সফল উদ্যোক্তার কিছু বৈশিষ্ট্য

0
1024
সফল উদ্যোক্তার কিছু বৈশিষ্ট্য
4.3 (85%) 4 votes

আপনি কি একজন উদ্যোক্তা হতে চান? উদ্যোক্তা হওয়া কিন্তু এত সহজ কাজ না। একজন উদ্যোক্তার মধ্যে যে গুনাবলী থাকে সাধারণ মানুষদের মধ্যে তা সাধারণত থাকে না। অনুশাসন, চেষ্টা, কঠোর প্ররিশ্রমের মনোভাব এই ধরণের আরো অনেক গুণে গুণান্বিত হয়ে থাকেন একজন বাণিজ্যের নাবিক।
প্রত্যেক ব্যবসায়ী যার যার দিক থেকে ভিন্ন এটা কিন্তু সত্য। কিন্তু কিছু কিছু আছে যা আপনি সকল সফল উদ্যোক্তাদের মধ্যে পাবেন। নিচে এমনি কিছু অভ্যাসের কথা আলোচনা করা হল-

  • ১. সফল উদ্যোক্তারা তাদের দিনের কাজ আগেই পরিকল্পনা করে নেন। কিভাবে তারা তাদের পরবর্তী সকালের নানান ঝামেলা, কাজ সারবেন তা তারা আগের দিনই ভেবে রাখেন। সময় মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সফল উদ্যক্তাদের জীবনে। তাছারা সকলই সময়ের ব্যপারে বেশ সতর্ক।
  • ২. সুস্থ্য থাকাটা সবচেয়ে বেশী জরূরী একজন মানুষের জন্য। কেননা সুস্থ্য থাকলেই সে তার যে কোন কাজ করে ফেলতে পারবে। সফল উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই মিলটি পাওয়া যায়। তারা সুস্থ্য থাকার জন্য ভাল খাবার খান এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করেন।
  • ৩. একজন সফল উদ্যোক্তার মাথায় সবসময় থাকে কিভাবে তিনি তার বাণিজ্যিক দ্রব্য দিয়ে ক্রেতাকে সর্বোচ্চ সেবাটি দিতে পারেন। এতে করেই আসে সফলতা। সকল সফল উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই মিলটি দেখবেন। তারা ক্রেতাকে ভাবেন ঈশ্বরসম। সেবা গ্রহণকারী খুশী না থাকলে বাণিজ্যের উন্নতি হবে না কখনই এটা তাঁরা ভালোই বোঝেন।
  • ৪. সফল উদ্যোক্তাদের মাথায় পরিস্কার থাকে তাদের লক্ষ্য। কোথায় তারা যেতে চান, কিভাবে যেতে চান থাকে তার পূর্ণ পরিকল্পনা। নিজের লক্ষ্য স্থির করতে পারলে আর পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে পারলে তারা সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন।
  • ৫. সফল উদ্যোক্তারা সকলই তাদের ব্যবসার মধ্যে খুব চিন্তা ভাবনা করে ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে চাইলে ঝুঁকি আপনাকে নিতেই হবে। আর সেই ঝুঁকিটা নিতে পরিকল্পনা, বাজারের চাহিদা আরো কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যাপার গবেষণা করে। আর সকল সফল উদ্যোক্তারা এই ধরণের ঝুঁকি নিতে থাকেন প্রস্তুত সর্বদা। সুযোগ বুঝে কোপ।
  • ৬. তারা তাদের শক্তি এবং দূর্বলতা সম্পর্কে থাকেন ওয়াকিবহাল। সফল উদ্যোক্তাদের সকলেই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকেন। তারা সকলেই জানেন তাদের শক্তিশালী দিক কোনটি কোনটি তাদের দুর্বল দিক। সেই মোতাবেক তারা ব্যাবসায়ে নানান সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
  • ৭. তারা সবসময় গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা করেন। একজন সফল উদ্যোক্তা তার চারপাশের সব কিছু থেকে শেখার চেষ্টা করেন। ভুল থেকে শেখার চেষ্টা করেন। নতুনভাবে তা ব্যবসায়ে কাজে লাগান।
  • entre-2

  • ৮. তারা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। ভাল একটি সুযোগ কোন উদ্যোক্তার হাত থেকে খসে পড়ে না। আর তা হলে তাঁরা সফল উদ্যোক্তা হতেন না। ভাল সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকা সফল উদ্যোক্তাদের আরেকটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য।
  • ৯। ব্যবসা শুরুর আগে মনে রাখতে হবে, ব্যবসা করতে গেলে ঝুঁকি থাকবে। আর এ ঝুঁকি থাকার মন-মানসিকতা থাকতে হবে। ইতিবাচক মনোভাব অবশ্যই থাকতে হবে।
  • ১০। উদ্যোক্তা হতে হলে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। তিল তিল করে গড়ে তোলা বিজনেস এক সময় বিশাল শিল্প সামাজ্য করে সাজাতে সততা আর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। এরপর আপনাকে হতে হবে ডায়নামিক এবং চৌকস। কেননা উদ্যোক্তা হতে আপনাকে পিওন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রধানের সঙ্গে পর্যন্ত কথা বলতে হবে। অধিক পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো কারণে কাজে সফল না হতে পারলে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। অধিক মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
  • ১১। কৌতূহল সফল উদ্যোক্তাদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এটি বাজার যাচাই, সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেন। ব্যবসায়িক নতুন কলা কৌশল উন্নয়নেও সহায়তা প্রদান করে থাকেন।
  • ১২। প্রত্যেক মানুষের কিছু গুণ থাকে। সফল উদ্যোক্তার প্রধান গুণ হচ্ছে আত্মবিশ্বাস। যার আত্মবিশ্বাস যত বেশি তার সাফল্য তত বেশি। যদিও এটি অর্জন করা কঠিন। সফল উদ্যোক্তা তার আশপাশের আত্মবিশ্বাসী লোকদের মধ্যে অন্যতম। আপনাকে হতে হবে স্থির ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, যা আত্মবিশ্বাসকে আরও বৃদ্ধি করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।
  • ১৩। সব কাজেই একটা উদ্দেশ্য থাকে, উদ্দেশ্যবিহীন কাজ ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না। বিশ্বাস করতে হবে আপনি ব্যতিক্রমী কিছু করতে সক্ষম।
  • ১৪। মনে মনে আপনার ব্যবসার দৃশ্যকল্প আঁকুন। কীভাবে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে দেখুন। সেখানে নানা রকম দৃশ্যপট উপস্থাপিত হবে। সবকিছু সুচারুভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। একজন সফল উদ্যোক্তা তার বাস্তব জীবনে দৃশ্যপটের যথাযথ প্রয়োগে সফলতা অর্জনে সক্ষম হন।
  • ১৫। কঠোর ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে ব্যবসার পথকে অধিকতর মসৃণ করতে হবে। ব্যবসায় সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতা নামক শব্দটি থাকে। ব্যর্থতা নামক শব্দটিতে ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসার সুদীর্য পথ অতিক্রম করে সফল উদ্যোক্তা হতে অবশ্যই ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
  • ১৬। বর্তমান সময়ে ব্যবসার প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তনশীল। ব্যবসার শুরু থেকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। যারা আপনার প্রতিপক্ষ তাদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করতে হবে। সফল উদ্যোক্তাকে বহু সমুদ্র যাত্রার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দক্ষ ও ঝানু নাবিকের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। যিনি ভবিষ্যতকে দেখতে পান। সব ব্যবসায়িক সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে সর্বোত্তম উপায়ের সমাধানের পথ খুঁজে বের করেন।
  • ১৭। এখন সর্বক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা। ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকবেই। একজন সফল উদ্যোক্তার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী মনোভাব থাকতে হবে। সফল উদ্যোক্তা সব সময় ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন। বিশ্বের সফল ক্রীড়াবিদের মতো উদ্যোক্তাদের সেরা হতে হলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার সময় তাদের প্রতিযোগীদের অতিক্রম করার উপায় বের করতে হয়।
  • ১৮। সফল ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা কখনও কাজ সম্পূর্ণ করতে অলসতা করেন না। তাদের হাতে যখন কোনো কাজ থাকে, তখন তারা দিন-রাত তাদের সম্পূর্ণ শ্রম এবং মেধা দিয়ে কাজটি পরিপূর্ণ করে থাকেন। কাজের ক্ষেত্রে তাদের কাছে অন্য সবকিছু গুরুত্বহীন মনে হয়। এ পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় তাদের ব্যর্থদের থেকে আলাদা করে থাকে।
  • entre-1

  • ১৯। সফল উদ্যোক্তারা জানেন যে তাদের পক্ষে কী করা সম্ভব এবং কী করা সম্ভব নয়। তাই অন্যরা যখন কাজের ভয়ে না বলেন বা পারবেন না বলে কাজ পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন সফল ব্যক্তিরা তাদের সবকিছু বিবেচনা করেই সুযোগকে হ্যাঁ বলেন। এর ফলে ক্লায়েন্টদের কাছে অন্য সবার থেকে সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন আলাদা। অনেক সময় ক্লায়েন্টরা অন্য কাউকে না খুঁজে সরাসরি সফল ব্যবসায়ীদের আর কাজ করার এবং আরও আয় করার সুযোগ দিয়ে থাকেন।
  • ২০। সফল উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করেন রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আর যদি রাগ বা ভয়কে জয় করা না যায় তাহলে সুযোগ হাতছাড়া হয়। সফল মানুষ সেই ভয় বা রাগকে কাবু করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা অন্যরা পারেন না। যদি কখনও পরিবেশ আপনার প্রতিকূলে চলে যায় তাহলে রাগ বা ভয়ের কাছে মাথা নত না করে আপনার মেধা ও চিন্তাশক্তি দিয়ে পরিবেশকে নিজের মতো করতে শিখুন। তাহলেই আপনি যেতে পারবেন আপনার চূড়ান্ত সফলতার আরও অনেক কাছাকাছি।
  • ২১। সফলতার প্রধান সূত্র হচ্ছে আপনাকে স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্নকে সত্যি করতে কাজ করে যেতে হবে। কিন্তু তাই বলে স্বপ্ন দেখে সফলতার কথা ভেবে কাজ বন্ধ করে দিলে চলবে না। যদি আপনার মনে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থাকে তাহলে বসে না থেকে কাজে লেগে পড়ুন।
  • ২২। সফল ব্যক্তিরা মোটামুটি কাজে বা গা ঢাকা কাজে সন্তুষ্ট হন না। যারা মোটামুটি কাজ করে দ্রুত আয় করার চেষ্টা করেন তাদেরও তারা পছন্দ করেন না। স্টিভ জবস যখন এপেল’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন তখন অধিকাংশই তাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন। কেননা স্টিভ জবস কখনই মোটামুটি কাজ করা পছন্দ করতেন না এবং এ ধরনের কাজ যারা করেন তাদের পছন্দ করতেন না।
  • ২৩। সফল মানুষ অতিরিক্ত ভাব নিয়ে চলেন না। সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে তারা কৌশল অবলম্বন করেন। কেননা এতে করে তারা সঠিক সুযোগ হাতছাড়া করে ফেলতে পারেন। তারা নতুন কারও সঙ্গে দেখা হলে হাসিমুখে অভিবাদন জানান এবং প্রশংসা করেন।
  • ২৪। এর মানে এই নয়, আপনাকে একজন স্কলার হতে হবে। এন্টারপ্রেনিয়ারদের বুদ্ধিমত্তা একটু ভিন্ন ধরনের। এক্ষেত্রে আপনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন সে ব্যাপারে আপনার থাকতে হবে পুরোপুরি স্বচ্ছ ধারণা। আর এ ধারণা রাখতে হবে ব্যবসা শুরুর আগেই। কমনসেন্সের সঙ্গে আস্তে আস্তে শুরু হওয়া আপনার অভিজ্ঞতাই আপনাকে করে তুলবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে বুদ্ধিমান।
  • ২৫। সর্বোপরি উদ্যোগের শুরুতেই নিশ্চিত করতে হবে প্রয়োজনীয় মূলধন। বিশেষ করে প্রথম বছরের সব খরচ এবং বিনিয়োগের পুরো টাকাই থাকা চাই আপনার হাতে। পরের বছরগুলোর জন্য হয়তো তারল্য নির্ধারণ করে আপনি ব্যবসার আয় থেকেই সব খরচ নির্বাহ করতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশের অনেক সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক, এনজিও তৈরি আছে আপনাকে সাহায্যের জন্য। এর মধ্যে অনেক বছর ধরে এসএমই বা ক্ষুদ্র ঋণের মাধমে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু বেসরকারি ব্যাংক বিভিন্ন রকম সাহায্য করে আসছে।
Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj

Shaila Shahanaj lives with deep passion of in psychology. She have expertise in behavior and mind, embracing all aspects of conscious and unconscious experience as well as thought.
Beside she loves music and read lots of books.
Shaila Shahanaj

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY