মনের মানুষ টির কথা বাবা-মা কে জানানোর কিছু উপায়

0
630
মনের মানুষ টির কথা বাবা-মা কে জানানোর কিছু উপায়
5 (100%) 6 votes

ভালবাসা কখনো কাউকে জানিয়ে বা জিজ্ঞেস করে হয় না। এটা তো ব্যস হয়ে যায়। কখন কার সাথে হবে সেটাও কেউ জানে না। জীবনে চলার পথে যে কাউকে ভাল লাগতে পারে। আর শুরু হয় তার হাত ধরেই পথ চলা। এখন তা লুকানো থাকতে পারে তবে এক না এক সময় তো এটা জানাতেই হবে বাবা-মা কে। অনেক বাবা-মা হয়তো মেনে নেয় তবে বেশির ভাগ বাবা-মা ই মানতে চায় না। কারন সব বাবা-মায়ের ই তাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে কিছু স্বপ্ন থাকে। এটা তো গেল পরের কথা কিন্তু সবচেয়ে কঠিন কাজ টি হল বাবা-মা কে এই বিষয় এ বলা। কি বলবে বা কি বলবে না, কিভাবে কথা শুরু করবে তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগে অনেকেই। অনেকে আবার শুরু করলেও গুছিয়ে বলতে পারে না। ফলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়। আপনি যদি সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন বাবা-মা মানলেও মানতে পারে। তাই আজ আপনাদের জানাবো কিভাবে আপনি আপনার মনের মানুষ টির কথা বাবা-মা কে জানাবেন এবং কোন পরিস্থিতি তে কি করবেন তার কিছু টিপস। আশা করি কাজে দিবে-

ধাপ ১# ব্যাপারটি তাদের সামনে নিয়ে আসুন

এতো দিন তো ব্যাপারটি লুকিয়ে রেখেছিলেন। এবার তাদের সামনে ব্যাপারটি নিয়ে আসার। তাই প্রস্তুত থাকুন।

কাকে আগে বলবেন তা ঠিক করুন

tell your parants

আমরা অনেকেই বাবার সাথে ফ্রি অনেকেই আবার মায়ের সাথে। অনেক সময় ই দুইজনের সামনে একত্রে এই কথা বলে দিলে দুইজন ই উত্তেজিত হয়ে যায় এবং এক জন আরেকজন কে বুঝানোর সুযোগ পায় না। কারন তারা দুইজনেই নেগেটিভ থাকে তখন। তারা রাগ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আপনি যার সাথে একটু বেশি ফ্রি তার সাথে যদি আগে আলোচনা করেন এবং সে রাগ করলেও একটা সময় রাগ কমলে সে আপনার সাহায্য করতে পারে। তবে যদি আপনি মনে করেন যে আপনার বাবা-মা দুইজনেই ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিবে তাহলে দুইজনকেই একত্রে বলে দিন।

সঠিক সময়ে বলুন

আপনি অবশ্যই জানেন যে আপনার বাসার পরিস্থিতি কি। যদি আপনি জানেন যে আপনার বাবা-মা কোন টেনশনে আছে সে সময়ে ভুলেও তাদের কাছে এই কথা বলতে যাবেন না। কখনো আবেগে এসে তাড়াহুড়া করবেন না। ঠাণ্ডা মাথায় কাজ নিতে হবে। যখন দেখবেন তারা শান্ত এবং কোন কিছু নিয়ে পেরেশানিতে নেই তখন ই কথাটি বলবেন। তাই নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখবেন।

কি বলবেন প্রাকটিস করুন বা লিখুন

write
আপনি যতই সাহসী হোন না কেন আপনি যে বাবা-মায়ের সামনে গিয়ে সব গুলিয়ে ফেলবেন এটা নিশ্চিত। তাই কোন প্রস্তুতি ছাড়া গেলে দেখবেন ঘাবড়ে গিয়ে আপনি কথা গুছিয়ে বলতে পারছেন না। আর গুছিয়ে বলতে না পারলে ঐ সময়ে অনেক পজেটিভ জিনিস ও নেগেটিভ মনে হবে। তাই আগেই পুরো ব্যাপারটি সাজিয়ে নিন। এর ফলে বাবা-মা আপনার কথার ধরনেই বুঝবে যে সম্পর্ক নিয়ে ভাবার মত পরিপূর্ণতা আপনার এসেছে। অগোছালো হলেই শেষ। তাই ধিরে সুস্থে পস্তুত হোন।

আপনি কি অনুভব করছেন তা নিয়ে ভাবুন

how is your feeling
আপনার মনে অনেক ধরনের ভাবনা অবশ্যই আসবে যেমন- বাবা-মা কি বলবে? কিভাবে রিয়েক্ট করবে? অথবা আপনার ভালোবাসা কে তারা মানবে না? তবে জানেন কি, আপনি যা ভাব্বেন তার উপরেও আপনার বলার ভঙ্গি অনেকাংশে নির্ভর করে। আপনি যদি মনে মনে ধরেই নেন যে রেজাল্ট নেগেটিভ হবে। তখন সেটা আপনার কথায় ও ফুটে উঠবে। তাই এই সময় নিজের ভাবনা কে যথাসম্ভব পজিটিভ রাখুন।

বিভিন্ন প্রশ্নের জন্য পস্তুত থাকুন

ready for ques
আপনার সম্পর্ক নিয়ে জানার পর পর ই আপনাকে অনেক প্রশ্ন করা হবে। তার জন্য পস্তুত থাকুন এবং আপনার ভালোবাসার মানুষটি ও তার পরিবার সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে রাখার চেষ্টা করুন। তাদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই সততার সাথে দিবেন। কোন মিথ্যা উত্তর দিবেন না। কারন আপনি যদি মিথ্যা বলেন এবং আপনার বাবা-মায়ের সন্দেহ হয় তাহলে আপনার সম্পর্ক ওখানেই শেষ। তাই সব সময় সৎ থাকুন। প্রশ্ন হতে পারে-
• তার নাম কি?
• সে কি করে/ কোথায় পড়াশুনা করে?
• বাবা কি করে?
• বাড়ি কোথায়?
• কত দিনের সম্পর্ক এবং কিভাবে পরিচয়?
এখানে পরিচয়ের বিষয় টি খুব গুরুত্বপূর্ন কারন যাদের ভালোবাসার মানুষের সাথে পরিচয় সোশ্যাল মিডিয়া বা ফোন এ হয়েছে, তারা সাবধান কারন বাবা-মা এই সম্পর্ক গুলো সহজে মানতে চায় না।

কথা সম্পূর্ন করুন

বাবা-মায়ের সামনে এই কথা গুলো বলা কঠিন। তবে যখন আপনি বলা শুরু করবেন কখনোই আধাবিধি কথা বলে বাকি কথা পরে বলার জন্য রেখে দিবেন না। কারন এটি বলার সময় বার বার আসবে না। তাই কথা সম্পূর্ন করে তবেই উঠবেন।

ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন

সব বাবা-মা ই চায় তার সন্তান রা ভালো থাকুক। যেভাবে তারা সন্তানদের দেখে রেখেছে সেভাবেই তাদের জীবনসঙ্গী ও রাখুক। তাই আপনার দায়িত্ব আপনার ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া। তার পরিবার সম্পর্কে এবং তার কি কি আপনার ভালো লাগে বলুন। ভালো গুনাগুন গুলো হাইলাইট করুন। যদি সাথে ছবি থাকে তা দেখান।

কিছু লুকাবেন না

আগে বলেছি যে আপনার বাবা-মা অনেক প্রশ্ন করবে। তাছাড়া এমন অনেক কিছু থাকতে পারে যা তারা জিজ্ঞাসা করে নি কিন্তু আপনি জানেন যে এই বিষয় টা তাদের জানা দরকার। তখন অবশ্যই সেগুলো তাদের জানিয়ে দিবেন। কারন আপনার বাবা-মা অবশ্যই আপনার ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে খোজ খবর নিবে। তখন যদি তারা এমন কিছু পায় যা আপনি তাদের বলেন নি তখন তারা রাগ করতে পারে।

ধাপ ২# বিশেষ পরিস্থিতি গুলোর সাথে ডিল করুন

বাবা-মায়ের কাছে এই ব্যাপারে বলার পর নিশ্চিন্তে কিছু বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সেগুলো আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ডিল করতে হবে। জেনে নিন সেগুলো ও।

নেতিবাচক মন্তব্যের জন্য পস্তুত থাকুন

আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে বলার পর পর ই বাবা-মা বিভিন্ন নেতিবাচক কথা বলবে তার সম্বন্ধে এটা একদম স্বাভাবিক বিষয়। তাই সেগুলো কে কিভাবে ইতিবাচক করে পুনরায় উপস্থাপন করা যায় সে সম্পর্কে মানসিকভাবে পূর্ন পস্তুতি রাখুন।

বাবা-মায়ের অসন্তুষ্টি

they should cry
এই কথা জানার পর স্বাভাবিক ভাবেই বাবা-মা অসন্তুষ্ট হবে। আমাদের কাছে বাবা-মায়ের খুশি সবচেয়ে বড়। আর সেই বাবা-মা ই আমাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকবে। ভেবে দেখুন তো একবার। কি খারাপ লাগছে? স্বাভাবিক। তবে এটি আপনাকে অবশ্যই ফেস করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। শুধু রাগ ই না তাদের কান্না ও সহ্য করতে হতে পারে। তাই মন খারাপ হলেও কষ্ট পেলেও ধৈর্য্য সহকারে সেটা মেনে নিতে হবে এবং সেটা থেকে ওভারকাম করতে হবে।

তাদের সময় দিতে হবে

give parants time

তাদের আপনার ব্যাপারটা মানতে অনেক সময় লাগতে পারে। তার মানে এই নয় যে আপনি তাদের সাথে রাগারাগি বা খারাপ ব্যবহার করবেন অথবা ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাবেন। আপনাকে অবশ্যই তাদের সময় দিতে হবে এবং ঠাণ্ডা মাথায় তাদের বুঝাতে হবে। আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে একটা সময় পরে তারা মানবে। আপনাকে তাদের সন্মান দিতে হবে। তাদের যেন মনে না হয় যে এই ছেলে বা মেয়েটির জন্য আপনি এরকম হয়ে গেছেন। এতে কিন্তু নেগেটিভ মন্তব্য টি আপনার ভালোবাসার মানুষটির উপরেই গিয়ে পড়বে। আর আপনি যদি তাদের সাথে আগের মতই কথা বলেন তাহলে বাবা-মা বুঝবে যে আপনি কোন খারাপ সঙ্গের সাথে নয়। তখন তারা একটু হলেও পজিটিভ হবে।

তাদের জানান যে সিদ্ধান্ত তাদের উপর

dicision is yours

এই কথোপকথনে সবচেয়ে বড় কথা এটিই। পুরো ব্যাপারটি বলার পর তাদের বলুন যে আপনি কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন নি। সিদ্ধান্ত তাদের উপর এবং তারা যদি দেখে যে আপনার সঙ্গী টি ভালো তাহলে যেন তারা আপনাকে ফিরিয়ে না দেয়। এতে তারা বুঝবে আপনি তাদের সম্মান দিচ্ছেন এবং তাদের অবাধ্যে আপনি যাবেন না, এতে আপনার ব্যাপারটি তারা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ভাববে।

ধাপ ৩# বাবা-মা না মেনে নিলে আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে

এতো কিছুর পর ও বাবা-মা না ই মানতে পারে। এখন কি করবেন। আসুন জেনে নেই সেটিও-

মনযোগ দিয়ে তাদের মতামত শুনুন

say sorry and listen

বাবা-মা কখনই সন্তানের খারাপ চাবে না। সুতরাং আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, তারা যেহেতু আপনার ভালোবাসার মানুষকে রিজেক্ট তার পিছে নিশ্চই কোন কারন থাকবে। অকারনে কোন মা-বাবাই চাবে না তার সন্তান কষ্ট পাক। তাদের কষ্ট দেয়ার জন্য সরি বলুন এবং যদি তারা আপনার সঙ্গীকে রিজেক্ট করে থাকে তাহলে খুব ই নম্রতা ও ভদ্রতার সাথে তাদের জিজ্ঞেস করুন কারন কি এবং শান্ত ভাবে কারন গুলো শুনুন। সাবধান বাবা-মায়ের সাথে কখনোই রাগারাগি করবেন না।

তাদের ভূমিকা বুঝুন

সকল বাবা-মা ই চায় তার সন্তান কে খারাপ দিক থেকে বাচিয়ে রাখতে। আপনি কাকে পছন্দ করলেন সে ভালোই না খারাপ, আপনাকে যদি কষ্ট দেয়। শুধুমাত্র এই সকল জিনিষ ভেবেই বাবা-মা এতটুক কঠোর হয় আপনার সাথে। কারন তাদের কাছে তাদের ছেলে বা মেয়েটি সব সময় ই ছোট এবং এতো বড় ডিসিশন আপনি সঠিক ভাবে নিতে পারবেন না। এটি আপনাকে বুঝতে হবে।

আপনার ভালবাসার মানুষটির সাথে আলোচনা করুন

যে আপনাকে সত্যি চায় সে অবশ্যই জানবে কিভাবে আপনার বাবা-মা কে মানাতে হবে। আপনারা দুইজন মিলে সিদ্ধান্ত নিন কিভাবে তাদের দোয়া পাওয়ার জন্য কাজ করবেন। আর কি কি কারনে আপনার সঙ্গী রিজেক্ট হল সেগুলো ও তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করবেন যেন সে সেগুলো শুধরে নিতে পারে।

আপনার বাবা-মায়ের সাথে ভালোবাসার মানুষের সরাসরি দেখা করান

meet with parants
আপনার বাবা-মা হয়তো তার সাথে দেখা বা কথা বলতে চাইবে না। তার পরেও নম্রতার সাথে তাদের কে মানানোর চেষ্টা করুন। অনেকসময় মেনে না নিলেও তাকে সামনাসামনি দেখলে হয়তো আপনার বাবা মা মত পাল্টাতে পারে। তাই কোন এক সুযোগে আপনার পছন্দের ব্যক্তিকে বাবা মার সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। হয়তো তাকে তাদেরও ভাল লেগে যেতে পারে। বলুন যেন একবারের জন্য হলেও দেখা করে।

সঙ্গীর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলুন

আপনার সঙ্গীর বাবা-মা যদি রাজি থাকে তাহলে তাদের সাথে আলোচনা করুন এবং আপনার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলতে বলুন। কারন এক অভিভাবক যখন আরেক অভিভাবকের সাথে কথা বলে তখন বাবা-মায়ের মনে একটু হলেও পজেটিভনেস চলে আসে। আর যদি তার বাবা-মা ও মেনে না নিয়ে থাকে তাহলে কি করবেন? কি আর করার উপরের পদ্ধতি গুলো তাকেও অনুসরন করতে হবে।

সর্বশেষে, বাবা-মা আপনাকে জন্ম দিয়েছে এবং তাদের হাত ধরেই আপনার জীবনের পথ চলা। সবসময় তাদের উপর বিশ্বাস রাখবেন যে তারা যা করবে আপনার ভালোর জন্যই করবে। কখনো কিছুদিনের ভালোবাসার টানে মা-বাবাকে ছেড়ে চলে যাবেন না। কারন তাদের দিয়েই আপনি। ভালোবাসার মানুষটি আপনাকে ছেড়ে চলেও যেতে পারে কিন্তু বাবা-মা তাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনাকে ছাড়বে না। আর বাবা-মা কে কষ্ট দিয়ে কেউ সুখী হতে পারে নি। আর এটা চিরন্তন সত্য কথা। মনে রাখবেন।

father mother

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
Jannatul Jarin

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY