ভালোবাসার বন্ধন অটুট ও দৃঢ় রাখুন

0
313
ভালোবাসার বন্ধন অটুট ও দৃঢ় রাখুন
5 (100%) 1 vote

নতুন একটি সম্পর্কে জড়ানোর পর কিছুদিন সব কিছুই খুব ভালো লাগে। কিন্তু সেই সম্পর্কটিই কিছুদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেই যেন সব কিছু খুব ফিকে হয়ে ওঠা শুরু করে। নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি-মনোমালিন্যের পাশাপাশি পুরোনো রোমান্টিক অভ্যাস গুলোও হারিয়ে যেতে থাকে। ফলে দুজনের মধ্যে সৃষ্টি হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব। সম্পর্ককে তাজা রাখার জন্য দরকার কিছু অভ্যাস। আর সেই অভ্যাস রপ্ত করতে হয় দুজনকেই। দুজনে মিলে সম্পর্ককে তাজা রাখার চেষ্টা করলে কখোনোই পুরোনো হবে না সম্পর্ক। সম্পর্কটি প্রেমের হোক বা দাম্পত্য, যে কোন ক্ষেত্রেই ভালবাসা টিকিয়ে রাখার একটি ব্যাপার আছে। জীবনের প্রতি ধাপে নাটকীয়তার কোন প্রয়োজন নেই। বরং সাধারণ জিনিসেই অটুট থাকে ভালোবাসার বন্ধন। জীবনের প্রতি ধাপে ভালোবাসাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন- সততা, পারস্পরিক বিশ্বাস,একে-অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। এসব সাধারণ জিনিসেই অটুট থাকে ভালোবাসার বন্ধন। জেনে নিন, ভালোবাসার বন্ধন অটুট ও দৃঢ় রাখার উপায়।

  • * শ্রদ্ধাবোধ
    স্বামী-স্ত্রী বা ভালোবাসার সম্পর্ক– যে কোনো সম্পর্কেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায়৷ তাই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা আরো জরুরি৷ কোনো ব্যাপরে দ্বিমত থাকতেই পারে, সেক্ষেত্রে একে অপরকে কষ্ট না দিয়ে বা ছোট না করে আপনার কথা খুলে বলুন৷ কারণ ভালোবাসার মানুষকে অপমান বা কষ্ট দিলে সম্পর্কে আস্তে আস্তে চিড় ধরতে শুরু করে৷
  • * ঘরের পরিবেশকে জীবন্ত করে তুলুন
    একজন অন্যজনকে দোষ না দিয়ে দৈনন্দিন জীবনে খানিকটা পরিবর্তন আনুন৷ অর্থাৎ ঘরের পরিবেশকে বন্ধুত্বপূর্ণ করুন৷ ঘরকে একটু অন্যভাবে সাজান, ফুল রাখুন, কাছের বন্ধুদের ডেকে আড্ডা দিন বা গান শুনুন৷ নিজে সুন্দর জামা-কাপড় পরে ফিটফাট থাকুন৷ সোজা কথা – বাড়ির দৈনন্দিন পরিবেশকে জীবন্ত করে তুলতে পারলে, সেটাই হতে পারে ভালোবাসার মন্ত্র, সংসারে শান্তির চাবিকাঠি৷
  • * যে আচরণের পরিবর্তন সম্ভব
    অনেক সময় রাগের মাথায় বহু দম্পতিকেই একে অপরের ভুল-ত্রুটি বা দোষ বড় করে তুলে ধরতে দেখা যায়৷ কিন্তু সুখি দাম্পত্যজীবনের জন্য সেটা না করে বরং ভালো সময়ে বা সময় বুঝে ঠান্ডা মাথায় আপনার সঙ্গিটিকে বলুন, তাঁর কোন আচরণগুলো আপনাকে কষ্ট দেয়৷ দেখবেন একটু সতর্ক হয়ে চেষ্টা করলেই আস্তে আস্তে এ রকম আচরণ কমে যাবে৷
  • somporko-4

  • * যখন অসহ্য হয়ে ওঠে
    দাম্পত্যজীবনে প্রায়ই ছোটখাটো ঝগড়া হয়৷ অথবা পরিস্থিতির চাপে অনেকেই তাঁর পছন্দের মানুষটিকে কটুকথা বলে ফেলে বা তাঁর প্রতি খারাপ আচরণ করে ফেলে, যা আপনার সঙ্গীকে আহত করতে পারে৷ অথচ এই আচরণের পিছনে হয়ত আপনার ছোটবেলার কোনো ঘটনা জড়িত৷ সেক্ষেত্রে বিষয়টা নিয়ে দু’জনে আলোচনা করুন এবং এ রকম আচরণের কারণ খুঁজে বের করুন৷ দেখবেন আগামীতে অনেক বেশি সচেতন আচরণ করছেন৷
  • * অতিরিক্ত আশা করবেন না
    ‘সত্যিকার ভালোবাসা’ আশা করে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে সব কিছুই যে মিলে যাবে, এমনটা আশা করবেন না। এক্ষেত্রে ভালোবাসা মানেই আপনার সঙ্গীর সঙ্গে রাজনীতি, খাবার, অর্থ, সন্তান ইত্যাদি মতামত মিলে যাবে, এমনটা অসম্ভব বিষয়। তার বদলে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে যত বেশি পার্থক্য হবে ততই আগ্রহউদ্দীপক হবে আপনার জীবন, এমনটাই মনে করবেন। আপনার সঙ্গীর নানা বিষয়ে মতামত ও চিন্তাভাবনা বোঝার চেষ্টা করুন। তাকে পরিবর্তনের চেষ্টার চেয়ে এটা ভালো পদ্ধতি।
  • * মানুষ মাত্রই ভুল করে
    কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, আর এ বিষয়টি মেনে নিয়েই আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। সামান্য ভুল হলেই সবকিছু যে ভণ্ডুল হয়ে যাবে এমন মনোভাব বাদ দিন। বিশেষ করে আমাদের ভালোবাসার জীবনে সব কিছুই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজন।
  • * ‘কেন?’ জিজ্ঞাসা করার আগে জেনে নিন
    প্রত্যেকের মানসিকতাতেই ভালো ও মন্দ উভয় বিষয়ই থাকে। কিন্তু এজন্য প্রত্যেক বিষয় নিয়ে তর্ক করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনার সঙ্গীর কোনো বিষয় নিয়ে আপনার মনে প্রশ্নের উদয় হলে কিংবা কোনো বিষয়ে বিরক্ত হলে তার ব্যাখ্যাটা ঠাণ্ডা মাথায় বন্ধুসুলভ উপায়ে জেনে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ভবিষ্যৎ ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।
  • * জীবন উপভোগ করুন
    আমাদের সময় সীমিত আর এ সময়েই জীবন উপভোগ করে নিতে হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সংসার গড়া, সন্তান নেওয়া ও অন্যান্য কাজ শেষ করার একটা তাগিদ থাকতে হবে। থাকতে হবে সঙ্গীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে একটা সুন্দর জীবন গড়ে তোলার লক্ষ্য।
  • * সবকিছু ভুলে একটু হেসে নিন
    একটা ভালো হাসি ভালোবাসার ওষুধের মতোই কাজ করে। আর এ ওষুধ ম্যাজিকের মতো কাজ করবে আপনার ভালোবাসা বাড়িয়ে তুলতে। এজন্য অবশ্য অন্য সব সমস্যা ভুলে গিয়ে দুজনকেই হাসতে হবে একত্রে।
  • * চুপ করে কথা শুনুন
    কোনো একটি বিষয় বা পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, আপনার সঙ্গীকে কথা বলার একটি সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে তার পক্ষের যুক্তিটি বোঝা সম্ভব হবে। আদালতে অত্যন্ত গর্হিত অপরাধীরও কথা শোনা হয়।
  • somporko-1

  • * শুধু দুজনে সময় কাটান
    পরিবারের সদস্য, সন্তান কিংবা বাবা-মা আপনার আশপাশে অনেকেই থাকতে পারে। কিন্তু আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য সবাইকে বাদ দিয়ে শুধু দুজনের কিছু সময় কাটানোর প্রয়োজন আছে।
  • * সঙ্গীর পরিবারকে মূল্য দিন
    আপনার শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজনকে মূল্য দেওয়া সম্পর্ক ঠিক রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। তাদের বিপদে আপনার সহানুভূতির প্রয়োজন আছে। এতে আপনার সঙ্গীও সম্মানিত বোধ করবে।
  • * গোপন অনুসন্ধান করবেন না
    আপনার সঙ্গীর সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, ইমেইল ইত্যাদিতে গোপনে হানা দেবেন না। এতে পরস্পরের বিশ্বাস নষ্ট হয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে তার সঙ্গে আলোচনা করাই যথেষ্ট। এজন্য প্রমাণ খোঁজার দরকার নেই।
  • * মেনে নিতে হবে
    প্রত্যেকেরই ভালোবাসার জীবনে নানা সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা যেমন থাকে, পাশাপাশি থাকে সম্ভাবনাও। তাই সমস্যা মেনে নিতে হবে।
  • * নিষ্ঠুর হবেন না
    সঙ্গীকে মূল্য দিন। তার প্রতি অবমাননাকর কথা বলবেন না। দেখা গেছে, যারা সঙ্গীকে হেয় করে কথা বলে, তাকে অবজ্ঞা বা অবমাননা করে তাদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
  • * নতুন ধারণা তৈরি করুন
    সম্পর্ক শুরুর পর একে আর শুরু, মধ্যপর্যায় কিংবা শেষ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করবেন না। তার বদলে এখানে বিভিন্ন ঋতুর প্রচলন করুন। একে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ইত্যাদি ঋতুর মতোই সংজ্ঞায়িত করুন। ভালোবাসার বিভিন্ন ঋতু আসতে পারে বলে ধরে নিন।
  • * পরিবর্তন মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন
    প্রত্যেক মানুষই গতিশীল। তাদের মনোজগতে প্রতিনিয়ত নানা পরিবর্তন হয়। ভালোবাসা এক সময় পরিণীতি লাভ করে। এ বিষয়টি মেনে নিয়ে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। একে মেনে নিন।
  • * শুধু নিজেকে পরিবর্তিত করুন
    আপনি অন্য একজন মানুষকে ভালোবেসেছেন। এক্ষেত্রে তার সবকিছু আপনার জানা আছে, এমনটাই ধরা যায়। তাই তাকে পরিবর্তিত করার চেষ্টা অমুলক। কাউকে পরিবর্তিত করার আগে নিজের পরিবর্তনই সবার আগে প্রয়োজন।
  • somporko-2

  • * ভালো-মন্দ চিন্তা বাদ দিন
    আপনার সম্পর্কের মাঝে কোনো ঝগড়ার স্থান রাখবেন না। এজন্য উভয়ের বোঝাবুঝি ও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ থাকতে হবে।
  • * ভুল স্বীকার করুন
    আপনি নিজে কোনো ভুল করলে সে ভুলের দায় স্বীকার করুন। আপনার সঙ্গীও বিষয়টি বুঝবে। এতে একে অন্যের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও কাছাকাছি হবে।
  • * সমস্যার মূলোৎপাটন করুন
    সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। সমস্যা আসবেই। কোনো একটি সমস্যা হলে তার উৎপত্তি নিয়ে উভয়ে আলোচনা করুন। এতে সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
  • * যত্ন করে রাখুন
    ভালোলাগা থেকেই তো ‘ভালোবাসার’ জন্ম৷ আর ভালো ও সুস্থ থাকতে চাইলে চাই ভালোবাসা ও তার যত্ন৷ ভুল বোঝাবুঝি বা অতি আবেগী না হয়ে বাস্তববাদী হলে ‘ভালোবাসা’ সহজেই জায়গা পাবে৷ দু’জনের মধ্যে সম্পর্কও হবে মধুময়৷
  • * বন্ধুত্বপূর্ণ আচরন করুন
    সম্পর্কের বুনোট গাঁথুন বন্ধুত্ব দিয়ে। পরস্পরের সাথে মন খুলে কথা বলুন, একসাথে শখের কাজ করুন, পরস্পরের কমন পছন্দের কাজগুলো দিয়ে আনন্দে ভরিয়ে রাখুন জীবন।
  • * তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ
    নিজেদের সম্পর্কে কখনো তৃতীয় ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেবেন না। কখনো অন্য কারো কথায় নিজের সঙ্গীর সাথে ঝগড়া বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে দেবেন না, সে যত আপন মানুষই হোক না কেন।

হাত ধরা, আলিঙ্গন সম্পর্ককে সজীব রাখতে হাত ধরা কিংবা আলিঙ্গন করার কোনও তুলনা নেই। জীবনের পথে ভালোবাসার মানুষটির হাত শক্ত করে ধরে রাখুন সবসময়। সমস্যা যতই প্রবল হোক, তাকে বোঝান যে আপনি সব সময় পাশেই আছেন। কোথাও গেলে জনসম্মুখে হাত ধরতেও লজ্জা করবেন না। এভাবেই আপনি আপনার ভালোবাসার সম্পর্ক অটুট রাখতে পারেন।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY