সুস্থ থাকার জন্য চাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস

0
521
সুস্থ থাকার জন্য চাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস
Rate this post

সুস্থ থাকতে চাইলে খাদ্যাভ্যাস অবশ্যই স্বাস্থ্যকর হতে হবে। বর্তমান শহুরে জীবনের নাগরিকদের নানা শারীরিক সমস্যা লেগেই থাকে। আর এসব সমস্যার অন্যতম কারণ শারীরিক পরিশ্রমহীনতা ও বাজে খাদ্যাভাস। যেগুলো মেনে চললে তাৎক্ষণিকভাবেই সুস্বাস্থের দিকে একধাপ অগ্রসর হবেন আপনি।

বাড়িয়ে ফেলুন প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ

একজন সুস্থ স্বাভাবিক ওজনের কর্মক্ষম মানুষের প্রতিদিন প্রতিকেজি ওজনের জন্য দুই গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন অর্থাত ব্যক্তির ওজন যদি হয় পঞ্চাশ কেজি তবে দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা একশ গ্রাম। মনে রাখা প্রয়োজন দৈহিক ক্ষয়পূরণের পর অতিরিক্ত প্রোটিন মাসেল অর্থাৎ পেশিতে জমা হয়। সুতরাং প্রোটিন খুব ই জরুরি ।

vegitable-for-good-health

প্রচুর শাক সবজি ও ফল খান

ভাবছেন এগুলো তো ওজন কমাবার জন্য খাওয়া হয়, তাই না? ওজন ঠিক রাখতেও কিন্তু আপনাকে সাহায্য করবে এই ফল আর সবজি। এমন অনেক ফল আর সবজি আছে যারা কিনা উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত। যেমন- আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঁচা কলা ইত্যাদি। ফ্রেশ ফলের জুস ও খেতে পারেন।গাজর এ ও প্রচুর ভিটামিন আছে।ফল ও সবজি খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, তেমনি ওজনও ঠিক থাকবে।

fish-for-good-health

মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন-সপ্তাহে দুইবার

তৈলাক্ত মাছ ভিটামিন ডি এর প্রাকৃতিক উৎস যা হাড় গঠন এ খুব ই সহায়ক। যেমন-ইলিশ,কাতলা বা সামুদ্রিক মাছ। সবসময় ফ্রেশ মাছ নির্বাচন করুন। হিমায়িত মাছ নির্বাচন না করাই উত্তম।

খাবার থেকে চর্বি ও চিনি কে বলুন বিদায়

যদিও আমাদের খাবারে অল্প চর্বির প্রয়োজনীয়তা আছে তবে অতিরিক্ত চর্বি বা চিনি আপনার ওজন বৃদ্ধি করাতে পারে। বেশি চিনি খাওয়া আপনার দাতের ক্ষয় করতে পারে। আপনার মাখন,ক্রিম,প্রেস্ট্রী বা পনির খাওয়ার অভ্যাসকে সবজি, বাদাম ও ফল দিয়ে বদল করুন আজ ই।

লবন কমিয়ে ফেলুন

লবন ছাড়া তরকারি? কেউ কি কল্পনা করতে পারে। নাহ আমি লবন খাওয়া বাদ দিতে বলছিনা। অতিরিক্ত লবন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত লবন সেবন আপনার উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং হৃদরোগ এর কারণ হতে পারে। সবসময় খাবার এ ভেষজ উপাদান,লেবুর রস বা মসলা ব্যাবহার এর চেষ্টা করুন,আপনার খাবার এর স্বাদ ও বাড়বে আর কম লবন দিয়ে ও খাবার কে সুস্বাদু করতে পারবেন।

নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করুন:

আমাদের সবার ধারণা ব্যায়াম শুধু ওজন কমানোর জন্যই কাজ করে। কিন্তু এটি ঠিক নয়। ব্যায়াম করলে শরীর একটিভ হয় এবং পুষ্টি উপাদানগুলো ঠিক মতো কাজে লাগে। ঠিক সময়ে ক্ষুধা লাগে, এবং তখন খাদ্য গ্রহণের রুচিও বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন হালকা কিছু ব্যায়ামই এর জন্য যথেষ্ট। যেমন-সময় করে কিছুক্ষন হাটা। আপনি জানেন কি বিশ্বে প্রায় ৬০% বয়স্ক ব্যাক্তি হৃদরোগ, ক্যান্সার ও ডায়বেটিস আক্রান্ত শুধুমাত্র এই অতিরিক্ত ওজন এর কারনে। নিয়মিত ব্যায়াম এই সকল রোগের ঝুঁকি কমায়।

pure-water

নিয়মিত পানি পান করুন

একজন মানুষের প্রতিদিন পানির চাহিদা কতটুকু তা নির্ভর করে আবহাওয়া, তার কাজকর্মের পরিমাণ, শরীরের অবস্থা ইত্যাদির ওপর। পানি পান নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে রয়েছে থার্স্ট সেন্টার বা পিপাসাকেন্দ্র। এই কেন্দ্র জানিয়ে দেয় যে কখন পানি পান করা দরকার। একজন মানুষের এই অংশটি কার্যকরী থাকলে পানির অভাব বা বাড়তি কখনোই হবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করুন। দেখবেন শীত, গ্রীষ্ম অর্থাৎ সারা বছরই ভালো কাটবে। এতে মাথাব্যথা, কিডনি সমস্যা, গ্যাস্ট্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ সমস্যাগুলো থেকে রেহাই পাওয়া যায়.

সকালের নাস্তা আবশ্যক

সারাদিন ব্যস্ততার পর রাতের খাবার খাওয়ার পর আমরা ঘুমাতে যাই। এরপর অনেকটা সময় আমরা কিছু না খেয়ে থাকি। তাই রাতে ভালো ঘুমের পর শরীরকে সচল রাখার জন্য সকালের নাশতা খুবই জরুরি। আরো স্পষ্টভাবে বললে হয়, আপনার রক্ত ধারায় সম্ভবত গ্লুকোজের স্বল্পতা তৈরি হয়েছে।
নাশতা না খাওয়া মানে আপনি স্বল্প ব্লাডসুগার নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন, অথচ আপনার মস্তিষ্কের প্রয়োজন ব্লাডসুগারের। ফলে আপনার নাশতা না খাওয়া মানে মস্তিষ্ককে পুরোদমে কাজ করতে বাধা দেয়া। এতে করে আপনার বমি বমি ভাব হতে পারে, দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন।

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin

Jannatul Jarin is very friendly person and she completed her B.B.A from Daffodil International University in Marketing Major. Besides She was very conscious about fashion trend and beauty. She likes to smile herself and make laugh to others. She also write about online marketing. She is Self-Dependent, hard working and focused.
Jannatul Jarin

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY