শীতে ছেলেদের ত্বকের যত্নে ১২টি টিপস

0
653
শীতে ছেলেদের ত্বকের যত্নে ১২টি টিপস
Rate this post

গরম গিয়ে শীত চলে এসেছে। চারিদিকে শীতের আমেজ। ভাবছেন এই শীতে কিভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন। ছেলেরাও এখন পিছিয়ে নেই মেয়েদের তুলনায় রূপচর্চার দিক থেকে। তবে ত্বকের যত্নে ছেলেদের থেকে মেয়েরা কয়েকগুন বেশিই সচেতন। মেয়েরা তাদের ত্বক নিয়ে যে পরিচর্যা করে ছেলেরা তার কিছুই করে না। শীতকালে শুষ্ক শীতল হাওয়া ও বাতাসে বেড়ে যাওয়া ধুলাবালুর কারণে ত্বক হয়ে যায় খসখসে ও মলিন। তাই শীতকালে ত্বকের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় দরকার বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা। এই সময়ে নিয়মিত ত্বকের যত্ন না নিলে চোখের নিচে কালো দাগ, চামড়ায় ফাটলসহ নান চর্মরোগের সৃষ্টি হয়। তাই ছেলেদের সুবিধার্থেই আমার আজকের এই লেখা-

১। আপনার ত্বকের ধরন চিহ্নিত করুন
শীত ও গরম কি প্রথম ধাপই হচ্ছে আপনার ত্বকের ধরন কি তা জানা। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী মুখের জন্য পন্য ব্যবহার করুন। আপনার ত্বকে যদি না সুট করে তাহলে ঐ পন্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। যাচাইবাছাই করে ভালো মানের ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। কারণ, প্রসাধনী ভালো মানের না হলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় রোদের তাপ থেকে ত্বককে দূরে রাখতে হবে। বাইরে বেশিক্ষন অতিরিক্ত ধুলাবালি ও কড়া রোদে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্তমান বাজারে ছেলেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ও লোশন রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই করে ত্বকের জন্য সঠিক ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। কারণ, প্রসাধনীর মান ভালো না হলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

২। ঠোটের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলবেন না
এই শীতে ঠোঁটের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলবেন না। শীতে ঠোঁটের সমস্যাগুলো একটু বেশি চোখে পড়ে, ঠোঁটের চামড়া উঠে যায়, ঠোঁট ফেটে যায়, কারও কারও ঠোঁট ফেটে রক্ত আসে। ঠোঁটে সব সময় গ্লিসারিন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে, ঠোঁটের এসব সমস্যা থাকবে না। যাদের ঠোঁটের সমস্যা একটু বেশি তারা সানস্ক্রিন লাগতে পারেন। ধূমপায়ীরা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আর শীতে ধূমপান করলে ঠোঁটের বেশি ক্ষতি হয়। তাই এই অভ্যেস ত্যাগ করুন।

৩। শীতে পায়ের যত্ন নিন
পা ফাটা রোধ করতে রাতে ঘুমানোর আগে ভালভাবে পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে নিন, এবার পরিষ্কার মোজা পরে নিন। পেট্রোলিয়াম জেলি সারারাত ধরে তার কাজ করবে, ফলে আপনার পা থাকবে সুস্থ।

শীত বাড়লে প্রকটতর হয় পায়ের নানান সমস্যা— পা ফাটা এবং পায়ের দুর্গন্ধ অন্যতম। তাই এ সময়ে পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি। পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে পাতলা ছিদ্রযুক্ত মোজা ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের পর প্রতিদিন পারলে জুতা রোদে দিন। আর মোজা একদিন পরার পর ধুয়ে রোদে শুকান। দুর্গন্ধ এড়াতে পায়ে দুর্গন্ধনাশক লোশন ব্যবহার করুন। সমস্যা প্রকট হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নখের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা থেকে জীবাণু সংক্রমিত হয়ে পায়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়, তাই প্রতি মাসে অন্তত দুবার পেডিকিউর করলে পা থেকে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

শীতের দিনে আরেকটা কমন সমস্যা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী ফেটে যাওয়া। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের গোড়ালীটা একটু ঘষে নিতে পারেন। এতে মৃত কোষগুলো বের হয়ে যাবে। এছাড়া নিয়মিত মশ্চারাইজার যুক্ত লোশন ব্যাবহার করুন। এতে করে হাত পায়ের খসখসে ভাব থাকে না।

winter-skin-4

৪। মশ্চারাইজার
ত্বক ভেজা থাকা অবস্থায় মোয়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত মুখ ধোয়ার পর বা গোসলের পর দিনে কয়েকবার মোয়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মশ্চারাইজার যুক্ত ক্রীম ব্যাবহার করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ১/৪ কাপ দুধ এ ১ চামচ মধু ও ১ চামচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের শুষ্কতা তো কমবেই তার সাথে আপনার মুখ হয়ে উঠবে আরো কোমল ও উজ্জ্বল। যাদের ত্বক শুষ্ক তারা তৈলাক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন এবং যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা ময়েশ্চারাজিং ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। গোসল শেষ করার ৪-৫ মিনিটের মধ্যেই ময়েশ্চারইজিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ ধরে বজায় থাকে।

৫। এলোভেরা
এলোভেরার জেলোতে প্রচুর পরিমানে আন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ফাটা ত্বক সারিয়ে তুলতে অনেক উপকারী। সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন এলোভেরা জেল মুখে মেখে কিছুক্ষন অপেক্ষা করে মুখ ধুয়ে নিন। এটি ত্বকের মৃত কোষগুলো বের করে ত্বককে আরো উজ্জ্বল করে তোলে।

৬। কুসুম গরম পানিতে গোসল করবেন
শীতের দিনে বেশিরভাগ মানুষেরই গরম পানিতে গোসল করার অভ্যাস আছে। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি মেয়েদের ত্বকের জন্য খারাপ। তাই গোসলের সময় হালকা কুসুম গরম পানিতে আপনি গোসল করতে পারেন এবং এর সাথে সামান্য গ্লিসারিন বা কোন ভেষজ তেল যেমন টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিলে ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরে পাবেন। গোসলের পর লোশন লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। সেটি যেন ত্বকে ভালোভাবে মিশে যায়। তারপর বাইরে বেরোতে হবে। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে গোসল করবেন না। এতে শরীরে উৎপন্ন হওয়া তেল (body oil) ধুয়ে যায়। হালকা গরম পানিতে ৫-৬ মিনিটের মধ্যেই সেরে ফেলুন গোসল।

৭। প্রচুর পানি পান করুন
শীতের সময় অনেকে পানি কম খান। কারন শীতে আমাদের পিপাসা কম লাগে। যার ফলে আমাদের ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাই। শীত আর গরম সবসময়ই ত্বকের জন্য পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। তাই গরমে আমরা যেমন পানি খাই শীতেও আমাদের তেমন পানি খাওয়া উচিত। তাই প্রচুর পানি খেতে হবে এবং ঘরে তৈরি করে ফল ও সবজির জুস খেতে হবে। সারাদিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি খেতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য পানি খাওয়া খুব প্রয়োজন।

৮। হাতের যত্ন নিন
শীতে হাতের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। শীতে হাত-পা শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। তাই আপনি শীতের সময় প্রতিদিন গোসলের পর হাতে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না তাহলে হাত ফাটবে না। এতে শীতের সময় আপনার ত্বক স্বাভাবিক থাকবে।

winter-skin-3

৯। সঠিক ভাবে সেইভ করুন
শুষ্ক ত্বকে শেইভ করার সময় ব্লেডের সঙ্গে ত্বকে ঘর্ষণের ফলে চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই জায়গায় একাধিকবার রেজারের ঘর্ষণে ত্বকের চামড়া, ব্রণ ও ‘ইনগ্রৌন হেয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ত্বকে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় ছেলেরা নিখুঁতভাবে শেইভ করার জন্য দাড়ি যে পাশে উঠে তার বিপরীত দিক থেকে শেইভ করেন। যা করা একদমই উচিত নয়। কারণ এতে ব্লেডের আঘাতে চামড়া কেটে যেয়ে লোমকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কেটে যাওয়া স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। স্পর্শকাতর এবং শেইভ করতে সমস্যা হয় এমন ত্বকের ক্ষেত্রে গোসলের সময় বা গোসলের পরপরই শেইভ করা উচিত। তাই সঠিক উপায়ে দাড়ি কামাতে হবে, এতে ত্বক মসৃণ থাকবে।তাছাড়া বারবার একই জায়গায় শেইভ না করে মুখের প্রতিটি অংশে একবার করে শেইভ করা ভালো। শেইভ করার এক মিনিট আগে ত্বকে শেইভ জেল লাগাতে হবে।

১০। শেইভের পরে সুগন্ধি পণ্য এড়িয়ে চলুন
শেভ করার পর ত্বকে ক্রিম লাগানো যেতে পারে। এতে করে ত্বকে ফাটল ধরবে না। প্রসাধনীতে থাকা রং এবং সুগন্ধি ছেলেদের ত্বকের জন্য ভালো নয়। সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ত্বকের ক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখে। বাজারে যেসব পণ্যে সুগন্ধি নেই বলে বিক্রি করা হয়, মূলত সেসব পণ্য সুগন্ধি মুক্ত না। এসব পণ্যে মাস্কিং সুগন্ধি থাকে। স্পর্শকাতর ত্বকে আফটার শেইভ ব্যবহার করা উচিত না। কারণ আফটার শেইভে সুগন্ধির পরিমাণ বেশি থাকে যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সেক্ষেত্রে স্পর্শকাতর ত্বকে হালকা, অয়েল-ফ্রি মোয়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

১১। সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
শুষ্ক বা শীতের মৌসুমে ছেলেদের উচিত মোয়েশ্চারাইজ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। অনেকে গরমে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে কিন্তু শীতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করে না। আপনাদের এই ধারনাটা ভুল সানস্ক্রিন ব্যবহার করে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করুন। সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মিতে শীতে আপনার ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। খেয়াল করুন আপনার সানস্ক্রিনটি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি কি না যাতে এটি ত্বককে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে।

১২। প্রচুর শাক সবজি খান
শীতকালে বেশি করে শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে ত্বকের সতেজতা বজায় থাকবে। ত্বকের জন্য ফল সবসময়ই উপকারি। তাই এখন সম্ভব হলে দিনে একটি করে হলেও ফল খান। শুকনো খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে প্রতি বেলাতেই শাকসবজি রাখতে হবে।

নিয়মিত ত্বকের যত্ন না নিলে চোখের নিচে কালো দাগ, চামড়ায় ফাটলসহ নান চর্মরোগের সৃষ্টি হয়। আর এসব সমস্যা থেকে থেকে রক্ষা পেতে হলে সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হয়। আশাকরি আমার এই লেখাটি এই শীতে আপনার ত্বকের লাবন্যতা বজায় রাখবে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে আপনার ত্বক স্বাভাবিক থাকবে।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY