন এরিয়াতে কাজ করবেন তা আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি। যেহেতু মাত্র শুরু তাই প্রথমেই অল্প অল্প করে শুরু করা উচিত। যেমন দেখুন আমাদের দেশে বিভিন্ন অ্যাঁরোমার পন্যগুলো শুধু স্কিন বা হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট আছে। কিন্তু কোন মেকআপ আইটেম যেমন- লিপস্টিক, ফেস পাউডার ইত্যাদি দেখিনা। কারন তারা তাদের ব্যাবসা সংকীর্নভাবে শুরু করেছে। সবসময় যে এরিয়াতে আপনার ইন্টারেস্ট সবচেয়ে বেশি সেটি দিয়েই শুরু করবেন। কিন্তু যখন দেখবেন আপনার ব্যাবসা ভাল চলছে তখন আস্তে আস্তে নতুন পন্য যোগ করুন।

    মার্কেটিং দক্ষতাগুলো জানুন

    own-cosmetics-line-4

    প্রসাধনীর এরিয়াটি এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে ইতিমধ্যে পূর্ণ প্রতিযোগিতা রয়েছে। আর সকল প্রতিযোগীর ভিড়ে আপনার পন্যটি কে তুলে ধরবে এই মার্কেটিং। আর মার্কেটিং করতে হয় আপনার পন্যের উপর ভিত্তি করে। আর তাই আপনাকে অবশ্যই এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আপনার প্রতিযোগীর থেকে ভালো। আর তাই নিজেকে কিছু কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। যেমন-

    • আপনার পণ্যটি কেন বিশেষ বা অন্যদের থেকে ভিন্ন?
    • কাস্টমার কেন তাদের বর্তমান ব্যবহার করা পন্য থেকে আপনার পন্যে সুইচ করবে?
    • আপনার ব্রান্ড এর ওয়াও ফ্যাক্টর কি হবে?
    • আপনার পন্যের স্পেশাল উপাদান কি?

    ধাপ-৩ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠা করুন

    উপরিউক্ত পরীক্ষা করার পর এবার সময় ব্যাবসাটি প্রতিষ্ঠা করার।

    ব্যাবসায়ের জন্য সুন্দর একটি নাম ভাবুন

    own-cosmetics-line-5

    নামটি হবে আপনার ব্যাবসার পরিচিতি। তাই সুন্দর একটি নাম বাছাই করুন। চাইলে নিজের নামেও শুরু করতে পারেন। এছাড়া কোন বোরিং নাম বা এমন কোন নাম ব্যবহার করবেন না যেটা উচ্চারণে বা মনে রাখতে কঠিন।

    ব্যাবসা শুরুর আগে অবশ্যই লিগাল এবং ফিনান্সিয়াল এডভাইজারের সাথে কথা বলুন

    তারা আপনার ব্যবসায়ের ইন্সুরেন্স, পেটেন্ট বা ট্রেডমার্ক ইত্যাদি বিষয় দেখবে এবং ব্যবসায়ের বিভিন্ন রুলস সম্পর্কে আপনাকে জানাবে। কারন ব্যবসা শুরুর আগে বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশনের দরকার পরে। তারা সেগুলো সম্পর্কেও আপনাকে অবগত করবে।

    ধাপ-৪ পণ্য প্রচার করুন

    ব্যাবসা তো প্রতিষ্ঠা করে ফেললেন কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে আপনাকে সেটি হল “প্রচারেই প্রসার। আর ক্রেতারা আপনার পন্য ততদিন ক্রয় করবেনা যতদিন না আপনি পুর্ন
    প্রসারমুলক কার্জক্রম গ্রহন করেন।”

    যত বেশি ওয়েতে সম্ভব আপনার পন্য বিক্রি করুন

    own-cosmetics-line-7

    এক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট স্টোর এবং কসমেটিকস দোকানগুলো সরাসরি পরিদর্শন করুন এবং তাদের সাথে কথা বলুন যেন তারা আপনার প্রসাধনীগুলোকে তাদের স্টক এ রাখে।

    আপনার মনে সেলিং পয়েন্ট নির্ধারন করুন

    আপনার প্রসাধনী কেন কাস্টমার ব্যাবহার করবে এই সম্পর্কে কয়েকটি প্রধান কারণ আপনি মনে সব সময় সেট করে রাখবেন। সৎ থাকতে হবে এবং ব্যবসা শুরুর পেছনের কারণটাও মনে রাখতে হবে। সেলিং পয়েন্ট হতে পারে যেমন আপনি একটা লিপস্টিক তৈরি করেছেন তা ম্যাট ফিনিশিং এর সাথে ময়েশ্চারাইজিংও। ইউনিক পয়েন্টটা মনে রাখবেন সবসময়।

    এবার সাধারন কিছু টিপস

    • আপনার কসমেটিকস এর টার্গেট মার্কেট কারা তা নির্ধারন করেই পন্য তৈরি করবেন। এটি আপনার পন্যের বাহ্যিক সৌন্দর্য, প্যাকেজিং, এডভারটাইজিং ইত্যাদির উপর প্রভাব ফেলে।
    • প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান যুগেও মানুষ ভেষজ উপাদান দিয়ে রুপচর্চা করতে পছন্দ করেন। তাই সব সময় ভেষজ উপাদান ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন এবং ক্যামিকেল যথাসম্ভব কম ব্যবহার করবেন।
    Jannatul Jarin

    Jannatul Jarin

    Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
    Jannatul Jarin

    Comments

    লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY