ভালো রাঁধুনি হতে করনীয়

0
702
ভালো রাঁধুনি হতে করনীয়
Rate this post

অনেকে আছেন যাঁরা মজার মজার খাবার খেতে চান৷ কিন্তু সেটা কীভাবে তৈরি করতে হয় তা জানেন না বা জানলেও পারেন না৷ মানুষ কি মুখবিকৃতি করে যখন আপনার রান্না করার পালা থাকে। আপনি কি রান্নাঘরে আশাহীন থাকেন যে আপনার রান্না ভালো হবে না। তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যই। নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করুন এবং দেখুন পরবর্তী সময় মানুষ কি বলে।

পদ্ধতি-১

আপনার পছন্দ কে সম্প্রসারিত করুন

মানুষের কথা ভাব্বেন না কখনো আগে দেখুন আপনি কি চান, আপনার পছন্দ কি। সেটিকে সম্প্রসারিত করুন।

আপনার রান্নার স্টাইল পরিবর্তন করুন

আপনি সবসময় যেভাবে রান্না করে থাকেন সেই স্টাইল পরিবর্তন করুন। বিভিন্ন রেসিপি ফলো করুন। একটা ভালো না হলে আরেকটা চেষ্টা করুন। যেভাবে যেটা করতে বলা হয়েছে সেটাই করুন। আস্তে আস্তে রান্নার স্টাইল পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং রান্না ও হয়ে উঠবে সুস্বাদু।

স্থানীয় লাইব্রেরি গুলো পরিদর্শন করুন

লাইব্রেরি তে অনেক রান্নার বই পাওয়া যায়। সেখান থেকে আপনার পছন্দ স্বরূপ বই বাছাই করুন এবং সেটা সাথে করে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন প্রথমেই জটিল রেসিপি দিয়ে শুরু করবেন না। সহজ রেসিপি দিয়ে শুরু করুন। আস্তে আস্তে এগুবেন। শুরুতেই কঠীন রান্না দিয়ে শুরু করলে রান্না খুব জটিল মনে হবে। এই ধরনের বই গুলো থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। যখন রান্নার বইটি পরবেন, খেয়াল রাখবেন রান্নার উপকরন গুলো কি, কতটুক উপকরন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রান্নার প্রণালী কি।

ইন্টারনেটে বিনামূল্যে রেসিপি গুলো দেখুন

এখন অনেক ওয়েব সাইট তৈরি হয়েছে যেখানে রান্নার প্রণালী গুলো ছবি সহ সুন্দর ভাবে বর্ননা করা থাকে। এই ওয়েব সাইট এর মাধ্যমে খুব সহজের অনেক রেসিপি পাবেন আর খরচ ও হবে না। এতে আপনি অনেক রেসিপি সংগ্রহ করতে পারবেন আর অন্যদের লেখা রেসিপি এবং মানুষ কি মন্তব্য করছে তা থেকে জানতে ও শিখতে পারবেন। এছাড়া ও রান্না নিয়ে যারা ব্লগ লিখে তাদের ব্লগ গুলো পরুন কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই আছে যাদের আপনার মতই রান্না পছন্দ। তারা সেগুলো সম্পর্কে অনেক কিছু লিখেন। সবচেয়ে ভালো হয় আপনিও তাদের রেসিপি গুলোতে আপনার কমেন্ট শেয়ার করলে। আপনি ও অনেক কিছু জানলেন আবার কিছু ভুল থাকলে তারা সুধরেও দিতে পারে।

রান্নার প্রোগ্রাম গুলো টিভিতে দেখুন

আমাদের দেশে কম বেশি সব চ্যানেল এই রান্নার প্রোগ্রাম দেখায়। সময় পেলেই দেখার চেষ্টা করুন। ঐ প্রোগ্রাম গুলোতে সুন্দর ভাবে ধাপে ধাপে সরাসরি রান্না করে দেখায়। সেগুলো দেখুন। অনেক কিছু জানতে পারবেন। অনেক শো তে সরাসরি কল করেও কথা বলা যায়। যদি কোন ধরনের কনফিউশন থাকে এরকম সুযোগ থাকলে ফোন দিয়ে জানার চেষ্টা করুন।
কিন্তু সাবধান এটিকে আসক্তি বানিয়ে ফেলবেন না যেন।

অন্যান্য কুকদের সাথে কথা বলুন

আপনি হয়তো বড় কোন কুকিং এক্সপার্ট এর সাথে কথা বলতে পারছেন না। সমস্যা নেই। আপনার আশে পাশে দেখুন তো। হ্যা অনেক মানুষ পাবেন যারা খুব ভালো রান্না করে। তাদের ই সাহায্য নিন সুযোগ পেলেই। এটি পরিক্ষিত কারন এটি অনেকের কাজে দিয়েছে।

পদ্ধতি-২

আপনার রান্না পরখ করে দেখুন

এতক্ষণে তো জেনে গেছেন রান্নার জন্য ধারনা গুলো কোত্থেকে সংগ্রহ করবেন। পদ্ধতি ১ থেকে ধারনা গুলো নেয়ার পর পদ্ধতি ২ অনুসরন করুন অপেক্ষা করবেন না আজই শুরু করুন। আর হ্যা, রান্না ভালো হোল না খারাপ তা নিয়ে ভাব্বেন না। আগে তো শুরু করুন। এটা কোন ব্যাপার না যে আপনার রান্না ভালো হচ্ছে না খারাপ, আপনি তো শিখছেন মাত্র এবং আপনি এটি সম্পর্কে চিন্তা করা বাদ দিয়ে কাজ শুরু করে দিলে বরং রান্না দ্রুত শিখতে পারবেন .ভাবতে থাকলে ভাবতেই হবে। কাজ শেখা হবে না। মানতে হবে যে ভুল ই শুদ্ধ
হওয়ার প্রথম ধাপ। তাই নিজেকে আজ ই সুযোগ দিন। চেষ্টা না করে রান্না ভালো হবে সেই আশায় থাকলে কোন দিন ই এগুতে পারবেন না। তাই কিছুর জন্য অপেক্ষা না করে আজ ই কাজ শুরু করে দিন।

সাশ্রয়ী মূল্যের উপকরণ দিয়ে শুরু করুন

একটি পরমর্শ দিতে চাই তা হল –মাত্র তো শুরু করলেন তাই শুরুর দিকে রান্নায় খুব দামি দামি উপকরণ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কারণ শুরুর দিকে ভুল হবেই আর আপনি যদি প্রথমেই খুব বেশি খরচ করে ফেলেন তাহলে সেটা সুধরানোর জন্য বার বার চেষ্টা করতে পারবেন না। আপনার ভুলটা খুব বেশি ব্যয় বহুল হয়ে যাবে। তাই সাশ্রয়ী মূল্যের উপকরণ ব্যাবহার করুন যেন যে পর্যন্ত রান্না ঠিক না হয় বার বার চেষ্টা করতে পারেন।

cook-2

সাশ্রয়ী মুল্যের উপকরনের জন্য সহজ রেসিপি বেছে নিন

উপকরন তো সাশ্রয়ী মুল্যের বেছে নিয়েছেন কিন্তু কঠিন একটা রেসিপি নিয়েছেন। কাজ হবে না। শুরুতে সহজ রেসিপি বেছে নিন। এতে করে আপনার আটকানোর সম্ভবনা ও কমবে আপনার আত্মবিশ্বাস ও বাড়বে।

পড়ুন ও রান্না নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যান

রেসিপি বই গুলা সংগ্রহ করেছেন, ইন্টারনেট এ ও দেখেছেন কিন্তু একবার পরলেই বা দেখলেই হবে না। সব সময় ই পড়তে হবে এবং যে শিক্ষা গুলো অর্জন করছেন সেগুলাও কাজে লাগিয়ে দেখতে হবে। যে রান্না টা করেছেন আগে নিজে টেস্ট করুন তাঁরপর ভাবুন আরও কিভাবে স্বাদ বারান যাবে। একটা ভালো কুক যে কোন রান্না টেস্ট করেই বলতে পারে যে সেটিকে কিভাবে আরও ভালো করা যাবে। খাবারে বিভিন্ন ফ্লেভার দিতে ভুলবেন না যেন। এতে খাবারে স্বাদ ও নতুনত্ব বাড়ে।

ভুল গুলো শুধরান

রান্না করছেন ভুল হচ্ছে জানছেন কিন্তু সেই ভুল নিয়ে আবারো কাজ করছেন এতে আপনার চেষ্টা কোন কাজে দিবে না। ধরেন আপনার খাবার পুড়ে যাচ্ছে বার বার। আপনার যে কারণ গুলো মনে হচ্ছে যে এটা কেন হচ্ছে সেগুলো খুঁজে বের করুন এবং তালিকা তৈরি করুন। পরের বার একটি একটি করে বাদ দিন সেই বিষয় গুলো দেখবেন সমস্যার সমাধান আয়ত্তে চলে আসবে।

আত্মবিশ্বাসী হন

আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি নিজের ওপর বিশ্বাস না থাকলে কিছুতেই এগুতে পারবেন না। ভালো কুক হতে হলে এটি খুব ই জরুরি। কখনো আপনি নার্ভাস হতে পারেন। কিন্তু সেটা থেকে ধিরে ধিরে বেরিয়ে আসতে হবে। নয়তো রান্না ভালো হবে না কখনই। আপনি যদি মনে করেন আপনি পারবেন। তাহলে উত্তর হচ্ছে হ্যা আপনি আসলেই পারবেন। কিন্তু যদি দোটানায় থাকেন হবে কি হবে না, পারব কি পারব না তাহলে বলে রাখি আপনি পারবেন না। একবার না পারিলে দেখ শত বার। কিন্তু বিশ্বাস টা থাকতে হবে যে ১০০ বারে না হোক ১০১ বারের সময় আমি ঠিক ই পারব। কিন্তু সেই বিশ্বাস না রাখতে পারলে কোন দিন ই পারবেন না। মনে রাখবেন বড় হওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছাই মানুষকে বড় করে তোলে।

আপনার নতুন রান্না পরীক্ষা করার জন্য একটি বন্ধু বা পরিবারের সদস্য খুঁজুন

হ্যা আপনার রান্না আপনি টেস্ট করেছেন কিন্তু সাথে অন্য কাউকেও টেস্ট করাতে হবে মতামত নেয়ার জন্য। এমন একটি বন্ধু বা পরিবারের সদস্য খুজুন জাকে জিজ্ঞাসা করলে আপনি সৎ মতামত পাবেন এবং সে সেটা পরিবর্তনের জন্য পরামর্শ করতে পারবে। সবসময় বিরুপ প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন কারণ এটি ছাড়া ; আপনি আপনার
দক্ষতা উন্নতি করতে পারবেন না।

অনেক লোক বিশ্বাস করে যে রান্না টা মন থেকে আসে। তাই যদি মন খুব খারাপ ই থাকে রান্না থেকে বিরত থাকুন যদি আপনিও সেটা বিশ্বাস করেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপসঃ

রান্না করার সময় টুকটাক টিপস জানা থাকলে রান্না ভাল হয়, সময় ও বাঁচে এবং সুরক্ষিত থাকা যায়। টিপস গুলো খেয়াল রাখলে রান্নায় সব সময় তা কাজে লাগানো যায়। চেষ্টা করে দেখতে পারেন আপনার রান্নায় সাহায্য করবে।

  • মাছ রান্না করে হাতের কাছে কাঁচা ধনিয়া পাতা থাকলে তা কুচি করে কেটে বিছিয়ে দিন, স্বাদ দুইশত গুন বেড়ে যাবে।
  • মাংশ জাতীয় রান্না করে শেষে পেয়াজ বেরেস্তা দিয়ে দিন। স্বাদ বেড়ে যাবে।
  • ডিম সিদ্ব করতে পানিতে সামান্য লবন দিন। ডিম খেতে সুস্বাদু হবে। গরমাবস্থায় ডিম ছিলবেন না, ঠান্ডা করে ছিলুন এতে খোসায় লেগে ডিম নষ্ট হবে না।
  • ভর্তা বানাতে মরিচ খালি হাতে ডলবেন না, হাত জ্বলে আপনি কষ্ট পেতে পারেন।
  • যে কোন মাছ ভাঁজতে কড়াই থেকে একটা নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন। মাছে পানি থাকলে কিংবা ফুটে আপনার গায়ে/চোখে তৈলের চিটকা পড়তে পারে। সাবধানে কাজ করবেন। দূর থেকে নাড়ুন।
  • শুকনা মরিচ ভাজলে বা পুড়লে বাতাসে একটা ঝাঁজ তৈরী হয় এতে হাচি, কাচি এসে নাস্তা নাবুদ হয়ে যেতে পারেন। ভাজার সময় রান্নাঘরের দরজা জানালা ভাল করে খুলে দিন। প্রয়োজনে এডজাষ্টার ফ্যান থাকলে তা চালিয়ে দিন।
  • কিছু ভাজি করতে চাইলে কড়াইতে তেল গরম হলে যা দেবেন তার সাথে সামান্য লবণ দিয়ে দিন, তেলের ছিটকা উঠবে না।
  • রান্নার সময় খাবার পুড়িয়ে ফেলেছেন। প্যানটি সাবান মেশানো গরম পানিতে সিঙ্কে চুবিয়ে রাখুন ঘণ্টাখানেক। প্যান পরিষ্কার সহজ হয়ে যাবে।
  • পেঁয়াজ কাটতে চোখ তো জ্বালাতন করবেই। পেঁয়াজটি খোসা ছাড়িয়ে দু ভাগ করে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিংবা চুইংগাম প্রেমী হলে মুখে চুইংগাম চিবোতে থাকুন পেঁয়াজ কাটার সময় চোখ জ্বলবে না।
  • তরকারিতে লবণ বেশি পড়ার ঝামেলা কার হয় না? রান্নায় খুব বেশি লবণ হয়ে গেছে? একটা আস্ত আলু খোসা ছাড়িয়ে দিয়ে দিন। অল্প কিছুক্ষণ পর দেখবেন অতিরিক্ত লবণ আলুটি শুষে নেবে।
  • তরকারীতে হলুদ বেশি হয়ে গেছে? একটু আটা পানিতে মেখে আস্তে করে তরকারীতে দিয়ে রাখুন । ভয় নেই। ওটা গলবে না । আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে যাবে এবং সে বাড়তি হলুদ কমিয়ে ফেলবে।
  • মুরগির মাংস বা কলিজা রান্না করার সময় এক চামচ সিরকা দিন এতে গন্ধ ও করবে না রান্না ও তাড়াতাড়ি হবে।
  • কাঁচা মুগডাল ভেজে পানি দিয়ে ধুয়ে নেবেন, তাহলে ডালের রঙ আর কালো হবে না। ধুয়ে রান্না করলে ডালটাকে দেখতে উজ্জ্বল দেখাবে।
  • কেক বানাতে যদি ডিমের পরিমাণ কম থাকে তাহলে ভয় পাবেন না। কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করবেন। দেখবেন ডিমের ঘাটতি পূরণ হয়ে গেছে।
  • খেজুরের গুড় দিয়ে পায়েস করতে গিয়ে অনেক সময় দুধটা ফেটে যায়। দুধ ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে তারপর গুড় মেশাবেন। ভালো করে নেড়ে আবার কিছুটা ফুটিয়ে নেবেন, দেখবেন রঙটাও সুন্দর হয়েছে আবার সুন্দর ঘ্রাণ বের হচ্ছে। দুধ ফাটার ভয়ও থাকবে না।
  • স্বাস্থ্য সম্মত মুরগীর তরকারি খেতে চাইলে চামড়া ছাড়িয়ে মুরগি রান্না করুন। কারন মুরগির চামড়াতেই থাকে প্রধান ফ্যাট।
  • সবুজ সবজি রান্না করতে চাইলে এক চিমটি চিনি দেন। দেখবেন সবজি কেমন সবুজ দেখাচ্ছে। আর সবজির রঙ ঠিক রাখতে ঢাকনা দিয়ে জ্বাল না দেয়াই ভালো। আর কিছু সবজি আছে যেগুলো সামান্য সেদ্ধ করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেও রান্নার পরও রঙ ঠিক থাকে।
  • cook-3

  • আদার খোসা ছাড়াতে চামচ ব্যবহার করুন। আমরা প্রায়ই আদার আবরণ ছাড়াতে ছুরি কিংবা দা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে, যদি চামচ ব্যবহার করা হয়।
  • রান্নার সময় ভাত, ডাল, দুধ উথলে পড়ে চুলা প্রায়ই নোংরা হয়। এক্ষেত্রে চুলা পরিষ্কারের জন্য প্রথমেই চুলার ওপর লবণ ছড়িয়ে দিন। চুলা ঠাণ্ডা হলে পরে গরম সাবান পানিতে কাপড় ভিজিয়ে জায়গাটি মুছে নিন।
  • লংকা, মরিচ বাটলে বা কাটলে হাত অসম্ভব জ্বালা করে। ঠান্ডা দুধের সর লাগান। জ্বালা কমে যাবে অথবা ঠান্ডা দুধ দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। হাত পুড়ে গেলেও তক্ষুনি ঠান্ডা দুধ দেবেন, ফোস্কা পড়বেনা। আর তাতে জ্বালাও কমবে।
  • স্যালাড বা অন্য কোনো ভাবে কাঁচা শাক সব্জি খেতে হলে সেগুলি ধুয়ে সমপরিমান জল ও ভিনিগার মিশিয়ে তাতে ভিজিয়ে রাখুন, খানিকক্ষণ ভেজার পর তবেই ব্যবহার করুন, এতে জীবানুমুক্ত হয়।
  • একসঙ্গে অনেক রসুন ছাড়াতে ভারি বিরক্ত লাগে। আস্ত রসুন ফুটন্ত জলে মিনিট দুয়েক ভিজিয়ে হাতে ঘষলে ওপরের খোসা ছেড়ে যায়। এবার রসুন বেটে নিয়ে শিশিতে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। অনেক দিন ভালো থাকবে।
  • কাঁচকলা কাটবার সময় হাতে দাগ লাগে। হাতে তেল মেখে নিয়ে কাঁচকলা জলে ডুবিয়ে কাটলে দাগ পড়ে না। ঢেঁড়স কাটার বেলাতেও হাতে তেল লাগিয়ে নেওয়া ভাল। তা না হলে দাগ পড়ে ও চামড়ায় টান পড়ে।
  • বাধাঁকপি রান্না করার সময় প্রায়ই একধরনের গন্ধ বের হয়। সে ক্ষেত্রে বাঁধাকপি রান্না করার সময় পানিতে অল্প লবণ দিয়ে বাঁধাকপি ভাপিয়ে নিন। যে পাত্রে রান্না করবেন, সেটা ঢাকবেন না। দেখবেন গন্ধ চলে যাবে।
  • ডালে বাগার দিতে চাইলে রসুন কুচি তেলে ভেজে দিন। এতে স্বাদ আর ঘ্রাণ দুইটাই বাড়বে। ডালের মজা জ্বালে! অর্থাৎ যত বেশি সময় জ্বাল দিয়ে রান্না হবে, স্বাদও ততটা বেড়ে যাবে।
  • খাওয়ার সময় এলাচে কামড় পড়লে খাওয়ার মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এলাচ গুঁড়ো করে ব্যবহার করা ভালো।

সাধারণ কিছু টিপসঃ

দিয়াশলাই খরচ করতে কোন কার্পণ্য করা যাবে না। যতবার রান্না শেষ হবে, সাথে সাথে চুলার আগুন নিভিয়ে ফেলতে হবে। এমন কি দুই মিনিটের বিরতিতে পরবর্তী রান্না বসাতে চাইলেও।

বোনাস টিপসঃ

প্রেসার কুকার নিয়ে বেশ কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরিণতি দেখেছি। তাই এই জিনিস ব্যবহারে সাবধান হওয়া খুব জরুরি। প্রতিবার ব্যবহারের পর প্রেসার কুকার ঠিকমত পরিষ্কার করলেই দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। শুধু প্রেসার কুকারের জন্যই হাতের কাছে একটা আলপিন/সেফটিপিন রেখে দিতে হবে। প্রতিবার ব্যবহারের পর যখন কুকার ধুবেন, আলপিন/সেফটিপিন দিয়ে ভালভের নিচের অংশটুকু যেটা ঢাকনির ভিতরের পাশে থাকে, তার ছিদ্রগুলো পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। আর সেফটি ভালভটাও ভালোমত পরিষ্কার করতে হবে। বাল্ব, সেফটি ভাল্ভ ও আলাদা করে কিনতে পাওয়া যায়, যে কোনটি নষ্ট হয়ে গেলে সেটা পাল্টে নিতে হবে। নষ্ট জিনিস দিয়ে রান্নার চেষ্টা না করাই নিরাপদ।

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
Jannatul Jarin

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY