ভালো মানের সিভি (জীবন বৃত্তান্ত) তৈরির সঠিক ফরম্যাট

0
1282
ভালো মানের সিভি (জীবন বৃত্তান্ত) তৈরির সঠিক ফরম্যাট
5 (100%) 4 votes

সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত চাকরির জন্য অপরিহার্য। নিজের জীবনের ইতিহাস গল্পের মত তুলে ধরতে হয় সিভিতে। এই সিভি ই নিশ্চিত করে একটা কোম্পানীতে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা। গ্রাজুয়েট হওয়ার পর ই আমরা চাকরির জন্য বিভিন্ন কোম্পানীতে সিভি পাঠিয়ে থাকি। তবে অনেক আবেদনকারীই সাক্ষাৎকারের ডাক পান না যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও। অনেক কারণেই এমন ঘটতে পারে। হতে পারে আপনি যে চাকরির জন্যে এপ্লাই করেছেন তার সাথে সামঞ্জস্য কোন যোগ্যতা আপনি সিভি তে উল্লেখ ই করেন নি অথবা সিভি টি হয়তো পরিপুর্ণ নয়। আপনাকে আপনার জীবনের গল্প এমনভাবে সিভি তে তুলে ধরতে হবে যেন সিভি দেখেই চাকরির জন্য আপনার সিলেকশন ৫০% কনফার্ম হয়ে যায়। অনেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা গুলো উপস্থাপন করাই যথেষ্ট মনে করে। তারা নিজের গুণ এবং দক্ষতাগুলো উপস্থাপন করেন না বা করতে ও পারেন না। অথচ আধুনিক নিয়োগকর্তারা প্রার্থীর দক্ষতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। নিয়োগকর্তা জানতে চান প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সম্পর্কে। আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র ও ইন্টারেস্ট থাকে না। একটি ভালো সিভি ও কভার লেটার ই আপনাকে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর থেকে আলাদা করে তুলবে। এর আগে আপনাদের সফলভাবে কভার লেটার লিখার উপায় জানিয়েছিলাম। যা এই লিঙ্কে গেলে আপনারা পাবেন। http://blog.grameen.market/কভার-লেটার-লেখার-গুরুত্ব/ । আজ জেনে নিন সফলভাবে সিভি লেখার উপায়গুলো-

Title/ শিরোনাম

সিভির শুরুতেই বাম পাশে আপনার পুরো নাম, নাম্বার, ঠিকানা এবং ইমেইল এড্রেস দিবেন। তবে অবশ্যই নাম টি অন্যান্য টেক্সট এর তুলনায় একটু বড় ফ্রন্ট এ লিখবেন। যেহেতু আপনার নাম ই আপনার পরিচয় সেহেতু আপনার নামটি যেন সিভি টি হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই ইন্টারভিউয়ার এর চোখে পড়ে। তবে ডাক নাম পরিহার করবেন। নামের নিচে ঠিকানা, তার পরে মোবাইল নাম্বার এবং সর্বশেষে ইমেইল দিবেন।

Photo/ ছবি

সিভির ডান দিকে আপনার সদ্য তোলা ছবি স্ট্যাপ্লার পিন বা ক্লিপ দিয়ে আটকে দিবেন। ৬ মাস পুরনো ছবি না দেয়া ভালো। আর অবশ্যই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড যেন বেশি জাকজমক পুর্ণ না হয়। হাল্কা নীল বা আকাশী অথবা সাদা ব্যবহার করুন।

Career Objective/ ক্যারিয়ারের উদ্দেশ্য

এই অংশটিতে আপনার সামনে লক্ষ্য, যোগ্যতা ইত্যাদি উল্লেখ করবেন। এছাড়াও যে প্রতিষ্ঠানে আপনি সিভি টি পাঠাচ্ছেন তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ উল্লেখ করুন। খেয়াল রাখবেন এ অংশে আপনি কোম্পানি কে কি দিতে পারবেন তা উল্লেখ করবেন।

Educational Background/ শিক্ষাগত যোগ্যতা

এই অংশে আপনার যতগুলো ডিগ্রি আছে সেগুলোর নাম সহ, প্রতিষ্ঠানের নাম, গ্রেড ও পাশের সাল ধারাবাহিক ভাবে উল্লেখ করবেন।

Experience/ কাজের অভিজ্ঞতা

আপনি কতদিন কোথায় কোথায় চাকরি করেছেন তা উল্লেখ করবেন। যারা সদ্য পাশ করেছেন তারা ইন্টার্নশিপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট করে থাকলে তা উল্লেখ করবেন। তবে যদি ১-২ মাস কোথাও চাকরি করে থাকেন তা উল্লেখ না করাই ভালো। কারন কোন প্রতিষ্ঠান ই কিছুদিন কাজ করে জব সুইচ করাকে ভালো মনে করে না।

Computer Skill/ কম্পিউটারে দক্ষতা

আজকাল সকল প্রতিষ্ঠানেই কম্পিউটারে দক্ষ লোক চায়। তাই আপনি কম্পিউটারে যা যা করতে পারদর্শী তা উল্লেখ করবেন।

Training/ প্রশিক্ষণ

আমরা অনেক সময় অনেক বিষয় এর উপর ট্রেনিং নিয়ে থাকি। বিশ্ববিদ্যালয়েও অনেক সময় বিভিন্ন ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে থাকে। সেগুলো উল্লেখ করবেন। তবে আপনার ট্রেনিং গুলো যদি সামঞ্জস্য হয় তা ভেবে চিন্তে উল্লেখ করবেন। যে কোন ট্রেনিং করলেই তা উল্লেখ করবেন না।

Language Proficiency/ ভাষাগত দক্ষতা

কোন কোন ভাষা আপনি ভালোভাবে জানেন, বুঝেন এবং বলতে পারেন তা উল্লেখ করবেন। কোন রকম বুঝেন বা জানেন এমন ভাষার নাম লিখবেন না।

Scholarship or Award/ বৃত্তি বা পুরষ্কার

আপনার যদি কোন অর্জন থাকে তা উল্লেখ করবেন।

Other qualities and extra curriculum activities / অন্যান্য গুণাবলী এবং অতিরিক্ত কার্যাবলি

এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটি বলতে বুঝায় আপনি পড়াশুনার পাশাপাশি কি কি করেছেন তার বিবরন আর অন্যান্য গুণাবলী হচ্ছে পড়াশুনার পাশাপাশি আর কি কি দক্ষতা আছে তার বিবরন। আজ কাল অনেক প্রতিষ্ঠান এর উপর জোর দেয় কারন এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু ধারনা করে নিবে। অন্যান্য গুণাবলী হতে পারে- আপনি সৎ, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারেন, অতিরিক্ত প্রেসারে কাজ করতে পারেন ইত্যাদি। অতিরিক্ত কার্যাবলি থাকতে পারে আপনি ভ্রমন করতে পছন্দ করেন বা ভালো লিখেন ইত্যাদি। অবশ্যই আপনার নিজের গুণাবলী এবং কার্যাবলি গুলো বিবেচনা করেই উল্লেখ করবেন।

Personal Information/ ব্যক্তিগত তথ্য

আপনার ব্যাক্তিগত তথ্যে আপনার বাবা-মায়ের নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ, ন্যাশনাল আইডি নাম্বার ইত্যাদি উল্লেখ করবেন। তবে খুব বেশি দীর্ঘ করবেন না।

Reference/ রেফারেন্স

রেফারেন্স সাধারণত দুই জনের দেয়া হয়। বেশি হলে ৩ জন। তবে তার বেশি উল্লেখ না করাই ভালো।

Declaration/ ঘোষণা

আপনার সকল তথ্য গুলো যে সঠিক তার একটি ঘোষণা দিবেন।

Signature & Date/ স্বাক্ষর এবং তারিখ

সর্বশেষে, আপনার স্বাক্ষর এবং তারিখ দিয়ে আপনার সিভি শেষ করবেন। মনে রাখবেন সিভি তে আপনার স্বাক্ষর খুব ই গুরুত্বপূর্ণ। এই সিভি টি যে আপনার তার নিশ্চয়তা দেয় আপনার স্বাক্ষর। আপনি যদি স্বাক্ষর না দেন প্রতিষ্ঠান ভাববে সিভি টি যে আপনার তার প্রমান কি। তাই অবশ্যই স্বাক্ষর দিবেন। যদি অনলাইনে সাবমিট করেন তবে তারিখ এবং নামটি লিখে দিবেন।

উপরের বিষয় গুলো থেকে জানলেন কিভাবে সিভির সঠিক ফরম্যাট তৈরি করতে হয়। এবার ফরম্যাট তৈরি করার সময়কার কিছু টিপস।

১। কখনোই একটা সিভি সব জায়গায় পাঠাবেন না। ইন্টারভিউর ডাক না আসার এটি একটি অন্যতম কারন। চাকরির টি বিশ্লেষণ করে সিভি টি চাকরির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এডিট করবেন।

২। হার্ড কপির ক্ষেত্রে ভালো মানের কাগজ ব্যবহার করবেন এবং হার্ডকপি হোক আর সফট কপি খেয়াল রাখবেন সিভি যেন কালারফুল না হয়। সাদা কালো বানাবেন। আর কোন কিছু হাইলাইট করতে হলে সেটিকে Bold, italic বা underline করতে পারেন ৷

৩। একজন চাকুরীদাতা গড়ে আপনার CV এর উপর ৩০ সেকেন্ডের বেশী সময় দিবেন না ৷ তাই এটি হতে হবে সংক্ষিপ্ত ও সুস্পষ্ট ৷ তাই অপ্রয়োজনীয় বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পরিহার করতে হবে।

৪। একজন অনভিজ্ঞ বা সদ্য পাস করা চাকুরীপ্রার্থীর সিভি এক থেকে দুই পাতার বেশী হওয়া কোনভাবেই উচিৎ নয়৷ আর অভিজ্ঞ লোকের ও তিন পাতার বেশি সিভি তৈরি করা উচিত নয়।

৫। খেয়াল রাখবেন বানান বা ব্যাকরণ গত কোন ধরনের ভুল যেন না থাকে সিভি তে। এতে চাকুরীদাতা আপনার সম্বন্ধে নেতিবাচক ধারণা নিবে এবং ভাববে আপনি কোন কিছু সঠিক ভাবে করতে সক্ষম নন। সুতরাং একটি CV তৈরির পর সেটি নিজে ভাল করে পড়ুন এবং প্রয়োজনবোধে অভিজ্ঞ কাউকে দেখিয়ে নিতে পারেন।

৬। ভুল বা মিথ্যা কোন তথ্য দিবেন না।

একটু চিন্তা করলে দেখবেন, আপনার মধ্যেও অসাধারণ অনেক গুণ আছে, যা চাকরিদাতারা খুঁজে। সুতরাং নিজেকে জানুন এবং এখনই তৈরি হোন।
উপরের পদ্ধতির মাধ্যমে একটি নিখুঁত সিভি তৈরি করা সম্ভব। আশা করি এটি আপনাদের সাহায্য করবে।

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
Jannatul Jarin

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY