সফল ব্যবস্থাপকের যে সকল গুন থাকা আবশ্যক

    0
    1545
    সফল ব্যবস্থাপকের যে সকল গুন থাকা আবশ্যক
    5 (100%) 1 vote

    সেরা ব্যবস্থাপকরা যে কোন পরিবেশেই মানানসই। কখন শান্ত থাকতে হবে আর কখন জেদী হতে হবে তারা তা খুব ভালোভাবে বুঝেন। ব্যক্তিত্বের মত তাদের ব্যবস্থাপনার ধরণও সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু প্রত্যেকে যতই আলাদা বৈশিষ্টের হোন না কেন কিছু অবধারিত গুনাবলী প্রত্যেক প্রতিশ্রুতিশীল ব্যবস্থাপকের মধ্যেই থাকে। পাশাপাশি কিছু ত্রূটি তারা বর্জন করে থাকেন। আর এসব কারণেই তাদের সফলতার ধারা অব্যাহত থাকে।

    চাকরি জগতে লোভনীয় পদ হচ্ছে ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপকের পদ। এ দায়িত্বে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে যোগ্য হতে হবে। যেমন- সেরা ব্যবস্থাপকরা যে কোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। কখন কীভাবে কাজ আদায় করে নিতে হয়, তারা এটা ভালো বোঝেন। প্রয়োজনমতো তারা কখনও থাকেন রাগী রাগী ভাব নিয়ে, আবার হাসিমুখেও কাজ আদায় করে নিতে তাদের জুড়ি নেই। ব্যক্তিভেদে ব্যবস্থাপনার ধরন অবশ্য পাল্টায়। এরপরও সব দক্ষ ব্যবস্থাপককে একই রকমের কিছু কৌশল অনুসরণ করতে হয়। তার কিছু আলোচনা করা হল।

    • বড় স্বপ্নঃ
      একজন আদর্শ ব্যবস্থাপক তার প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য আশা নিয়ে কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে তার চিন্তা-চেতনার সবটুকু উজাড় করে দেবেন। সফল ব্যবস্থাপক তার শাখা বা বিভাগ থেকে এমন সব উদ্যোগ ও কৌশল নিয়ে কাজ করবেন, যা প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের অগ্রগতি নিশ্চিত করে।
    • আচরণে ভারসাম্যঃ
      ব্যবস্থাপনার কাজে আপনার আচরণ হতে হবে ভারসাম্যমূলক। জেনেশুনে একজন একগুঁয়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে কারও আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আপনার স্বভাব সম্পর্কে যদি এক ধরনের অনিশ্চয়তা থাকে, তবে যে কারও জন্য কাজ চালিয়ে নেয়া কঠিন। কারণ আপনার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে, আপনার আশা- আকাঙ্কখা ও হিসাব-নিকাশের সঙ্গে অন্য কারও মানিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে যাবে। একদিন কোমল ও হাসিখুশি, পরদিন নিয়ন্ত্রণমূলক ও জেদি- এ জাতীয় অস্থির প্রকৃতির ব্যবস্থাপকদের জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সংকটে থাকেন।
    • কর্মীর গুরুত্বঃ
      সফল ব্যবস্থাপক তার কর্মীদের গুরুত্বের চোখে দেখেন। এতে তার বসকে তিনি যেমন সম্মান দেন, ঠিক তেমনি সম্মান পান কর্মীদের কাছ থেকেও। আপনি আপনার কর্মীদের যদি আলাদা করে গুরুত্ব দেন, তবে ভালো কিছু অর্জনের সম্ভাবনা অনেক অনেক বেড়ে যাবে।
    • প্রশ্ন করার সুযোগঃ
      ব্যবস্থাপনার কাজে কর্মীদের জিজ্ঞাসার সুযোগ রাখতে হবে। এটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুচিন্তিত ও সম্মানজনক একটি প্রক্রিয়া। একজন সহকর্মী আপনাকে যেভাবে প্রশ্ন করে, অধঃস্তনদেরও সেভাবে জানতে চাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, কর্মীরা আপনার খেয়াল-খুশিমতো কথা বলবে, তার জন্য তাদের নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারা আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পেলে, অনেক সংকটের সহজ সমাধান মিলবে।
    • বিশ্বাস অর্জনঃ
      সফল ব্যবস্থাপক হতে হলে, আপনার কথা ও কাজে মিল থাকতে হবে। সবার বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে আপনাকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। সহজেই যেতে পারবেন, ব্যবস্থাপনা জগতের সর্বোচ্চ শিখরে।
    • প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখাঃ
      সেরা ব্যবস্থাপকরা তাদের সম্পূর্ণ ধ্যান দিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে চলেন। তারা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ ও ইউনিটের উন্নতির জন্য তারা কার্যকরী ও বিশাল উদ্যোগ গ্রহন করেন।
    • manager-1

    • নিজের ও কর্মীদের সময়কে একইভাবে গুরুত্বারোপ করাঃ
      সেরা ব্যবস্থাপকরা সবসময় সম্মানিত হন কারণ তারা তাদের কর্মীদেরকে তাদের বসদের মতই গুরুত্ব দেন। কোন কাজের জন্য তাদেরকে অপেক্ষা করিয়ে রাখেন না। সময়ের কাজ সময়ে করেন। এতে করে কর্মীরা ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে মূল্যবান ভাবতে পারে এবং একই সাথে তারা ব্যবস্থাপককেও সম্মান করতে থাকে।
    • নিজের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর দিতে নির্ভয় থাকাঃ
      প্রশ্নকর্তার প্রশ্নটি অবশ্যই সুচিন্তিত হতে হবে। অফিসের কোন কর্মী কিংবা অন্য কেউ যদি কেউ আপনাকে প্রশ্ন করে তার সঠিক ও সুন্দর উত্তর দিতে হবে। কখনই রাগান্বিত কিংবা ঝগড়াটে হওয়া যাবে না। আপনি যদি সৎ হোন প্রশ্নের উত্তর দিতে কখনোই ভয় পাওয়ার কথা নয়। সেরা ব্যবস্থাপকরা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় কখনোই ভয় পান না কিংবা অস্বস্তিতে ভুগেন না কারণ তারা সৎ থাকেন।
    • ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন নাঃ
      মানুষজন যখন আপনাকে খুশি করার জন্য উঠে পড়ে লাগবে আপনি চাইলে তখন এ থেকে সুযোগ গ্রহন করতে পারেন। আপনার ক্ষমতাকে চাইলে আপনি অপব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু একজন সেরা ব্যবস্থাপক সবসময় অন্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন ও বেআইনীভাবে কখনো ক্ষমতার ব্যবহার করেন না।
    • পক্ষপাতিত্ব করবেন নাঃ
      আপনার অফিসে এমন অনেক কর্মী আছেন যারা স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের চেয়ে বেশি আকর্ষনীয়। সব মানুষের মধ্যে একই ধরণের গুন বা ক্যারিশমা থাকে না। কিন্তু আপনি যদি শুধুমাত্র আকর্ষনীয়দেরকে নিয়েই কাজ করেন আপনার পরাজয় অবধারিত। সেরা ব্যবস্থাপকরা কখনোই এমন করেন না। তার সবাইকে সবসময় সমান দৃষ্টিতে দেখেন ও সবাইকে কাজের সমান সুযোগ দেন।
    • দুর্বল সিদ্ধান্ত নিতে বিরত থাকুনঃ
      সিদ্ধান্ত হতে হয় বিচক্ষন ও যৌক্তিক। কখনোই আবেগ দ্বারা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। প্রতিদিন আমাদেরকে নানা হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যার ফলে আমরা প্রায় আবেগতারিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। কিন্তু সেরা ব্যবস্থাপকরা কখনোই আবেগতারিত হয়ে কিংবা রাগান্বিত অবস্থায় হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন না।
      সমস্যা এড়িয়ে যাবেন না

    সেরা ব্যবস্থাপক কখনোই বিরোধপূর্ণ সমস্যা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন না। বরঞ্চ এ অবস্থাকে সমাধানের দিকে কিভাবে পৌঁছানো যায় সেজন্য নিজেকে সচেষ্ট রাখেন। যে কোন সমস্যাকে বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সমাধানের দিকে এগিয়ে নেয়াই সেরা ব্যবস্থাপকের কাজ। সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া কখনোই সুদক্ষ ব্যবস্থাপকের কাজ হতে পারে না।

    কর্মীদের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করবেন না

    সেরা ব্যবস্থাপকরা সবসময় মেধাবী কর্মীদের নিয়ে শক্তিশালী একটি টিম তৈরির জন্য চেষ্টা করেন। ভালকর্মীদের দ্বারা ভাল ফলাফল বয়ে আনা সম্ভব। কখনোই কর্মীদের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহের মধ্যে থাকা যাবে না। কারণ এর ফলে কর্মীদের নিয়ে কাজ করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

    Afrin Mukti

    Afrin Mukti

    Afrin complete her MBA in marketing, beside this she love music and read lots of books. She also write about online marketing, Bangladesh fashion trend and anything that interested her. She is very dynamic and details oriented.
    Afrin Mukti

    Comments

    লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

    NO COMMENTS

    LEAVE A REPLY