শিশুদের জন্য ব্যায়াম

0
242
শিশুদের জন্য ব্যায়াম
Rate this post

শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা বা কিছুক্ষণ খেলাই কি যথেষ্ট? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সম্প্রতি চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুল ও খেলাধুলার পাশাপাশি শিশুদের প্রতিদিন শরীরচর্চা করাও প্রয়োজন। পাঁচ বছর বয়সের বেশি বয়সী শিশুরা বড়দের সাহায্য নিয়ে মাত্র তিরিশ মিনিটে ঘরে বসে সহজেই যোগব্যায়ামের প্রাথমিক কিছু আসন করতে পারে। এতে তাদের মন শিথিল থাকে, মেরুদণ্ড মজবুত হয় ও মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। ফলে মেধা, স্মরণশক্তি, বুদ্ধিমত্তা, মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ে। এ জন্য পড়াশোনা, খেলাধুলা ও কাজকর্মে তারা বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠে।

অধিক ওজনের কারন

  • ১। বেশি পরিমানে বাইরের খাবার খাওয়া অধিক ওজনের একটি অন্যতম প্রধান কারন। সব বাচ্চাই বাইরের খাবার খেতে দারুন পছন্দ করে। এসব খাবারে ফ্যাট আর চিনির পরিমান থাকেন অনেক বেশি, ফলে প্রয়োজনের চাইতে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ হয়ে যায়। আর শরীরের ওজন অনেক বেড়ে যায় ক্রমশ।
  • ২। বাচ্চারা আজকাল খেলাধুলা করার সুযোগ পায় কম। পড়ালেখা করে যতটুকু বাড়তি সময় পায় সেই সময়ে তারা ভিডিও গেমস বা টিভির সামনে বসে থাকতেই বেশি ভালবাসে। খেলাধুলা না করা ও বেশি সময় টিভির সামনে বসে থাকার কারনে দ্রুতই বাচ্চাদের ওজন বেড়ে যায়।
  • ৩। বাচ্চারা বাবা-মাকে দেখেই সব কিছু শিখে। অভিভাবক যদি বেশি তেল-মশলা যুক্ত খাবার খান, টিভি দেখতে দেখতে চিপস বা বিস্কিটের প্যাকেট শেষ করে ফেলেন, তা হলে বাচ্চারা খুব ছোট বয়স থেকেই এই অভ্যাস রপ্ত করে ফেলে। ফলে তাদের ওজন বেড়ে যেতে থাকে ।

শিশুর বয়স যাই হোক ছোটবেলা থেকেই শিশুকে নানা রকম ব্যায়াম করানো শিশুর শরীর ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এসব ব্যায়ামের কোনটাই বেশি ভারী হবেনা যেহেতু এসময় শিশুর শরীর খুব নরম ও সংবেদনশীল থাকে। কি ধরণের ব্যায়াম এইসময় করাতে পারেন আপনার সন্তানকে? চলুন এ সম্পর্কে কিছু জেনে নেই।

best-exercise-for-kids

শিশুদের জন্য সেরা ব্যায়াম

  • ১। শিশুকে হাতের গ্রিপ শেখানোঃ শিশু যাতে বিভিন্ন ছোট ছোট জিনিস হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরতে পারে তার জন্য শিশুকে গ্রিপ শেখানর ব্যায়াম করানো যেতে পারে। এতে শিশুর তার হাতের কাজ খুব ভালোভাবে শিখতে পারবে। গ্রিপ শেখানো জন্য শিশুকে বিছানায় শুইয়ে দিন, আপনার আঙ্গুল শিশুর হাতের মুঠোয় রাখুন। শিশু যেন আঙ্গুল হাতের মুঠোয় ভালোভাবে রাখতে পারে তারজন্য অন্য আঙ্গুলগুলো দিয়ে শিশুর হাতের মুঠো চেপে রাখুন। এভাবে কিছুক্ষন রেখে ছেড়ে দিন। তারপর আপনার সন্তান সহজেই কিছুদিনের এটি শিখে যাবে। দুই হাত দিয়ে দিনে পাঁচবার এই গ্রিপ ধরিয়ে নিতে শিশুকে সাহায্য করুন।
  • ২। শিশুর শরীর ঠিক রাখার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যায়াম হলো চেস্টক্রস। এই ব্যায়ামের জন্য শিশুকে আগে গ্রিপ শিখিয়ে নিন। তারপর শিশুকে শুইয়ে দিয়ে তার দুই হাত প্রসারিত করে নিন। তারপর এক হাত অপর প্রান্তের বুকের দিকে স্পর্শ করিয়ে দিন। এই ব্যায়ামটি খুব আস্তে আস্তে করুন আর খুব সাবধানে করুন যেন শিশু কোনভাবেই ব্যাথা না পায়। এই ব্যায়ামটি শিশুকে প্রতিদিন পাঁচবার করাতে পারেন। এভাবে শিশুর হাত মাথা পর্যন্ত নিয়েও ব্যায়ামটি করাতে পারেন।
  • ৩। শিশুর জন্য মজার একটি ব্যায়ামের নাম বাইসাইকেল। শিশুর তিন থেকে চার মাস বয়স থেকে এই ব্যায়াম করাতে পারেন। শিশুকে শুইয়ে দিয়ে তার পা দুটি আপনার হাতে নিন। তারপর তার পা দুটি আস্তে আস্তে সাইকেল চালানোর মত করে ঘোরাতে রাখুন। এতে শিশুর পায়ের কাজ বৃদ্ধি পাবে। একাধারে তিনবারের বেশি এই ব্যায়াম করবেন না এবং ব্যায়ামের পর শিশুর পা ভালোমতো ঝেড়ে নিতে দিন।
  • ৪। অল্প সময়ে শরীরের বাড়তি মেদ ঝরানো এবং সহনশক্তি বাড়ানোর কাজে দড়ি লাফের জুড়ি নেই। এটা এমন একটা ব্যায়াম যা ঘরে-বাইরে সবখানেই চর্চা করা যায়। বিপণিবিতান তো বটেই পাড়া-মহল্লার দোকানেই সস্তায় সুন্দর সব স্কিপিং রোপ পাওয়া যায়। কয়েকটা কিনে বাড়িতে রাখুন। শিশুদের খেলতে দিন, সঙ্গে নিজেও খেলুন। এই ব্যায়ামে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি শরীরের গতি, ভারসাম্য এবং সমন্বয়ের চর্চা হবে। আধা ঘণ্টা দড়ি লাফে প্রায় ৫০০ ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব।
  • ৫। শরীরে শক্তি বাড়াতে হলে একটু আদিম আর বুনো হতে হবে। অনেক স্কুলের মাঠেই মাঙ্কি বার বা বানর ঝুলনি থাকে। শিশুরা এমনিতেই এটা পছন্দ করে। ঝুলে ঝুলে একটু একটু করে সামনের দিকে এগোনো কিংবা দলবেঁধে একসঙ্গে ঝুলে থাকা। দুই হাত, কাঁধ, পিঠসহ শরীরের ওপরের অংশকে সুগঠিত করতে এটা দারুণ কার্যকর। বাড়ির উঠোনে এমনকি ঘরের বারান্দাতেও ছোট্ট পরিসরে এই বানর ঝুলনি বানিয়ে নিতে পারেন।
  • ৬। শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন সব সময়ের জন্যই দৌড় এক দারুণ ব্যায়াম। শিশুরা মনের আনন্দে দৌড়াতে পারলেও বড়দের জন্য দৌড়ানোটা কষ্টকর হয়ে ওঠে। খোলা মাঠে দৌড়ানোর সুযোগ পেলে খুবই ভালো। শিশুদের মাঠে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। আর তা না হলে উদ্যানে বা ভোরের রাস্তায় দৌড়ানোর অভ্যাস তৈরি করতে পারেন।
  • ৭। হুলা হুপ বা কোমরে চাকতি ঘোরানো দারুণ মজার এক খেলা। একসময়, বিশেষ করে কিশোরীদের মধ্যে এই কোমরে চাকতি ঘোরানো খেলা দারুণ জনপ্রিয় ছিল। একবার এই ঘূর্ণি আয়ত্ত করে ফেলতে পারলে শিশুরা এতেই মত্ত হয়ে থাকতে চাইবে। প্রতি ১০ মিনিটেই ১০০ ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব এই চাকতি ঘোরানো।
  • ৮। সাঁতার শিশুদের জন্য এত ভালো আর প্রয়োজনীয় একটা ব্যায়াম যে, সম্ভব হলে সব স্কুলেই সাঁতারের ব্যবস্থা রাখতে পারলে ভালো হতো। এটা শিশুদের শরীর গঠনে দারুণ উপকারী। পুরো শরীরেই ব্যায়াম হয় সাঁতারে। মাংসপেশির গঠন, ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড শক্তিশালী করা এবং শরীরে সহনশক্তি বাড়ানোয় সাঁতার দারুণ উপকারী।
  • ৯। বাড়িতে যদি কুকুর থাকে তা হলে ওকে বিকালে ঘোরানোর দায়িত্ব বাচ্চাকে দিতে পারেন, সাথে আপনিও যান। এতে বাচ্চা অনেক মজা পাবে আর চমৎকার ব্যায়ামও হবে ।
  • ১০। বাচ্চাকে নিয়ে কাছে পিঠে কোথাও যেতে হলে গাড়ি বা রিকসায় না গিয়ে হেঁটে যেতে চেষ্টা করুন। খুব জোরে হাঁটার দরকার নেই, আস্তে আস্তে ওর সাথে গল্প করতে করতে হাঁটুন। এতে বাচ্চা ক্লান্তবোধ করবে না। গল্প করায় হাঁটতেও ওর ভালো লাগবে।

তবে ব্যায়ামের পাশাপাশি শিশুদের ঘাটতি পূরণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও ভিটামিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবারও খেতে দিতে হবে। তবে ১৪ বছর বয়সের আগে তাদের কোন জটিল আসন যেমন চক্রাসন করতে দেয়া ঠিক নয়। কারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে তাল রেখে এসব জটিল শারীরিক ভঙ্গি আয়ত্ত করা কঠিন। এটি তাদের বাড়ন্ত শরীরে উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY