শীতকালে মেয়েদের ত্বকের যত্নে কিছু টিপস

0
869
শীতকালে মেয়েদের ত্বকের যত্নে কিছু টিপস
5 (100%) 1 vote

শীতের সময় আপনার ত্বকের আকর্ষণীয়তা হারাতে পারেন যদি আপনি আপনার ত্বকের সঠিক যত্ন না নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই প্রচুর ঠাণ্ডায় আপনার ত্বক শুষ্ক ও আকর্ষণ হারাতে পারেন। বেশির ভাগ মেয়ের ধারণা, শীতে ত্বকের যত্নে নামীদামি প্রসাধন খুবই দরকার। আসলে সাধারণের এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। শীত আসার সাথে সাথে মেয়েদের ত্বকের আদ্রতা হারাতে শুরু করে। আর মেয়েদের ত্বক ছেলেদের তুলনায় পাতলা। তাই সমস্যা মেয়েদের ক্ষেত্রেই বেশি হয়। কিন্তু আপনিও পেতে পারেন সুস্থ ও স্বাভাবিক ত্বক কিছু টিপস ফলো করলেই। শীতকালে শুষ্ক শীতল হাওয়া ও বাতাসে বেড়ে যাওয়া ধুলাবালুর কারণে ত্বক হয়ে যায় খসখসে ও মলিন। তাই শীতকালে ত্বকের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দরকার বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা।

শীতকালীন ঋতু ত্বকের জন্য খারাপ সময় যা ত্বককে আরও ডেমেজ করে দেয়। শীতের সময় আমাদের ত্বকের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। আর যদি আপনি সময় মতো ত্বকের যত্ন না নিন তাহলে ত্বক আরও আদ্রতা হারাবে। কিভাবে শীত মৌসুমে আপনার ত্বকের যত্ন নিতে হয়? আপনি সহজেই এই সহজ টিপস অনুসরণ করে ঠান্ডা আবহাওয়া এবং ভয়ঙ্কর শীতের হাত থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করতে পারেন।

  • ত্বক যাতে সব সময় ময়েশ্চারাইজড থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শীতে মাখনের মতো মুখ ক্লিনার এমন ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। সবসময় মেকআপ ভালো ভাবে তুলবেন। আপনার ত্বক শুষ্ক বা তৈলাক্ত যাই হোক না কেন ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মুখ পরিস্কার করে ঘুমোতে যাবেন এবং শীতের সময় ভালো কোন ময়েশ্চারজার ক্রিম ব্যবহার করবেন। এতে আপনার ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকবে।
  • শীতে আপনি ত্বকের জন্য কলার ফেইসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে একটি পাকা কলা নিন এবং এর সাথে আপনি এক টেবিল চামচ মধু মিশেয়ে পেস্ট করে নিন। এই বার মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মধু মুখের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • অনেকে গরমে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে কিন্তু শীতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করে না। আপনাদের এই ধারনাটা ভুল সানস্ক্রিন ব্যবহার করে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করুন। সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মিতে শীতে আপনার ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। খেয়াল করুন আপনার সানস্ক্রিনটি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি কি না যাতে এটি ত্বককে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে।
  • আপনার ত্বকের শুষ্কতা দূর করার জন্য আপনি শীতের সময় সর্বদা লোশন ব্যবহার করবেন। রাতে শোবার আগে পা গরম পানিতে ধুয়ে কোনো ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে তারপর ঘুমাতে যান। কোল্ড ক্রিমের ক্ষেত্রে তৈলাক্ত ক্রিম বেছে নিন এবং লোশনের ক্ষেত্রে বেছে নিন গ্লিসারিন যুক্ত লোশন। শীতকালে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার আর হাতে-পায়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হল গোসলের পর।
  • winter-skin-2

  • আপনি শীতের সময় দুধ দিয়ে বানানো ফেইস প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে বাটিতে এক চা চামচ দুধ নিন। এরপর দুধের সাথে আপনি এক চা চামচ আমন্ড পেস্ট করে এর সাথে মেশান। এর সাথে আপনি এক চামচ মধু মেশান। এরপর এর সাথে এলোভেরা জেল মেশান। সবকিছু একসাথে ভালো করে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করেন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। এছাড়াও এটি ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে ময়েশ্চার বজায় রাখে এবং চেহারায় উজ্জ্বল ভাব নিয়ে আসে। যাদের দুধের সরে অ্যালার্জি হয় তারা লেবুর রসের মধ্যে গ্লিসারিন মিশিয়ে রাতে শোবার আগে হাত ও পায়ে লাগান। এতে ত্বকের রুক্ষতা দূর হবে।
  • শীতের দিনে বেশিরভাগ মানুষেরই গরম পানিতে গোসল করার অভ্যাস আছে। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি মেয়েদের ত্বকের জন্য খারাপ। তাই গোসলের সময় হালকা কুসুম গরম পানিতে আপনি গোসল করতে পারেন এবং এর সাথে সামান্য গ্লিসারিন বা কোন ভেষজ তেল যেমন টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিলে ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরে পাবে।
  • শীতে সবসময় ত্বক পরিষ্কার রাখুন। গোসলের সময় তেল ব্যবহার করুন। আপনি গোসলের সময় চাইলে আমলকীর তেল ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা এক কাপ দুধে চার-পাঁচ ফোঁটা আপনার পছন্দমতো তেল মিশিয়ে নিয়ে গোসলের সময় ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বক থাকবে মসৃণ এবং রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকবে না।
  • শীতের সময় ত্বকে অলিভ অয়েল মাখতে পারেন এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অলিভ অয়েল, নারিকেল তেল বা অন্য যে কোনো তেল ব্যবহারের আগে দেখে নেবেন সেই তেল আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা। অর্থাৎ ত্বকে কোনো ধরনের সমস্যা করছে কিনা। কারন দেখা যায় একেক জনের ত্বকের ক্ষেত্রে একেক ধরনের তেল ভাল কাজ করে। তবে যাদের ক্ষেত্রে নারিকেল তেল বা অলিভে ওয়েল ত্বকে সমস্যার সৃষ্টি করে তাদের জন্য অ্যাভোকাডো, প্রিমরোজ বা কাঠবাদামের তেল ভাল।
  • ত্বকের যেকোনো সমস্যা দূর করে, অসম গায়ের রং স্বাভাবিক করে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে হলুদ। একটি হলুদ পেস্ট করে তার সাথে তিন টেবিল-চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক সাথে মিশিয়ে আপনি খুব সহজেই এই প্যাক টি তৈরি করতে পারেন। এই মিশ্রণ ত্বকে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে এই শীতে আপনার ত্বকের উজ্জ্বল রং ধরে রাখতে পারবেন।
  • শীতের সময় অনেকে পানি কম খান। কারন শীতে আমাদের পিপাসা কম লাগে। যার ফলে আমাদের ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। তাই গরমে আমরা যেমন পানি খাই শীতেও আমাদের তেমন পানি খাওয়া উচিত। তাই প্রচুর পানি খেতে হবে এবং ঘরে তৈরি করে ফল ও সবজির জুস খেতে হবে। সারাদিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি খেতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য পানি খাওয়া খুব প্রয়োজন।
  • winter-skin-1

  • একটি টমেটো ও একটি লেবু নিন। একটি টমেটো নিয়ে ভালোভাবে থেঁতলে এর সঙ্গে লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি গলায় এবং মুখে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। শীতে এই মাস্ক ব্যবহারে রোদে পোড়া ভাব দূর হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়।
  • শীতে ঠোঁট এবং হাত-পায়ের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। শীতে ঠোঁট এবং হাত-পা শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। তাই আপনি শীতের সময় প্রতিদিন গোসলের পর হাত-পা এবং ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুল্বেন না তাহলে ঠোঁট ও হাত-পা ফাটবে না। এতে শীতের সময় আপনার ত্বক স্বাভাবিক থাকবে।
  • শীতে শশার ফেইস প্যাক অনেক বেশি কার্যকর। সবার প্রথমে একটি শশা কেটে পেস্ট করে নিন। এবার এর সাথে এক চামচ চিনি যোগ করে ১০-১৫ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। এরপর মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোওয়ায় সময় একটু পানি দিয়ে প্রথমে হালকা করে ঘষবেন যেন চিনি স্ক্রাবের কাজ করে। শশা মুখের দাগ দূর করতে বেশ কার্যকর। এছাড়াও শশা মুখের ত্বক মসৃণ করে এবং মুখের ক্লান্তি ভাব দূর করে। আর চিনি স্ক্রাব হিসিবে খুব ভালো একটি প্রাকৃতিক উপাদান।
  • শীতের সময় কখনই আপনি ক্ষার যুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না। এতে আপনার ত্বক আরও রুক্ষ করে তুলবে। তাই শীতের দিনে সমসময় প্রাকৃতিক তেল এবং গ্লিসারিন সমৃদ্ধ সাবান ব্যবহার করুন।
  • গোসলের পর ত্বক ভিজে থাকা অবস্থাতেই সারা শরীরে অলিভ অয়েল লাগাতে পারেন। অলিভ অয়েল ত্বকের ভেতরে গিয়ে পুষ্টি জোগাবে, ফলে ত্বক হয়ে উঠবে কোমল ও মসৃণ। শুধু তাই নয়, নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে।
  • এছাড়াও আপনি গোলাপ জল এই শীতের দিনে ব্যবহার করতে পারেন। খুব অল্প সময়ে সুন্দর ত্বক পেতে গোলাপ জল অনন্য। গোলাপ ফুল কিনে পাঁপড়িগুলো আলাদা করে একদিন জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে যতবার মুখ ধোবেন, ততবারই গোলাপ জল ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন গোলাপ জলে মুখ ধোয়ার সময় কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করবেন না। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে যে গোলাপ জল নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং শুধু সুন্দর ফর্সা হয়েছে তা-ই নয়, একটু গোলাপি বর্নও ধারন করেছে।
  • শীতে প্রতিদিনই রাত্রে শোবার আগে ত্বক পরিস্কার করে ভালো ব্র্যান্ডের একটা নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। এটা রুক্ষতা দূর করে ত্বক আদ্র করে তুলবে।
  • যাদের ত্বক শুষ্ক তারা শীতকালে অলিভ অয়েল হালকা গরম করে পুরো শরীরে ম্যাসাজ করতে পারেন। গোসলের পর এটি করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। এতে ত্বক ভাল থাকবে আর শরীরের ক্লান্তি দূর করে ত্বকে ফিরিয়ে আনবে নতুন জেল্লা।
  • শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধ অনেক কার্যকর। এছাড়া এর কোন আলাদা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। আপনি গোসলের সময় সারা শরীরে দুধ লাগিয়ে নিতে পারেন তারপর আপনি হালকা পানি দিয়েও ধুয়ে ফেলতে পারেন এবং তুলা দিয়ে মুছেও ফেলতে পারেন। তুলা দিয়ে পরিস্কার করলে শরীরে জমে থাকা অনেক ময়লা দূর হবে।

শীতকালে ত্বক সুন্দর রাখতে চাই বাড়তি যত্ন এবং সেই যত্ন অবশ্যই হতে হবে যথাযথ আর এই যত্ন কীভাবে নিবেন তা নিয়েই আমার আজকের লেখা। তাই এখন থেকেই শুরু হোক ত্বকের বাড়তি যত্ন। এতে শীতের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বককে করবে মসৃণ এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল। আশাকরি এই লেখাটি শীতে আপনার ত্বকের লাবন্যতা বজায় রাখবে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে আপনার ত্বক স্বাভাবিক থাকবে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY