নারী হিসেবে কিভাবে ব্যবসায়িক সফলতা পাবেন?

0
561
নারী হিসেবে কিভাবে ব্যবসায়িক সফলতা পাবেন?
5 (100%) 2 votes

বর্তমানে মহিলারাও বিভিন্ন ধরনের বিজনেস করে সফলতা পাচ্ছেন। মেয়েরাও কোন অংশে পিছেয়ে নেই। কিভাবে একজন মেয়ে ব্যবসায়িক সফলতা পাবেন তার কিছু টিপস রইলো-

  • নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করুন-
    চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যবসায় সফলতার জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ব্যবসায় সফল হতে চাইলে হঠাৎ করে কোনো সফলতা পাওয়ার আশা করবেন না। এ জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হবে। এরপর যখন আপনি উদাহরণ সৃষ্টি করবেন তখন সবাই তা অনুকরণ করবে।
  • সফল নারীদের সম্পর্কে পড়ুন-
    ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক সফল কর্মজীবী নারী আছে। তাদের নিয়ে গবেষণা করুন এবং তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং কর্মজীবন সম্পর্কে জানুন। এতে আপনার শেখার প্রেরণা এবং আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে সাহায্য করবে। তাদের গল্প পড়ে আপনাকে সাফল্যের পথ মত দেখাবে। আপনি কি ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে পারেন তার সম্পর্কে একটি ধারনা নিতে পারেন বিভিন্ন ওয়েব সাইটে সফল নারীদের জীবন কাহিনী পরে। সফল নারীদের ভালো মন্দ স্মৃতিকথা পড়ে তাদের পথচলা সম্পর্কে সকল ধারনা পেতে পারেন। এতে আপনার সামনে চলার পথ সুগম হবে। আপনি আপনার নতুন চলার পথে অনেক ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হতে পারেন। আর এই সব বাঁধাকে পেছনে ফেলে আপনার ব্যবসা শুরু করতে হবে। এটা আপনার জীবনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। যা আপনাকেই মোকাবেলা করতে হবে।
  • আপনার ক্ষেত্র গবেষণা করুন-
    এটা কোন বড় বিষয় নয় আপনি কোন ক্ষেত্রটি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। বরং এটাই সবচেয়ে বড় বিষয় আপনি আপনার কাজে যদি সফলতা অর্জন করতে পারেন। আপনি যা নিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তা যদি সঠিক ভাবে করতে চান তাহলে একি ব্যবসায়ে যারা সফলতা পেয়েছে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। তারা কিভাবে কাজ শুরু করেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
  • কাজ ও পরিবারের মাঝে সামঞ্জ্যসতা রাখুন-
    মহিলাদের কাজ ও ঘর দুটোর উপরই সমান দায়িত্ব থাকে। ঘরের কাজও ঠিক সময় মতো করতে হবে আবার ব্যবসার কাজ সময়মত করতে হবে। আপনি ঘর যদি না সামলাতে না পারেন তখন আপনাকে অনেকেই অনেক কথা শুনাবে। তখন আপনি ব্যাক্তি জীবনে অসফল রয়ে যাবেন। তাই আপনার ঘরকেও সময় ব্যালেন্স করে দিতে হবে। আবার এখন আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চাচ্ছেন তাই ব্যবসার উপর ও আপনার সমান দায়িত্ব থাকবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার কাছের মানুষদের সহযোগিতা পান তাহলে আপনি সহজেই একজন সফল নারী ব্যবসায়ী হতে পারবেন।
  • আত্মবিশ্বাসী হন-
    যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস একটি বড় জিনিস। যা আপনাকে কাজের শক্তি যোগায়। তাই সবকিছু পরিচালনার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী থাকুন। যাতে এটা ছাড়া অন্য কেউ আপনার সম্পর্কে দ্বিতীয় মন্তব্য না করতে পারেন। এমনকি যদি রাগান্বিত থাকেন তারপরেই নিজেকে স্বাভাবিক রাখূন। কখনও উত্তেজিত হবেন না। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা শুরু করুন। এবং আপনার ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর আস্থা রাখুন। বড় স্বপ্ন দেখুন। স্বপ্ন নির্ধারন করে দৌরাতে থাকুন একদিন সফল হবেনই। সফল ব্যবসায়ীরা বহুমুখীকরণের দ্বারা খুঁজে পেতে পারেন সফল ব্যবসা চাবিকাঠি। আপনার অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ব্যবহার করে অন্যান্য ছোট ব্যবসা মালিকদের শিক্ষা দিন এবং তাদের স্বপ্ন অর্জনে সাহায্য করুন। আশাকরি আমার এ লেখাটি আপনার ক্ষুদ্র ব্যবসা আরম্ভ করার ক্ষেত্রে অনেক উপকারে আসবে।
  • অন্যের কথায় ভয় পাওয়া যাবে না-
    অনেকেই খুব সহজে বলে থাকে তুমি যা করছো তা ঠিকমতো হচ্ছে না, তোমার এখন অন্য কিছু শুরু করা উচিত। আর এটা মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। এরকম কথা বলা খুবই সহজ। যদি আপনি এসব কথায় প্রভাবিত হোন তাহলে ভাববেন বিষাক্ত কোন ঔষধ গেলা আরম্ভ করছেন। আপনি যদি এরকম কথায় প্রভাবিত হয়ে থাকেন তবে এখনই এ প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসুন। নিজের মত করে আপনার প্রতিষ্ঠানকে চালিয়ে নিয়ে যান। আপনার নিজের কাছে যখন মনে হবে আর চালিয়ে নেয়া সম্ভব না ঠিক তখনই থামেন। অন্যের কথায় কখনো আপনার প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা যাবে না।
  • জীবনে আপনার আবেগ খুঁজুন এবং তা অনুসরণ করুন-
    উপরে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে কি অনুসরন করতে হবে এবং ভাবুন কোন বিষয়টির প্রতি আপনার দুর্বলতা আছে। সাফল্যের রাস্তা দীর্ঘ। আর এটাকে আপনারই পারি দিতে হবে। একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চাইলে আবেগকে প্রশ্রয় দিবেন না। আহলেই আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন।
  • women-2

  • সংগঠিত করুন-
    দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জন করার জন্য আপনার দৈনিক কাজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার। একটি প্রতিষ্ঠানকে তার সময় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি উপযুক্ত কর্ম পরিকল্পনা থাকা দরকার। আপনি প্রতিদিন কি কাজ করবেন তা একত্রিত সংগঠিত করুন। এতে আপনি সফলতা পাবেন।
  • ব্যবসার ধরণ/ক্যাটাগরি নির্ধারণ করুন-
    ক্যাটাগরি হচ্ছে ব্যবসার ধরণ বা বিবরণ যা আপনি কি করেন। কয়েকটি শব্দ বা বাক্য যা আপনার পুরো ব্যবসার বর্ণনা করবে। অনেক ব্যবসায়িক তার কোম্পানির বর্ণনাটা সহজতর করতে পারে না। যার কারণে আপনি কি করেন মানুষ বুঝতে পারে না। এটা মার্কেটিং প্রবৃদ্ধির অন্তরায়। এটা সাধারণ নিয়ম যদি কেউ পরিষ্কার ভাবে বুজতে না পারে আপনার ক্যাটাগরি, তাহলে ১ মাস না কক্ষনই পরিষ্কার হতে পারবে না। ক্যাটাগরির সঠিক বর্ণনা মার্কেটিং এ সাহায্য করবে এবং সেল বৃদ্ধিতে প্রভাব পরবে। চিন্তা করুন কি হতে পারে আপনার ক্যাটাগরি । একটি প্রধান ক্যাটাগরি বাহির করুন। প্রধান ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে পারেন নাই, তাহলে ছোট করে ফেলুন ক্যাটাগরি লিস্ট। একটি লেজার নির্দেশ দিয়ে ইস্পাত ভেদ করা যায়। কিন্তু লক্ষ্য স্থির না থাকলে কোন প্রভাবই পরবে না। লেজারটা মনে করেন আপনার ফোকাস।
  • সবসময় নিজের উন্নতির জন্য নিজের সাথে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন-
    প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে যে কোন শিল্পেই নতুনত্ব প্রয়োজন। এটা হতে পারে-নতুন অনুষ্ঠান, নতুন চিন্তা অথবা নতুন প্রক্রিয়া। হয় আপনি এগিয়ে যাবেন অথবা অচল হয়ে যাবেন। তাই আমরা অনবরত কাজ করার নতুন উপায় খুঁজি যা হতে পারে উন্নত পণ্য, আমাদের ক্রেতার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং কাজে আরও পারদর্শী হাওয়া যা শেষপর্যন্ত বিশাল মুনাফার সৃষ্টি করে।
  • ধৈর্যচ্যুত হওয়া-
    হোঁচট খেলেই থামতে হবে তা নয়। উদ্যোক্তা মাত্রই সে উদ্যমী এবং প্রথম অবস্থায় তাকে নানান অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু দেখা যায় অনেকেই প্রাথমিক ভাবে কোন হোঁচট খাওয়ার পর মনোবল হারিয়ে ব্যবসায়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অথচ এই হোঁচটই তার জন্য ছিল শিক্ষণীয়। ধৈর্য সহকারে প্রতিটি ব্যর্থতাকে কাটিয়ে সাফল্যের পথে হাঁটাই একজন প্রকৃত উদ্যোক্তার পরিচয়।
  • অফিসের পরিবেশের সৌন্দর্যতা বজায় রাখবেন-
    কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য অফিসের ছোট থেকে বড় সব কিছুই গুরুত্বপূর্ণ হোক তা ফুলদানীর ফুল গুলোই। ঘরের কাজ করে, সংসার নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যখন আপনি অফিসে আসবেন তখন যেনো, নিজে থেকেই কাজ করার ইচ্ছে জাগে, সব কিছু কে এক পাশে রেখে নিজের বিজনেস কে ভাবতে ইচ্ছে করে। সে ক্ষেত্রে আপনার অফিসের পরিবেশটাই পারবে অনেকটা ভূমিকা রাখতে। প্রতিদিন বাসা-অফিসের কাজের ফাঁকে কিছু সময় বিরতি নিন। চেষ্টা করুন লাঞ্চটা অফিসের বাইরে পরিবারের সাথে করতে কিংবা বিকেলের চা টা বাগানে বা ছাদে বসে খেতে। এতে করে মানুসিক প্রশান্তি পাবেন, কাজে স্পিড আসবে।
  • উৎসাহ ধরে রাখুন-
    উৎসাহ ধরে রাখা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ। শুরুর দিকে উৎসাহ ধরে রাখা আরও বেশি কঠিন কাজ। শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের হতাশা চলে আসে। ব্যর্থতা মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়। সামান্য ব্যর্থ হলেই কাজ বন্ধ করে দেয় অনেকেই। এরকম কখনোই করা যাবে। সাফল্য আসার আগ পর্যন্ত নিজের উৎসাহ উদ্দীপনা ধরে রাখতে হবে।
    একজন মহিলা হিসেবে সফল ব্যবসায়ী হওয়ার সময় আপনি অনেকরকম বাঁধার সম্মুখীন হবেন। আর তা আপনি ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হবে।
Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY