প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্নে ১০টি টিপস

0
3308
প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্নে ১০টি টিপস
5 (100%) 1 vote

ধুলো ময়লা, আবহাওয়া, রোদ এবং সঠিক যত্নের অভাবে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। চুলের ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। আপনি যদি সঠিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে পারেন, তাহলে সহজেই যেকোন সমস্যা থেকে আপনি মুক্ত থাকতে পারবেন। যেমনঃ- খুশকি, মাথার তালুর ইনফেকশন, চুল পড়া, চুলের অকাল পক্কতা ইত্যাদি। নিচে টিপস গুলো যদি আপনি ফলো করতে পারেন, তাহলে আপনার চুল ও মাথার তালু হবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান।

  • ১। রসুনঃ
    রসুনের রস চুল পড়া কমায়, মাথার ত্বকের ইনফেকশন ও খুশকি দূর করে। এমনকি এটি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের মতো করে চুলে ও মাথার তালুতে রসুনের রস লাগালে অনেক দ্রুত আপনার মাথায় নতুন চুল গজাবে।
    কারণ রসুনের রসে প্রচুর পরিমাণে এলিসিন থাকে। এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রসুনে প্রচুর পরিমাণে কপার রয়েছে, যা চুলকে ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তোলে।

    পদ্ধতিঃ
    প্রথমে রসুন পেস্ট করে এর রস বের করে নিন। একটি এয়ার টাইট বোতলে এই রস সংরক্ষণ করতে পারেন। যাতে যখন প্রয়োজন তখন তেলের মতো করে এই রস চুলে ব্যবহার করতে পারেন।
    যাদের চুল শুষ্ক তারা গোলাপজলের পানিতে চুল আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। গোলাপ জল চুলের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে। এবার ভালো করে চুলে ও মাথার তালুতে রসুনের রস লাগান।
    রসুনের রস লাগানোর পর আধাঘণ্টা রেখে দিন। এবার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন। হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এরপর চুলে ভালো করে মাইল্ড শ্যাম্পু লাগান। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ১৫ মিনিট পর কন্ডিশনার লাগিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

  • ২। ডিমঃ
    সবচেয়ে সহজতর এবং কম সময়ে ফল পাবার জন্য ডিম হতে পারে আপনার চুল ঘন করার উপাদান। ডিম হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রোটিন, যা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করে। এর ভিটামিন চুলের গোড়ায় পৌঁছে পুষ্টি যোগায়, চুলের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দিতে চমৎকার কাজ করে। একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিষ্কার চুলে সরাসরি হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লাগাতে হবে। ডিম দিতে গেলে অনেকে চুল জট বেঁধে এলোমেলো হয়ে যায় বলে এড়িয়ে যান। চুলে ডিমের সাদা অংশ লাগানোর পর একটি মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে সাবধানে চুল আঁচড়ে নিন। তারপর হালকা ঝুটি করে নিন বা শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ২০-৩০ মিনিট রেখে নরমাল পানিতে চুল ধুয়ে নিন এবং শ্যাম্পু করুন। যেদিন ডিম দেবেন সেদিন আর আলাদা করে কন্ডিশনার দেবার প্রয়োজন হবেনা। প্রতি ৭ দিনে ১ বার করুন দেখবেন চুল ঘন হওয়ার সাথে সাথে আসবে বাউন্স।
  • ৩। তেলঃ
    চুলের যত্নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় তেল। আর এই তেল-ই হতে পারে আপনার চুল ঘন করার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায়। চুলের তেল বলতে সাধারণত সবাই নারিকেল তেল কে বুঝে থাকেন। তবে চুল ঘন করার এবং যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে তারা এই তেলের মিশ্রণ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। আমাদের দেশে এই তেল গুলো সবচেয়ে সহজলভ্য –
    ০১. আমণ্ড অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল
    ০২. তিলের তেল ও সরিষার তেল
    ০৩. অলিভ অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল
    রাতে ঘুমানোর আগে এই তেলের মিশ্রণ হালকা গরম করে নিয়ে মাথার তালুতে ভালো ভাবে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। চুলের প্রতিটি গোড়ায় যেন তেল পৌঁছায় সেজন্য একটু সময় নিয়ে আস্তে আস্তে পুরো চুল আর তালুতে তেল দিয়ে নিতে হবে। সারা রাত রাখা সম্ভব না হলে গোসলের ১ ঘণ্টা আগে চুলে তেল দিয়ে তারপর শ্যাম্পু করে নিতে হবে। সপ্তাহে ২ বার যদি এটা করা যায়, ১ মাসের মধ্যেই চুল পাতলা ভাব কমে আসবে, চুল পড়া বন্ধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

  • ৪। অ্যালোভেরাঃ
    অ্যালোভেরার জেল বের করে নিন, ৪ চামচ মধুর সাথে মিক্স করে সরাসরি চুলে এবং মাথার তালুতে লাগিয়ে ফেলুন। চাইলে এর সাথে কোনও ট্রিটমেন্ট ক্রিমও যোগ করতে পারেন। চুল ঘন করার সাথে সাথে এটি আপনার চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করবে।
  • hair-2

  • ৫। মধুঃ
    মধু আপনার চুলের পুষ্টির একটি মূল্যবান উৎস। চাইলে শুধু মধুও ব্যবহার করতে পারেন। মাথার ত্বকের জন্য খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে মধু। তবে চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধু খুবই আঠালো, সে জন্য খুব অল্প পরিমাণে (৪-৫ চামচ এর বেশি না) মধু নিয়ে তা মাথার তালুতে ব্যবহার করুন। তারপর চুল আটকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। খেয়াল রাখুন যেন প্রতিটি চুলের গোড়ায় একটু হলেও মধু পৌঁছায়। সবশেষে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মধু, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ সরবরাহ আপনার চুল revitalizing এবং প্রতিটি Strand শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। যা চুলকে ঘন এবং বাউন্সি করে।
  • ৬। পেঁয়াজঃ
    যেসব জায়গায় চুল বেশি পাতলা, পেঁয়াজ কেটে ঘষলে সেই অঞ্চলের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে তা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনার হেয়ার ফলিকল এর কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে নিয়মিত ব্যবহারে তা সারিয়ে তোলে। যাদের চুল পাতলা তারা সপ্তাহে ২-৩ দিন ১০-১২ মিনিটের জন্য মাথার তালুতে পেঁয়াজ ঘষে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যেই ফল পাবেন।
  • ৭। ক্যাপসিকামঃ
    শুনতে কিছুটা অন্যরকম মনে হলেও ক্যাপসিকাম চুল ঘন করার জন্য খুবই কার্যকর। ফুটন্ত পানিতে একটি ক্যাপসিকাম ছেড়ে দিন, ৭ মিনিটের জন্য। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন পানিটি ঠাণ্ডা হবার জন্য। চুল শ্যাম্পু করার পর এই টনিকের মতো মাথায়ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ফলাফল পাবার জন্য এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত করতে হবে সপ্তাহে ২ দিন। ১ মাস এর মধ্যে চুল এর পাতলা ভাব অনেকটাই কমে আসবে।
  • ৮। মেহেদীঃ
    চুলের যত্নে মেহেদি প্রায় প্রতিটি মানুষই ব্যবহার করে থাকেন। আগের দিনে চুলের যত্নে বা চুলের রং করতে মেহেদিকে ব্যবহার করা হত। চুলের গোড়া মজবুত করা, চুলের রুক্ষতা দূর করা নতুন চুল গজানো থেকে শুরু করে চুলের নানা সম্যসা দূর করে থাকে মেহেদি। মেহেদি লাগিয়ে সাথে সাথে চুল ধুয়ে ফেলবেন না। কমপক্ষে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এতে মেহেদির রং চুলে ভালভাবে বসবে। তাই হাতে সময় নিয়ে চুলে মেহেদি লাগান। অনেকেই বলে মেহেদি চুল রুক্ষ করে থাকে। হ্যাঁ আপনার মাথার তালু রুক্ষ হলে মেহেদি চুল রুক্ষ করে তুলবে। তাই মেহেদির প্যাকের সাথে তেল, টকদই ব্যবহার করুন। কিংবা মেহেদি লাগিয়ে শ্যাম্পু করে মাথায় তেল লাগান।
  • ৯। সরিষার তেল ও মেহেদী পাতাঃ
    সাধারণত চুলে সরিষার তেল একেবারেই ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সরিষার তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তুলতে বিশেষ ভাবে কার্যকর একটি উপাদান, যা চুল পড়া রোধ করে দেবে একেবারে। এর পাশাপাশি মেহেদী পাতা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলেচুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় বেশ কয়েকগুন।

    পদ্ধতিঃ
    ২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এবার এতে ১ কাপ পরিমাণ মেহেদী তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। যখন দেখবেন মেহেদী পাতা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে তখন তা চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন। একটি এয়ার টাইটবোতলে এই তেল সংরক্ষণ করুন। এই তেল সপ্তাহে ৩ দিন চুলে লাগান। সব চাইতে ভালো ফল পাবেন সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে সকালে সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে।

  • ১০। ডিম ও অলিভ অয়েলঃ
    চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য ডিম ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা চুল পরা রোধ করে। এছাড়া ডিমে আরও রয়েছে সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়োডিন যা নতুন চুল গজাতে সাহায্যকরে চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।

    পদ্ধতিঃ
    একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল(জলপাই তেল) ও ১ চা চামচ মধু নিন (চুলের দৈর্ঘ্য ও পরিমাণ অনুযায়ী অলিভ অয়েল ও মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন)। তারপর উপকরণগুলো খুব ভালো করে মেশান। যখন এটি মসৃণপেস্টের আকার ধারন করবে তখন এত ব্যবহার উপযোগী হবে। মসৃণ পেস্টের মত হয়ে গেলে মাথার ত্বকে আলতো ঘষে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি ও পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভালো ফল পাবেন।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY