ভালো শিক্ষক হতে করনীয়

0
2176
ভালো শিক্ষক হতে করনীয়
3.5 (70%) 6 votes

শিক্ষকতা পেশা পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক, উত্তেজনাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ একটি পেশা। এই দক্ষতা অর্জন করতে অনেক সময় লাগে। অনেকেই শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত তবে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে সবাই পারেন না। একজন আদর্শ শিক্ষকই জাতির মেধা গড়ার কারিগর। তাই তাকে হতে হবে আর দশটি মানুষের তুলনায় সেরা। এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করবো একজন ভালো শিক্ষক হওয়ার জন্য আপনার যে কাজ গুলো করতে হবে-

  • আপনি যখন আপনার লেকচার উপস্থাপন করার জন্য বোর্ডের সামনে যাবেন তখন আপনাকে দেখতে হবে আপনি কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় পড়াচ্ছেন। বিষয়ের নাম, আজকের পঠিতব্য বিষয় বোর্ডে প্রথমত লিখে ফেলতে হবে।
  • পাঠ প্রস্তুতির মাধ্যমে যথার্থরূপে নিজেকে তৈরি করা। যে বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া এবং শিক্ষার্থীদের বোঝার জন্য সার্বিক সহায়তা দান। যেভাবে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ-আগ্রহ বেড়ে যাবে সেভাবে পাঠদান করা। শিক্ষকের একটি উদ্দেশ্য থাকতে হবে যা বাস্তবায়নের জন্য তিনি সচেষ্ট হবেন, একটি সুনির্দিষ্ট কর্ম সামনে হাজির রাখতে হবে যা বাস্তবায়নের জন্য তিনি উৎসাহী হবেন।
  • একজন আদর্শ শিক্ষক ভালোভাবেই জানেন কোন উপায়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালে তারা বিষয়টিকে খুব সহজই গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনো ধরনের বিরক্ত লাগবে না। তাই তিনি পড়ানোর মাধ্যমটিকে আনন্দময় করে তোলেন। এতে করে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং পড়ায় মনোযোগী হয়।
  • একজন আদর্শ শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের একটি নির্দিষ্ট উপায়ে পড়িয়ে থাকেন এবং সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকেন। তিনি ভালো করে জানেন যে উৎসাহ ছাড়া একজন শিক্ষার্থী ভালোভাবে এগোতে পারে না। এ কারণে ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে।
  • আপনার বক্তব্য উপস্থাপনের পূর্বে দেখতে হবে ক্লাসের পরিবেশটা আপনার পাঠদানের জন্য কতটা সহায়ক। ক্লাসে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা করুন। তারপর আপনার সামনে বসা ছাত্র/ছাত্রীরা সঠিক পদ্ধতিতে বসছে কিনা তা খেয়াল করুন। কারণ বসার পদ্ধতির সাথে পাঠদান জড়িত।
  • তাদের সাথে আই কনট্রাক্ট ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা খেয়াল করতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনি যতোই ভালো লেকচার প্রদান করেন না কেন আপনার সাথে যদি তার আই কনট্রাক্ট সঠিকভাবে না হয় তাহলে সে আপনার বক্তব্য সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারবেনা।
  • আপনার অঙ্গভঙ্গির সাথে আপনার লেকচারের মান জড়িত। আপনার অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আপনি বিষয়টিকে সঠিকভাবে তুলে ধরুন। আপনি বিষয়টি জটিল করে তুলবেন না। আপনি সহজবোধ্য ভাষায় বোধ্যগম্য উদাহরণের সাহায্যে আপনার বক্তব্য উপস্থাপন করুন।
  • শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করুন। মনে রাখবেন আপনার সামনে যারা বসে আছেন তাদেরও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও চিন্তার জগৎ রয়েছে। আপনার প্রশংসা তাকে অনুপ্রাণিত করবে। তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিন। শিক্ষার্থীদের হতাশ করবে এরূপ আচরণ কখনোই করবেন না।
  • আপনাকে সময়ের ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। আপনার নির্দিষ্ট সময়টাকে কয়েকভাবে ভাগ করে নিন। পূর্ববতী ক্লাসের পড়া নেয়া, আজকের পাঠ, প্রশ্নোত্তর, বাড়ির কাজ ইত্যাদি। প্রত্যেক ধাপেই আপনাকে মনোযোগী থাকতে হবে।
  • আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ, হাঁটার ভঙ্গি, বাচনভঙ্গি, মাথার চুল ঠিক পর্যায়ে আছে কিনা সেটা খেয়াল রাখবেন। মনে রাখবেন শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। আপনার সঠিক ব্যক্তিত্বের প্রভাব তাদের উপর পড়বেই। আপনাকে আদর্শ ও সততার মুর্ত প্রতীক হতে হবে। আপনার আদর্শ ও সততার প্রভাব তার মাঝে পড়বেই। আপনি সারারাত টিভি দেখলেন কিংবা আড্ডা দিলেন বা ধূমপান বা নেশার সাথে জড়িত থাকলে সেই অবস্থায় আপনাকে আদর্শ শিক্ষক হওয়া মোটেই সম্ভব নয়।
  • তাকে আত্মবিশ্বাসী রূপে গড়ে তুলুন। তাকে কখনোই বলবেন না তোমার দ্বারা কখনোই কিছুই হবে না। সে একবার না বুঝলে দু’বার কিংবা তিনবার বলুন। প্রয়োজনে ক্লাসের শেষে তাকে আলাদাভাবে বুঝিয়ে দিন। তাকে বলুন তুমিও পারবে। তার ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো পরোক্ষভাবে জেনে নিন। মা-বাবার মৃত্যু, পারিবারিক বন্ধন, বাসার পরিবেশ, আর্থিক স্বচ্ছলতা তার বন্ধু-বান্ধবের প্রকৃতি ইত্যাদি। তার মনের অবস্থা বুঝে আপনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। তার সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করুন। তখনই আপনার পক্ষে তার সমস্যা বুঝা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।
  • কাউকে তুই বলে সন্মোধন করবেন না। এতে তার ব্যক্তিত্বে আঘাত লাগে। পক্ষান্তরে তাকে সুন্দরভাবে নাম ধরে ডাকুন। তাতে সে খুশি থাকবে এই ভেবে যে, স্যার আমার নাম পর্যন্ত জানেন। সেক্ষেত্রে আপনি শিক্ষার্থীদের নাম মুখস্থ রাখার চেষ্টা করুন। শিক্ষার্থীদের সমস্যাদি সমাধানের জন্য বিভিন্ন পথ খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকদের ডাকুন, খোলামেলা আলোচনা করুন।
  • শিক্ষার্থীরা আপনার বক্তব্যকে সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারছে কিনা মাঝে মাঝে তাদের প্রশ্ন করুন। প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তাদের ধমক না দিয়ে নিজেই উত্তর বলে দিন অথবা বলুন এটা এভাবে নয় ঐভাবে। আপনি ক্লাসের অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় গ্রুপ করে দিন। তাদের মধ্যে ‘গ্রুপ ডিসকাশন’ এর ব্যবস্থা করুন। এক গ্রুপ দিয়ে আরেক গ্রুপকে প্রশ্ন করাবেন। সর্বোপরি তাদের মাঝে প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করুন। প্রশ্নগুলো কুইজ টাইপের হলে ভালো।
  • একজন শিক্ষক তার ছাত্রছাত্রীদের সবসময় সত্যের পথে চালিত করে থাকেন। কেননা তার কাছে অন্যায়ের কোনো আশ্রয় নেই। তিনি ছেলেমেয়েদের সবসময় ন্যায়ের সাথে চলতে পরামর্শ দেন এবং সত্যের আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে নির্দেশ দেন।
  • এমন অনেক মানুষ আছে যারা যেকোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন না। ফলে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষক নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করে ফেলেন যেন যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেকে খুব সহজে মানিয়ে নিতে পারেন এবং যেকোনো ধরনের পরিবর্তনে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেন।
Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY