কনটেন্ট মার্কেটিং কে উন্নত করার ৫টি কৌশল

0
369
কনটেন্ট মার্কেটিং কে উন্নত করার ৫টি কৌশল
5 (100%) 5 votes

বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট মার্কেটিং সব আকারের কোম্পানির জন্য একটি প্রধান মার্কেটিং কৌশল। প্রায় ৩৭ শতাংশ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের একটি তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু/কনটেন্ট বিপণনের কৌশল রয়েছে। সফল বিপণনকারীদের ৬১ শতাংশই তাদের কনটেন্ট মার্কেটিং দলের সঙ্গে একটি পরিকল্পিত দৈনিক বা সাপ্তাহিক রুটিন অনুসারে দেখা করে। আর এ প্রক্রিয়াটিকে তাদের সফলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক বলেই ধারণা করছে।

বিষয়বস্তু মার্কেটিং আপনাকে চমৎকার ফলাফল দিতে পারে যখন আপনি সঠিকভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন। আর ২০১৬ সাল হলো আপনার বিষয়বস্তু মার্কেটিং এর কৌশল আউট ম্যাপ করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আপনি যখন বিষয়বস্তু মার্কেটিং এর পরিকল্পনা করবেন তখন নিম্নের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে পারেন।

১। ব্লগের বাইরে চিন্তা করুন

শুধু ব্লগের মাধ্যমে আপনার কনটেন্ট মার্কেটিং এর চিন্তা না করে অনান্য মাধ্যমগুলো নিয়ে ভাবুন, যেমন- ইনফোগ্রাফিক্স, ই-বুক, ব্লগ, ওয়েবিনার এবং পডকাস্ট।
গত বছর ফেইসবুকের নিউজ ফিডে মানুষ এবং বিভিন্ন ব্রান্ডের দ্বারা প্রচারিত ভিডিও পরিমাণ 3.6X যা বছরের পর বছর আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভিডিও শেয়ার করা খুব সহজ এবং ব্যবহারকারীরা/গ্রাহকরা ভিজুয়াল ফর্মে বিষয়বস্তু দেখতেও খুব পছন্দ করে। তাই ব্লগ বর্তমান সময়ে কনটেন্ট মার্কেটিং এর জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এটা আপনার কনটেন্ট মার্কেটিং এর টার্গেট অর্জনের মধ্য দিয়ে ব্যপক সম্ভবনা নিশ্চিত করবে।

২। বিনামূল্যে তথ্য দিতে ভীত হবেন না

কনটেন্ট মার্কেটিং আপনাকে ও আপনার প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাকে তার উদ্দীষ্ট অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। তাই বিনামূল্যে মূল্যবান তথ্য দিতে ভয় পাবেন না। কোনো প্রকার বিনিময় আশা না করে আপনি যখন বিনামূল্যে কিছু দিয়ে যাচ্ছেন, তখন কিছু মানুষ আপনার তথ্যগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করছে যা পরবর্তীতে আপনার পন্যের/বিষয়বস্তুর বিপণন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

৩। প্রতিটি ব্যবসা- B2C এবং B2B – কন্টেন্ট মার্কেটিং থেকে উপকৃত হতে পারে

বিষয়বস্তু মার্কেটিং সবার জন্যই কাজ করতে পারে- ব্যবসায়ী থেকে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ী থেকে ব্যবসা বিপণন। যদিও ধারণা একই, কিন্তু আপনি এক্ষেত্রে কৌশলগত একটু পরিবর্তন আনতে পারেন। যেখানে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে সেখানে বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য গল্পের মধ্য দিয়ে গ্রাহকের মন জয় করে নিতে পারেন। কিন্তু ব্যবসায়ী থেকে ব্যবসা বিপণনের ক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর গুণগত মান এবং সাধারণ তথ্য দিয়ে আপনার অবস্থান তৈরী করতে হবে।

৪। কনটেন্ট মার্কেটিং এর সফলতা ও ব্যর্থতা পরিমাপের চাবিকাঠি সনাক্ত করা

কনটেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সফলতা পাওয়া সহজ নয়। শতকরা মাত্র ২১ পার্সেন্ট লোক কনটেন্ট মার্কেটিং এ সফলতা লাভ করতে পারে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর তার ব্যবসার সফলতা ও ব্যর্থতা পরিমাপের নির্দিষ্ট মাপকাঠি আছে। তাই ব্যবসা শুরু করার আগে এর মাপকাঠিগুলো সনাক্ত করা প্রয়োজন।
কনটেন্ট মার্কেটিং এর মাপকাঠি হলোঃ

  • ওয়েবসাইট ভিজিটের সংখ্যাঃ আপনি আপনার প্রতিটি কনটেন্ট দ্বারা কতজন ভিজিটরকে আপনার ওয়েবসাইটের প্রতি আকর্ষণ তৈরী করতে পেরেছেন তা জানতে হবে। এক্ষেত্রে Google’s URL builder বা Google analytics ব্যবহার করে জানতে পারেন।
  • কনটেন্ট ডাউনলোডঃ আপনি যদি কনটেন্ট ডাউনলোডের উপর কোনো অফার দেন, তাহলে প্রতিটি ডাউনলোড সংখ্যা ট্রাক করুন। প্রতিটি কনটেন্ট সম্পর্কে ভিজিটরদের কি অভিমত তা জানার চেষ্টা করুন যাতে ভবিষ্যতে কনটেন্ট লেখার সময় আপনি নিজেকে সংশোধন করতে পারেন।
  • সামাজিক মাধ্যমে শেয়ারের সংখ্যাঃ আপনার কনটেন্ট কি পরিমান শেয়ার হয়েছে তার সংখ্যা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে আপনি আপনের কনটেন্ট লেখার স্টাইল ও টপিক নির্ধারণ করতে পারেন। যে টপিক এর উপর লিখিত কনটেন্ট সবচেয়ে বেশি শেয়ার হয়েছে, সেই সব বিষয়ে আপনি অধিক সাড়া পেতে পারেন।
  • বাউন্স রেটঃ একটি উচ্চ বাউন্স রেট এর মানে হল যে আপনার দর্শক আপনার কনটেন্ট কতটা পড়ছে এবং অগ্রাহ্য করছে, আপনার ওয়েবসাইটের অন্য পাতাগুলো ভিজিট করছে কিনা তার একটি তথ্যমূলক ধারণা। যদি তারা আপনার কনটেন্টগুলো না পড়ে, তাহলে আপনার কনটেন্টগুলো এমন ভাবে তৈরী করতে হবে যাতে তা আকর্ষনীয় হয়ে উঠে।
  • ইনবাউন্ড লিংক অর্জনঃ জনপ্রিয় কনটেন্টগুলো অনন্য ওয়েবসাইটগুলো শেয়ার করে। গুগল আপনাকে এসব লিংক দিয়ে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশানে সাহায্য করবে।
  • ভিজিটর আপনার পেইজে কতটা সময় ব্যয় করছেঃ আপনি যদি কোনো বিষয়ে গভীর ও তথ্যবহুল কোনো কনটেন্ট প্রকাশ করেন, আর ভিজিটর ১৫ সেকেন্ড এর বেশি আপনার কনটেন্টের পেছনে অতিবাহিত না করে তবে ধরে নিতে পারেন আপনার কনটেন্ট তাদের মধ্যে কোনো কৌতুহল সৃষ্টি করতে পারেনি। আর যদি সে ৩ মিনিট অতিবাহিত করে তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনার কনটেন্টটি হিট। এবং এটি আপনার অনন্য পেজগুলোতেও দর্শক আকর্ষণে সহায়তা করবে।
  • Cost Per Click (CPC)ঃ বিভিন্ন চ্যানেল যেমন, SEO, pay-per-click (PPC), social media, email প্রভৃতির মাধ্যমে প্রতিটি কনটেন্ট প্রমোট করার জন্য $২০০০ ব্যয় করার চিন্তা করুন। আপনি যদি ৮,৮০০ ভিজিটর লাভ করতে পারেন তবে আপনার CPC হবে ২৩ সেন্ট এর নিচে।
  • আয়ঃ আপনার কনটেন্ট মার্কেটিং কি পরিমান আয় করছে তা যাচাই করুন।

৫। আপনার অনলাইন মার্কেটিং এ বৈচিত্র নিয়ে আসুন

কনটেন্ট মার্কেটিং আপনাকে দিতে পারে অসাধারণ ফলাফল, কিন্তু এই ব্যবসায় সফল হওয়া খুব সহজ নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি আপনার সম্ভবনাগুলো বাক্স বন্দি করে রেখে দিবেন। বস্তুতঃ আপনার কখনই এটা করা উচিত নয়।

আপনার উচিত বিভিন্ন চ্যানেল- social media, email, pay-per-click, SEO এবং display ads এর মাধ্যমে আপনার কনটেন্টনগুলো পরিচালনা করা যাতে কোনো একটা চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেলেও আপনার ব্যবসা যেন বন্ধ না হয়। ধৈর্যের সাথে কৌশলগুলো অবলম্বন করে গেলে সফলতা একদিন সত্যিই ধরা দিবে আপনার হাতের মুঠোয়।

রাজিয়া মিলি

রাজিয়া মিলি

Razia Mili complete her Master of Science from Eden Mohila College, Dhaka, and she is passionate about traveling and reading lots of books. She is very dynamic and details oriented that you can found in her work and she loves music during cooking special menu for her friends and family.
রাজিয়া মিলি

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY