মেয়েরা কেন সেলফি পাগল?

0
526
মেয়েরা কেন সেলফি পাগল?
5 (100%) 1 vote

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে সেলফি। সেলফি তোলাকে কেউ বলেন হাল আমলের উন্মাদনা কেউবা বলেন ‘আসক্তি’। তবে যে যাই বলুন না কেন, মেয়েরা যে সেলফি ভক্ত তা গুগলের সাম্প্রতিক এক গবেষণাতেই দেখা গেছে। গোটা বিশ্বের ছেলে-মেয়েরা এখন প্রতিদিন গড়ে ১৪টি করে সেলফি তোলে বলেই জানিয়েছে গুগল। যেকোন সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়ি, বন্ধুদের জমায়েত বা সুন্দর কোনো জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে একা বা কয়েকজন মিলে মোবাইল ফোন আর ডিজিটাল ক্যামেরায় নিজেরাই তুলে ফেলছি নিজেদের ছবি আর একেই বলে সেলফি।

সাধারণত আয়নায় যেসব মেয়েদের নিজেদের চেহারা বেশি বেশি দেখার অভ্যাস তাদের মধ্যেই এই সেলফি প্রবনতা বেশি ঢুকে পড়েছে। এটা যে এক ধরনের মানসিক অতৃপ্তিজনিত ব্যাধী এটা এরা বুঝতে পারে না। জগত ও জীবনের বদলে এরা নিজের আত্মখুশিতে মগ্ন থাকে।

মানুষের চাহিদার সোপানতত্ত্ব ব্যাখা করতে গিয়ে আব্রাহাম মাসলো দেখিয়েছেন জৈবিক চাহিদা ও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের পর মানুষ চায় অপরের কাছে নিজের স্বীকৃতি-ভালোবাসা। তুলে ধরতে চায় নিজেকে যতদূর সম্ভব পরিশীলিত করে। এই প্রবণতা স্বাভাবিক এবং মানবিকও বটে। সেই চাহিদা থেকেই সেলফি।

মেয়েরা যে সব কারনে সেলফি তোলে-

selfie-3

নিজেকে তুলে ধরতে
নিজেকে সুন্দর করে অন্যের সামনে তুলে ধরার প্রবণতা মানুষের জন্মগত। মেয়েরা নিজেকে তুলে ধরতে চায় নিজেকে যতদূর সম্ভব পরিশীলিত করে। এই প্রবণতা স্বাভাবিক এবং মানবিকও বটে। সেই চাহিদা থেকেই সেলফি।

অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে
২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘সাইকোলজি অব সেলফিজ’ নিবন্ধে গবেষক ক্রিস্টি বারলেট বলেন, যারা বেশি বেশি সেলফি তোলে ও পোস্ট করে তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই রয়েছে অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা এবং তারা কেউ কেউ ব্যক্তিজীবনে অনেকখানিই একা।

গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ধরে রাখতে
আমরা সাধারণত ছবি তুলে রাখি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে। আর এ স্মরণীয় ঘটনা ভাগ করি সেই মুহূর্তে অনুপস্থিত বন্ধুদের সঙ্গে। বর্তমানে কাজটি চটজলদি সমাধানে সেলফিই একমাত্র ভরসা।

সাবলীলতা প্রকাশ
ক্যামেরা থাকলেও বিশেষ কোন দিনে বা ঘটনায় নিজের উপস্থিতি রেখে ছবি তুলতে সাহায্য নিতে হবে অন্যের। কিন্তু হাতে ধরা মোবাইলে নিজের ছবি তুললে সেই অনুভূতির প্রকাশ সাবলীল হয়।

selfie-4

নিজস্বতা ঠিক রাখতে
প্রিয় সঙ্গীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছেন। আনন্দঘন ঘনিষ্ঠ সেই সব মুহূর্ত আপনারা দু’জন যে ভাবে উপভোগ করছেন, তা তৃতীয় কেউ বুঝবে না। সেলফির মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার উপায় হাতে থাকলে, কে পরোয়া করে পেশাদার আলোকচিত্রীর লেন্সে ধরা দিতে? এই আবেগময় মুহূর্ত যে শুধুই আপনাদের দু’জনের। তাই সময়টাও নিতান্তই সেলফির।

সময়ের সাথে তাল মেলাতে
সকলেই যখন সেলফি তুলতে ব্যস্ত, তখন আপনি কেন বাদ থাকবেন। এই আনন্দ থেকে নিজেকে বিরত রাখা অর্থহীন। এছাড়া মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় নিজেকে ধরে রাখার বাতিক আগেও কম ছিল না। এখন বাড়তি পাওয়া হিসেবে তার একটি জুতসই নাম হয়েছে।

সেলফির নেশা সত্যি বড্ড বিপজ্জনক। বিশ্বময় সেলফির এই উন্মাদনা নিয়ে অনেক গবেষক আবার সেলফি তোলা ‘মানসিক সমস্যা’ কিনা সে বিষয়টি নিয়েও গবেষণা করছেন। পক্ষে বিপক্ষে যত গবেষণাই হোক না কেন, সেলফি যে প্রবলভাবে আমাদের সবার জীবনেই জাঁকিয়ে বসেছে তা অস্বীকারের কোনো উপায় আর নেই।

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj lives with deep passion of in psychology. She have expertise in behavior and mind, embracing all aspects of conscious and unconscious experience as well as thought.
Beside she loves music and read lots of books.
Shaila Shahanaj

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY