লক্ষ্য বাস্তবায়নের সময় উদ্যোক্তাদের ৪টি ভুল

0
492
লক্ষ্য বাস্তবায়নের সময় উদ্যোক্তাদের ৪টি ভুল
3.6 (72%) 5 votes

জীবনে সফল হতে কে না চায়? একটি লক্ষ্য সেট করা হয়তো খুব সহজ। কিন্তু অনেক সময় ভেবে দেখবেন আপনার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করার জন্য আপনার সিদ্ধান্ত কি সঠিক? অনেক সময় আপনার ভুল সিদ্ধান্তের কারনে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কিছু কিছু পদ্ধতি আছে আপনি যদি অনুসরণ করেন তাহলে আপনি কোন সমস্যার সম্মুখীন হবেন না। আর এটা গবেষণায় প্রমাণিত। এখানে কিছু ভুল ধারনা দেওয়া হল যা কিনা লক্ষ্য বাস্তবায়নের সময় আপনার কখনই করা উচিত হবে না।

১। ভুল কল্পনা করা

THINK WRONG

সমস্যাঃ এটি মানুষের প্রকৃতিগত সমস্যা। মানুষ অনেক কিছুই কল্পনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যা অনেক সময় বাস্তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। বেশির ভাগ মানুষ কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও তাদের লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না।

সমাধানঃ রাশিয়ান মনোবৈজ্ঞানিক Bluma Zeignarik দ্বারা পরিচালিত একটি জ্ঞানীয় সমীক্ষা অনুযায়ী, যারা এ সকল সমস্যার জন্য বাধাগ্রস্থ হয় তারা একবারের জায়গায় ২য় বার ভেবে কাজ করুন যে আসলেই আপনি পারবেন কিনা। যখন মানুষ একটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য হাতে নিবে তখন ভবিষ্যতে এর ফলাফল কি হবে তা নিয়ে লম্বা সময় নিয়ে গবেষণা করুন। আপনার সামনে কি কি বাঁধা আসতে পারে আর আপনি কিভাবে সেগুলো সমাধান করবেন তার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করুন। তাহলে দেখবেন আপনি ৯০ শতাংশ কাজ ভালো ভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।

২। দিবাস্বপ্ন দেখা

daydream

সমস্যা: সপ্নকে বাস্তবে রুপদান করার জন্য সকলেই চেষ্টা করে। তাই বলে কি দিবাস্বপ্ন? যারা তাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য অবাস্তব কথা চিন্তা ভাবনা করে ও জেগে থেকে দিবাসপ্ন কল্পনা করে তাদের ফলাফল অনেক ভয়ঙ্কর হয়। এটা চিরন্তন সত্য কথা।

গবেষণা: NYU এবং হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষকরা গবেষণা করেছে কিভাবে মানুষ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এর সঙ্গে মোকাবেলা করে সমস্যা সামলাচ্ছেন। তারা প্রত্যাশা বনাম ফ্যান্টাসি সংক্রান্ত একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁরা দেখলেন যে ছাত্র মাত্রাতিরিক্ত উচ্চ চাকরির সম্ভাবনা নিয়ে কল্পনা করেছেন উল্লেখযোগ্যভাবে তারা কম কাজের অফার পেয়েছে এবং কম টাকা আয় করেছেন। তারা বাস্তবতার সাথে কম মিশেছে। তাই তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সফল হয় নি।
কেন? উচ্চ প্রত্যাশা সফলতা পায় নি কেন, কম প্রচেষ্টার ফলে? আর আমরা সবাই জানি যেখানে কম প্রচেষ্টায় সফলতা বাড়ার সম্ভাবনা কম।

সমাধানঃ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দিবাস্বপ্ন দেখা নিশ্চয় এখন বুঝতে পারছেন ফলাফল শুন্য। এটা আপনার ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ভুল। আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান যা কিনা আপনার কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। আমরা এমন কিছু শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করতে পারি যার মাধ্যমে নিজেই কোন কিছু করতে পারব। ধরতে পারেন আপনি কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আপনাকে সফল হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের বিকল্প পথ আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। তবে সব সময় নিজেকে যদি প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান তাহলে সঠিক পথ অনুসরণ করুন।

৩। অতিরিক্ত ব্যাস্ততা দেখানো

very busy

সমস্যা: অধিকাংশ মানুষই “ব্যস্ত কাজ” এর দিকে প্রবনতা বেশি দেখায়। অনেক সময় শুধু আমরা কাজ করেই যাই কিন্তু বাস্তবে এর কি ফলাফল আসবে তা ভাবি না। আমাদের জীবনে হয়তো এ সকল কাজের কোন মূল্যই নেই। আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তা কোন প্রভাবই ফেলবে না। এটা সম্পূর্ণ আমাদের দোষ। আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে কাজে ব্যস্ত রাখতে চাই। যা কারো জন্য সুফল বয়ে আনে না।

গবেষণা: পটসডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত একটি গবেষণার সমীক্ষা অনুযায়ী, চার পাঁচজন ছাত্র অনেক বেশী কাজে ব্যস্ত। তাদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে জিজ্ঞেস করা হল এই যে তারা যে কাজটি নিয়ে ব্যস্ত তাদের উদ্দেশ্য কি? তাদের লক্ষ্য কি পূরণ করতে পারবে? তারা ঠিক উত্তর দিতে পারলো না। সবার পূর্বে আপনি মনস্থির করুন আপনি কি করবেন তারপর লক্ষ্যে বাস্তবায়নে জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া যায়। তারপর আপনি সঠিক সময় অনুযায়ী কাজটি শেষ করার চেষ্টা করবেন। যাদের সময়জ্ঞান থাকে না তারা জীবনে উন্নতি করতে পারে না। কারন সঠিক সময়ে কাজ না করার দরুন অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

সমাধানঃ আপনি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য অর্থপূর্ণ কাজ করার চেষ্টা করুন। আপনি নিজে থেকেই মনে করবেন সবচেয়ে বড় পার্থক্য গুলো কোথায়। একটি ভালো উপায় বের করুন। কি করলে কাজের ফলাফল আসবে এবং সে অনুযায়ী আপনার প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার উপর ফোকাস করুন। চেষ্টা করলে সব কাজই করা সম্ভব। জীবনে অসম্ভব বলে কিছু নেই। কোন কিছুই মুখের কথায় পাওয়া যায় না। আর এর জন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

৪। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস

overconfident jpg

সমস্যাঃ আত্নবিশ্বাস আর অতিরিক্ত আত্নবিশ্বাস দুটি আলাদা বিষয়। আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থাকা লক্ষ্য বাস্তবায়নে খারাপ প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত আত্নবিশ্বাস আপনার শেখার আগ্রহে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। আপনি যা জানেন না তবুও যদি বলেন যে এই কাজটি পারবেন তাহলে তো হবে না। তাই অনেক জানার জন্য যা পারবেন তাই স্বীকার করুন।

গবেষণাঃ গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যাদের আছে তাদের যদি কোন জটিল সমস্যা সমাধান করতে যায় এবং তা যদি তারা না পারে তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে। গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালক, ডাক্তার, উকিল এই সব পেশার অধিকারীরা অতি-আত্নবিশ্বাসের সমস্যা বেশি ভোগে। যাদের আত্মবিশ্বাস বেশি পরিমানে কাজ করে তারা তাদের আত্মবিশ্বাস ঠিক রাখার জন্য যে কোন কাজের সহজ অংশটি সম্পন্ন করে। ফলে তাদের আসল লক্ষ্য বাস্তবায়ন থেকে বিচ্যুত হয়।

সমাধানঃ যে কোন কাজ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরী। তবে তা আপনার জানার উপর। নিজের উপর বিশ্বাস আনুন এবং ভাবুন আপনি কোন কাজটি পারবেন। আর যা পারবেন না তাতে হাত দিবেন না। লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করার ক্ষমতা, আপনার বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতাকে আজে লাগান। আমরা অনেক কাজই হয়তো পারি। কিন্তু আপনি ঠিক করবেন ঐ কাজটি যে কাজটিতে আপনি বেশি পারদর্শী। নিজের প্রতিভা গুলো খুঁজে বের করুন দেখবেন আপনার লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবেই। আর কোন কাজে তাড়াহুড়ো করবেন না। অতি জলদি কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY