মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার

0
379
Photo credit: Rayhana Akter
মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার
5 (100%) 2 votes

চারিদিকে এলোমেলো জলরাশির ছুটোছুটি, বড় বড় ঢেউ আছরে পরছে চোঁখের সামনে, সূর্যটাও যেন সমুদ্রের বুকে ঘুমিয়ে পড়তে আড়াল হয় ধীরে ধীরে। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, সঙ্গে আপনার প্রিয় মানুষটির হাত। এ যেন সব গ্লানিকে ভুলিয়ে দেয়। এমন করে যদি ইচ্ছে করে পা দুটো ভিজিয়ে নিতে সমুদ্রের জলে তবে কল্পনা কেন তাকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার প্রয়াস খুব একটা মন্দ নয়। এসব জল্পনা কল্পনার জাল ভেদ করে ঘুরে আসুন না পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে কক্সবাজার থেকে।
কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ন্তগত একটি পর্যটন শহর। পৃথিবীর দীর্ঘতম এই প্রাকৃতিক সমুদ্র বন্দরের দৈর্ঘ্য ১২৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন স্পট এই সমুদ্র সৈকত। এখানকার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ, দেশের একমাত্র পাহাড়ীদ্বীপ মহেশখালী, কুতুবদিয়া দ্বীপ, রম্যভূমি রামু, রামু লামার পাড়া বৌদ্ধ ক্যাঙ, কলাতলী, ইনানী সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ির ঝরনা, বৌদ্ধ মন্দির, ইতিহাস খ্যাত কানারাজার গুহা, রাখাইন পল্লী দেশ-বিদেশের ভ্রমন পিপাসসু পর্যটককে আকৃষ্ট করে।
নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে সৈকত সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ছোট বড় অনেক দোকান যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর স্থান হিসেবে বিখ্যাত। সমুদ্র সৈকত এর পাশাপাশি এত কিছু দেখার আয়োজনটা নিছক মন্দ নয় ।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন হয়। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীস্ম এমন কোন ঋতু নেই সমুদ্র সৈকতের চেহারা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রত্যুষে এক রকম রুপ তো মধ্যাহ্নে আর এক রকম রুপ। গোধুলি বেলার বীচের হাওয়ার অবস্থা আর রাতের বেলার অবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই তো, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ক্যাপ্টেন কক্স এর সমুদ্র সৈকত এত কদরের, এত পছন্দের।

Photo credit: Rayhana Akter
Photo credit: Rayhana Akter

সোনাদিয়া দ্বীপ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গপসাগরের কূল ঘেষে কক্সবাজার জেলার অপূর্ব সোন্দর্য্য বেষ্টিত পর্যটন, মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি বিছিন্ন সোনাদিয়া দ্বীপ। সোনাদিয়া দ্বীপের আয়তন ৪৯২৮ হেক্টর। এ দ্বীপটি পূর্ব পশ্চিমে-লম্বা। সৃষ্টি শৈল্পিক আদলে গড়া কক্সবাজার জেলার পর্যটন শিল্পের আরেক সম্ভাবনাময় সৈকতের নাম সোনাদিয়া। এখানে রযে়ছে বালিয়াডি়, কাছিম প্রজনন ব্যবস্থা, চামচ ঠোটের বাটন পাখি এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য।

সেন্টমার্টিন

টেকনাফ থানা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি. সমুদ্র গর্ভে মনোরম দ্বীপ সেণ্ট মার্টিন। প্রায় ১৬ বর্গ কি.মি. জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সমুদ্র তীরে সারি সারি নারিকেল বৃক্ষ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার আদিবাসীদের বিচিত্র জীবনযাপন- সব মিলিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ জাগানিয়া উপাদানের বিন্দুমাত্র অভাব নেই। দ্বীপে পা দিয়েই বুঝতে পারবেন এটিকে নিয়ে মানুষ কেন এত মাতামাতি করে, আর কেনইবা একে বলা হয় সুন্দরের লীলাভূমি। বাংলাদেশে যতগুলো উল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকা রয়েছে সেন্ট মার্টন তার মাঝে অন্যতম ও নান্দনিক। দ্বীপটি দৈঘ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থে কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর। দ্বীপের শেষ মাথায় সরু লেজের মত আর একটি অবিচ্ছিন্ন দ্বীপ রয়েছে যার নাম ছেঁড়াদ্বীপ।

হারবাং

হারবাহং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে ৪৪ মাইল দূরে অবস্থিত হারবাং কক্সবাজার জেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

ছেঁড়াদ্বীপ

টেকনাফ উজেলার অধিক্ষেত্রভূক্ত বঙ্গোপসাগরের মাঝে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ছেড়া দ্বীপ নামের এ ছোট্ট ভূ-বিন্দুটি অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ভূখণ্ড। জোয়ারের সময় সেন্টমার্টিন হতে দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি স্থানীয় লোকদের নিকট ছেড়াদিয়া নামেও পরিচিত। ছেড়া শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন এবং দিয়া শব্দের অর্থ দ্বীপ। জোয়ারের সময় বিন্দু-দ্বীপটি মুল-দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে বিচ্ছন্ন বা ছিড়ে যায়। তাই দ্বীপটির নাম হয় ছেড়াদ্বীপ বা ছেড়াদিয়া। এ দ্বীপে কোন মানুষ বসবাস করেন না। জেলেরা দিনের বেলা মৎস্য আহরণ করে এবং রাতে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করে। ছেঁড়াদিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাঁচস্বচ্ছ জলকেলি। এ দ্বীপের চারিদিকের জল এত স্বচ্ছ যে, অনেক গভীরে অবস্থানরত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, প্রবাল ও সামুদ্রিক শৈবাল খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। এমন অপূর্ব দৃশ্য অবলোকনের সুযোগের জন্য ছেঁড়া দ্বীপ পর্যটকদের নিকট অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত।

Photo credit: Rayhana Akter
Photo credit: Rayhana Akter

লাবনি পয়েন্ট

কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী বীচ কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম-বার্মা), থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মার্কেট। কলাতলি পয়েন্ট লাবনী পয়েন্টের কাছাকাছি সূর্যাস্ত উপভোগের আর একটি সৈকত হচ্ছে কলাতলি বীচ। এই এলাকা অপেক্ষাকৃত নতুন, তবে এখানেও অনেক সুন্দর জিনিসের পসরা সাজিয়ে রয়েছে বিভিন্ন দোকান রেস্টুরেন্ট।

cox-1

হিমছড়ি

হিমছড়ি কক্সবাজারের ১৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত।গভঙ্গুর পাহাড় আর ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে বামদিকে সবুজঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বর্ষার সময়ে হিমছড়ির ঝর্ণাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত বলে মনে হয়।
হিমছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় একটি রিসোর্ট আছে যেখান থেকে সাগরের দৃশ্য অপার্থিব মনে হয়। হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ এখানকার ক্রিসমাস ট্রি। সম্প্রতি হিমছড়িতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক।

cox-2

ইনানী বীচ

ইনানী বীচকক্সবাজার থেকে ৩৫ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার থেকে রাস্তায় মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। পরিস্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্র স্নানের জন্য উৎকৃষ্ট বলে পরিচিত।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY