পর্যটকদের তাজমহল দর্শন

0
261
পর্যটকদের তাজমহল দর্শন
5 (100%) 1 vote

বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি আগ্রার তাজমহল। এটি দেখতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন। তাজমহল ভারতের আগ্রায় অবস্থিত একটি রাজকীয় সমাধি। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম যিনি মমতাজ মহল নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে।

তাজমহলকে (কখনও শুধু তাজ নামে ডাকা হয়) মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। যদিও সাদা মার্বেলের গম্বুজাকৃতি রাজকীয় সমাধিটিই বেশি সমাদৃত, তাজমহল আসলে সামগ্রিকভাবে একটি জটিল অখণ্ড স্থাপত্য। এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

তাজমহল তৈরি হয়েছে সাড়া এশিয়া এবং ভারত থেকে আনা বিভিন্ন উপাদান সামগ্রী দিয়ে। নির্মাণ কাজের সময় ১,০০০ এরও বেশি হাতি ব্যবহার করা হয়েছিল নির্মাণ সামগ্রী বহন করে আনার জন্য। আলো-প্রবাহী অস্বচ্ছ সাদা মার্বেল পাথর আনা হয়েছিল রাজস্থান থেকে, ইয়াশ্‌ব্‌- লাল, হলুদ বা বাদামী রঙের মধ্যম মানের পাথর আনা হয়েছিল পাঞ্জাব থেকে। চীন থেকে আনা হয়েছিল ইয়াশ্‌ম্‌- কঠিন, সাধা, সবুজ পাথর, স্ফটিক টুকরা। তিব্বত থেকে বৈদূর্য সবুজ-নীলাভ (ফিরোজা) রঙের রত্ন এবং আফগানিস্তান থেকে নীলকান্তমণি আনা হয়েছিল। নীলমণি- উজ্জ্বল নীল রত্ন এসেছিল শ্রীলঙ্কা এবং রক্তিমাভাব, খয়েরি বা সাদা রঙের মূল্যবান পাথর এসেছিল আরব থেকে। এ আটাশ ধরনের মহামূল্যবান পাথর সাদা মার্বেল পাথরেরে উপর বসানো রয়েছে।

তাজমহল ভিজিটিং পর্যটকদের জন্য কিছু তথ্য নিম্নরূপঃ

তাজমহল খোলা ও বন্ধ থাকার সময়
যেহেতু শুক্রবার তাজমহল বন্ধ থাকে, তাই শুক্রবার ব্যতীত সমস্ত দিনগুলিতে তাজমহল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা।

টিকিটের সংস্থান :
• সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, (সহেলি বূর্জের নিকট) ওয়েস্টার্ন গেট এবং (ইস্টার্ন গেট থেকে ৭৫০ মিটার দূরে) শিল্পগ্রামে অবস্থিত টিকিট বুথে টিকিট বিক্রি করা হয়।
• সাউদার্ন গেট টিকিট বুথটি সকাল ৮:00-টা. থেকে বিকেল ৫:00-টা. পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে।

তাজমহলের একটি সফরের পর, ভ্রমণার্থীরা ক্ষুধা অনুভব করতে পারেন। তাজমহলের কাছাকাছি অনেক খাদ্য সংস্থান আছে। বেশ কয়েকটি খাদ্য সংযোগস্থলের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে দ্য সিল্ক রুট রেস্তোঁরা, জোরবা দ্য বুদ্ধ, ওলিভ গার্ডেন ও ক্যাপরি রেস্তোঁরা।

আপনি যদি আগ্রায় বাসস্থানোপযোগী জায়গার জন্য সচেষ্ট হন, তাহলে তাজমহলের নিকটবর্তী থাকার জায়গাগুলিতে গিয়ে দেখতে পারেন। আগ্রা পরিদর্শনে গেলে যে সমস্ত নিকটবর্তী আকর্ষণীয় স্থানগুলি আপনার দর্শন করা অতি আবশ্যক; সেগুলি হল আগ্রা ফোর্ট, ফতেহপুর সিকরি, সিকন্দ্রা – আকবরের সমাধিস্থল, যমুনা নদী ও মথুরা শহর।

tajmahal-2

তাজমহলে যা করা যাবে সেগুলো নিম্নরূপ—

  • তাজমহল দক্ষিণ গেট দিয়ে ঢুকতে হবে। বেশি ভিড় থাকলে পশ্চিম ও পূর্ব গেট দিয়ে ঢুকতে হবে।
  • তাজমহল এরিয়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করতে হবে।
  • পরিচয় পত্র সংবলিত ফটোগ্রাফার ও গাইড ভাড়া করতে হবে।
  • তাজমহল সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
  • শব্দ ও বায়ু দূষণকারী যানবাহন তাজমহল এলাকার প্রবেশ নিষেধ।
  • ছবি তোলার ক্যামেরা নেয়া যাবে।
  • খাওয়াসপুরা গুলো পর্যটকদের জন্য পুনরায় চালু করা হয়েছে।

তাজমহলে যা করতে পারবেন না সেগুলো নিম্নরূপ-

  • খাবার, ধূমপান যে কোন প্রকার ইলেক্ট্রনিক জিনিস যেমনঃ হেডফোন, মোবাইল চার্জার নিষেধ এবং কোন অস্ত, ছুরি, আগুন উৎপন্নকারী জিনিস তাজমহলে বহন ও নিষেধ।
  • তাজমহলে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে।
  • তাজমহলে দেওয়াল এবং মেঝে স্পর্শ করা বা কোন আঘাত করা যাবে না।

    যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। তাই বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।

  • তাজমহলের ভেতরে বেশি শোরগোল করা যাবে না।
  • এই নিষেধ ছাড়াও রাতের তাজমহল দেখতে মোবাইল ফোন, ভিডিও ক্যামেরা ব্যাবহার করা নিষেধ।
  • বায়ু দূষণকারী যানবাহন তাজমহলের কাছে আসা নিষিদ্ধ। তাই, পর্যটকদের গাড়ি রাখার স্থান থেকে পায়ে হেঁটে অথবা বৈদ্যুতিক বাসে করে তাজমহলে আসতে হয়।

tajmahal-3

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন

· ১৬-ই জুন, ২০১৫ থেকে তাজমহল, বি.এস.এন.এল-এর রাষ্ট্র পরিচালিত টেলিকম অপারেটরের, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই প্রদান করার কথা। তারা ভবনটির মধ্যে ২১-টি হটস্পট স্থাপন করেছে যা পর্যটকদের বিনামূল্যে ৩০ মিনিট ব্যবহারের সুবিধা দিবে, তারপর তারা যদি পরিষেবাটির ব্যবহার চালিয়ে যেতে চান তাহলে তাদেরকে ভাউচার কিনতে হবে।

· ২৬-শে ডিসেম্বর, ২০১৪ থেকে আগ্রার তাজমহল ও দিল্লীর হুমায়ূনের সমাধিতে প্রবেশের টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে উপলব্ধতাও চালু হয়েছে। এছাড়াও দেশ ও বিদেশ উভয়ই, পরিদর্শনকারী পর্যটকদের জন্য 24X7 হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। এই হেল্পলাইনটি উপলব্ধতা পেতে, ল্যান্ডলাইন ফোন থেকে 1363 এবং মোবাইল ফোন থেকে 1800111363 ডায়াল করতে পারেন। হেল্পলাইনটি ইতিমধ্যেই হিন্দি ও ইংরাজীতে উপলব্ধ রয়েছে এবং শীঘ্রই জার্মান, রাশিয়ান, ফরাসি এবং স্প্যানিশ সহ 10-টি ভাষায় উপলব্ধ করা হবে। অতুলনীয় ভারত ক্যালেন্ডার 2015 অনুযায়ী, নয়টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত বিদেশী পর্যটকদের ‘স্বাগতম কার্ড’ উপলব্ধ করা হবে। ইতিমধ্যেই আগমনের উপর (TVOA) পর্যটন ভিসার প্রথম পর্ব চালু হয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এই ব্যবস্থা বিদেশ থেকে ভ্রমণার্থীদের নিরাপত্তা উদ্বেগের সুরাহা হবে বলে আশা করা যায়, যা ভারতে ভ্রমণকে আরোও সুবিধাজনক করে তুলবে এবং পর্যটন ক্ষেত্রেরও উন্নতিসাধন করবে।

নির্মাণের পর থেকেই তাজমহল বহু পর্যটককে আকর্ষিত করেছে। তৎকালীন নির্মাণ খরচ অনুমান করা কঠিন ও কিছু সমস্যার কারণে তাজমহল নির্মাণে কত খরচ হয়েছিল তার হিসাবে কিছুটা হেরফের দেখা যায়। তাজমহল নির্মাণে তৎকালীন আনুমানিক ৩২ মিলিয়ন রুপি খরচ হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকের খরচ, নির্মাণে যে সময় লেগেছে এবং ভিন্ন অর্থনৈতিক যুগের কারণে এর মূল্য অনেক, একে অমূল্য বলা হয়।

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj lives with deep passion of in psychology. She have expertise in behavior and mind, embracing all aspects of conscious and unconscious experience as well as thought.
Beside she loves music and read lots of books.
Shaila Shahanaj

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY