স্বপ্ন ও প্রেরণা

0
290
স্বপ্ন ও প্রেরণা
5 (100%) 1 vote

আজ আমি আমাদের দেশের লাখো বেকার তরুন তরুণীদের উদ্দেশ্যে ছোট্ট একটা গল্প লিখব। জানিনা আমার এই সহজ সরল গল্পে কারো এতোটুকু উপকার হবে কি না? আমার এই গল্পে কতটুকু সাহিত্য প্রকাশ পেল তা নিয়ে আমি এতোটুকু চিন্তিত নই। আবার গল্পের চরিত্র কে হিরো সাজানোও আমার উদ্দেশ্য না। এবার মূল গল্পে আসা যাক।

সুজন আড্ডা মারছিলো বন্ধুদের সাথে, রাস্তার পাশে ফুটপাতের চা এর দোকানে। পড়াশোনা শেষ করার পর গত একটা বছর এভাবেই চলছে সুজনের। ইদানিং কিছু কিছু ব্যাপার সুজনের মনে খুব প্রভাব ফেলছে। যেমন গত রাতে, বাসার সবাই বসে এক সাথে টি ভি দেখছিল আর সেই সাথে রাতের খাবার। মা-বাবা, ছোট ভাই বোন সবার মুখে একটি মুখস্ত বুলি, কোন একটা চাকরি বাকরি দেখ না, তোর বাবার খুব কষ্ট হচ্ছে।

বাসা ভাড়া, বাজার, ছোট দুইটার লেখাপড়ার খরচ ইত্যাদি ইত্যাদি। আজকাল হঠাৎ হঠাৎ মা’র চোখেও জল চলে আসে যখন আমাকে বলে। সহ্য হয়না আমার। আমি তো জান প্রান দিয়ে চেষ্টা করছি। একথা সবাইকে কিভাবে বুঝাবো! ইদানীং তারিনের সাথেও ভালো সময় কাটছে না। যদিও দুজন দুজনকে ভীষণ ভালবাসে। এও জানে কোন দিনই একজন আরেকজন কে ছেড়ে থাকতে পারবে না। প্রথম প্রথম তারিন ও খুব বলতো, কিছু একটা কর। তারিন ও বুঝে আজকাল একটা চাকরি এত সহজে হয়না। তবুও প্রতিদিন দেখা করা, কোথাও বসে একটু চা- শিঙাড়া আর অনাগত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় কারোই ভালো সময় কাটেনা।

মূল ঘটনায় ফিরে আসা যাক।, বন্ধুরা সহ চা এর আড্ডায়।
রাস্তার পাশের ফুটপাতের যে দোকানে বসে সুজনরা চা খাচ্ছিল তার একটু দুরেই হঠাৎ চিৎকার চেচামেচি। ব্যপারটা সুজনের নজর কাড়লো। সে একটু এগোতেই দেখলো একজন লোক খুব সুন্দর সুন্দর কিছু হস্ত শিল্প নিয়ে রাস্তার ধারে সাজিয়ে বসে আছে। সত্যি জিনিস গুলো খুবই চমৎকার। কাঠ, বাঁশ আর মাটির তৈরি অসাধারন কিছু হস্ত শিল্প। আধুনিক শহুরে জীবনের প্রতিটি মানুষের ঘরেই এ জিনিসগুলো কিছু না কিছু সাজানো থাকে। বাক বিতণ্ডার মূল বিষয় হল বিটভাড়া। এখানে বসলে এতো টাকা দিতে হবে এই সব আর কি।

সুজন এগিয়ে যাওয়াতে লোকটা মনে হয় একটা সহায় খুঁজে পেল। কোন কথা নেই বার্তা নেই সুজন কে জড়িয়ে ধরে বলল, বাবা দেখেন তো, আমি গরিব মানুষ, উঠায়ে দিলে ছেলে মেয়ে নিয়ে খাবো কি? আর যেই টাকা চায় আমার তো অত টাকা লাভই হয় না! কি করবো বাবা। আপনি উনাদেরকে একটু বুঝিয়ে বলেন।

লোকটার কথা শুনে সুজনের মনে দুইটা বিষয় কাজ করলো। এক হল অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো, যা তার ছোট বেলার অভ্যাস আর দুই হল, লোকটার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। যে কত প্রতিকূল পরিবেশেও সংসার এর জন্য কিছু করছে। একই সাথে নিজের প্রতি ধিক্কার এ ভরে উঠলো মন। মুহূর্তে ভেসে উঠলো মায়ের জল ভরা চোখের আকুতি।

সুজন কেন জানি এক মুহূর্ত দেরি না করে কিছু না ভেবেই বলল, চাচা আপনি যদি এখানে না বসে একটু গলির ভিতরে বসেন তাহলে আপনার কি অসুবিধা হবে? কোন টাকা লাগবে না। লোকটা বলল, না বাবা, আমার কোন অসুবিধা হবে না। হয়তো বেচা কেনা একটু কম হবে। কিন্তু ওরাই তো সব নিয়ে যায়। যাই হোক বাবা, আস্তে আস্তে ওখানেও আমার ভাল বিক্রি হবে। এসব শুনে সুজন লোকটাকে বলল, চাচা আপনি জিনিসপত্র গোছান আমি একটু পর আপনাকে নিয়ে যাব। এই কথা বলে সে বন্ধুদের আড্ডায় ফিরে এলো।

কিছু করতে পারলি? সুজন খুব দৃঢ়তার সাথে জবাব দিল- করব। মনে হয় সুজনের কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যা শুনে তাকে আর কেউ ঘাটালো না। পরের ঘটনা খুব সংক্ষিপ্ত।

সুজন ঐ লোকটিকে তার মালামাল সহ তাদের বাসার সামনে এক পাশে বসার জায়গা করে দিল। ঐ লোকটি যে যে জায়গা থেকে মালামাল সংগ্রহ করত তাদের সাথে সুজন কথা বলে আরও অনেক বেশি করে মালামাল সংগ্রহ করে দিল। ফলে বিক্রিও বাড়ছে প্রচুর।
তখনও সুজন জানত না এটিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিবে। সাফল্য লুকিয়ে আছে ঐ ছোট্ট উপকারটির মধ্যে।

বুদ্ধিটা দিল তারিন।
চা খেতে খেতে তারিন একদিন সুজন কে বলল, আচ্ছা আমরা একটা কাজ করলে কেমন হয় বল তো।
সুজন বলল, কি?

এই যে এতো সুন্দর সুন্দর হস্ত শিল্প, এগুলোর তো অনেক চাহিদা। আমার সুন্দর করে এগুলোর ছবি তুলে অনলাইন এ দিয়ে দিতে পারি না? তাহলে আরও অনেক বেশি বিক্রি হতে পারে। সত্যি, বুদ্ধিটা সুজনের খুব মনে ধরল। তারিন খুবই প্রান চঞ্চল একটি মেয়ে। যেই কথা সেই কাজ।
কয়েক দিন চাচাকে নিয়ে সারাদিন কষ্ট করে প্রতিটা জিনিষের ছবি উঠালো খুব সুন্দর করে।

তারপর একটি অনলাইন স্টোর করে আপলোড করতে থাকলো একের পর এক ছবি। তারিন আর সুজন নিজেও জানত না যে আমাদের দেশীয় হস্ত শিল্পের এতো চাহিদা সব মানুষের কাছে। দিন দিন তাদের পন্যের অর্ডার বাড়তেই থাকে। আর ব্যবসাও বড় হতে থাকে।
সত্যি সুজন এখন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা,
সুন্দর গল্প লেখা আমার উদ্দেশ্য নয়।
সুন্দর সাহিত্য সৃষ্টি করার কোন ইচ্ছাও আমার নেই।
আমার ইচ্ছা, আমাদের দেশের প্রত্যেকটা বেকার তরুন তরুণী হয়ে উঠুক স্বাবলম্বী হয়ে।

Comments

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো ?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY