সুস্থ জীবনযাপন করতে চান? মেনে চলুন নিয়মগুলো-

0
332
সুস্থ জীবনযাপন করতে চান? মেনে চলুন নিয়মগুলো-
5 (100%) 2 votes

আমরা সবাই সুস্থ, সুখী এবং চিন্তাহীন জীবনযাপন করতে চাই। আর তাই আজ আমি আপনাদের সাথে সে সমস্ত কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা আমাদের সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করতে পারে।

১। যথেষ্ট ঘুম

Are you getting enough sleep?

ঘুম শুধুমাত্র আমাদের সুস্থই রাখে না, নিয়মিত ঘুম আমাদের সুস্থতার পাশাপাশি সুখীও রাখে। আর তাই নিয়মিত ঘুম একজন মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। নিয়মিত ঘুম আমাদের মস্তিষ্ক কে স্বাভাবিক ভাবে কাজ পরিচালনা করতে সহযোগীতা করে। এছারাও নিয়মিত ঘুমের মাধ্যমে মানবদেহের ক্ষতিকর টক্সিন সমূহ নষ্ট হয়ে যায়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য ৭-৮ ঘণ্টা এবং শিশুদের জন্য ৯-১০ ঘন্টা নিয়মিত ঘুমের প্রয়োজন।

২। সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন

HEALTHY LIFESTYLE
চর্বি জাতীয় খাবার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন এবং ফল আর সবুজ সবজির খাদ্যাভ্যাস তৈরি করার চেষ্টা করুন। এসব খাবার আপনাকে প্রানবন্ত এবং শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং আপেল, তরমুজ, পেঁপে, আঙ্গুর ইত্যাদি ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন কারন এসব ফল এর মধ্যে প্রচুর পানির উৎস থেকে থাকে। ফল আপনার রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমকে শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করে এছারাও ফল আপনার ত্বকের স্বচ্ছতা এবং আপনার চোখের দৃষ্টশক্তি ও কানের শ্রবণশক্তিও বাড়ায়।

৩। পর্যাপ্ত পানি পান করুন

Drink enough Water
আপনার শরীরের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য পানির প্রয়োজন। পানির উপকারিতাসমুহ এতই যা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। পানি আপনার ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি আপনার চেহারার উজ্জলতা বড়াতে সাহায্য করে। পানি আপনার শরীরের সামগ্রিক কার্যাবলী সুন্দরভাবে সম্পাদন করার এক আশ্চর্যজনক উৎস। তাই সব সময় যেমনঃ- কর্মক্ষেত্রে বা পড়ালেখার সময় এমনকি ব্যায়াম এর পর ও অবশ্যই পানি পান করা উচিত।

৪।নিয়মিত ব্যায়াম করুন

Regular exercise
নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে প্রানবন্ত করে তুলতে সাহায্য করে। আপনি মার্শাল আর্ট, কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম, এরোবিক্স, নাচ বা হাটা সহ যেকোনো ব্যায়াম করতে পারেন। ব্যায়াম করার মাধ্যমে আপনি নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন। ব্যায়াম করার ফলে আপনার ইমিউন সিস্টেম আরও একটিভ হয়ে উঠবে। আর তাই ব্যায়াম প্রতিটি মানুষের সুস্থতার জন্য দরকার।

৫। নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ রখার চেষ্টা করুন

বইয়ের লাইব্রেরী তে যান যেখানে আপনি আপনার পছন্দের বই পড়তে পারবেন। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শক্তি আবিষ্কার নেতৃত্বের দক্ষতা ও উন্নয়নশীলতা এসব থেকে কিছু অনুপ্রেরণীয় কথাসাহিত্য ও উপন্যাসের বই ক্রয় করুন। এছাড়াও আপনি একটি পার্ক, একটি বাগান বা কোনো জায়গায় যেতে পারেন যেখানে আপনি একা কিছু সময় ব্যয় করার মাধ্যমে আপনার মনটাকে সুস্থ রখতে পারেন।

৬। ভাল বন্ধুত্ব তৈরি করুন

আপনার বন্ধুদের কাছে আপনি একজন ভাল বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। আপনার বন্ধুদেরকে সবসময় বোঝানোর চেষ্টা করুন যে আপনি তাদের অনেকটা ভালবাসেন। বন্ধুদের ব্যাপারে কোন ভুল ধারনা হলে তাদের কাছে সরাসরি সেই ব্যাপারগুলো জেনে নিন এতে করে আপনার এবং আপনার বন্ধুর মঝের দূরত্ব কমে যাবে। মাঝে মাঝে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে বাইরে ঘুরতেও যেতে পারেন এতে আপনি এবং আপনার বন্ধু উভয়ের বন্ধুত্ব আরও গভীর হতে পারে।

৭। হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন

always smile
হাসিমুখ সবাই পছন্দ করে কারন হাসি মুখ আপনার ভাল থাকার পরিচয় ফুটিয়ে তোলে আর তাই হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে। কখনই অল্পতে দুঃখী হওয়া যাবে না তাহলে আপনার জীবন অনেক সহজে দুঃখের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়বে। আপনি যদি আপনার দুঃখের সময়েও হাসি মুখে থাকেন তবেই সত্যিকার এর হাসি আপনার জীবনে ধরা দিবে।

৮। আপনার শখগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করুন

যে সমস্ত শিল্প, সঙ্গীত বা যে কোন পছন্দের বিষয়গুলোর চর্চা করার চেষ্টা করুন এতে আপনি অনেকটা সুখী হতে পারবেন। নিজের ভাল সখের বিষয় চর্চার মাধ্যমেও আপনি নিজের ক্যারিয়ার গরে তুলতে পারেন। আর আপনি যে বিষয়টিকে ভালোবাসেন (শিল্প, সঙ্গীত বা যেকোন পছন্দের বিষয়গুলো) সে বিষয়ে আপনার উন্নতি খুব অল্প সময়ে সম্ভব।

৯। আপনার পরিবারকে সহায়তা করার চেষ্টা করুন

আপনি আপনার পরিবারকে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়েও নিজেকে ভাল রাখতে পারেন যেমনঃ আপনি আপনার বাবার কাজে সাহায্য করতে পারেন, আপনার মায়ের রান্নাঘরের তার রান্নার কাজে সাহায্য করতে পারেন এতে আপনি আপনার পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে নিজেকে মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ রাখতে পারেন।

১০। অসৎ বন্ধুত্ব করার থেকে বিরত থাকুন

ignore bad friends
যেসমস্ত বন্ধু আপনার এবং আপনার সম্মান এর ক্ষতি করতে পারে সেসমস্ত বন্ধুত্ব তৈরি করা থেকে বিরত থাকুন। কারন এসব বন্ধুদের অনাকাংখিত ঘটনা সমূহের কারনে আপনার মানসিক সুস্থতায় বেঘাত ঘটতে পারে। আর তাই অসৎ বন্ধুত্ব করার থেকে বিরত থাকুন।

১১। চিন্তামুক্ত জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করুন

চিন্তামুক্ত থাকার মাধ্যমে আপনি নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে যে বাক্তি শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক দিক থেকে পরিপূর্ণ সে ব্যাক্তিই মূলত সুস্থ। অতএব মানসিক শান্তিও আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে এবং সর্বদা তৈরি থাকুন নিজের কষ্টের সময়/কাজগুলো সুন্দরভাবে সামলে ওঠার।

১২। আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন

নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী থাকুন যে, আপনি অবশ্যই পারবেন নতুন কিছু করতে। সর্বদা হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করুন, নিজেকে সবার কাছে ভাল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করুন, নিজেকে পরিপটি রাখুন সব দিক থেকে এবং নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলুন, পরিশ্রমকে আপনার উন্নতির মূল শক্তি হিসেবে সঙ্গে নিয়ে।

১৩। লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

goal
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার মূল কারন হল নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য না থাকা। যখন আপনি কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য না রাখবেন তখন আপনি বার বার ভুল পথে এগিয়ে যাবেন এবং সফলতার পথ থেকে সরে যাবেন। আর তাই কোন কাজ করার আগে ভাবে নিন যে কোন পদ্ধতিতে কাজটি একটি কাঙ্ক্ষিত সময়ে কমপ্লিট করা সম্ভব।

১৪। উন্মুক্ত প্রকৃতি উপভোগ করুন

প্রকৃতির সাথে নিজের গভীর বন্ধুত্ব করার মধ্যমে আপনি ভাল থাকতে পারবেন কারন প্রকৃতি আপনার মানসিক এবং শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহয্য করে। আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরতেও যেতে পারেন।

১৫। জীবনকে ভালবাসুন

Love Yourself enough
সর্বশেষে নিজের জীবনকে ভালবাসুন এবং উপভোগ করুন। নিজের যতোটুকু আছে তা নিয়ে গর্বিত থাকুন, ভাল কিছু করার স্বপ্নকে বাচিয়ে রাখুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করূন, এক জায়গায় না দাড়িয়ে থেকে এগিয়ে যাওয়ার পথ এর খোজ করুন, কিছু হারাবার ভয়কে মুছে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিশ্রম করুন। এসময় দেখবেন সফলতা আপনার হাতের মুঠোয় ধরা দিবে এবং আপনি ভাল থাকবেন।

Feroz Ahmed

Feroz Ahmed

Feroz Box studied at Ideal medical welfare society. (DPM,MCC)Student of Bangladesh Medical Technology board, volunteer of Bangladesh Fair Service and Civil Difence. Interest in smiley and enjoyable life and help 2 smiley life for poor peoples of Bangladesh.
Feroz Ahmed

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY