ব্যায়াম কেন করবেন

0
386
ব্যায়াম কেন করবেন
Rate this post

সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীর ফিট রাখা জরুরি। আর শরীর ফিট রাখতে ব্যায়াম করা দরকার। অনেকে হয়তো ভাবেন যে আমি তো সুস্থ ও ফিট আছি। আমার ব্যায়াম এর কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়। সেই সুস্থ্যতা ধরে রাখতেই নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম আপনার শারীরিক সমস্যা দূর করবে, আপনার শক্তি বাড়াবে এবং বেশি এনার্জি দিবে। এটি আপনাকে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতেও সহায়তা করবে।

ব্যায়াম করার সুফল

মানবদেহে নানা প্রকার গ্রন্থি রয়েছে। এসব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস পরিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে। এই গ্রন্থি গুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এগুলোকে সচল রাখতে ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের স্নায়ুগুলোর স্থল মেরুদন্ডে অবস্থিত বলে মানুষের জীবনীশক্তি অনেকাংশে মেরুদন্ডের সচল ও এর কর্মক্ষতার উপর নির্ভর করে। মেরুদন্ডে রক্ত চলাচল ঠিকমত হলে স্নায়ুগুলো সচল থাকে। মেরুদন্ডে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে স্নায়ুতন্ত্রগুলো দুর্বল হয়ে যায়। শরীর জরাগ্রস্ত হয়। তাই মেরুদন্ডে রক্ত চলাচল সচল ও অধিক কর্মক্ষম রেখে অনেকদিন সুস্থ থাকতে প্রয়োজন হয় ব্যায়াম এর।

  • নানা রোগের ঝুঁকি কমায় – ব্যায়াম আপনার হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদির ঝুঁকি কমায়।
  • হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্ট এর শক্তি বৃদ্ধি করে- শুধু বয়স্ক লোকদেরই নয় আজকাল সব বয়সী মানুষের কমবেশি হাড়ের সমস্যা হয়। আর সঠিক হাড়ের ব্যায়াম এই সমস্যা থেকে অনেকাংশে মুক্তি দিবে আপনাকে।
  • বার্ধক্যের প্রভাব কমায়- হতে পারে আপনার বয়স হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন আপনার বার্ধক্য কালীন বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
  • চিন্তা এবং উদ্বেগ উপশম করতে সাহায্য করে- ব্যায়াম আপনার মন কে ফ্রেশ এবং মাথা ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে ফলে আপনার চিন্তা এবং উদ্বেগ অনেকটা উপশম হয়।
  • সুনিদ্রা আনে- যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী। ব্যায়াম অনিদ্রা দূর করে, অতি নিদ্রা হ্রাস করে। নিয়মিত যিনি শরীরচর্চা করেন তার ঘুম আসার কোনো সমস্যা হয় না এবং গভীর ঘুম হয়। অবশ্য একেবারে ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করা উচিত নয়। কারণ ব্যায়ামের পরে মানসিক চাঙ্গা ভাবের কারণে ঘুম আসা বিলম্বিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রত্যুষে ব্যায়াম করা উপকারী।
  • আপনার স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে- যাদের ওজন বাড়তি, তাদের ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। বাড়তি ওজন মানেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিংবা ক্যান্সারের ঝুঁকি। শারীরিক পরিশ্রম করলে ক্যালরি খরচ হয়। যত বেশি ক্যালরি খরচ করা যাবে, শরীরের ওজন তত নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর জন্য যে প্রতিদিন প্রচুর সময় দিতে হবে তা কিন্তু নয়। কাজের ফাকেই আমরা কাজটি সেরে ফেলতে পারি। লিফট দিয়ে না উঠে আমরা সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারি, টিভি দেখার পরিবর্তে আধ ঘণ্টা হাঁটতে পারি, অফিস যাওয়ার সময় হেঁটে যেতে কিংবা হেঁটে বাসায় ফিরতে পারি, এভাবে আমরা যতই শারীরিক পরিশ্রম করব ততই আমাদের ক্যালরি খরচ বাড়বে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • কর্মস্পৃহা বাড়ায়- ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার ফলে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অতিরিক্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়। আমাদের হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালী সচল থাকে। এর ফলে পুরো শরীরে একটি প্রাণস্পন্দন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এটি আমাদের কর্মস্পৃহা বাড়ায়, কাজ-কর্মে ও লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

why-exer-2

ব্যায়াম এর কিছু নিয়ম-কানুন

সব কাজেরই কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। সেগুলো মেনে চললে বিপত্তি ঘটার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। আবার সামান্য অনিয়মে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। শরীর ফিট রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম একটি ভালো অভ্যাস। ব্যায়ামেরও রয়েছে কিছু নিয়মকানুন কিন্তু আমরা অনেকেই সেগুলো ঠিকভাবে জানি না। আবার জানলেও তা মানি না। কিন্তু নিজেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে হলে ব্যায়াম করার নিয়মগুলো ভালোভাবে জানতে হবে এবং মেনে চলারও চেষ্টা করতে হবে। এখানে বলা হলো ব্যায়াম শুরুর এমন কিছু কথা, যা জানাটা জরুরি।

  • ভরা পেটে ব্যায়াম একদমই করবেন না। তবে খুব বেশি খিদে পেলে ব্যায়াম শুরুর আগে টোস্ট বা আপেলের মতো হালকা কিছু খেতে পারেন।
  • শুরুতেই অনেক সময় ধরে অনেক ভারী ব্যায়াম করবেন না। প্রথমে হালকা ব্যায়াম কম সময় ধরে করুন। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ান।
  • জোরে হাঁটা, জগিং বা পায়ের ওপর চাপ পড়বে এমন ধরনের ভারী ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই ভালো ট্রেনিং শু পরবেন। তা না হলে পায়ের সন্ধি বা কোষগুলোতে চাপ পড়ে তো ব্যাথা করবেই, সাথে সাথে পিঠেও ব্যাথা হতে পারে।
  • ব্যায়াম করার সময় নিঃশ্বাস স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কখনও খুব কষ্ট করে নিঃশ্বাস নেবেন না। ভালোভাবে নিঃশ্বাস যেন নিতে পারেন এমন করেই ব্যায়াম করবেন।
  • ব্যায়াম করার সময় শারীরিক কষ্ট হওয়া মাত্র ব্যায়াম থামিয়ে দেবেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ বা প্রসিক্ষক এর পরামর্শ নিন।
  • খুব টাইট পোশাক পরে ব্যায়াম করা ঠিক না। টাইট পোশাক পরলে আপনার করা ভঙ্গিমা কোথাও বাধা পেতে পারে।
  • যে ব্যায়ামই করুন না কেন, শুরুতেই সামান্য ওয়ার্ম আপ অবশ্যই করবেন। না হলে পেশি ও লিগামেন্টে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।

কখন ব্যায়াম করবেন?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ঘুমের পর সকালে ব্যায়াম সারা দিন ফুরফুরে রাখতে পারে। এ ছাড়া সন্ধ্যার আগে বিকেলটাও ব্যায়াম করার জন্য উপযুক্ত সময়। যেহেতু ব্যায়াম করলে শরীরের ঘাম ঝরে, তাই নরম আবহাওয়াতেই ব্যায়াম করা ভালো। দুপুরবেলা বা বেশি গরমে ব্যায়াম করলে সহজেই ক্লান্ত মনে হতে পারে। তাই এ সময়ে ব্যায়াম না করাই ভালো। অনেকে ব্যস্ততার জন্য সারা দিন সময় করে উঠতে পারেন না, তাঁরা রাতে ব্যায়াম করেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। যাঁরা সারা দিন বাসায় থাকেন, তাঁরা চাইলে যেকোনো সময় ব্যায়াম করতে পারেন। যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁরা বেশি দিনের অবসর কাটালে বা কোথাও ঘুরতে গেলে খাবারের দিকে নজর রাখা উচিত। আর বেশি দিন থাকার পরিকল্পনা করলে সুযোগ থাকলে টুকটাক ব্যায়াম করা যেতে পারে।

ব্যায়াম কি সবাই করতে পারে?

জি। কম বেশি সকলেই ব্যায়াম করতে পারে। সকলকেই প্রথমে অল্প ব্যায়াম দিয়ে শুরু করতে হয় তারপর আস্তে আস্তে তা বাড়াতে হয়। কিন্তু যদি আপনার কোন হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টের মত সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন যে কোন ব্যায়াম করার আগে।

ব্যায়াম কতক্ষণ করতে হবে?

যারা নতুন ব্যায়াম শুরু করতে চাচ্ছেন তারা প্রথমেই খুব ভারি ব্যায়াম দিয়ে শুরু করবেন না। প্রথম সপ্তাহে খুব কম সময় করে হাল্কা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করতে হবে। কম সময় এর ব্যায়াম সাধারণত ২০ মিনিট করা যেতে পারে। যখন আপনার শরীর এতে অভ্যস্ত হয়ে পরবে তখন আপনি সময় ও ব্যায়াম দুটোই বাড়িয়ে দিতে পারবেন।

স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে কি আমার অনেক কষ্ট করতে হবে?

অনেকেই প্রশ্ন করে যে, ব্যায়াম করে স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে তাদের খুব কষ্ট করতে হবে কিনা। উত্তর হলো, না। মানুষ যতটা ভাবে ততটা কষ্টদায়ক না। আস্তে আস্তে করে চেষ্টা করুন যত দিন না স্বাভাবিক হচ্ছেন। হ্যাঁ একটু সময় বেশি লাগবে। হোক না, একবারে না করার চেয়ে একটু একটু করে করা ভাল। একবার স্বাভাবিক হয়ে গেলে তখন আর কোন কষ্ট মনে হবে না। একবার নিজেই পরিক্ষা করে দেখুন না।

why-exer-3

আপনার অগ্রগতির হিসাব রাখুন

ব্যায়াম তো শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু জানতে চাওয়া হোক কতটুক পরিবর্তন পেয়েছেন ।বলতে পারছেন না। হ্যাঁ এমনটাই হয়। অনেকেই তাঁর অগ্রগতির হিসাব রাখে না শুধু ব্যায়াম করেই যায়। তাই যেদিন থেকে ব্যায়াম শুরু করেছেন সেদিন এর আপনার শারীরিক অবস্থা এবং ১ সপ্তাহ বা ১ মাস পর কি অবস্থা তা পরিমাপ করুন। যদি অগ্রগতি লক্ষ্য করেন তাহলে আপনি ঠিক পথে এগুচ্ছেন কিন্তু যদি কোন উন্নতি না পান তাহলে আপনার ব্যায়াম এর ধরন পরিবর্তন করুন। আপনি যদি হিসাব না রাখেন তাহলে আপনার ভুল ত্রুটি শুধরাতে পারবেন না। তাই হিসাব রাখা তা খুবই জরুরি।

সর্বশেষে মনে রাখবেন

  • সকালে ব্যায়াম করতে গিয়ে অনেকে ব্যায়াম শেষে ভরপেট খেয়ে ফেলবেন না। এতে ব্যায়ামের কোনো উপকারিতা থাকে না ।
  • ব্যায়াম করার আগে বা পরপরই বেশি পরিমাণে পানি খাওয়া ঠিক নয়। ব্যায়ামের পর একটু বিশ্রাম নিয়ে তারপর পানি খেতে পারেন।
  • খাবারের মেন্যু থেকে যতটা সম্ভব মিষ্টি, কোমলপানীয়, ফাস্টফুড ইত্যাদি খাবার বাদ রাখাই ভালো। কারণ, এসব খাবার খেলে আপনার ব্যায়াম করা বৃথা হয়ে পড়বে।
  • নিজে অসুস্থ থাকলে ব্যায়াম করার দরকার নেই। বিশেষ করে গর্ভকালীন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যায়াম করা উচিত নয়।
  • যেকোনো ধরনের ব্যায়াম বা ডায়েট পরিকল্পনার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারগুলো জেনে আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন কীভাবে সঠিক ব্যায়াম করতে হয়। তাই আর দেরি না করে এখন থেকেই নিজেকে আরও আর্কষণীয় ও নজরকাড়া সৌন্দর্যের অধিকারী করতে আজ থেকেই শুরু করুন শরীর সুস্থ রাখার গুরুত্বপূর্ন ব্যায়াম।

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
Jannatul Jarin

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY