মেকআপ করুন ত্বকের ধরন অনুযায়ী

0
699
মেকআপ করুন ত্বকের ধরন অনুযায়ী
Rate this post

বাইরে বের হতে ত্বককে সুরক্ষা দেয় এমন প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে যা সময় এবং ত্বকের ধরনভেদে মানিয়ে যাবে। সেটা কিন্তু সাজের বিষয় নয়, ত্বকের সাধারণ দেখভালেরই অংশ। সাজগোজের সামগ্রী হিসেবে যা কিনবেন তা হলো কাজল, লিপবাম কিংবা লিপস্টিক, ভালো লাগলে আই লাইনারও রাখতে পারেন তালিকায়।

মেকাপ করতে গিয়ে আমরা ছোটখাটো নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় ছোট একটা ভুলের জন্য পুরো মেকাপটাই বেমানান লাগছে। আসলে গর্জিয়াস এবং নিখুঁত মেকাপ করতে হলেই যে প্রফেশনাল হতে হবে এমন কোন কথা নেই। ভুল গুলো শুধরে নিয়ে মেকাপের সময় কিছু টিপস অনুসরন করলে আপনার নিজের মেকাপও হতে পারে নিখুঁত এবং সুন্দর। এবার আসুন তাহলে জেনে নিই মেকাপের প্রয়োজনীয় কিছু টিপস।

  • ঠোঁটে লিপস্টিক দেয়ার আগে ভালো মতো এক্সফোলিয়েট করে নিলে ঠোঁটের মরা কোষ উঠে যায়, যার ফলে লিপস্টিক ভালো মতো বসে। চিনি এবং নারিকেল তেল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন এবং এরপর বেবি টুথব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন। ব্যাস, এবার আপনার ঠোঁট লিপস্টিক দেয়ার জন্য রেডি।
  • চোখের পাপড়ির ভিতর দিয়ে হালকা করে আই পেন্সিল টেনে নিয়ে চোখের মেকাপ করে তুলতে পারেন একদম ন্যাচারাল। একে বলা হয় “টাইট লাইনিং”। এর ফলে চোখের পাপড়ি আরো ঘন মনে হয় এবং চোখেও আলাদা ডেফিনিশন যোগ করে।
  • অনেক সময়ই দেখা যায় আই শ্যাডো কালারটা যত রঙ্গিন এবং উজ্জ্বল লাগছে চোখে দেয়ার পর তেমন লাগছে না বা সঠিক কালারটা ফুটে উঠছে না। এই সমস্যা এড়াতে আই শ্যাডো দেয়ার আগে চোখে প্রথমে সাদা কালারের আই পেন্সিল দিয়ে বেইস তৈরি করে নিন। এরপর আই শ্যাডো দিয়ে দেখুন একদম ঠিক কালার টাই ফুটে উঠেছে আপনার চোখে।
  • লিপস্টিকের স্থায়িত্বকাল বাড়াতে লিপস্টিক দেয়ার পর ঠোঁটের উপর টিস্যু রেখে মেকাপ ব্রাশের সাহায্যে টিস্যুর উপর দিয়ে ঠোঁটে পাউডার লাগান। এতে করে ঠোঁটে এক ধরনের ম্যাট ভাব তৈরি হবে এবং লিপস্টিকও অনেকক্ষণ পর্যন্ত থাকবে।
  • আই মেকাপ সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করার ক্ষেত্রে চোখের কোথায় হাইলাইটার বা সবচেয়ে হালকা কালারের আই শ্যাডো লাগাবেন তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাদা, ক্রিম বা অন্যান্য হালকা কালারের আইশ্যাডো সবসময় চোখের ভিতরের কর্নারে, মাঝখানে এবং ব্রো বোনের নীচে লাগাবেন। এতে করে চোখের সাজটা আরো ন্যাচারাল এবং সুন্দর দেখাবে। অন্যান্য গাঢ় কালারের আই শ্যাডো এরপর পাশ দিয়ে লাগিয়ে ভালো মতো ব্লেনড করে নিবেন।
  • মুখে ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করার সময় ব্রাশ উপরের দিকে না টেনে নীচের দিকে বা ডাউনওয়্যার্ড ভাবে অ্যাপ্লাই করুন। আমাদের সবার মুখেই ছোট ছোট লোম রয়েছে যেগুলো নীচের দিকে মুখ করে বাড়তে থাকে। ফাউন্ডেশন যদি আপওয়্যার্ড ভাবে অ্যাপ্লাই করা হয় তাহলে মুখের লোম গুলো দাঁড়িয়ে যায় এবং সেগুলো বেশি চোখে পড়ে। তাই নিখুঁত কভারেজ পেতে ফাউন্ডেশন সবসময় ডাউনওয়্যার্ড ভাবে অ্যাপ্লাই করুন।
  • যাদের চোখ ছোট তারা চোখের ওয়াটার লাইনে কালো আই লাইনার লাগানোর পরিবর্তে সাদা আই লাইনার লাগান। এটি এক ধরনের ইল্যুশন তৈরী করে যার ফলে চোখ খানিকটা বড় মনে হয়। নীচের ছবি দুটো দেখলেই পার্থক্যটা বেশ বুঝতে পারবেন। তাই আপনার মেকাপ কালেকশনে যদি কোন হোয়াইট পেন্সিল বা আই লাইনার না থাকে তবে দেরি না করে কিনে নিন একটি।
  • face-shape

    মুখের আকৃতি অনুযায়ী মেকআপের ধরণ

  • ১. ডিম্বাকার :
    ওভাল আকৃতির চেহারায় কপালের অংশটি চিবুকের চেয়ে কিছুটা বিস্তৃত থাকে। এটি মেয়েদের আদর্শ চেহারার আকৃতি। তাই এতে ভারি মেকআপ দিয়ে ভিন্ন আকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আপনার সুন্দর ওভাল মুখের দুই পাশে ইংরেজি ‘3’ এর আকৃতি দিয়ে ব্রোঞ্জার মেকআপ করুন। কপাল থেকে শুরু করে চিবুকের উঁচু হাড় হলে চিবুকের নিচ পর্যন্ত এভাবে মেকআপ নিন।
  • ২. আয়তাকার :
    মেয়েদের ওবলং ধাঁচের চেহারার লম্বাটে ভাবটাকে একটু কমিয়ে আনা প্রয়োজন। এ জন্য চোয়ালের হাড় পর্যন্ত ব্রোঞ্জার ব্যবহার করুন। একটু বিস্তৃত করতে চিবুকের উঁচু অংশে ব্লাশ করুন। চিবুকের হাড়ের ওপরের দিকের অংশ হাইলাইট করুন। এতে চোখ দুইটি চেহারার মাঝামাঝিতে রয়েছে বলে মনে হবে।
  • ৩. বর্গাকৃতি :
    স্কয়ার মুখের চওড়া ভাবটাকে কমিয়ে ওভাল আকৃতি দিতে হবে। মেকআপ করবেন চিবুকের হাড়, নাকের দুই পাশ, চোয়াল হয়ে হেয়ার লাইন বরাবর। এ ছাড়া চোখে শার্প লাইন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
  • ৪. গোলাকার :
    রাউন্ড মুখে একটু লম্বাটে ভাব ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রফল যোগ করা প্রয়োজন। চিবুকে কিছুটা ঘন মেকআপসহ ব্রোঞ্জার দিয়ে চোয়ালে বাঁক তৈরি করতে হবে। চিবুকের উঁচু হাড়ের কেন্দ্রের ঠিক ওপর থেকে পেছন বরাবর ব্লাশ করুন।
  • ৫. হার্ট শেপ :
    এ ধরনের মুখে চিবুকের হাড় বেশ বিস্তৃত থাকে। এর উঁচু অংশ থেকে হাড় বরাবর হালকা ব্লাশ করুন। এ আকৃতির মুখে ডিপ কালার লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন।
  • ৬. লম্বাটে চারকোণা :
    এ ধরনের চেহারায় কপাল, চিবুক বেশ বড় থাকে এবং চোয়ালও বেশ শক্ত দেখায়। ওভাল চেহারার মতোই কপাল, চিবুকের হাড় ও চোয়াল পর্যন্ত ইরেজি ‘3’ আকৃতিতে ব্রোঞ্জার ব্যবহার করুন। ভ্রুতে ধনুকের মতো বাঁকা আকৃতি দিন।
  • ৭. ত্রিভুজাকৃতি :
    চোয়াল বরাবর ডাস্ট ব্রোঞ্জার ব্যবহার করুন। এতে চোয়ালের বিস্তৃতি কমে আসবে। ঠোঁটে রং ব্যবহারের সময় চকচকে লিপস্টিক এড়িয়ে নিউট্রাল রং ব্যবহার করুন।
  • Afrin Mukti

    Afrin Mukti

    Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
    Afrin Mukti

    Comments

    লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY