শীতে মেয়েরা কিভাবে চুলের যত্ন নিবেন?

0
600
শীতে মেয়েরা কিভাবে চুলের যত্ন নিবেন?
5 (100%) 1 vote

শীতকালে চুলের সমস্যা দূর করার জন্য বাজারে অনেক ধরনের পন্য এখন পাওয়া যায়। এর চেয়ে সহজ কিছু সমাধান আপনাদের দিব যার মাধ্যমে এই শীতে আপনার চুলের রুক্ষতা দূর করতে পারবেন। আর এর জন্য আপনি বাসাতেই সহজ কিছু নিয়ম অনুসরন করতে পারেন। আপনাকে কষ্ট করে পার্লারে যেতে হবে না। ঘরোয়া উপায়ে কিছু হেয়ার মাস্ক তৈরি করে চুলের যত্ন নেওয়া গেলেই অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। শীতের মৌসুম আসার সাথে সাথে চুল ঠাণ্ডা বাতাসে আরও রুক্ষ হয়ে যায়।

১। শুষ্কতা দূর করার জন্য কুসুম গরম তেল ব্যবহার করুন
শুষ্ক ও ভঙ্গুর চুলের জন্য গরম তেল অনেক উপকার। আপনি জবা তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল বা সহজলভ্য নারকেল তেলের মত আরও অনেক তেল আছে যা আপনি ব্যবহার করতে পারেন। একটি বাটির মধ্যে বাদাম তেল, জবা তেল এবং খাঁটি নারকেল তেল সমান অংশ নিন। চার থেকে পাঁচ মিনিট সামান্য আগুনের আঁচে তেল গরম অরে নিন। অতিরিক্ত গরম তেল চুলের জন্য অনেক ক্ষতিকারক। এর পর হালকা মেসেজ করুন মাথার তালুতে কুসুম গরম তেলটি। এটি গরম তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় পেঁচান। এভাবে ১ ঘণ্টা থাকার পর চুলে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

২। শুষ্কতা দূর করতে কলা ও আভাকাডোর ব্যবহার
একটি পাকা কলা এবং একটি বাটির মধ্যে দুটি পাকা আভাকাডো নিন। তারপর এই দুটি উপকরন একসাথে মিশিয়ে নিন। ভালো করে পেস্ট করুন যাতে দানা না বাঁধে। তারপর চুলে ভালো করে মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন। ২০ থেকে ৩০ মিনিট আপনার মিশ্রণটি লাগিয়ে রেখে দিন চুলে। তারপর শ্যম্পু করে ফেলুন।

৩। শুষ্কতা দূর করতে অ্যাভাকাডোর ব্যবহার
এই মাস্ক তৈরি করতে প্রয়োজন হবে মেয়োনেজ, অর্ধেক পাকা অ্যাভোকাডো। অ্যাভাকাডো ভিতরের অংশ নিয়ে একটি চামচের উল্টা দিক দিয়ে মিহি পেস্ট করে চুলের দৈর্ঘ্য অনুসারে প্রয়োজন মতো মেয়োনেজ নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এটি পুরো চুলে আঙুল দিয়ে লাগিয়ে নিতে হবে। চুলের নিচের অংশে যেন ভালোভাবে পেস্ট লাগানো হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। এরপর ভেজা এবং উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে পুরো চুল ২০ মিনিট পেঁচিয়ে রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাক গভীরে পুষ্টি জুগিয়ে চুল নরম ও মজবুত করতে সাহায্য করে।

৪। শীতের শুষ্কতা জন্য ডিমের সাদা অংশ
ডিমের উচ্চ মাত্রার প্রোটিন চুলের ফলিকলে পুষ্টি প্রদান করে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। এই মাস্কের সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং আয়োডিন চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে।
১ টি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। চুলে ভালো করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।

৫। কলা ও জলপাই তেলের মিশ্রন
কলা ও জলপাই তেলের মিশ্রণটি আপনার চুলের রুক্ষতা দূর করে আরও ঝলমলে করে তোলে। সবার প্রথমে আপনি একটি কলা একটি বাটিতে ভালো করে পেস্ট করে নিন এবং তা যেন একেবারে মিহি থাকে। তারপর তার সাথে আপনি পরিমান মতো তেল মিশিয়ে নিন। মেশানো শেষ হলে আপনার পুরো চুলে মিশ্রণটি ভালো করে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

hairt-1

৬। গরম তেল ও জবা ফুলের মাস্ক
এই মাস্ক তৈরিতে প্রয়োজন হবে আধা কাপ ক্যাস্টর তেল, আধা কাপ কারি পাতা, আধা কাপ নারিকেল তেল, এক কাপ জবা ফুল। একটি পাত্রে তেল, কারি পাতা ও জবা ফুল নিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল দিতে হবে এবং নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ পর গরম হয়ে গেলে তেল ছেঁকে আলাদা করে রাখতে হবে। তেল যখন কুসুম গরম হবে তখন চুলের গোড়ায় ও পুরো চুলে লাগিয়ে ভালোভাবে মালিশ করতে হবে। তারপর একটি গরম তোয়ালে দিয়ে চুল পেঁচিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এই তেল সপ্তাহে দুবার ব্যবহারে চুলের শুষ্কভাব দূর হবে এবং খুশকির সমস্যাও কমবে।

৭। নিয়মিত নারকেল তেলের ব্যবহার করুন
অনেকের ধারনা তেল চুল লম্বা করে তাড়াতাড়ি। কিন্তু তেল এর জন্য না। আপনি নিয়মিত আপনার মাথার তালুতে তেল মেসেজ করলে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। ফলে আপনার চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে এবং চুলের গোড়া শক্ত করে।

৮। চা ও লেবুর মিশ্রনের প্যাক
ঝলমলে চুলের জন্য দারুণ কাজ করে চায়ের লিকার ও লেবুর মিশ্রণটি অনেক কার্যকর। চুল যেমনি হোক না কেন তৈলাক্ত, শুষ্ক বা স্বাভাবিক- এই চায়ের লিকার মানিয়ে যাবে খুব সহজে।
এটা তৈরির জন্য দুই কাপ পানি নিন। তার মাঝে ৬ টেবিল চামচ ফ্রেশ চা পাতা দিন। এটাকে এখন অল্প আঁচে চুলায় ফুটতে দিন। ফুটে ফুটে লিকার ঘন হবে। এবং দুই কাপ পানি কমে এক কাপের কম হলে বুঝবেন যে রেডি। এখন এটাকে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। আর দুই টেবিল চামচ লেবুর রস তার মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে এই মিশ্রণ মাখুন। ৫ মিনিট পর সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

৯। মেহেদী, টক দই ও ডিমের সংমিশ্রণ
-১/৪ কাপ মেথি গুঁড়োর তার সাথে ১ কাপ টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মাথার তালুসহ সম্পূর্ণ চুলে এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। ২ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক বার ব্যবহার করুন। এই প্যাকটি চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।
– টকদই, বাদাম তেল এবং একটি ডিম ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলের গোড়া থেকে সম্পূর্ণ চুলে ভাল করে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। ডিমের পুষ্টি এবং তেলে চুলের রুক্ষতা দূর করে দিয়ে চুল সিল্কি করে তোলে।
– মাথার তালুর রুক্ষতা, খুশকি দূর করতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর। তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল টক দইয়ের সাথে ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি মাথার তালুতে ১০ মিনিট চক্রাকারে ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে দুই বার ব্যবহার করুন।

১০। শীতকালে চুলে শ্যাম্পু করার নিয়ম
এই শীতে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন চুল ধোয়া নিয়ে। ঠান্ডায় রোজ চুল ধোয়াটা বেশ বিরক্তিকর। এই আবহাওয়ায় চুল নিষ্প্রাণও হয়ে পড়ে অনেকের। মাথার ত্বক যাদের তৈলাক্ত, তাঁদের তেলবিহীন এবং কন্ডিশনারের মাত্রা কম এমন শ্যাম্পু বেছে নিতে হবে। শুষ্ক চুল যাঁদের, তাঁরা শ্যাম্পু কেনার সময় তাতে কন্ডিশনার ও শ্যাম্পুর পরিমাণটা সমান আছে কি না, তা দেখে নিন। শ্যাম্পুর ব্র্যান্ডটা যা-ই হোক না কেন, নিয়মিত ব্যবহারের পর চুলের সঙ্গে তা মানিয়ে নিতে ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় লাগে। শ্যাম্পু করার আগে চুলগুলো হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর হাতের তালুতে একটু শ্যাম্পু নিয়ে তার চেয়ে একটু বেশি পরিমাণে পানি মিশিয়ে নিন। এবার শ্যাম্পুর মিশ্রণটা আলতো করে মাথার তালুতে লাগান। অনেকেই মাথার ত্বক আঙুল দিয়ে জোরে জোরে ঘষে পরিষ্কার করে থাকেন। এতে চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ভালো মানের একটি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারও এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিদিন নয় বরং কয়েক দিন পর পর শ্যাম্পু করুন (সপ্তাহে দুই দিন)। তবে চুল ধুলোবালির কারণে যদি অতিরিক্ত ময়লা হয়ে যায় তখন প্রয়োজনের ভিত্তিতে শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়ার কাজটি করতে হবে। আর এজন্য কনকনে ঠাণ্ডা কিংবা গরম পানি নয়, বরং কুসুম গরম (দেহের তাপমাত্রার) পানি ব্যবহার করুন।

শীতকালটি অন্য সব ঋতু থেকে আলাদা। এ সময় চুলের রূক্ষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও রয়েছে কয়েকটি অযাচিত ঝামেলা, যা থেকে চুলকে রক্ষার জন্য বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। এ লেখায় রয়েছে শীতকালে চুলের যত্নে কয়েকটি টিপস।

Afrin Mukti

Afrin Mukti

Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
Afrin Mukti

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY